অভিবাসী

ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যায় রেকর্ড বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশটিতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবৃদ্ধির এই হার দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম দ্রুততম বর্ধনশীল অভিবাসী গোষ্ঠীতে পরিণত করেছে। সম্প্রতি মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (MPI) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক দশকে উন্নত জীবনযাপন, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের খোঁজে রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশিদের এই প্রবৃদ্ধির হার অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশের পরে তালিকার অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলা, আফগানিস্তান এবং নেপাল। বাংলাদেশের এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি মার্কিনী অর্থনীতি ও সমাজে বাঙালিদের শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শ্রমশক্তির প্রায় ১৮ শতাংশই অভিবাসী। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি অভিবাসী মার্কিন শ্রমবাজারে সক্রিয় রয়েছেন। মজার বিষয় হলো, অভিবাসী পরিবারগুলোর বার্ষিক গড় আয় (৮২,৪০০ ডলার) বর্তমানে মার্কিন বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোর গড় আয়ের (৮১,৪০০ ডলার) তুলনায় কিছুটা বেশি। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে মানবিক কারণে দেওয়া সুরক্ষা (Humanitarian protections) বাতিল এবং অস্থায়ী ভিসা ও গ্রিন কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন কমে গেলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার স্থবির হয়ে যেতে পারে, যা দেশটির শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
সৌদিতে সাঁড়াশি অভিযান: এক সপ্তাহেই ১৪ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে গত এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৪ হাজার ৪৮৭ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৯ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৭ হাজার ৯১১ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন লঙ্ঘন, ৩ হাজার ৫৮৮ জনের বিরুদ্ধে সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ২ হাজার ৯৮৮ জনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় ১ হাজার ৩৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ ইয়েমেনি, ৬১ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। এছাড়া অবৈধ উপায়ে দেশ ত্যাগের চেষ্টাকালে আটক হয়েছেন আরও ৪৩ জন। সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, যারা অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেবেন, পরিবহন সুবিধা দেবেন বা কোনোভাবে সহযোগিতা করবেন, তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এই অপরাধে ১৫ বছর পর্যন্ত জেল এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৩৯ হাজার ২৫৮ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৬০ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৭৯৮ জন নারী। ইতিমধ্যে ১২ হাজার ৫৫৪ জন অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ড্রোন থেকে তোলা নিউইয়র্কের ডবস ফেরিতে অবস্থিত ‘দ্য চিলড্রেন’স ভিলেজ’
আশ্রয়কেন্দ্রে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার অভিবাসী শিশুরা: তোলপাড় যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অভিবাসী শিশুদের জন্য নির্ধারিত সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার পর দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অভিভাবকহীন অবস্থায় সীমান্তে আটক হওয়া শিশুদের যে সমস্ত শেল্টারে রাখা হয়েছিল, সেখানে সুরক্ষার বদলে তারা চরম অবহেলার শিকার হয়েছে। বেশ কয়েকজন শিশু তাদের সাথে হওয়া অমানবিক আচরণের বর্ণনা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মারধর, দীর্ঘ সময় অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা এবং এমনকি যৌন নিগ্রহের মতো ভয়াবহ ঘটনা। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে "মানবিক বিপর্যয়" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, সরকারি নজরদারির অভাবে এবং বেসরকারি ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে শিশুদের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এদিকে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষের নেতারাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই কলঙ্কজনক ঘটনা তদন্তে তারা একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ইস্যুটি বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অভিবাসন নীতি ও মানবাধিকার রক্ষা—উভয় ক্ষেত্রেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এই দেশটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই'র অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের ৪১ শতাংশই নিরপরাধ
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই'র অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের ৪১ শতাংশই নিরপরাধ

ইমা এলিস/ বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের প্রায় ৪১ শতাংশেরই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই নতুন এক তথ্য বিশ্লেষণে এমনটাই উঠে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ ছিল না। এই তথ্য নির্বাসন ডেটা প্রকল্প-এর একটি তথ্য স্বাধীনতা আইন (এফওআইএ) অনুরোধের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় এবং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট তা বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করে। প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট। এই পরিসংখ্যান দেখায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৌশল নরম করার ঘোষণা সত্ত্বেও ফেডারেল এজেন্টরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরাধবিহীন ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করে চলেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জানুয়ারির শেষ দিকে জানায়, তারা অভিবাসন প্রয়োগে “কিছুটা নমনীয়তা আনবে। একই সময়ে 'বর্ডার জার' টম হোমান বলেন, অগ্রাধিকার দেওয়া হবে অপরাধী অভিবাসী, জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, 'আপনি যদি অবৈধভাবে দেশে থাকেন, তাহলে আপনি কখনোই তালিকার বাইরে নন। তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে গ্রেপ্তারদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল, আর ২৯ শতাংশের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলা ছিল। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগের ধরন উল্লেখ করা হয়নি। প্রশাসন শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে 'সবচেয়ে বিপজ্জনক' ব্যক্তিদেরই গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট অপরাধী অভিবাসীদের ছবি প্রদর্শন করতেন, আর প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে অবৈধ অভিবাসীদের হাতে নিহত নাগরিকদের ঘটনা তুলে ধরেন। তবে সংবাদ প্রতিবেদন ও তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা অভিবাসীদেরই হঠাৎ করে কমিউনিটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়—ক্যানসার থেকে সেরে ওঠা এক মার্কিন শিশুকে তার অনথিভুক্ত বাবা-মায়ের সঙ্গে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে। আরেক ঘটনায়, পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে তার বাবার সঙ্গে আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আবার, কোনো গ্রেপ্তার রেকর্ড না থাকা হন্ডুরাসের এক মাকে তার চার সন্তানের সঙ্গে আটক করা হয়। এছাড়া গত এক বছরে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের মতো ছোটখাটো অপরাধে অভিযুক্ত হাজারো মানুষকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। সিবিএস নিউজ-এর প্রাপ্ত অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ গ্রেপ্তারকৃত অভিবাসীর মধ্যে ১৪ শতাংশেরও কমের বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের অভিযোগ ছিল। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, প্রশাসনের নির্ধারিত কোটা পূরণের চাপও অনেক অপরাধবিহীন ব্যক্তির গ্রেপ্তারের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার প্রতিদিন ৩ হাজার আইসিই গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। এই লক্ষ্য পূরণে কর্মকর্তাদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা বিচারাধীন মামলা না থাকা ব্যক্তিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
হাজারো অভিবাসীর আইনি স্ট্যাটাস পুনর্বহালের নির্দেশ আদালতের
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে ধাক্কা—হাজারো অভিবাসীর আইনি স্ট্যাটাস পুনর্বহালের নির্দেশ আদালতের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে একটি ফেডারেল আদালতের সাম্প্রতিক রায়। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পে প্রশাসনকে বাইডেন আমলে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা হাজারো অভিবাসীর আইনি অবস্থান পুনর্বহাল করতে হবে।   মঙ্গলবার দেওয়া এই রায়ে বিচারক বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এসব অভিবাসীর অস্থায়ী প্যারোল স্ট্যাটাস বাতিল করা হয়েছে, যা আইনসম্মত নয়। ফলে তাদের স্ট্যাটাস পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক।   উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এর প্রশাসনের সময় চালু হওয়া একটি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে—বিশেষ করে সিবিপি ওয়ান অ্যাপ ব্যবহার করে—অভিবাসীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সেই কর্মসূচি বাতিল করে এবং অনেকের আইনি অবস্থান ও কাজের অনুমতি বাতিলের উদ্যোগ নেয়।   বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ে শত হাজার থেকে কয়েক লাখ পর্যন্ত অভিবাসী উপকৃত হতে পারেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তবে এই রায়ই চূড়ান্ত নয়। ট্রাম্প প্রশাসন চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে বলে জানা গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে হাজার হাজার অভিবাসী আটক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে অভিবাসীদের আটক রাখার প্রক্রিয়া নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। আদালতের পক্ষ থেকে অন্তত ৪,৪০০ বার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃক অভিবাসীদের আটক রাখাকে 'অবৈধ' ঘোষণা করা হলেও, এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি।   রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শত শত বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। বিচারকদের মতে, প্রশাসন আইন অমান্য করে হাজার হাজার অভিবাসীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দি করে রাখছে। এমনকি আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।   পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মার্কিন জেলা জজ থমাস জনস্টন একটি মামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে সরকার আদালতকে বর্তমান আইন উপেক্ষা করতে বলছে। আইন যেভাবে স্পষ্টভাবে লেখা আছে, সরকারকে তা মেনে চলতে হবে।” তিনি গত সপ্তাহে একজন ভেনেজুয়েলান বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিয়ে এই মন্তব্য করেন।   আইনি বিরোধের মূল কারণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আইনি লড়াইয়ের মূলে রয়েছে প্রায় তিন দশকের পুরনো একটি ফেডারেল আইনের ব্যাখ্যা। ট্রাম্প প্রশাসন সেই ব্যাখ্যা থেকে সরে এসে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। আগে নিয়ম ছিল যে, অভিবাসীরা যারা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তারা তাদের মামলার শুনানি চলাকালীন বন্ডের বিনিময়ে মুক্তি পেতে পারেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন তাদের মুক্তি না দিয়ে বন্দি করে রাখার নীতি বেছে নিয়েছে।   রেকর্ড সংখ্যক বন্দি ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আইসিই (ICE) হেফাজতে থাকা অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসে এই সংখ্যা প্রায় ৬৮,০০০-এ পৌঁছেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন।   হোয়াইট হাউসের অবস্থান এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন জানিয়েছেন, প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে মানুষকে বন্দি রাখা মানবাধিকার এবং বিচার ব্যবস্থার মৌলিক নীতির পরিপন্থী।   এদিকে, নিউ অরলিন্সের একটি রক্ষণশীল আপিল আদালত গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়ে অভিবাসীদের আটকে রাখার ক্ষমতাকে সমর্থন করেছে। সার্কিট জজ এডিথ জোনস বলেন, আগের প্রশাসনগুলো এই আইন পুরোপুরি ব্যবহার করেনি মানে এই নয় যে তাদের সেই ক্ষমতা ছিল না।   আদালতের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং প্রশাসনের অনড় মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় এক চরম বিশৃঙ্খলা ও আইনি সংকট তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: রয়টার্স (১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
জাতীয়

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0