হরমুজ প্রণালী

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ । ফাইল ছবি: এপি
হরমুজ প্রণালিতে ২৪ ঘণ্টায় নাটকীয় পালাবদল

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নাটকীয় পালাবদল ঘটেছে। একদিকে প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা, অন্যদিকে অল্প সময়ের মধ্যেই তা আবার বন্ধ—এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   গত শুক্রবার ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিলে আন্তর্জাতিক মহলে আশার সঞ্চার হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও জাহাজ চলাচল তেহরান নিয়ন্ত্রণ করবে।   এই ঘোষণার প্রভাব দ্রুতই বিশ্ববাজারে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়। তবে পরিস্থিতি বেশিক্ষণ স্থিতিশীল থাকেনি।   এরপর যুক্তরাষ্ট্র জানায়, কোনো শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। এই অবস্থার প্রেক্ষাপটে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করে।   আইআরজিসি জানায়, প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়াকে শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং নির্দেশ অমান্যকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ওমান উপকূলের কাছে দুটি জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে।   এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের নৌবাহিনী ‘শত্রুদের নতুন করে পরাজয়ের স্বাদ’ দিতে প্রস্তুত।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই টানাপোড়েন মূলত বৃহত্তর কৌশলগত দ্বন্দ্বের অংশ। জাহাজ চলাচল ছাড়াও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো গভীর।   এদিকে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নাও হতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি খারাপ হলে পুনরায় সামরিক হামলা শুরু হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।   অন্যদিকে ইরানও আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে আরও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান প্রশ্নে সাংবাদিককে ‘বেরিয়ে যেতে’ বললেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে প্রশ্নকারীকে কার্যত বেরিয়ে যেতে বলেন।   সিবিএস নিউজের সাংবাদিক অলিভিয়া রিনাল্ডি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে জানতে চান, ইরানি গানবোট দুটি জাহাজে গুলি চালানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী। প্রশ্নটি শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প দৃশ্যত বিরক্ত হয়ে বলেন, “আউট। সবাইকে ধন্যবাদ।” এরপরই ব্রিফিং কার্যত শেষ হয়ে যায়। উপস্থিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টতই রাগান্বিত দেখাচ্ছিল।   এর আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সামরিক সূত্রের দাবি, ইরানের দুটি গানবোট একটি তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।   বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের ঘটনার খবর নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিতিশীলতাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ সংকটে জ্বালানি টানাপোড়েন: কোন দেশ কীভাবে সামাল দিচ্ছে

২০২৬ সালের ‘হরমুজ সংকট’ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ কৌশলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে।   সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে রয়েছে জাপান। দেশটি তাদের কৌশলগত তেলের মজুত থেকে ইতোমধ্যে ৪৫ দিনের সরবরাহ ছেড়েছে এবং আরও ২০ দিনের রিজার্ভ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প রুটে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে।   ভারত তীব্র তাপপ্রবাহ ও বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার মধ্যে কর কমানো, এলপিজি রেশনিং এবং বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।   অন্যদিকে পাকিস্তান গুরুতর সংকটে পড়েছে। দেশটির জ্বালানির বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেল রেশনিংয়ের পরিকল্পনাও করছে সরকার।   মালয়েশিয়া বিশাল ভর্তুকির চাপ সামলাতে লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি এবং বায়োডিজেল ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে নেপাল ও ভুটান জ্বালানি ও রেমিট্যান্স সংকটে পড়েছে; নাগরিকদের বিকল্প জীবনযাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।   তুরস্ক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপে পড়েছে। গৃহস্থালি পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। আফ্রিকায় মরক্কো আমদানি নির্ভরতার কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ঋণের পরিকল্পনা করছে।   যুক্তরাষ্ট্র বড় উৎপাদক হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং কৌশলগত মজুত কমে এসেছে। অন্যদিকে ব্রাজিল অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে রপ্তানিতে কর আরোপ করেছে। ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়া মজুত থেকে জ্বালানি ছেড়ে এবং কর কমিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈশ্বিক সংকট থেকে বাংলাদেশ-এর মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত জ্বালানি মজুত বৃদ্ধি, লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম চুক্তি (হেজিং), এবং কৃষিতে জ্বালানি নির্ভরতা কমানো।   বিশ্ব পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, জ্বালানি নিরাপত্তা এখন শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়—এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও টিকে থাকার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে চলাচল নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান আইএমও মহাসচিবের

গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকার দাবির মধ্যেই নৌপরিবহন খাতকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা-এর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ।   বিবিসি-র ‘নিউজআওয়ার’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ নিয়ে যেকোনো ইতিবাচক অগ্রগতি অবশ্যই স্বাগত। তবে বর্তমানে যে তথ্যগুলো প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলো এখনো যাচাই করা হচ্ছে।   ডোমিঙ্গেজ জানান, এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার জাহাজ এখনো আটকে রয়েছে।   তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হলেও তা যেন নিরাপদভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।   এ অবস্থায় পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক শিপিং শিল্পকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানান আইএমও মহাসচিব।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ খোলা রাখা ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’: জাতিসংঘ মহাসচিব

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়জুড়ে হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা একটি ‘সঠিক পদক্ষেপ’।   জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতার পূর্ণ পুনরুদ্ধার জরুরি এবং তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দ্বারা সম্মানিত হওয়া উচিত।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান সংলাপকেও এটি আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি খোলা রাখা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং চলমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।   সূত্র: বিবিসি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
৪৭ দিন পর হরমুজ পাড়ি দিচ্ছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ৪৭ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।   শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। এর পেছনে আরও ৮ থেকে ১০টি জাহাজ একই পথে চলাচল করছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, রাত তিনটার দিকে জাহাজটি পুরো প্রণালি অতিক্রম করার কথা রয়েছে।   এর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করলেও ইরান সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি আরব আমিরাতের মিনাসাকার বন্দরের বহির্নোঙরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।   বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ অতিক্রমের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দরে তেল সংগ্রহ (ব্যাংকারিং) করা হবে। এরপর জাহাজটির গন্তব্য নির্ধারিত রয়েছে আফ্রিকার মোজাম্বিক অথবা দক্ষিণ আফ্রিকা।   জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সাশ্রয়ে রেশনিং করে তা দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাদ্য বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে এবং দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ওয়ার অ্যালাউন্স।   উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে পণ্য নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর-এ পৌঁছায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট সংঘাতের কারণে জাহাজটির যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়।   পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে ফেরত আনা হলেও অবশেষে যুদ্ধবিরতির সুযোগে আবারও গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে আইআরজিসির অনুমতি প্রয়োজন হবে: ইরানের সামরিক কর্মকর্তা

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপ করেছে ইরান। দেশটির এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন থেকে প্রণালি পার হতে হলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর অনুমতি নিতে হবে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে আইআরজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে হবে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজসহ সব বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি দিয়ে পারাপারের অনুমতি পাবে। তবে সামরিক বা নৌবাহিনীর জাহাজের ক্ষেত্রে এই অনুমতি প্রযোজ্য হবে না।   এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা দিয়েছিলেন, লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতির সময় ১০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।   অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকলেও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বহাল থাকবে এবং কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করা হবে না।   বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা, অন্যদিকে আইআরজিসির অনুমতির শর্ত—এই দুই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
১০ দিনের জন্য পুরোপুরি খোলা হরমুজ প্রণালি, ঘোষণা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

যুদ্ধবিরতির সময়কালে আগামী ১০ দিন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, লেবাননে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পুরো সময়জুড়ে প্রণালিটি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। যুদ্ধবিরতির সময়কালে আগামী ১০ দিন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, লেবাননে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পুরো সময়জুড়ে প্রণালিটি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। আরাঘচি বলেন, যুদ্ধবিরতির আওতায় ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সমন্বিত রুট অনুসরণ করে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো বাধা ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করতে পারবে।   তিনি আরও জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৬ এপ্রিল ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যা বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর থেকে কার্যকর হয়েছে।   উল্লেখ্য, ৮ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননকে তা অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে মতপার্থক্য ছিল। ইরান ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান শুরু থেকেই লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় থাকার কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা অস্বীকার করেছিল।   পরবর্তীতে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলে লেবাননে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে এবং তার পরপরই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত জানায় তেহরান।   সূত্র: আল জাজিরা, তাসনিম নিউজ এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ খোলার ঘোষণায় তেলের দামে বড় পতন, কমল প্রায় ১৩ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ইরান গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি সব জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পরই তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঘোষণার পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২.৮৭ ডলার বা প্রায় ১২.৯৫ শতাংশ কমে ৮৬.৫২ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১৩.৫০ ডলার বা ১৪.২৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮১.১৯ ডলারে। উভয় সূচকই ১০ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।   এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, লেবাননকে ঘিরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরে এসেছে।   বিনিয়োগ বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হতে পারে। তবে প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল কতটা বাড়ে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যা চলমান সংঘাতের অবসানে ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ভবিষ্যতে আর প্রণালি বন্ধ করবে না বলে সম্মত হয়েছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব দিয়েছে।   অন্যদিকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে সামরিক অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালি খুলে দেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও ইউরোপীয় বাজারে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপে তেল পৌঁছাতে সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে।   তারা আরও সতর্ক করেছেন, পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে চূড়ান্ত সমাধান না হলে বাজারে অনিশ্চয়তা আবারও ফিরে আসতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ। ফাইল ছবি
স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়া সমঝোতা নয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে দায় দিল ইরান

স্থায়ী ও বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো ধরনের সমঝোতায় রাজি নয় বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, তেহরান কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না এবং পুরো অঞ্চলে সংঘাতের স্থায়ী অবসানই তাদের লক্ষ্য।   তুরস্কের আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম-এর সাইডলাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খাতিবজাদেহ বলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি হতে হলে তা লেবানন থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সব সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটিকে ইরানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করছি না। এই সংঘাত এখন একবারেই শেষ হওয়া উচিত।” হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এই জলপথ সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। যদিও এটি ইরানের আঞ্চলিক পানিসীমার মধ্যে পড়ে, তবুও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে এখানে অবাধ চলাচল বজায় রাখা হয়েছে।   এ অঞ্চলে চলমান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে ইরানের এই কূটনীতিক বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে মাইন অপসারণে নতুন কৌশল, ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে জলমাইন অপসারণে নতুন ধরনের যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।   প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন নৌবাহিনী ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ নামে পরিচিত আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে মাইন অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঐতিহ্যগতভাবে এ কাজে মানবচালিত মাইন-সুইপিং জাহাজ ব্যবহৃত হলেও এতে ক্রুদের জন্য ঝুঁকি বেশি থাকে।   নতুন এই লিটোরাল কমব্যাট শিপে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো হয়েছে। হালকা গঠনের এ জাহাজে রিমোট-নিয়ন্ত্রিত রোবট ব্যবহারের মাধ্যমে পানির নিচে মাইন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়। ফলে নৌসেনাদের সরাসরি মাইনফিল্ডে প্রবেশ করতে হয় না; দূর থেকেই তারা পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।   মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে বর্তমানে এমন তিনটি জাহাজ থাকলেও কার্যকর রয়েছে একটি। বাকি দুটি মেরামতের জন্য সিঙ্গাপুর-এ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-এর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরু হয়। এরপর ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর হরমুজ প্রণালিতে জলমাইন পেতে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে অন্তত এক ডজন মাইন পাতা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে, তবে সেগুলোর নির্দিষ্ট অবস্থানের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড রাখা হয়নি।   ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ থেকে মাইন অপসারণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালিটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।   ইরানের অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়, তেলের দাম বাড়তে থাকে এবং অনেক দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। এদিকে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ১২ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সামরিক বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কিছুক্ষণ পর সেন্টকোম জানায়, প্রণালিতে মাইন অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ সংকট নিরসনে ৪০ দেশের বৈঠক, উদ্যোগে যুক্তরাজ্য–ফ্রান্স

বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে অন্তত ৪০টি দেশের নেতাদের নিয়ে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে তেহরান নিজেদের বাইরে অন্যান্য দেশের জাহাজের জন্য কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে।   অন্যদিকে, গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগামী ও সেখান থেকে ছেড়ে আসা জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে। এতে করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়ে।   যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর নেতারা ইরানের যুদ্ধবিরতি সমর্থনের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রণালিটি পুনরায় চালু করতে একটি আন্তর্জাতিক মিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এতে করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ সংকটে দস্তানা বাজারে অস্থিরতা, স্বাস্থ্যসেবায় বাড়ছে সংকটের শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চিকিৎসা খাতেও। কাঁচামালের সংকটে রাবার গ্লাভস বা দস্তানার দাম বেড়েছে, উৎপাদন কমার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে—যা স্বাস্থ্যসেবা খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়াভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিআইএমবি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক উং চুন সাং জানিয়েছেন, দস্তানা প্রস্তুতকারকরা ইতিমধ্যে সিনথেটিক রাবার গ্লাভসের দাম গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়িয়েছে। বর্তমানে এক হাজার দস্তানার একটি বাক্সের দাম প্রায় ২৯ ডলারে পৌঁছেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা এভাবে ব্যাহত হতে থাকলে মে মাসের শেষ নাগাদ বিশ্ববাজারে দস্তানার তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। এতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   মালয়েশিয়ার বেসরকারি হাসপাতাল সমিতির সভাপতি ডা. কুলজিৎ সিং বলেন, ‘চিকিৎসার প্রতিটি ধাপেই দস্তানা অপরিহার্য। এর ঘাটতি দেখা দিলে স্বাস্থ্যসেবা কার্যত বাধাগ্রস্ত হবে।’ তিনি জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও আপাতত সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এই সংকটের মূল কারণ ‘ন্যাপথা’—যা খনিজ তেল শোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজাত এবং প্লাস্টিক ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য তৈরির প্রধান উপাদান। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ থাকায় ন্যাপথার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দস্তানা উৎপাদনে।   বিশ্বের প্রায় অর্ধেক দস্তানা উৎপাদনকারী মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে দাম আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ দস্তানা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টপ গ্লাভ জানিয়েছে, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একইভাবে হার্টালেগা হোল্ডিংসও জানিয়েছে, নাইট্রিল ল্যাটেক্সের উচ্চমূল্যের কারণে দস্তানার দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু দস্তানা নয়, মাস্ক, সার্জিক্যাল গাউনসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামেও প্রভাব পড়বে। যদিও করোনাভাইরাস মহামারির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেক হাসপাতাল ও উৎপাদক প্রতিষ্ঠান কিছুটা মজুত গড়ে রেখেছে, যা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সহায়তা করতে পারে।   তবুও বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা—যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপ আরও কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের দাবি

ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ প্রায় সব শর্তেই সম্মত হয়েছে।   হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে। তিনি আরও জানান, চুক্তিটি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত হলে সেখানে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে তার।   ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই চুক্তি সম্পন্ন হলে মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই সপ্তাহান্তেই দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।   তবে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যদি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকরভাবে বজায় রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তার মতে, এই অবরোধ ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন চুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ পুনরায় শুরুর হুমকি পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজ ডুবানোর হুমকি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার এবং সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাঈ এ হুমকি দেন।   বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ‘পুলিশের ভূমিকা’ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাজ নয়। তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে ধ্বংস করতে সক্ষম।   রেজাঈ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সাহস পায় না। তার ভাষায়, ইরান তাদের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি ছাড়বে না এবং আলোচনার শর্ত নির্ধারণ করবে তেহরানই।   এদিকে, সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। দাবি করেন, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ইরান ‘হাজার হাজার জিম্মি’ ধরে বিপুল অর্থ আদায় করতে পারবে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক বিমানবাহী রণতরী অঞ্চলটিতে অবস্থান করছে।   এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও আগের দফার দীর্ঘ আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবে হোয়াইট হাউস চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক তৎপরতা—দুই দিক থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি খোলা দরকার, তবে ‘যেকোনো মূল্যে নয়’—ফ্রান্সের সতর্ক বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা প্রয়োজন হলেও তা ‘যেকোনো মূল্যে’ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেস্ক্যুর।   সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখতে হবে।   তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জি৭ভুক্ত দেশগুলোর নেতারা পরিস্থিতির গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং এ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।   এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্যারিসে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এবং পরবর্তী যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন কীভাবে নিরাপদভাবে পুনরায় শুরু করা যায়, তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া না গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
হরমুজ বন্ধের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের ভয়
হরমুজ বন্ধের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের ভয়

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের একজন শীর্ষ অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং তা মোকাবিলার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।   জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভারত, সুদান, কেনিয়া, ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশে গুরুত্বপূর্ণ বপন মৌসুম চলছে। এই সময়ে জ্বালানি ও সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কৃষকরা প্রয়োজনীয় উপকরণ কম ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন, যা সরাসরি উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে।   তিনি ব্যাখ্যা করেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সারের সরবরাহের একটি প্রধান রুট। এই পথ বন্ধ বা অচল থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং বাজারে খাদ্যের প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে।   তোরেরো আরও বলেন, যদি দ্রুত কোনো সমঝোতা না হয়, তবে ক্ষতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এমনকি প্রণালি পুনরায় খুলে গেলেও বাণিজ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এবং বাজারের ধাক্কা সামাল দিতে প্রায় ৯০ দিন সময় লাগতে পারে। এই সময়সীমা কৃষি ও সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   তার মতে, যদি অচলাবস্থা দ্রুত শেষ করা যায়, তাহলে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হতে পারে এবং সম্ভাব্য খাদ্যসংকট এড়ানো সম্ভব।   এদিকে, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে, ইরানের স্বার্থ ও অধিকার স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।   ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের এক সামরিক উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো ভবিষ্যৎ চুক্তিতে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সতর্কতার সঙ্গে নতুন সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্যও ইরান প্রস্তুত রয়েছে।   সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান এই অচলাবস্থা শুধু জ্বালানি খাত নয়, বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাধা—ফিরে গেল কত জাহাজ?

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে কোনো জাহাজই এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পার হতে পারেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।   তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা দেশটির উপকূলে যাওয়া–আসা করা জাহাজগুলোকে আটকে দেওয়া হচ্ছে বা পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হচ্ছে। তবে অন্যান্য দেশের গন্তব্যে থাকা জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট শর্তে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।   সাম্প্রতিক এক আপডেটে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো জাহাজই এই অবরোধ ভেঙে যেতে পারেনি।   এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জাহাজ থেকে ইরান যে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিল, তা বন্ধ করা এবং একই সঙ্গে দেশটির তেল রপ্তানিতে চাপ সৃষ্টি করা।   অন্যদিকে, ইরান এই অবরোধকে ‘সমুদ্র দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রতিক্রিয়ায় তারা পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগরে নৌ চলাচলে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।   মার্কিন বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ বন্দর আব্বাস ত্যাগের পর অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়ান্স সেটিকে বাধা দিয়ে অন্যদিকে যেতে বাধ্য করে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে টোল বসাতে পারবে কি ইরান? কী বলছে আন্তর্জাতিক আইন

হরমুজ প্রণালি ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে ইরান নিরাপদ নৌ-চলাচলের বিনিময়ে ফি নেওয়ার চিন্তা করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।   তবে প্রশ্ন হচ্ছে—ইরান কি আদৌ এই প্রণালি থেকে টোল আদায় করতে পারে? বিষয়টি বুঝতে হলে আগে এর ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব জানা প্রয়োজন।   হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এটি ইরান ও ওমানের জলসীমার মাঝখানে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম—বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই হয়। প্রণালিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার এবং সরু অংশে জাহাজ চলাচলের জন্য আলাদা প্রবেশ ও বহির্গমন চ্যানেল রয়েছে।   সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান কার্যত এই পথ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা জোরদার করেছে এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে টোল আরোপের বিষয়টি সামনে এনেছে বলে আলোচনা রয়েছে। যদিও বাস্তবে টোল আদায় শুরু হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   আন্তর্জাতিকভাবে সমুদ্রপথ ব্যবহারের প্রধান আইনি কাঠামো হলো জাতিসংঘ সমুদ্র আইন সনদ। এই আইনের অধীনে হরমুজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে ‘ট্রানজিট প্যাসেজ’ বা বাধাহীন চলাচলের অধিকার স্বীকৃত। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক নৌযানগুলোকে এখানে অবাধে চলাচলের সুযোগ দিতে হয়।   একই সঙ্গে, কোনো দেশ তার আঞ্চলিক জলসীমায় কিছু নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে পারলেও ‘নিরীহ চলাচল’ বা শান্তিপূর্ণ যাতায়াত বন্ধ করার অধিকার নেই। অর্থাৎ, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে অযথা বাধা দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে ধরা হয়।   যদিও প্রায় ১৭০টির বেশি দেশ এই সনদ অনুমোদন করেছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তা অনুমোদন করেনি। তবুও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই নিয়মগুলো এখন আন্তর্জাতিক প্রথাগত আইনের অংশ—ফলে সেগুলো সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।   ইরানের অবস্থান হলো, তারা যেহেতু আনুষ্ঠানিকভাবে এই সনদ মেনে নেয়নি, তাই এর কিছু বিধান তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যাবে।   যদি ইরান সত্যিই টোল আরোপের চেষ্টা করে, তাহলে তা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে। একাধিক দেশ যৌথভাবে নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিতে পারে। এছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে প্রস্তাব আনতে পারে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প রুট বেছে নিতে পারে, যদিও এতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রয়োজনে ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হতে পারে।   সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের প্রশ্নটি শুধু একটি অর্থনৈতিক বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইন, ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি জটিল ইস্যু।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদে ফের সংলাপের আভাস: ইরান সংকটে কূটনীতির দৌড়, যুদ্ধের শঙ্কা কাটেনি

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার ইঙ্গিত মিলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। সাম্প্রতিক ব্যর্থ সংলাপের পর নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও সামরিক প্রস্তুতি ও অবরোধের কারণে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠকে বসেন। যদিও সেই আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়, তবে উভয় পক্ষকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় রয়েছে পাকিস্তান। ইতোমধ্যে দেশটির সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে গিয়ে সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও শিগগিরই যুদ্ধের অবসান হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিশ্বকে ‘অসাধারণ দুটি দিনের’ জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন করে আলোচনা শুরু হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও সামনে আসতে পারে, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।   এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও কমেনি। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মার্কিন বাহিনী একাধিক তেলবাহী জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৫ ডলারে পৌঁছেছে।   অন্যদিকে ইরানও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, অবরোধ অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্য প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হতে পারে।   আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা এগোলেও অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি ‘ভঙ্গুর ভারসাম্যে’ রয়েছে। সংলাপ সফল না হলে যে কোনো সময় নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপ: হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে জোরালো আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যুতে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ৪০ মিনিটের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় দুই নেতা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।   ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর এটিই ছিল দুই নেতার প্রথম সরাসরি কথোপকথন। আলোচনায় তারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খোলা ও নিরাপদ রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।   ফোনালাপ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। তিনি জানান, দুই দেশ তাদের “বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব” আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   মোদি আরও উল্লেখ করেন, আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। এদিকে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূত সার্জিও গোর জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করে থাকেন।   উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ মার্চ দুই নেতার মধ্যে সর্বশেষ ফোনালাপ হয়েছিল। তখনও তারা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের প্রয়োজনীয়তা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছিলেন।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপের উদ্যোগও চলছে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0