যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আদালতগুলোতে দোভাষী হিসেবে দীর্ঘ দুই দশক ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করেছেন ৫৩ বছর বয়সী মিনু বাতরা। হিন্দি, পাঞ্জাবি ও উর্দু ভাষায় পারদর্শী মিনু সেখানকার আইনি ব্যবস্থায় দক্ষিণ এশীয়দের অন্যতম ভরসা ছিলেন। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, ৩৫ বছর ধরে আমেরিকায় বৈধভাবে বসবাসের দাবি করা এই নারীকেই এখন আটক থাকতে হচ্ছে আইসিই (ICE) ডিটেনশন সেন্টারে। ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ মার্চ, যখন মিনু বাতরা একটি আইনি কাজের উদ্দেশ্যে টেক্সাসের হার্লিনজেন বিমানবন্দর হয়ে উইসকনসিনের দিকে যাচ্ছিলেন। সেখানে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টরা। এজেন্টদের দাবি, মিনু একজন 'অবৈধ অভিবাসী' এবং ২০০০ সাল থেকেই তার নামে একটি চূড়ান্ত বহিষ্কারের (final removal order) আদেশ রয়েছে। তবে মিনু এবং তার আইনজীবীর দাবি ভিন্ন। ১৯৯১ সালে ভারত থেকে শিখ নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আমেরিকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন মিনু। ২০০০ সালে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তাকে 'উইথহোল্ডিং অফ রিমুভাল' (Withholding of Removal) মর্যাদা প্রদান করেন, যার অর্থ হলো— তাকে তার দেশে ফেরত পাঠানো নিরাপদ নয় বলে গণ্য করা হয়েছিল। এই স্ট্যাটাস অনুযায়ী মিনু দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত কর্মসংস্থানের অনুমতি (Work Authorization) নবায়ন করে বৈধভাবে কাজ করে আসছিলেন। মিনুর আইনজীবী দীপক আহলুওয়ালিয়া বলেন, "এটি আইনের চরম লঙ্ঘন। একজন নারী যিনি ৩৫ বছর ধরে এখানে আছেন, যার চার সন্তানই মার্কিন নাগরিক এবং যার কনিষ্ঠ পুত্র বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত, তাকে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এভাবে আটক করা অমানবিক।"বর্তমানে মিনু বাতরা টেক্সাসের এল ভ্যালে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রয়েছেন। সেখানে তাকে দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়া রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। মিনুর পক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসের আদালতে 'হেবিয়াস কর্পাস' পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির কাছে মিনু বাতরা এক পরিচিত মুখ। আদালত কক্ষের সেই পরিচিত কণ্ঠস্বর আজ নিজেই বিচারের অপেক্ষায় বন্দিশালায় দিন গুনছেন। তার এই আটকাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন নীতির কঠোরতা নিয়ে আবারও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল ‘প্রতারণা শিল্প’। সমকামী সাজা, অর্থের বিনিময়ে নাস্তিক সাজানো, এমনকি রাজপথে সাজানো রাজনৈতিক প্রতিবাদের নাটক—এসবই এখন লন্ডনের অভিবাসন জালিয়াতি চক্রের প্রধান হাতিয়ার। অতি সম্প্রতি বিবিসি নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র, যেখানে খোদ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। লন্ডনের মাইল এন্ড রোডের একটি অফিসে ছদ্মবেশে বিবিসির এক সাংবাদিক অনুসন্ধান চালিয়ে জাহিদ হাসান আখন্দ নামে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। নিজেকে ব্যারিস্টার পরিচয় দেওয়া জাহিদ ওই সাংবাদিককে (যিনি নিজেকে বাংলাদেশি ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেন) ব্রিটিশ হোম অফিসকে ফাঁকি দেওয়ার তিনটি মোক্ষম পথ বাতলে দেন: সমকামিতা, নাস্তিকতা অথবা রাজনৈতিক নিপীড়ন। জাহিদ জানান, সমকামী সাজা সবচেয়ে সহজ পথ। এর জন্য তিনি প্রয়োজনে ‘ভাড়াটে পার্টনার’ বা সঙ্গী জোগাড় করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন। এছাড়া নাস্তিক হিসেবে প্রমাণ তৈরি করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়া এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে নাস্তিক ব্লগে নিবন্ধ লেখার পরামর্শ দেন তিনি। এই পুরো ‘প্যাকেজ’ বা আইনি সহায়তার জন্য তিনি দেড় হাজার পাউন্ড এবং জাল নথিপত্রের জন্য আরও দুই থেকে তিন হাজার পাউন্ড দাবি করেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই চক্রটি হুবহু মূলধারার সংবাদপত্রের মতো দেখতে ভুয়া নিউজ ওয়েবসাইট তৈরি করে। সেখানে আবেদনকারীদের নামে মিথ্যা মামলার খবর বা নিপীড়নের গল্প ছাপানো হয়। বাংলাদেশের আদালত ব্যবস্থা ডিজিটাল না হওয়ার সুযোগ নিয়ে এসব ভুয়া তথ্য যাচাই করা ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া, রাজনৈতিক আশ্রয় নিশ্চিত করতে রাজপথে ভুয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়। শুধুমাত্র ছবি তোলার উদ্দেশ্যেই এসব মিছিলে লোক ভাড়া করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বিষণ্ণতা বা এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার নাটক সাজাতেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাহিদ হাসান আখন্দ ২০২২ সালে ব্যারিস্টার হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করলেও তার আইন পেশা চর্চার কোনো লাইসেন্স নেই। তিনি যে ল’ ফার্মের নাম ব্যবহার করে মক্কেল ধরতেন, সেই প্রতিষ্ঠানটিও জানিয়েছে জাহিদ এখন আর তাদের কর্মী নন। যদিও জাহিদ তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের এই বিশাল জালিয়াতি চক্রটি এখন ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পেশাদার আইনজীবীদের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরো অভিবাসন ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ সালের মে মাসের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এবারের বুলেটিনে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য গ্রিন কার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির খবর মেলেনি, যা হাজার হাজার আবেদনকারীর মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান-ভিত্তিক (EB-2 এবং EB-3) ক্যাটাগরিতে ভারতীয়দের অপেক্ষার তালিকায় কোনো নড়চড় হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় পেশাদারদের জন্য অগ্রাধিকার তারিখ (Priority Date) গত কয়েক মাসের মতোই স্থবির হয়ে আছে। বর্তমান গতিধারা বজায় থাকলে গ্রিন কার্ডের জন্য তাদের কয়েক দশক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। অন্যদিকে, এবার বিনিয়োগকারী কোটা বা ইবি-৫ (EB-5) ভিসা ক্যাটাগরি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যারা এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে ইচ্ছুক বা যাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে। বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মনীতির কঠোরতা আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সুখবর হলো, ফ্যামিলি স্পনসরড এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক কিছু ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তারিখ ভারতের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। তবে বৈশ্বিক চাহিদার চাপে সব দেশেই ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রসেসিং সময় কিছুটা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। মার্কিন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী যারা আবেদন করতে যাচ্ছেন, তাদের অবশ্যই প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে ইবি-৫ আবেদনকারীদের জন্য আইনি পরামর্শ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশি নারীদের ভ্রমণ ঠেকাতে নতুন অভিযান শুরু করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত এই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় এমন সংগঠিত চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে ভেঙে দেওয়া হবে, যারা গর্ভবতী বিদেশি নারীদের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দিতে উৎসাহিত করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই এই ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন এই প্রবণতা করদাতাদের জন্য বড় ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি দেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া নিজেই অবৈধ নয়। কিন্তু কেউ যদি ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বা প্রতারণার মাধ্যমে এই সুবিধা নিতে চায়, তাহলে তা আইনের আওতায় পড়বে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় সংবিধানের একটি সংশোধনীর ভিত্তিতে। তবে এই নিয়ম সীমিত করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে বলা হয়, যদি শিশুর বাবা-মা কেউই মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে সেই শিশুকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এই আদেশ ইতোমধ্যে একাধিক ফেডারেল আদালত স্থগিত করেছে এবং বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন। অভিযান সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই উদ্যোগে মূলত জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ এবং সংগঠিত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এ ধরনের ঘটনার নির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই। এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ সময়ে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার নারী এই উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিচালিত এক অভিযানে ‘বার্থ হাউস’ পরিচালনার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই ঘটনায় এক চীনা নাগরিক দোষ স্বীকার করে কারাদণ্ড ভোগ করেন।
প্রেমের টানে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শেষ পর্যন্ত অভিবাসন জটিলতায় আটক হয়েছেন ৮৬ বছর বয়সী এক নারী। বর্তমানে তিনি দেশটির লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ফ্রান্সের নান্তেস শহরের বাসিন্দা মারি-তেরেসের প্রেমের শুরু ষাটের দশকে। সে সময় ন্যাটোর একটি ঘাঁটিতে কর্মরত মার্কিন সেনা বিলির সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৬৬ সালে বিলি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে দুজনেই নিজ নিজ জীবনে সংসার শুরু করেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১০ সালে আবার তাঁদের যোগাযোগ হয়। ২০২২ সালে উভয়ের জীবনসঙ্গীর মৃত্যু হলে পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে জেগে ওঠে। পরে তাঁরা বিয়ে করে একসঙ্গে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। গত বছর মারি-তেরেস যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে বসবাস শুরু করেন এবং স্থায়ী বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিলির আকস্মিক মৃত্যু মারি-তেরেসের জীবনে নতুন সংকট তৈরি করে। গ্রিন কার্ড পাওয়ার আগেই স্বামীর মৃত্যু হওয়ায় তাঁর আইনি অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের অভিযোগও ওঠে। গত এপ্রিলের শুরুতে আলাবামার অ্যানিস্টন এলাকা থেকে অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাঁকে লুইজিয়ানার একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা না করেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। মারি-তেরেসের ছেলে জানিয়েছেন, তাঁর মায়ের পিঠ ও হৃদরোগজনিত সমস্যা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছে এবং কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগের ফলে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই পারিবারিক বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে আবেদনকারীরা জটিলতায় পড়ছেন।
যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি ও অভিবাসন সংকটের আলোচনার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে আরেকটি বড় সংকট—জন্মহার কমে যাওয়া। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনীতি ও জনসংখ্যা কাঠামোর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে ৩৬ লাখ ৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। অথচ ২০০৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৩ লাখের বেশি। অর্থাৎ দুই দশকেরও কম সময়ে জন্মের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭ লাখ ১০ হাজার। একই সময়ে দেশের মোট জনসংখ্যা বেড়েছে, যা এই প্রবণতাকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৭ সালের পর থেকে জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমছে। বর্তমানে তা প্রায় ২৩ শতাংশ কমে গেছে। সাম্প্রতিক এক বছরেই জন্মহার আরও ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা এই প্রবণতার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। জন্মহার কমার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অর্থনৈতিক চাপ, যেমন—বাসস্থান ব্যয় বৃদ্ধি, সন্তান লালনপালনের উচ্চ খরচ ও পেশাগত অনিশ্চয়তা একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেরিতে নিচ্ছেন বা এড়িয়ে যাচ্ছেন। তথ্য অনুযায়ী, কম বয়সী নারীদের মধ্যে জন্মহার দ্রুত কমছে। যদিও ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে জন্ম কিছুটা বাড়ছে, তবে তা সামগ্রিক পতন পূরণ করার মতো নয়। এই প্রবণতা শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মহার হ্রাস এবং অভিবাসন কমে যাওয়ার ফলে আগামী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতে পারে। তরুণ জনগোষ্ঠী কমে গেলে শ্রমবাজারে চাপ বাড়বে এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর বোঝা বহন করা কঠিন হয়ে উঠবে। অভিবাসন নীতির কড়াকড়িও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আগে জন্মহার কমলেও অভিবাসনের মাধ্যমে সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ হতো। এখন সেই সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় জনসংখ্যার ভারসাম্য দ্রুত বদলাচ্ছে। তবে একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। কিশোরী মায়েদের সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে, যা জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সামগ্রিক জন্মহার পতনের প্রেক্ষাপটে এই অর্জন বড় সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। পরিবার গঠন সহজ করতে নীতিগত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা থাকলেও, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত জনসংখ্যা কাঠামো ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও সমাজে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান সময়ে মার্কিন নাগরিকদের বসবাসের পছন্দের তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় গন্তব্য পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোকে পেছনে ফেলে অনেক আমেরিকান এখন থাকার জন্য বেছে নিচ্ছেন মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোকে। সম্প্রতি সিএনএন ট্রাভেলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই নতুন প্রবণতার চিত্র। পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি এবং চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোতে মার্কিনীদের এই অভিবাসনের পেছনে মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিরাপত্তার বিষয়টি কাজ করছে। পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে আকাশচুম্বী বাড়ি ভাড়া এবং জীবনযাত্রার খরচে হিমশিম খেয়ে অনেক আমেরিকান এখন ওয়ারশ, বুদাপেস্ট বা প্রাগের মতো শহরগুলোকে অধিক সাশ্রয়ী মনে করছেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, উচ্চমানের নাগরিক সুবিধা এবং আধুনিক অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও এসব দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় আমেরিকার অনেক শহরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। বিশেষ করে যারা রিমোট জব বা ফ্রিল্যান্সিং করেন, তাদের জন্য এই অঞ্চলগুলো 'স্বর্গ' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমেরিকানদের মতে, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক মূল্যবোধ অত্যন্ত প্রবল। অনেক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, তারা আমেরিকার ব্যস্ত এবং যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি পেতে এই শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ বেছে নিয়েছেন। এছাড়া এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিও তাদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। বিশেষ করে পোল্যান্ডের কথা উল্লেখ করে অনেক অভিবাসী জানিয়েছেন, দেশটির ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এবং চমৎকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা তাদের মুগ্ধ করেছে। অন্যদিকে, হাঙ্গেরির স্থাপত্যশৈলী এবং সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার কারণে আমেরিকানদের সংখ্যা সেখানে দিন দিন বাড়ছে। তবে এই নতুন ঠিকানায় থিতু হওয়া খুব একটা সহজ নয়। স্থানীয় ভাষা রপ্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদী ভিসার জটিলতা অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তা সত্ত্বেও, একটি সুন্দর এবং চাপমুক্ত জীবনের আশায় হাজার হাজার আমেরিকান প্রতি বছর তাদের ব্যাগ গুছিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন ইউরোপের এই প্রান্তে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা চলতে থাকলে আগামী কয়েক দশকে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের জনতাত্ত্বিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: সিএনএন ট্রাভেল
তুরস্কের জলসীমায় এক ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে এজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, একটি মোটরচালিত রাবার বোটে করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি দল সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছিল। তুরস্কের কোস্টগার্ড বারবার নৌকাটিকে থামার সংকেত দিলেও চালক তা উপেক্ষা করে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের তোড়ে একপর্যায়ে নৌকাটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বোদরুমের কাছে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ড।
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকসহ বিশ্বজুড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য সতর্কবার্তা দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। সাম্প্রতিক এক অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় ভিসা স্ক্রিনিং বা আবেদনকারী যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ‘নিরাপত্তা ঘাটতি’ ধরা পড়ার পর, ভিসা প্রদানের নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন তাদের বর্তমান স্ক্রিনিং পদ্ধতির দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে আবেদনকারীদের অতীত রেকর্ড এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যে ফাঁকফোকর রয়েছে, তা বন্ধ করতে নতুন ও আরও শক্তিশালী প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পর্যালোচনায় দেখেছে যে, বর্তমান পদ্ধতিতে অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সঠিক তথ্য বা সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো যথাযথভাবে ফুটে ওঠে না। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের অসাধু উপায় অবলম্বনকারী যেন ভিসা না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের ওপর এর প্রভাব: ১. তীব্র যাচাই-বাছাই: এখন থেকে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, ভ্রমণ ইতিহাস এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি আরও নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে। ২. সময় বৃদ্ধি: স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার কারণে ভিসা পেতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩. সাক্ষাৎকারে গুরুত্ব: কনস্যুলার অফিসাররা এখন থেকে আবেদনকারীর উদ্দেশ্য ও নথিপত্র নিয়ে আরও খুঁটিনাটি প্রশ্ন করতে পারেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম কঠোর হওয়ার অর্থ এই নয় যে ভিসা দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তবে আবেদনকারীদের উচিত হবে সব তথ্য সততার সাথে প্রদান করা এবং কোনো ধরনের ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার না করা। তথ্যের সামান্য অমিল বা অসংগতি ধরা পড়লে স্থায়ীভাবে ভিসা বাতিলের ঝুঁকি থাকতে পারে। উল্লেখ্য, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং কর্মজীবী যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন। নতুন এই নিয়মের ফলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদেরও এখন থেকে আরও সতর্কতার সাথে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট খুব শীঘ্রই এই স্ক্রিনিং আপগ্রেড নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উন্নত জীবনের সন্ধানে লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার পথে আবারও মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির শিকার হলেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের অদূরে একটি রাবার বোট থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও, মাঝসমুদ্রে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন। উদ্ধারকৃতদের দাবি অনুযায়ী, নিহতদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও এএফপি জানায়, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে নৌকাটি ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। টানা ছয় দিন উত্তাল সমুদ্রে খাদ্য ও পানীয়হীন অবস্থায় ভাসতে থাকায় চরম মানবেতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অনাহারে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ২২ জন যাত্রী। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো মাঝসমুদ্রেই ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জীবিতরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ‘ফ্রন্টেক্স’ শুক্রবার গ্রিসের বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের কাছ থেকে জরাজীর্ণ ওই নৌকাটি শনাক্ত করে। উদ্ধারকৃত ২৬ জনের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। বাকিদের মধ্যে চারজন দক্ষিণ সুদান ও একজন চাদের নাগরিক। এদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। এই অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দক্ষিণ সুদানের দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেই সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫৯ জন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৮৭ জন। দালালের খপ্পরে পড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে এই সাগর পাড়ি দেওয়ার ঘটনা থামছেই না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে থাকবে কি না, তা নির্ধারণে শুনানি শুরু করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ, ২০২৬) মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে আসা অভিবাসীদের আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপের বিষয়ে প্রশাসনের আইনি যুক্তি শোনেন আদালত। এই আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে 'মিটারিং' (metering) নামক একটি বিতর্কিত নীতি। এই নীতির মাধ্যমে মার্কিন সীমান্ত কর্মকর্তারা সীমান্তে ভিড় বেশি হলে অভিবাসীদের ফিরিয়ে দিতে পারেন এবং তাদের আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখতে পারেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে এই নীতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছিল, যা পরে বাইডেন প্রশাসন বাতিল করে দেয়। এখন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় এই নীতি কার্যকর করতে আগ্রহী। মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, কোনো অভিবাসী যদি যুক্তরাষ্ট্রে ‘পৌঁছান’ (arrives in the United States), তবে তিনি আশ্রয়ের আবেদন করার এবং সরকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক পরীক্ষার (inspection) সুযোগ পাওয়ার অধিকারী। আইনি লড়াইয়ের মূল বিন্দু হলো—যেসব অভিবাসীকে মেক্সিকো সীমান্তের ওপারে আটকে দেওয়া হচ্ছে, তারা কি আইনত যুক্তরাষ্ট্রে ‘পৌঁছেছেন’ বলে গণ্য হবেন? প্রশাসনের পক্ষে সরকারি আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, ‘পৌঁছানো’ বলতে শারীরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় প্রবেশ করাকে বোঝায়। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং নিম্ন আদালত আগে রায় দিয়েছিল যে, সীমান্তের চেকপোস্টে উপস্থিত হওয়া মানেই তিনি প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত। যদি সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দেয়, তবে সীমান্ত কর্মকর্তারা আইনি বাধ্যবাধকতা ছাড়াই যেকোনো সময় অভিবাসীদের ফিরিয়ে দিতে পারবেন। এর ফলে সীমান্তে হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়ার এবং মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। বিচারপতি সোনিয়া সোতোমেয়র শুনানির সময় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই নীতি কার্যকর হলে যারা প্রকৃত শরণার্থী হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য, তাদের অধিকার খর্ব হতে পারে। আগামী জুনের শেষ নাগাদ এই মামলার চূড়ান্ত রায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু এই মামলা নয়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (birthright citizenship) বাতিল এবং হাইতি ও সিরিয়ার অভিবাসীদের অস্থায়ী সুরক্ষা কবজ তুলে নেওয়ার মতো আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়িত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আশ্রয় প্রদান নীতির আমূল পরিবর্তন ঘটাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চলমান অভিবাসন বিরোধী অভিযানে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার হোয়াইট হাউসের ‘বর্ডার জার’ টম হোম্যান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মিনেসোটা থেকে অবিলম্বে ৭০০ জন ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। কী ঘটছে মিনেসোটায়? চলতি বছর মিনিয়াপলিসসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় হাজার হাজার সশস্ত্র এজেন্ট মোতায়েন করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। লক্ষ্য ছিল ব্যাপক হারে অভিবাসীদের আটক ও ডিপোর্টেশন। এই পদক্ষেপের ফলে অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা এবং প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। কেন এই আংশিক প্রত্যাহার? টম হোম্যানের দাবি, মিনেসোটার স্থানীয় শেরিফরা এখন ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সাথে ‘অভূতপূর্ব’ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আগে যেসব শহর নিজেদের ‘স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি’ হিসেবে ঘোষণা করে তথ্য দিতে অস্বীকার করেছিল, এখন সেখানে স্থানীয় জেল কর্তৃপক্ষ সহযোগিতায় সম্মত হওয়ায় রাস্তায় অতিরিক্ত এজেন্টের প্রয়োজনীয়তা কমেছে বলে মনে করছে প্রশাসন। অভিযান কি থামছে? একদমই নয়। টম হোম্যান স্পষ্ট করে বলেছেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গণ-ডিপোর্টেশন কার্যকরের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সারা দেশে এই অভিযান প্রতিদিন অব্যাহত থাকবে।" ৭০০ এজেন্ট কমানো হলেও সেখানে এখনও প্রায় ২,০০০ এজেন্ট অবস্থান করছেন। এদিকে স্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতা এবং গভর্নররা এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট মনে করছেন না। তাদের দাবি, মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় এই অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করা প্রয়োজন। আপনার মতে, স্থানীয় শেরিফদের এই সহযোগিতার সিদ্ধান্ত কি অভিবাসীদের জন্য সংকট আরও বাড়িয়ে দেবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ঘিরে আবারও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এক ফেডারেল আদালতের রায়। তিন লাখ পঞ্চাশ হাজারের বেশি হাইতিয়ান অভিবাসীর অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (TPS) বাতিলের উদ্যোগ আপাতত স্থগিত করেছে আদালত, যা বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে Donald Trump প্রশাসনের জন্য। মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ Ana Reyes রায়ে বলেন, বিচারিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাইতিয়ান নাগরিকদের আইনি অবস্থান বহাল থাকবে। তার মতে, প্রশাসনের সিদ্ধান্তে যথাযথ নিরপেক্ষতা ছিল না এবং তা আগেভাগেই নির্ধারিত ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। রায়ে তিনি আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন Department of Homeland Security-এর সচিব Kristi Noem-কে। বিচারকের মন্তব্য অনুযায়ী, TPS বাতিলের পেছনে অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসীদের প্রতি বিরূপ মনোভাব কাজ করেছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় শুধু হাইতিয়ান অভিবাসীদের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ TPS বাতিল হলে লাখো মানুষ কাজ, বাসস্থান ও আইনি সুরক্ষা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তেন। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিললেও আপাতত আদালতের আদেশেই স্বস্তিতে রয়েছেন হাজারো হাইতিয়ান পরিবার। তবে অভিবাসন নীতি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
আমেরিকা বাংলা: যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাম্প্রতিক ইমিগ্রেশন অভিযানে যিনি সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত নাম হয়ে উঠেছেন, তিনি হলেন ফেডারেল কর্মকর্তা গ্রেগরি বোভিনো (Gregory Bovino)। কঠোর অভিযান, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি এবং আক্রমণাত্মক গ্রেপ্তার কৌশলের কারণে অভিবাসী কমিউনিটিতে ভয় ও অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। বোভিনোর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বহু ক্ষেত্রে বিচারকের ওয়ারেন্ট ছাড়াই বাড়িতে প্রবেশ, পরিবারের সামনে আটক এবং শিশুদের মানসিক আতঙ্কে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মিনেসোটা ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে এসব অভিযানের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানের ফলে অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে, চিকিৎসা নেওয়া বন্ধ করছে এবং সাধারণ জীবনযাপন থেকে সরে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ—আইন প্রয়োগের নামে মানবিক সীমা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অন্যদিকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বলছে, বোভিনোর নেতৃত্বাধীন অভিযান মূলত অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাস্তবে সাধারণ পরিশ্রমী পরিবারগুলোই বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রেগরি বোভিনো এখন শুধুই একজন কর্মকর্তা নন—তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তব প্রতিচ্ছবি, যার নাম শুনলেই অনেক অভিবাসী পরিবার আতঙ্কে কেঁপে ওঠে।
আমেরিকা বাংলা: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানের ধরন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে জারি করা একটি মেমোর ভিত্তিতে U.S. Immigration and Customs Enforcement (আইসি) কর্মকর্তাদের বিচারকের স্বাক্ষরবিহীন প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে ব্যক্তিদের বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে একটি হুইসেলব্লোয়ার সংগঠন। সংগঠনটির দাবি, এই মেমোটি ছিল ‘গোপনীয়’, যা তারা পরে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে। এতে বলা হয়েছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের স্বার্থে বিচারকের অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসনিক ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে অভিযান চালানো যেতে পারে। এই নির্দেশনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিবাসী কমিউনিটিতে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করছে, হঠাৎ কোনো সময় আইসি কর্মকর্তারা তাদের বাসায় ঢুকে পড়তে পারেন। বিশেষ করে মিশ্র স্ট্যাটাস পরিবারের ক্ষেত্রে উদ্বেগ আরও বেশি—যেখানে পরিবারের কেউ নাগরিক, কেউ অনিবন্ধিত। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের নির্দেশনা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী-এর (Fourth Amendment) সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যেখানে বাড়িতে তল্লাশি বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে বিচারকের অনুমোদিত ওয়ারেন্টের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, বিচারকের নজরদারি ছাড়া এমন ক্ষমতা অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, দ্রুত ও কার্যকর অভিযান নিশ্চিত করতেই প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আইসি বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। এদিকে, মেমোটি নিয়ে কংগ্রেসে তদন্ত ও শুনানির দাবি উঠেছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনে U.S. Congress-এ আনুষ্ঠানিক আলোচনা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করবে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে লাখো অভিবাসী পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews