জাতীয়

উপদেষ্টারা সম্পদের হিসাব জমা দিলেও প্রকাশ করা হয়নি

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
উপদেষ্টারা সম্পদের হিসাব জমা দিলেও প্রকাশ করা হয়নি
উপদেষ্টারা সম্পদের হিসাব জমা দিলেও প্রকাশ করা হয়নি

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের পথে হলেও উপদেষ্টাদের সম্পদসংক্রান্ত তথ্য এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাঁর সরকারের সব উপদেষ্টার আয় ও সম্পদের বিবরণ দ্রুত প্রকাশ করা হবে। সেই ঘোষণা তখন বিভিন্ন মহলে আশাবাদ তৈরি করেছিল।

 

কিন্তু সময় গড়িয়েছে প্রায় দেড় বছর। বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি। অর্থনীতি ও দুর্নীতিবিরোধী খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারত। কিন্তু তা না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

 

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন আনা হয়। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট ২১ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। পাশাপাশি উপদেষ্টা মর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় আরও কয়েকজন দায়িত্ব পালন করছেন।

 

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, সব উপদেষ্টা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সব সরকারি কর্মকর্তার জন্য এটি বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান। সংবিধানের আলোকে ন্যায়পাল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণাও ছিল সেই ভাষণের অংশ।

 

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে উপদেষ্টাদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেবেন। স্বামী বা স্ত্রীর পৃথক আয় থাকলে সেটিও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। নীতিমালায় আরও উল্লেখ আছে, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে এসব তথ্য প্রকাশ করবেন।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ উপদেষ্টাই তাঁদের সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী আগের ও চলতি অর্থবছরের বিবরণী দাখিল করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।

 

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যখন একাধিক অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন জমার সময় প্রায় শেষ, এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদও শেষের দিকে, তখন কেন এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি? সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানান, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিষয়টি দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, সম্পদের বিবরণ প্রকাশের ঘোষণা জনগণের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। তাঁর মতে, এটি বাস্তবায়িত না হওয়া শুধু হতাশাজনকই নয়, বরং সরকারের দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা না হওয়ার একটি নেতিবাচক উদাহরণ হয়ে রইল।

 

সব মিলিয়ে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যে সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

জাতীয়

View more
সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বিদ্যমান মজুতে চলবে আরও ১২ বছর; গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে সরকারের মহাপরিকল্পনা

দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ গ্যাসের মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী প্রায় ১২ বছর সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। রোববার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।   মন্ত্রী জানান, দেশের মোট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত ২৯.৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২.১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭.৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে দৈনিক গড়ে ১,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে এই হারে আগামী ১২ বছর চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।   জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করেছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। পেট্রোবাংলার পরিকল্পনায় ১০০টি কূপ খনন কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ২৬টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া বাপেক্স ব্লক-৭ ও ৯-এ ৩,৬০০ কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক জরিপ এবং বিজিএফসিএল হবিগঞ্জ ও বাখরাবাদ এলাকায় ৩ডি সাইসমিক জরিপ শুরু করতে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের বিষয়ে সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

ছবি: সংগৃহীত।

তেলের দাম বাড়লেও কাটেনি সংকট: পাম্পে দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তিতে চালকরা

ছবি: সংগৃহীত

লিটারে ১৫–২০ টাকা বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, কার্যকর রাত ১২টা থেকে

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারের সাথে সমন্বয়: দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল

আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। এই নতুন সমন্বয়ের ফলে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই মূল্যবৃদ্ধির তথ্য জানানো হয়।   নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি লিটার ডিজেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা (আগে ছিল ১০০ টাকা) এবং কেরোসিন প্রতি লিটার ১৩০ টাকা (আগে ছিল ১১২ টাকা)।   সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সাথে দেশীয় বাজারকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই বর্ধিত মূল্য আগামীকাল রোববার থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হবে। হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খাতসহ নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি; শুল্ক ছাড় ও কঠোর শর্তের আদ্যোপান্ত

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী | ছবি: সংগৃহীত

সরকারের ৬০ দিনের বড় সাফল্য; প্রধানমন্ত্রীর ওপর জনগণের আস্থা ফিরেছে

ছবি: ফাইল ফটো

সুনামগঞ্জ ও রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু; সুরক্ষায় জরুরি নির্দেশনা

ইস্টার্ন রিফাইনারি
বিপাকে ইস্টার্ন রিফাইনারি, তেল নিয়ে দুশ্চিন্তা কতটুকু?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম বড় তেল সংকটের মুখোমুখি। অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ ও এপ্রিলের জন্য নির্ধারিত ক্রুড অয়েলের চালানগুলো যথাসময়ে পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে রিফাইনারির স্টোরেজ ট্যাংকে থাকা জরুরি মজুত বা 'ডেড স্টক' ব্যবহার করে কোনোভাবে দুটি ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। বাকি দুটি ইউনিটকে রক্ষণাবেক্ষণের (মেইনটেনেন্স) কথা বলে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ চালানের পর থেকে আর কোনো তেল আসেনি। হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট জটিলতায় মার্চ মাসের প্রায় দুই লাখ টন তেলের চালান আটকে আছে। তবে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন একটি চালান আসার আশা করছে কর্তৃপক্ষ। রিফাইনারির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসলেও দেশে তেলের সংকট হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ডিজেল ও অকটেন সরাসরি আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের মতে, এ মাসে আসার কথা থাকা ১৭টি কার্গোর মধ্যে ১৪টি নিয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। ১৯৬৮ সালে নির্মিত এই পুরনো শোধনাগারটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চমানের ক্রুড পরিশোধন করতে পারে। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ১৫ লাখ থেকে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করতে ৩১ হাজার কোটি টাকার একটি সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ যে কোনো দেশের সস্তা ক্রুড অয়েল পরিশোধন করতে পারবে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ড. ইজাজ হোসেন ও অধ্যাপক ম তামিমের মতে, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট ও ডলার সংকটের সময়ে এত ব্যয়বহুল প্রকল্প কতটা লাভজনক হবে তা দেখার বিষয়। এছাড়া অতিরিক্ত পেট্রোল উৎপাদনের ফলে তা রপ্তানির প্রয়োজন হতে পারে, যার বাজার ধরা চ্যালেঞ্জিং। অন্যদিকে সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ফসিল ফুয়েলে এত বড় বিনিয়োগ না করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সব বাধা পেরিয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিপিসি। মহেশখালীতে এসপিএম টার্মিনাল ও পাইপলাইন নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় তেল খালাসের অবকাঠামো এখন প্রস্তুত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
রুমিন ফারহানা

এনসিপিতে যোগের আলোচনা নিয়ে মুখ খুললেন রুমিন ফারহানা

ছবি: সংগৃহীত

আগামী বছর হজের খরচ আরও কমানোর উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ পরীক্ষা করে দেখছে ভারত: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

0 Comments