স্বাস্থ্য

ছবি: সংগৃহীত।
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু: বাড়ছে উদ্বেগ

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১ জন শিশুর মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে, আর বাকি ৮ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। গত ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে আজ ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এক নজরে গত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি: মোট মৃত্যু: ৯ জন (হাম নিশ্চিত: ১ জন, উপসর্গসহ: ৮ জন)। নতুন ভর্তি রোগী: ১১০৫ জন (সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে)। হাম শনাক্ত: ১৭৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে।   হাসপাতালগুলোতে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চিকিৎসকরা শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শরীরে জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
কন্ডোমের দিন শেষ! পুরুষদের ‘গর্ভনিরোধক’ তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা

এতদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের সিংহভাগ দায়ভার কেবল নারীদের ওপরেই বর্তাতো। তবে আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে সেই ধারায় আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। সম্প্রতি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী পুরুষদের জন্য বিশেষ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে শুক্রাণুর মূল স্টেম সেলগুলোকে কোনো প্রকার ক্ষতি না করেই সাময়িকভাবে সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।  গবেষণার প্রধান অধ্যাপক পলা কোহেনের মতে, এটি একটি অত্যন্ত নিরাপদ পদ্ধতি যেখানে কোনো হরমোনাল জটিলতা নেই। এই প্রক্রিয়ায় অণ্ডকোষে প্রয়োগ করা ইনজেকশন বা পিল শুক্রাণুর গতিপথকে সাময়িকভাবে স্থবির করে দেয়, যা গর্ভধারণ রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, এই পদ্ধতিটি স্থায়ী নয়। কোনো পুরুষ যদি পুনরায় সন্তান নিতে চান, তবে এই চিকিৎসা বন্ধ করার কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসবে এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপরও এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। সফলভাবে মানুষের ওপর প্রয়োগ করা গেলে এটি পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সারা দিন ক্লান্ত থাকলেও রাতের ঘুম আসে না? জানুন ‘ওয়্যারড–টায়ার্ড’ চক্রের কারণ ও সমাধান

অনেকে সারা দিন কাজের চাপ ও ক্লান্তির পরও রাতে ঘুমাতে পারেন না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ওয়্যারড–টায়ার্ড’ চক্র। অর্থাৎ, শারীরিকভাবে ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও মস্তিষ্ক জাগ্রত অবস্থায় থাকে।   স্নায়ুবিজ্ঞানীরা এই সমস্যার কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন। প্রথমত, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে শরীরের কর্টিসল হরমোন বেশি মাত্রায় থাকে। ফলে মস্তিষ্ক মনে করে বিপদের মধ্যে আছেন এবং ঘুম বাধাগ্রস্ত হয়। দ্বিতীয়ত, রাতের দিকে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি থেকে বের হওয়া নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।   তৃতীয়ত, ‘বেডটাইম প্রোকাস্টিনেশন’ বা অতিরিক্ত চিন্তা—দিনের কাজ, আগামীকালের পরিকল্পনা বা পুরনো স্মৃতি নিয়ে বিশ্লেষণ—মস্তিষ্কের প্রি–ফ্রন্টাল কর্টেক্সকে সক্রিয় করে, যা ঘুমের পথে বাধা সৃষ্টি করে।   স্নায়ুবিজ্ঞানীরা ঘুমের জন্য কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন: ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখা, নিয়মিত রুটিনে ঘুমানো ও ওঠা, ৪–৭–৮ শ্বাসক্রিয়া অনুশীলন করা এবং দুপুরের পর ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা।   ঘুম শুধু বিশ্রামের মাধ্যম নয়, এটি মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য অত্যাবশ্যক। সঠিক অভ্যাস ও মন শান্ত রাখার মাধ্যমে ‘ওয়্যারড–টায়ার্ড’ চক্র ভাঙা সম্ভব।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র
পত্রিকা: 'সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ'

ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, ইরান যুদ্ধ, কূটনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। পাশাপাশি প্রশাসনিক অনিয়ম, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও রাজনৈতিক অস্থিরতাও গুরুত্ব পেয়েছে। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- বণিক বার্তা: নিষিদ্ধের পরও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা আওয়ামী লীগের   রাজনৈতিক পালাবদলের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর দলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও নেতৃত্বে এখনো শেখ পরিবারের প্রভাব বজায় রয়েছে।   দলটির নেতাকর্মীরা দেশ ও বিদেশে অবস্থান করে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা নিয়মিত বিবৃতি ও অডিও বার্তার মাধ্যমে দলের অবস্থান জানাচ্ছেন। তবে এখনো তাকে প্রকাশ্যে বা ভিডিও বার্তায় দেখা যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দল পুনর্গঠনের একটি প্রাথমিক পর্যায়ের কৌশল হতে পারে।   প্রথম আলো: টিকা সংকটে উদ্বেগ, হামে বাড়ছে শিশুমৃত্যু দেশে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি রোগের টিকার মজুত শূন্যে নেমে আসায় স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   চলতি মাসেই হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা সংগ্রহে প্রশাসনিক জটিলতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মাঠপর্যায়ে জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হচ্ছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক শিশু প্রথম ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ থেকে বাদ পড়ছে, যা ‘ড্রপ-আউট’ হিসেবে পরিচিত। কোভিড-পরবর্তী সময়ে এই প্রবণতা বেড়েছে। ফলে টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।   একসময় পোলিও ও ধনুষ্টংকার নির্মূলে সাফল্য পাওয়া বাংলাদেশে হাম নির্মূলের লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি সেই অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।   দ্য ডেইলি স্টার: হামের প্রাদুর্ভাবে বেড়েছে শিশুমৃত্যু, উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় চলতি বছর অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে এই সংখ্যা ৪৬ পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   শুধু চলতি মাসেই ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।   চিকিৎসকদের মতে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে এবং মার্চ মাসে তা দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ঢাকার পাশাপাশি ময়মনসিংহ, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহী অঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।   কালের কণ্ঠ: সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংসদে উত্তেজনা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নোটিশ উত্থাপন করলে তাৎক্ষণিক আলোচনা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।   কার্যসূচি আগে না নোটিশ আগে এই প্রশ্নে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সংসদ কক্ষে। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংসদকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।   অন্যদিকে সরকারি পক্ষ জানায়, নির্ধারিত কার্যসূচি শেষ না করে এ বিষয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের অবস্থানকে অপরিণত পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন।   যুগান্তর: ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: নিহত ১৮ বাংলাদেশি, শোকে স্বজনরা লিবিয়া থেকে ইউরোপগামী পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।   স্থানীয়ভাবে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন এবং দোয়ারাবাজারের ১ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   স্বজনদের অভিযোগ, দালালরা বড় নৌকায় ইতালি বা গ্রিসে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ঝুঁকিপূর্ণ ছোট নৌকায় যাত্রীদের তুলে দেয়। যাত্রাপথে ভুল রুটে গিয়ে দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থান করতে হওয়ায় খাবার ও পানির অভাবে তাদের মৃত্যু হয়।   আজকের পত্রিকা: গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে না তোলায় মতবিরোধ অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংসদে না তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   সরকারি পক্ষ বলছে, অধ্যাদেশটির উদ্দেশ্য ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে, তাই এটি নতুন করে আইনে পরিণত করার প্রয়োজন নেই। তবে বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে।   এছাড়া মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে বিরোধী সদস্যরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।   নয়া দিগন্ত: নেপালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, বড় সংস্কার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   সরকার জানিয়েছে, দুই মাসের মধ্যে এসব সংগঠন অপসারণ করা হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করা হবে।   এছাড়া স্নাতক পর্যায়ে ভর্তিতে নাগরিকত্ব সনদের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা সুযোগ পায়। শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   নিউ এইজ: দুর্নীতি মামলার জট বেড়ে ৮ হাজারের বেশি দেশে দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার জট বেড়ে বর্তমানে ৮ হাজার ৩৩০টিতে দাঁড়িয়েছে। ২০০৪ সালে কমিশন গঠনের পর থেকে জমে থাকা মামলার সঙ্গে নতুন মামলা যুক্ত হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   গত পাঁচ বছরে প্রতি বছর গড়ে প্রায় দুই হাজার নতুন মামলা যুক্ত হলেও নিষ্পত্তির হার কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাক্ষীর অনুপস্থিতি, আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতির হচ্ছে।   দেশ রূপান্তর: ‘ওয়ান ইলেভেন’ সংশ্লিষ্ট ১১৩ জনের তালিকা প্রস্তুত ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন-এর সময় রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ১১৩ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।   পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশ-বিদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। তালিকায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা, আমলা, ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। বিদেশে অবস্থানরতদের বিষয়ে তথ্য পেতে ইন্টারপোলের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।   টাইমস অব বাংলাদেশ: গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে জরুরি আলোচনা প্রয়োজন গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী নয় মাসের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে। তবে এখনো নতুন করে আলোচনার সূচনা হয়নি।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।   বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে পানির বণ্টন নির্ধারণে পুরনো গড় হিসাব ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত পানি পাচ্ছে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
সেহরিতে জেগে ওঠার পন্থা
সেহরিতে ওঠা সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অভ্যাস

রমজান মাসে সেহরি রোজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেহরির খাবার শরীরকে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও পানি সরবরাহ করে। তবে অনিয়মিত ঘুম, রাত জাগা ও ক্লান্তির কারণে অনেকেই সময়মতো সেহরি খেতে উঠতে পারেন না।   পুষ্টিবিদরা ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কিছু সহজ অভ্যাস নিয়মিত সেহরিতে ওঠাকে সহজ করতে পারে। ঘুমানোর সময় আগে নেওয়া, ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, একাধিক অ্যালার্ম ব্যবহার করা এবং পরিবারের সহযোগিতা নেওয়া কার্যকর। এছাড়া রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে হালকা খাবার খাওয়া, সেহরির খাবার আগেভাগে প্রস্তুত রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং দিনের অতিরিক্ত ঘুম এড়িয়ে চলাও সহায়ক।   মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা ও ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করাও জরুরি। সেহরি বাদ দিলে সারাদিন দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকরভাবে রোজা পালনের জন্য সেহরিতে সময়মতো ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ফলের ওপর সামান্য দারুচিনি ছিটানো রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও স্বাদ বাড়ায়

রান্নাঘরের একটি সাধারণ অভ্যাস আপনার দৈনন্দিন ফল খাওয়ার অভ্যাসকে আরও স্বাস্থ্যকর করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, ফলের ওপর সামান্য দারুচিনির গুঁড়ো ছিটিয়ে দিলে তা শুধু স্বাদ বাড়ায় না, বরং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।   ফলে প্রাকৃতিকভাবে সরল শর্করা থাকে, যা দ্রুত রক্তে মিশে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে দিতে পারে। দারুচিনি এই শর্করা প্রক্রিয়াকরণকে পরিবর্তন করে। এটি কোষে গ্লুকোজ শোষণে সহায়তা করে, ফলে হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈন বলেন, দারুচিনিতে থাকা পলিফেনল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।   দারুচিনির অতিরিক্ত স্বাস্থ্যগুণও রয়েছে। এটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এছাড়া শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে দারুচিনি প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়, কোষের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।   দারুচিনি চিনি ছাড়া ফলের স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে, হজমে সহায়ক এবং অন্ত্রের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। বিশেষজ্ঞরা ফলের সঙ্গে লবণ বা অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করে দারুচিনি গুঁড়ো ব্যবহারের পরামর্শ দেন। সামান্য এই অভ্যাস ফলের পুষ্টিগুণ বাড়ায় এবং শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া উন্নত করে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইফতারের পর মাথাব্যথা কেন হয়? জানুন ঝুঁকি ও প্রতিরোধের উপায়

রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় বা তার পর অনেকেই মাথাব্যথায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘ফাস্টিং হেডেক’ বা উপবাসজনিত মাথাব্যথা। সাধারণত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, পানিশূন্যতা এবং হঠাৎ ক্যাফেইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা আট ঘণ্টা বা তার বেশি সময় উপবাসে থাকলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, যা মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি যাঁরা নিয়মিত চা বা কফি পান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে রোজার সময় হঠাৎ ক্যাফেইন গ্রহণ বন্ধ হলে মাথাব্যথার প্রবণতা বেড়ে যায়। পানিশূন্যতা এবং মানসিক চাপও এ সমস্যাকে তীব্র করে তুলতে পারে।   উপবাসজনিত মাথাব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি তীব্রতার হয় এবং কপালজুড়ে অনুভূত হয়। এটি সাধারণ মাইগ্রেনের মতো দপদপে ব্যথা সৃষ্টি না করলেও, যাঁদের মাইগ্রেনের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা এই ব্যথাকে উসকে দিতে পারে। খাবার গ্রহণের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই এই সমস্যা কমে যায়।   চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ইফতারের পর মাথাব্যথা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করা, সেহরিতে সুষম খাবার গ্রহণ, ধীরে ধীরে ক্যাফেইন কমানো, নিয়মিত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সেহরি বাদ না দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা, কারণ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়।   তবে মাথাব্যথার সঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, তীব্র বমি, কথা জড়িয়ে যাওয়া, জ্বর, শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়া বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   প্রতিবেদকঃ সিদ্দিকুর রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
ঔষধ
২৯৫ টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম বেঁধে দেবে সরকার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. মো. সায়েদুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ২৯৫টি ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় দিক হলো, এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি ওষুধের দাম সরকার নিজেই ঠিক করে দেবে। অর্থাৎ, কোম্পানিগুলো এখন থেকে আর নিজেদের ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে পারবে না।   দাম নির্ধারণের এই প্রক্রিয়াটি পরবর্তী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। যারা বর্তমানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করছেন, তাদের দাম কমিয়ে আনতে হবে। ডা. সায়েদুর রহমানের মতে, এই ২৯৫টি ওষুধ দেশের প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের সাধারণ সব রোগব্যাধি নিরাময়ের জন্য যথেষ্ট। ফলে এই মূল্য নিয়ন্ত্রণ সরাসরি দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।   শুধু অত্যাবশ্যকীয় ওষুধই নয়, তালিকার বাইরে থাকা আরও প্রায় ১,১০০ ওষুধের ক্ষেত্রেও কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। সেগুলোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি দাম বেঁধে না দিলেও একটি ‘মূল্য পরিধি’ বা রেঞ্জ ঠিক করে দেওয়া হবে। কোনো ওষুধের গড় মূল্য যদি ১৫ টাকা হয়, তবে তার সঙ্গে যোগ-বিয়োগ ১৫ শতাংশ রেঞ্জ রাখা হবে। সরকারের এই নতুন মূল্য নির্ধারণ নীতিমালা দ্রুতই গেজেট আকারে প্রকাশ পাবে। এর ফলে দেশের ওষুধের বাজারে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0