ইরান যুদ্ধের কারণে তীব্র সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ব তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার পর ইস্টার্ন রিফাইনারি কখনো এমন তেল সংকটে পড়েনি
সরকারের জ্বালানি বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এ বছরের মার্চ শিডিউলের ক্রুড অয়েল পার্সেল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতর কারণে যথাসময়ে পৌঁছাতে না পারায় বর্তমানে ইআরএল লো ফিডে চালু রাখা হয়েছে।
বাস্তবতা হলো, রিফাইনারির স্টোরেজ ট্যাংকের তলানিতে থাকা জরুরি মজুত ডেড স্টক ব্যবহার করে কোনোভাবে দুটি ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। আর দুটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ রেখে মেইনটেনেন্স বা রক্ষণাবেক্ষণে পাঠানো হয়েছে।
বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ তেলের চালান এসেছে। যুদ্ধের কারণে মার্চের পর থেকে আমদানি জটিলতা এবং এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
"মার্চ মাসে আমাদের দুটো কনসাইনমেন্ট ছিল এক লাখ টন করে। আর এপ্রিলে একটা এক লাখ টনের। মার্চে একটা ছিল দুই তারিখে, সেটা শিডিউল অনুযায়ী লোড করে অপেক্ষা করছে- সেটার জন্য আমরা ইরানি দূতাবাস এবং সব জায়গায় যোগাযোগ করেছি। মাঝখানে আমরা কনফার্মেশন পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আবার হরমুজে সমস্যার কারণে আটকে গেছে। আমাদের শিপ রেডি আমরা সুযোগ পেলেই নিয়ে আসবো।
"আর এপ্রিলের ২০-২২ তারিখে যেটা ছিল সেটা টাইমলি রওনা দেবে। আমরা আশা করছি, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এসে পৌঁছাবে" বলেন মি. রহমান।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসি জানিয়েছে, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ক্রুড অয়েলের একটি চালান আসার কথা রয়েছে। এরপর রিফাইনারি আবার পুরোদমে সচল হবে।
তবে এই রিফাইনারির দুটি ইউনিট বন্ধের কারণে দেশে তেলের কোনো সংকট হবে না বলে দাবি করেছে বিপিসি।
পরিশোধিত তেলের ঘাটতি পূরণ করতে অতিরিক্ত ডিজেল ও অকটেন আমদানি এবং মজুত করা হয়েছে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান দাবি করেছেন, রিফাইনারি বন্ধ হলেও তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তেল আমদানি করা হচ্ছে।
"এই মাসে ১৭টা কার্গো আসার কথা ছিল। এর মধ্যে দুটো ফোর্স মেজার ঘোষণা করা হয়েছে। আর একটা ডেফারড ঘোষণা করা হয়েছে। বাকী ১৪ টার মধ্যে এ পর্যন্ত তিনটা কার্গো চলে আসছে। ১১টার ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।"
বর্তমানে বছরে পনের লক্ষ টন ক্রুড পরিশোধন করে ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন, ফার্নেস অয়েল ন্যাপথা ও বিটুমিনসহ প্রায় ১৬ ধরনের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদন করে।
বাংলাদেশে মোট তেলের চাহিদার প্রায় কুড়ি শতাংশ পূরণ করে এই রিফাইনারি। ইস্টার্ন রিফাইনারি মধ্যপ্রাচ্যের উন্নত মানের ক্রুড ছাড়া অন্যান্য দেশের ক্রুড তেল পরিশোধন করতে পারে না। যে কারণে রাশিয়া বা ভেনেজুয়েলা বা অন্যান্য উৎস থেকে হেভি ক্রুড আমাদানি করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা সম্ভব নয়
রিফাইনারির এ প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান এবং এর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। ১৯৬৮ সালে নির্মিত তেল শোধনাগারটির সক্ষমতা দ্বিগুন বাড়ানো এবং আধুনিকায়ন করতে নিজস্ব অর্থায়নে ৩১ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে।
ইআরএল আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বছরে ৪৫ লাখ টন ক্রুড পরিশোধন করা সক্ষমতা তৈরি হবে।
বিপিসি চেয়ারম্যান বিবিসি বাংলাকে বলেন, বর্তমান যেটা আছে, এটা অনেক পুরোনো হওয়াতে হাই কোয়ালিটি ক্রুড ছাড়া এটা রিফাইন করতে পারে না।
"প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাজার অনেক বৃদ্ধি পাবে। আমরা যেকোনো ধরনের ক্রুড রিফাইন করতে পারবো। এটা অনেক বড় অ্যাডভান্টেজ। আমরা অনেক সস্তা ক্রুড কিন্তু আছে, আমরা আনতে পারি না। কারণ আমাদের এই ইআরএল এ ম্যাচিং হয় না। যে কারণে ইআরএল টু অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"
বিপিসির দাবি ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ হলে তেল উৎপাদন দ্বিগুন বাড়বে। দেশের মোট তেলের অর্ধেক চাহিদা পূরণ করতে পারবে। পরিশোধিত তেলের বিপরীতে আমদানিতে ব্যারেল প্রতি ১৮ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হবে। তেলের মজুত ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে।
তবে বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি পরিস্থিতির বিবেচনায় ইআরএল সক্ষমতা বৃদ্ধি কতটা লাভজনক হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, একটা করতে পারে যেহেতু আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারি অনেক পূরাতন হয়ে গেছে, এটা হয়তো সময় এসে গেছে আর কিছুদিন চালিয়ে এটা বন্ধ করে দেয়া। যদি বন্ধ করে দেয়, তাহলে আমাদের ডাবল ক্যাপাসিটি হলো। তখন তাহলে সেটা হয়তো খুব খারাপ হবে না।
"অনেকে ভাবছে যে একটা রিফাইনারি থাকলে ওটার মধ্যেতো কিছুটা স্টক থাকে। ক্রুড অয়েলের স্টক আছে সেটা সাপ্লাইয়ে সাহায্য করে। কিন্তু একটা জিনিস বুঝতে হবে যে আমাদের সবকিছু ইমপোর্টেড। আমাদের ক্রুডটা ইমপোর্টেড, ডিজেলও ইমপোর্টেড। এর মধ্যে একটাই সুবিধা যে শোধন করে সাপ্লাইটা ঠিক রাখলাম প্রাইসটাও ঠিক রাখলাম। কিন্তু আমি কোনো স্টাডি দেখানি বা হিসাব দেখি নাই যে আমাদের ওই ধরনের লাভ" বলেন ইজাজ হোসেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
জিন্স বা ডেনিম পোশাক রপ্তানির যাত্রা শুরুর প্রায় চার দশক পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। কয়েক বছর আগে অর্জিত এই অবস্থান প্রতি বছরই আরও শক্তিশালী হচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে এই দুই বড় বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারের ডেনিম পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এবং ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি ৯৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। দেশটির বাজারে প্রায় ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ১৬৪ কোটি ডলার, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। এখানেও বাংলাদেশ শীর্ষ রপ্তানিকারক হিসেবে রয়েছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে মেক্সিকো, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার মতো দেশ। যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকো দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে ৬৪ কোটি ডলারের ডেনিম রপ্তানি করেছে, আর ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান উভয়ই প্রায় ৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের পর পাকিস্তান ১০৩ কোটি ডলারের ডেনিম রপ্তানি করেছে। পাশাপাশি তুরস্ক, তিউনিসিয়া ও চীনও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, গত দেড় দশকে ডেনিম শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে। আগে যেখানে দেশে মাত্র ১০-১২টি ডেনিম কাপড় উৎপাদনকারী মিল ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৫০টিতে পৌঁছেছে। এখন দেশীয় মিলগুলোই মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করছে, যা আগে আমদানিনির্ভর ছিল। উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। গ্যাস ও পানির মতো প্রয়োজনীয় উপকরণ তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায়। এছাড়া বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে চীন থেকে ক্রয়াদেশ সরেও বাংলাদেশে আসছে, যা রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে। ঢাকায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক ডেনিম প্রদর্শনীর আয়োজনের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতা ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও ওয়াশিং সুবিধা বাড়ার ফলে পণ্যের মানও উন্নত হয়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দৈনিক প্রথম আলোয় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সরকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে এবারের বাজেটে গত অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই প্রাক্কলিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি মাথায় রেখেই মোট দেশজ উৎপাদনের আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। এই বিশাল বাজেটের ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ও বৈদেশিক উৎস থেকে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বাজেটে ১১টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা অন্যতম। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং দেশীয় ও প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ লাখ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসাথে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাজেটে নীতিগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আইএমএফ-এর শর্ত থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি, সার ও বিদ্যুৎ খাতে বড় অংকের ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নই এখন এই বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে সচল রয়েছে দেশের অর্থনীতির চাকা। প্রবাসীদের লেনদেনের সুবিধার্থে আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, আজ দেশের মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের কেনা ও বেচা—উভয় ক্ষেত্রেই দাম ধরা হয়েছে ১২২.৭০ টাকা। অন্যদিকে, ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরো কেনার ক্ষেত্রে দাম ১৪৪.৭৬ টাকা এবং বিক্রির ক্ষেত্রে ১৪৪.৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও চাহিদা অনুযায়ী এই বিনিময় হার যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। আজকের মুদ্রার বিনিময় হার (বাংলাদেশ ব্যাংক অনুসারে): মুদ্রার নাম ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) মার্কিন ডলার ১২২.৭০ ১২২.৭০ পাউন্ড (GBP) ১৬৬.৩৫ ১৬৬.৪৪ ইউরো (EUR) ১৪৪.৭৬ ১৪৪.৭৯ সৌদি রিয়াল ৩২.৭৯ ৩২.৭৯ ইন্ডিয়ান রুপি ১.৩১ ১.৩১ কানাডিয়ান ডলার ৮৯.২৮ ৮৯.৩০ সিঙ্গাপুর ডলার ৯৬.৫৩ ৯৬.৫৬ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৭.৯৫ ৮৮.০০ জাপানি ইয়েন ০.৭৭০ ০.৭৬৭