আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজে চাকাবিহীন বিমান নিয়ে আছড়ে পড়ে আত্মঘাতী পাইলটরা

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মঘাতী বিমান হামলার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মঘাতী বিমান হামলার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধক্ষেত্রে যে কৌশলটি সবচেয়ে ভয়ংকর ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিধ্বংসী হয়ে উঠেছিল তা হলো জাপানের আত্মঘাতী বিমান হামলা, যা ইতিহাসে ‘কামিকাজে’ নামে পরিচিত। চাকাবিহীন বা স্থায়ী ল্যান্ডিং গিয়ারযুক্ত হালকা যুদ্ধবিমান নিয়ে আত্মঘাতী পাইলটরা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর, বিমানবাহী রণতরী ও সামরিক স্থাপনায় আছড়ে পড়তেন।

 

এই প্রতিবেদনকে কামিকাজে কৌশলের জন্ম, প্রযুক্তি, রণকৌশল ও আশপাশের সমুদ্রে সংঘটিত ভয়াবহ হামলা, ইউএসএস ডরসি ও ইউএসএস বাঙ্কার হিলের অভিজ্ঞতা, পাইলটদের মানসিকতা, মিত্রবাহিনীর প্রতিরোধ, এবং যুদ্ধোত্তর ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের আলোকে পুরো ঘটনাপ্রবাহকে বিষয়ভিত্তিকভাবে সাজানো হয়েছে।

 

আত্মঘাতী বিমান হামলার ধারণা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধে জাপান যখন আকাশ ও সমুদ্রে আধিপত্য হারাতে শুরু করে, তখনই জন্ম নেয় আত্মঘাতী িবমান হামলার মতো এক দুর্ধর্ষ ধারণা। ১৯৪৪ সালের শেষ দিকে ফিলিপাইনে প্রথম বড় আকারে এই কৌশল প্রয়োগ হয়। প্রচলিত বোমাবর্ষণ বা ডগফাইটে সাফল্য কমে যাওয়ায় জাপানি সামরিক নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয় যুদ্ধবিমানকেই বানানো হবে অস্ত্র, আর পাইলট হবেন আত্মোৎসর্গকারী যোদ্ধা। লক্ষ্য একটাই- শত্রুপক্ষের জাহাজে সরাসরি আঘাত করে সর্বোচ্চ ক্ষতি সাধন।

 

এই আত্মঘাতী বিমানের বড় অংশ ছিল পুরোনো বা দ্বিতীয় সারির উড়োজাহাজ। অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোতে স্থায়ী চাকা বা স্প্যাটেড আন্ডারকারেজ থাকত, যা দেখতে ছিল ভারী ও ধীরগতির। তবুও কামিকাজে অভিযানে এগুলো কার্যকর হয়ে ওঠে, কারণ পাইলটদের ফেরার কোনো পরিকল্পনাই থাকত না। বিমানের মাঝখানে বসানো হতো বড় আকারের ২৫০ কেজির বোমা, যা আঘাতের মুহূর্তে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটাত।

 

অনেক কামিকাজে আত্মঘাতী বিমানের চাকা ছিল, তবে কিছু বিশেষ মডেলে তা ছিল না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাধারণ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হতো, কিন্তু ওকা নামক রকেট-চালিত আত্মঘাতী বিমানে চাকা থাকতো না। এসব যুদ্ধবিমানগুলোকে বড় ধরনের কার্গো বিমান থেকে ছেড়ে দেয়া হতো এবং যেসব বিমানে চাকা থাকতো কিছু ক্ষেত্রে ওজনের ভার কমানোর জন্য টেকঅফের পর সেগুলো থেকে চাকা খুলে ফেলা হতো।

 

কামিকাজে বিমান।

 

যেহেতু এসব মিশনের লক্ষ্যই ছিল আত্মহুতি, তাই ফেরার বা ল্যান্ড করার প্রয়োজনীয়তা ছিল না। আর এই বিবেচনায় ডিজাইনে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছিল বিমানগুলোতে।

 

মার্কিন জাহাজে হামলা
১৯৪৫ সালের মার্চ মাসে জাপানের ওকিনাওয়ার উপকূলে মিত্রবাহিনীর নৌবহর এই হামলার সবচেয়ে তীব্র অভিজ্ঞতা লাভ করে। ইউএসএস ডরসি (ডিএমএস-১), একটি পুরোনো উইকস-ক্লাস ডেস্ট্রয়ার-মাইনসুইপার ২৭ মার্চ ভোরে কামিকাজের আক্রমণের মুখে পড়ে। জাহাজটি তখন কেরামা রেট্টো দ্বীপপুঞ্জের কাছে মাইন পরিষ্কার অভিযানে নিয়োজিত ছিল। শত্রু বিমানের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর সাধারণ সতর্কতা জারি হলেও রক্ষা হয়নি। মুহূর্তের মধ্যেই আকাশ থেকে নেমে আসে আত্মঘাতী হামলা।

 

ডরসির নাবিকেরা প্রথমে দূরে অন্য জাহাজে আক্রমণ হতে দেখেন। এরপর তিনটি শত্রু বিমান তাদের দিকে এগিয়ে আসে। দুইটি পাশ কাটিয়ে গেলেও তৃতীয়টি পেছন দিক থেকে ঘুরে এসে আত্মঘাতী ডাইভ দেয়। জাহাজের সব অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়। ৪০ মিমি বোফর্স ও ২০ মিমি অরলিকন কামান আঘাত হানে বিমানে, আগুন ধরে যায়, এমনকি একটি অংশ ছিটকেও পড়ে। কিন্তু কামিকাজে অভিযানের নির্মম সত্য হলো- এত কিছুর পরও পাইলট তার লক্ষ্য থেকে সরে যাননি।

 

ভোর ৬টা ২০ মিনিটে সেই জ্বলন্ত বিমানটি ডরসির ডেকের পাশে আছড়ে পড়ে। বিস্ফোরণে জাহাজের গায়ে ফাটল ধরে, চিমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ডেকের বিভিন্ন সরঞ্জাম ধ্বংস হয়। আটজন নাবিক সমুদ্রে ছিটকে পড়েন, এর মধ্যে পাঁচজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিনজন নিখোঁজ থাকেন। আরও দুজন গুরুতর আহত হন, যাদের একজন পরে মারা যান। এর পরেও আশ্চর্যজনকভাবে ডরসি দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে আবার কাজে ফিরে যায়।

 

একই সময়, একই অঞ্চলে আরও কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ কামিকাজে হামলার শিকার হয়। ইউএসএস নেভাডা, বিলক্সি, ও’ব্রায়েন, ফরম্যান সবগুলোই কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অধিকাংশ জাহাজ তাদের আক্রমণকারীকে ‘ভ্যাল’ বলে শনাক্ত করে। ভ্যাল ছিল আইচি ডি৩এ ডাইভ বোম্বারের মিত্রবাহিনী প্রদত্ত কোডনাম, যা পার্ল হারবার থেকে শুরু করে বহু অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছিল।

 

কিন্তু যুদ্ধোত্তর গবেষণা ও জাপানি নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই দিন আকাশে ভ্যাল ছিল না। বরং আক্রমণ চালিয়েছিল মিতসুবিশি কি-৫১, মিত্রবাহিনীর কোডনাম ‘সোনিয়া’। দেখতে ভ্যাল ও ‘নেট’ ফাইটারের সঙ্গে মিল থাকায় যুদ্ধের উত্তাপে মার্কিন নাবিকেরা ভুল শনাক্ত করেছিলেন। সোনিয়া ছিল জাপানি সেনাবাহিনীর (আইজেএএএফ) একটি দুই আসনের ক্লোজ-সাপোর্ট বিমান, যা পরে ব্যাপকভাবে কামিকাজে ভূমিকায় ব্যবহৃত হয়।

 

এই সোনিয়া বিমানগুলো পরিচালনা করেছিল বিশেষ কামিকাজে ইউনিট বুকোকু-তাই ও সেকিশিন-তাই। ওকিনাওয়ার নাকা এয়ারফিল্ড থেকে উড্ডয়ন করা ১১টি সোনিয়া ২৭ মার্চ ভোরে মার্কিন নৌবহরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। জাহাজগুলোর রিপোর্টে যতগুলো বিমান দেখা গিয়েছিল, জাপানি রেকর্ডের সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায়।

 

এই ভুল শনাক্তকরণের রহস্য আরও স্পষ্ট হয় ২০২০ সালে, যখন ইউএসএস ডরসিতে আছড়ে পড়া বিমানের কিছু ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করা হয়। প্রপেলারের অংশ, স্পিনার ও একটি ডাটা প্লেট থেকে জানা যায়, বিমানে ছিল ‘হাক্স স্টার্টার’ সংযোগ, যা জাপানি সেনাবাহিনীর বিমানে সাধারণ ছিল। ডাটা প্লেটে নোঙরের বদলে তারকা চিহ্ন থাকাও প্রমাণ করে এটি নৌবাহিনীর ভ্যাল নয়, বরং সেনাবাহিনীর সোনিয়া।

 

সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা
ওকিনাওয়ার যুদ্ধকালে সবচেয়ে ভয়াবহ কামিকাজে আঘাতগুলোর একটি আসে ইউএসএস বাঙ্কার হিলের ওপর। ১৯৪৫ সালের ১১ মে সকালে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই জাপানের কিকুসুই স্পেশাল অ্যাটাক স্কোয়াড্রন মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোকে লক্ষ্য করে। ‘জিকে’ বা জিরো ফাইটার নিয়ে পাইলটরা মেঘের আড়াল ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা এড়িয়ে যায়।

 

হামলার শিকারের আগে মার্কিন রণতরী।

 

বাঙ্কার হিলে আক্রমণের মুহূর্তে ডেকে অবতরণ করছিল মার্কিন ফাইটারগুলো। রাডার বৃষ্টির কারণে ঠিকমতো কাজ করছিল না। হঠাৎ করেই এক কামিকাজে ডেকে গুলি চালায়, তারপর বোমাসহ আছড়ে পড়ে। অল্প সময়ের ব্যবধানে আরেকটি বিমান একইভাবে আঘাত হানে। ডেকে ছড়িয়ে পড়ে আগুন, বিস্ফোরণে ধ্বংস হয় রেডি রুম, হ্যাঙ্গার ডেক।

 

এই আক্রমণে ৩৯৬ জন নিহত ও ২৬৪ জন আহত হন। একটি মাত্র হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য এত বড় প্রাণহানি ছিল ইতিহাসে অন্যতম রেকর্ড। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায়ও বাঙ্কার হিল ডুবে যায়নি। ইঞ্জিনরুমের নাবিকেরা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও জাহাজ সচল রাখেন, যা শেষ পর্যন্ত রণতরীটিকে রক্ষা করে।

 

জাপানি আত্মঘাতী পাইলটদের অসীম সাহস
কামিকাজে পাইলটদের মানসিকতা ছিল জটিল ও বহুমাত্রিক। অনেকেই ছিলেন তরুণ, সদ্য প্রশিক্ষণ শেষ করা। কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, যাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় সীমিত উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা নিয়ে। আদর্শ, দেশপ্রেম, সামাজিক চাপ ও সামরিক নির্দেশ সব মিলিয়ে তারা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন।

 

মার্কিন সেনাদের কাছে এই কৌশল ছিল সম্পূর্ণ ভিনগ্রহী। ওকিনাওয়ার কাদেনা এয়ারফিল্ডে থাকা তরুণ মেরিন পাইলটদের কাছে আত্মঘাতী আক্রমণের ধারণাই ছিল অবিশ্বাস্য। তবু বাস্তবতায় প্রতিদিনই তারা এমন শত্রুর মুখোমুখি হচ্ছিল, যার কাছে বেঁচে ফেরা কোনো লক্ষ্য নয়।

 

এই প্রেক্ষাপটেই ইতিহাসবিদরা বলেন, যদি জাপান আত্মসমর্পণ না করত এবং পারমাণবিক বোমা ব্যবহার না হতো, তবে ‘অপারেশন ডাউনফল’ নামে মিত্রবাহিনীর মূল ভূখণ্ডে আক্রমণের সম্ভাবনাও থাকতো, আর তা হতো মানব ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অভিযান। কামিকাজে কৌশল সেখানে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত।

 

দুইজন কামিকাজে বিমানের পাইলট।

 

যুদ্ধ শেষে পার্ল হারবার, ইউএসএস মিসৌরি, সাবমেরিন বোফিশসহ বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত নিদর্শনগুলো কামিকাজে ইতিহাসকে জীবন্ত করে রেখেছে। সব মিলিয়ে, চাকাবিহীন বা স্থায়ী আন্ডারকারেজযুক্ত কামিকাজে বিমান শুধু সামরিক অস্ত্র ছিল নয়, তা ছিল এক ধরনের মানসিক যুদ্ধ। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা,আত্মোৎসর্গের মানসিকতা ও ভয়াবহ ধ্বংস এই সবকিছু মিলিয়ে কামিকাজে হামলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটি।

 

এই ইতিহাস শুধু যুদ্ধজয়ের বা পরাজয়ের গল্প নয়, এটি মানুষের সিদ্ধান্ত, আদর্শ, ভুল ও আত্মত্যাগের জটিল দলিল। ওকিনাওয়া থেকে বাঙ্কার হিল প্রতিটি আঘাত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যুদ্ধের চরম মুহূর্তে মানুষ কতটা দূর যেতে পারে, এবং তার মূল্য কত ভয়াবহ হতে পারে। হয়তো এ বাস্তবতাকে উপলব্ধি করেই বিশ্বের কাছে অজানা সেই পারমাণবিক অস্ত্রকে জাপানে প্রথমবারের মতো ব্যবহারের মাধ্যমে সামনে আনতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র।

 

জাপানের সবচেয়ে বড় অভিযান ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে জাপানের শিল্প ও সামরিক শক্তি পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিল আমদানিকৃত তেলের ওপর। জাপান তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮০–৯০ শতাংশ আমদানি করত যুক্তরাষ্ট্র থেকে। কিন্তু চীন ও ফরাসি ইন্দোচীনে আগ্রাসনের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪১ সালের জুলাইয়ে জাপানের ওপর পূর্ণ তেল নিষেধাজ্ঞা দেয়। এতে জাপানের হাতে থাকা তেল মজুত ছিল সর্বোচ্চ ১৮–২৪ মাসের জন্য। অর্থাৎ যুদ্ধ না করলেও জাপানের সামরিক ও অর্থনীতি অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

 

এমন পরিস্থিতিতে ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে জাপান হাওয়াইয়ের ওয়াহু দ্বীপে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে অতর্কিত হামলা চালায় জাপান। দুই ঘণ্টার এই অভিযানে অংশ নেয় দেশটির ৩৫৩টি যুদ্ধবিমান। হামলায় ৫টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও ১৬টি, ধ্বংস হয় ১৮৮টি যুদ্ধবিমান। এতে ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি সামরিক ও বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং প্রায় ১২০০ জন আহত হন।

 

হামলার শুরুতে মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণভাবে হতবিহ্বল হয়ে পড়লেও সকাল ১০টার মধ্যে সীমিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। জাপানি বাহিনী ফিরে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ২৯টি জাপানি বিমান ও ৫টি ছোট সাবমেরিন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। নিহত হয় ৬৪ জন জাপানি সেনা। পার্ল হারবার হামলার পরদিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট কংগ্রেসে ভাষণ দিয়ে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার আহ্বান জানান। একজন ছাড়া সবাই যুদ্ধের পক্ষে ভোট দেন এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রবেশ করে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
মদিনা বিমানবন্দরে প্রথম দফায় আগত হজযাত্রীদের ফুল উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান কর্মকর্তারা | ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করেছেন হজযাত্রীরা; মদিনায় প্রথম কাফেলার উষ্ণ অভ্যর্থনা

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনে সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এ বছরের হজের প্রথম কাফেলা। এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো ২০২৬ সালের পবিত্র হজ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক পথচলা।   মদিনা বিমানবন্দরে প্রথম দফায় আগত হজযাত্রীদের ফুল ও খেজুর দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে হজযাত্রীদের মদিনার মসজিদে নববীতে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে তারা নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কয়েক দিন অবস্থানের পর হজের মূল কার্যাদি পালনের জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।   সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে আরও অসংখ্য ফ্লাইট মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। আল্লাহর মেহমানদের জন্য পরিবহন, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে আলাদা সহায়তা দল।   চাঁদ দেখা সাপেক্ষে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছর মে মাসের শেষ সপ্তাহে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ লাখ মুসলিমের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: রয়টার্টস

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাজ্যে খাদ্য ও গ্যাস সংকটের আশঙ্কা; গোপন পরিকল্পনায় সতর্কতা

যুদ্ধবিধস্ত গাজা | ছবি: সংগৃহীত

গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে কায়রোতে যুক্তরাষ্ট্র ও হামাসের ঐতিহাসিক সরাসরি বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

আর্থিক সংকট ও শিক্ষার্থী হ্রাস: লন্ডনের শীর্ষ ইহুদি কলেজ বন্ধের ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান; ১০ বছর পর সেনা প্রত্যাহার

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনে সিরিয়া থেকে নিজেদের সর্বশেষ সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) হাসাকাহ অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘কাসরাক’ সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনী সরে যাওয়ার মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ এক দশকের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটল। ২০১৫ সাল থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করছিল।   সিরীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেনারা ঘাঁটিটি ত্যাগ করার পরপরই সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ৬০তম ডিভিশন সেখানে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের সম্ভাব্য হামলা এড়াতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মার্কিন সেনা ও সরঞ্জামগুলো জর্ডান সীমান্ত দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘাঁটিটি সিরীয় সরকারি বাহিনী ও সিরীয় ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) অধীনে রয়েছে।   সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে একে এসডিএফ-কে জাতীয় কাঠামোর সাথে একীভূত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে বাশার আল-আসাদকে পরাজিত করে ক্ষমতায় বসা আহমেদ আল-শারা সরকারের সাথে এসডিএফ-এর চুক্তির ফলেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। নতুন এই সরকারকে ওয়াশিংটন শুরু থেকেই সমর্থন দিয়ে আসছে।   বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের সাথে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই সেনা প্রত্যাহার বড় ভূমিকা রাখবে। ইরানের সাথে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এবং লেবাননে ইসরায়েলের সাথে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মধ্যেই মার্কিন সেনারা সিরিয়া ত্যাগ করল।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ বন্ধের’ নীতির অংশ হিসেবে এর আগে আল-তানফ এবং আল-শাদাদি ঘাঁটি থেকেও সেনা সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখন থেকে সিরিয়া রাষ্ট্র নিজেই তার ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদ দমনের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে বলে দামেস্ক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অলৌকিক উদ্ধার: খনি ধসের ১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ | ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল নয়, ইরানই এখন ‘প্রধান শত্রু’: আমিরাত প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা আলোচনা; মধ্যপ্রাচ্যে কি ফিরবে স্থায়ী শান্তি?

প্রায় আট সপ্তাহের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এখন এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার পর, আগামী ১৬ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, উভয় পক্ষের আলোচক দল পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   প্রথম দফার বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নেতৃত্ব দেন। সেখানে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিপূর্বে নিজেকে জয়ী দাবি করেছিলেন, তবুও রণাঙ্গনের চেয়ে কূটনীতিকেই এখন প্রাধান্য দিচ্ছে সব পক্ষ। তবে ইসরায়েলের অতীত ইতিহাস এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েই গেছে।   এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ফোনালাপে বর্তমান পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছেন। সৌদি আরব এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের স্থায়ী অবসানে এই সংলাপ-প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিশ্ববাসী এখন ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এই আলোচনা সফল হলে কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়াসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত হতে পারে। সংঘাতের পুনরায় বিস্তৃতি রোধে ইসরায়েলের সদিচ্ছাই এখন বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চুক্তির পথে ট্রাম্প; স্বাক্ষরিত হতে পারে পাকিস্তানে

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নৌ অবরোধ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হরমুজ প্রণালী পার ৪টি ইরানি জাহাজের

পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা কেবল ইসলামাবাদেই সম্ভব: ইরানি রাষ্ট্রদূত

0 Comments