দক্ষিণ লেবাননে একটি সামরিক যান দুর্ঘটনায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর এক রিজার্ভ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে পৃথক সংঘর্ষে আরও ১০ জন ইসরাইলি সেনা আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে আইডিএফ। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত সেনা সার্জেন্ট মেজর (রিজার্ভ) আয়াল ইউরিয়েল বিয়ানকো (৩০) ১৮৮তম সাঁজোয়া ব্রিগেডে দায়িত্ব পালন করতেন। রোববার রাতে দক্ষিণ লেবাননে একটি হামভি যান উল্টে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহত তিনজনের মধ্যে একজনের অবস্থা মাঝারি এবং অন্য দুজন সামান্য আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, লেবাননের বিন্ত জেবেইল এলাকায় হিজবুল্লাহর সশস্ত্র সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে আইডিএফের প্যারাট্রুপার ইউনিটের ১০ জন সেনা আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর, একজন মাঝারি এবং বাকিরা তুলনামূলক কম আহত বলে জানানো হয়েছে। আইডিএফের দাবি, পাল্টা হামলায় হিজবুল্লাহর কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া একই এলাকায় আরেক ঘটনায় সংগঠনটির একাধিক সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে সামরিক অভিযানের সময় আইডিএফের একটি সাঁজোয়া ইউনিটের এক কমান্ডার গুরুতর আহত হয়েছেন, যাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের মধ্যে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলে রকেট ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে, যদিও এতে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পাল্টা হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে আইডিএফ। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানে অস্ত্রভাণ্ডার, রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। সামরিক তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনীও হাজারো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানায় আইডিএফ। বর্তমানে বিন্ত জেবেইল অঞ্চল ঘিরে অভিযান জোরদার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। অতীতে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় দখল নিতে ব্যর্থ হওয়ার ইতিহাস থাকলেও এবার তারা অগ্রগতি অর্জনের দাবি করছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক কূটনীতিতেও উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিত থাকলেও যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সমঝোতা হয়নি। লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে আইডিএফ দাবি করছে, তাদের অভিযানে বিপুল সংখ্যক হিজবুল্লাহ সদস্য নিহত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, চলমান সংঘাত দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরাইলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। শনিবার (২৮ মার্চ) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মুখপাত্র তার বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনী ইরানের নিখুঁত হামলার হাত থেকে বাঁচতে তাদের নিয়মিত ঘাঁটি ছেড়ে দুবাইয়ের দুটি গোপন আস্তানায় আশ্রয় নিয়েছিল। ইরান সেই অবস্থানগুলো শনাক্ত করে সেখানে কয়েক দফা শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালায়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম আস্তানায় ৪০০ জনের বেশি এবং দ্বিতীয় আস্তানায় ১০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা ও কর্মকর্তা অবস্থান করছিলেন। ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স এবং নৌবাহিনীর এই সমন্বিত অভিযানে আস্তানা দুটি লক্ষ্য করে নিখুঁত আঘাত হানা হয়। মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, হামলার পর কয়েক ঘণ্টা ধরে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। ইরানি মুখপাত্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ট্রাম্প এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের বোঝা উচিত যে, এই অঞ্চলটি তাদের জন্য কবরস্থানে পরিণত হবে। সাহসী যোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে তাদের আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।” উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এর প্রতিশোধ হিসেবে গত এক মাস ধরে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে। আজকের হামলাকে সেই দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছে তেহরান। তবে এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পেন্টাগন বা মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সরাসরি ও পরোক্ষ সামরিক সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। পেন্টাগন ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩০৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও এই সংখ্যাটি ছিল প্রায় ২৯০ জন। প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, আহত সেনাদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই 'ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি' বা গুরুতর মস্তিষ্কের আঘাতে ভুগছেন। মূলত ইরানের ড্রোন হামলার কারণেই এই বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য মস্তিষ্কের সমস্যায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহত ৩০৩ জনের মধ্যে ২৭৩ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুনরায় কর্মস্থলে ফিরলেও ১০ জন সেনার অবস্থা এখনো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থা এতটাই গুরুতর যে প্রাণহানির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রণক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সব আঘাত বোঝা যায় না বিধায় সময়ের সাথে সাথে এই আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অনেক সময় সেনারা প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর শারীরিক বা মানসিক জটিলতা অনুভব করায় দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসেন, যা এই পরিসংখ্যানে প্রভাব ফেলছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের এক বিতর্কিত পদক্ষেপে তোলপাড় শুরু হয়েছে পেন্টাগনসহ পুরো ওয়াশিংটনে। অত্যন্ত যোগ্য হিসেবে বিবেচিত চারজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছেন তিনি, যাদের মধ্যে দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং দুইজন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে ওয়ান-স্টার জেনারেল হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে দেওয়ার বিষয়টিকে হেগসেথের ‘উওক কালচার’ বা অতি-উদারপন্থী প্রভাবমুক্ত সামরিক বাহিনী গড়ার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। পিট হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সেনাবাহিনীতে প্রচলিত ডাইভারসিটি, ইক্যুইটি এবং ইনক্লুশন (DEI) নীতির কড়া সমালোচনা করে আসছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই কর্মকর্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকলকে চাপ দিয়েছিলেন। তবে ড্রিসকল এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানান, ওই কর্মকর্তারা কয়েক দশকের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার এবং যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সেনাসচিবের আপত্তি তোয়াক্কা না করেই হেগসেথ ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে তাদের নাম সরিয়ে দেন। হেগসেথের এই সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করছেন, মেধার পরিবর্তে রাজনৈতিক আদর্শ এবং গায়ের রঙ বা লিঙ্গকে ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাহিনীর মনোবলে আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে সংশোধিত এই তালিকাটি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিনেটে পেশ করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই মেয়াদে প্রতিরক্ষা বিভাগের নেতৃত্বে আসা হেগসেথের এমন একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগন এমন একটি পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে, যাতে ট্রাম্পের হাতে সামরিকভাবে আরও বিকল্প থাকে। একই সময়ে তিনি ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার কথাও উল্লেখ করছেন। প্রতিরক্ষা দপ্তরের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই বাহিনীতে পদাতিক সেনা ও সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। নতুন এই বাহিনী যুক্ত হবে ইতোমধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া প্রায় ৫ হাজার মেরিন সেনা, ৮২ এয়ারবোন ডিভিসন এবং ২ হাজার প্যারাট্রুপারের সঙ্গে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, বর্তমানে এই অঞ্চলে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ওয়াশিংটন মুখে যুদ্ধবিরতি ও শান্তির প্রস্তাব দিলেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। সেন্টকম-এর তথ্যমতে, কেবল সেনাসদস্যই নয়, এই অঞ্চলে বর্তমানে অন্তত ২০০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং দুটি বিশালাকার বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করছে। সামরিক শক্তির এই বহর আরও বাড়াতে নতুন করে মোতায়েন করা হচ্ছে '৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন'-এর আরও ১ হাজার সেনা। এছাড়া ৫ হাজার মেরিন ও নৌ-সেনা নিয়ে গঠিত দুটি বিশেষ 'মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট' এখন মধ্যপ্রাচ্যের পথে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ১৫ দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব আর অন্যদিকে রেকর্ড সংখ্যক সেনা মোতায়েন—যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও বাস্তবে যুদ্ধপ্রস্তুতি কি কোনো বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
ইরাকের আকাশসীমায় জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৬ মার্কিন সেনার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ডোভারে পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউস থেকে এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে চড়ে তিনি ডেলাওয়ারের ডোভোর বিমান ঘাঁটিতে রওনা হন। এই শোকাবহ যাত্রায় তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। গত সপ্তাহে পশ্চিম ইরাকে একটি নিয়মিত অভিযান চলাকালীন মার্কিন বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কোনো শত্রু পক্ষের হামলা বা নিজেদের ভুলবশত গুলিতে নয়, বরং এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল। নিহতদের মধ্যে তিনজনই ওহিও অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা হওয়ায় তাদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত থাকছেন ওহিও’র গভর্নর মাইক ডিওয়াইন ও তাঁর স্ত্রী। উল্লেখ্য যে, চলতি মাসেই কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলায় নিহত আরও ৬ সেনার মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেনাদের এই ‘ডিগনিফাইড ট্রান্সফার’ বা শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের এই উপস্থিতি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি তাঁর সংহতিরই বহিঃপ্রকাশ।
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান (KC-135 Stratotanker) বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা সকল ক্রু সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক শোকাবহ বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, এই দুর্ঘটনায় বিমানের ছয়জন আরোহীর কেউই বেঁচে নেই। প্রাথমিকভাবে চারজন নিহতের খবর জানানো হলেও, সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানটি গতকাল বন্ধুত্বপূর্ণ আকাশসীমায় অবস্থানকালে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যে শত্রুপক্ষের হামলা বা ভুলবশত নিজেদের কোনো গোলাবর্ষণের (friendly fire) প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না; সামরিক নিয়ম অনুযায়ী তাদের পরিবারের কাছে সংবাদ পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টা পর নাম-পরিচয় জনসমক্ষে আনা হবে।
দেশের বাজারে সোনার দাম টানা দ্বিতীয় দিনে কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা। এই নতুন দাম শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে। বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর বৈঠকে স্থানীয় তেজাবী সোনার দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন দামের মধ্যে ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা কমে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমে ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ৩ হাজার ৯০৭ টাকা। গত বৃহস্পতিবারও বাজুস সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়েছিল। চলতি বছর দেশের বাজারে সোনার দাম ৪২ বার সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ২৬ বার দাম বৃদ্ধি এবং ১৬ বার দাম হ্রাস করা হয়েছে।
দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দামে নতুন সমন্বয় এনেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গত বুধবার সংগঠনটি সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার দাম ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেট সোনার দাম রাখা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজুসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা ও রুপার দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপা প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ২৪০ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দর অনুযায়ী বর্তমানে দেশের বাজারে সোনা ও রুপা কেনাবেচা হচ্ছে।
টানা দুই দফা কমার পর দেশের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী সোনার দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সব ধরনের সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। আজ শনিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকেই এই নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে, নির্ধারিত এই মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত হবে। তবে গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরির তারতম্য হতে পারে। বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।
পাকিস্তানে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার সাক্ষী হলো বেলুচিস্তান প্রদেশ। টানা তিন দিনের রুদ্ধশ্বাস সামরিক অভিযান এবং বিএলএ (BLA) বিদ্রোহীদের সাথে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকলেও সাধারণ মানুষের রক্তে ভিজেছে রাজপথ। কেন এই পরিস্থিতি? জানুন গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য: ভয়াবহ প্রাণহানি: অভিযানে ১৯৭ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি ২২ জন পাকিস্তানি সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন। বেসামরিক মানুষের মৃত্যু: দুর্ভাগ্যবশত নারী ও শিশুসহ ৩৬ জন নিরীহ নাগরিক এই সংঘাতের বলি হয়েছেন। সমন্বিত হামলা: গত ৩১ জানুয়ারি থেকে বেলুচিস্তানের কোয়েটা, গোয়াদর ও পাসনিসহ ১২টি শহরে একযোগে হামলা শুরু করে বিদ্রোহীরা। আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু: সাধারণ শ্রমিক ও উন্নয়ন কাজে জড়িতদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী। বিদেশি মদদ: পাকিস্তান সরকারের দাবি, এই নাশকতার মূল পরিকল্পনা করা হয়েছে দেশটির সীমান্তের বাইরে থেকে। বর্তমানে পুরো প্রদেশজুড়ে সেনাবাহিনী 'ক্লিয়ারেন্স অপারেশন' চালাচ্ছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বশক্তি নিয়োগ করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেলুচিস্তানের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews