চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থিত অতিথি ওশিক্ষার্থীরা
চবিতে অর্থনৈতিক বৈষম্যমুলকও নীতিগত সংকট নিয়ে সেমিনার

অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল জিডিপি বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।এপ্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সবস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানোই প্রকৃত উন্নয়নের শর্ত। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল জিডিপি বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।এপ্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সবস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানোই প্রকৃত উন্নয়নের শর্ত। অথচ বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও আয়, সম্পদওসুযোগের বৈষম্য ক্রমেই বেড়েছে। রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সংকট, ন্যায়বিচারের দুর্বলতা, অর্থনীতিতে লিকেজ মডেলের বিস্তার এবং নীতিগত অকার্যকারিতার কারণে প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে প্রত্যাশিতভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগও বেসরকারি গবেষণাকারী সংস্থা পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টার (পিটিইআরসি) কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন আলোচকরা। সেমিনার অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্তও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি মানে শুধু জিডিপি বাড়ানো নয় বরং সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণীর মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টিত হচ্ছে কিনা সেটিই মুখ্য বিষয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি গত কয়েক দশকে গড়ে৫-৬শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রত্যাশিত প্রভাব পড়েনি। আয়বৈষম্যের সূচক বর্তমানে প্রায় দশমিক ৫-এর কাছাকাছি,যা উচ্চ বৈষম্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত। দেশের১০ শতাংশ মানুষ প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণে রাখছে,যা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। তিনি আরো বলেন,খেলাপি ঋণ,অর্থ পাচার ওদুর্নীতির কারণে অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।এ অর্থ মূলত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সম্পদ যা একটি প্রভাবশালী শ্রেণী আত্মসাৎ করছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ সরকারগুলোকে একটি,মেঘাচ্ছন্ন অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে বহন করতে হবে। সমতা নয় বরং ন্যায়সংগত বণ্টন, সুশাসনও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমেই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব বলে আমি মনে করি।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দিন বলেন,উন্নয়ন মানে কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়।জিডিপির আকার বড় হলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়,—এমন ধারণা থেকে বিশ্ব অনেকআগেই সরে এসেছে। উন্নয়ন চিন্তায় ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ধারণা গুরুত্ব পেয়েছে। ইনক্লুসিভ গ্রোথ মূলত নীতিনির্ভর ধারণা,যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব গোষ্ঠীর মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টন হচ্ছে কিনা সেটি গুরুত্বপূর্ণ। অমর্ত্য সেনের ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষতাও সমবণ্টনের ভারসাম্য। এই ভারসাম্য আনতে প্রগ্রেসিভ ট্যাক্সেশন একটি কার্যকর নীতি হাতিয়ার। যার মাধ্যমে ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর নিয়ে দরিদ্রদের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।একর রাজস্বের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত মানবসম্পদ উন্নয়ন,শিক্ষা, প্রশিক্ষণওস্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ। একই সঙ্গে গ্রাম ওশহরের মধ্যে অবকাঠামোগত বৈষম্য দূর করা, অর্থনীতির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল এমপাওয়ারমেন্ট নিশ্চিত করাও ইনক্লুসিভও টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত।, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘জিডিপি বৃদ্ধি হলেও যদি তার সুফল সমানভাবে বণ্টিত না হয়, তবে প্রবৃদ্ধি অসম হয়ে পড়ে। বাস্তবে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভূমি, শ্রম, পুঁজিও উদ্যোক্তার অবদান সমান নয়,কারো আয় বেশি আবার কারো কম। ফলে সবাই সমানভাবে প্রবৃদ্ধির অংশীদার হতে পারে না।’ পিটিইআরসির চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বলেন,গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও বাস্তবতায় আয়, ভোগ ও সম্পদবৈষম্য বেড়েছে। বৈষম্যের সূচক দশমিক৫-এ পৌঁছানো তারই প্রমাণ।জাতীয় সম্পদের বড় অংশ সীমিত জনগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার মূল কারণ হলো অর্থনীতিতে লিকেজ বা নিঃসরণ মডেলের বিস্তার। রাষ্ট্রীয় সম্পদ অনৈতিকভাবে ব্যক্তি খাতে প্রবাহিত হয়ে বিদেশে পাচার হচ্ছে, ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কল্যাণে রূপ নিচ্ছে না। বাজেটও নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতার ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাজেট ট্রান্সপারেন্সি কম,বাজেটও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন হার প্রত্যাশার নিচে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে না পৌঁছানোয় দারিদ্র্য হ্রাস কার্যকর হচ্ছে না।দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর পরোক্ষ করের চাপ বাড়লেও ধনীদের ক্ষেত্রে কর ছাড় অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব ওমুদ্রানীতির সমন্বয়হীনতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। সুশাসনের ঘাটতি, দুর্নীতিও দুর্বল তথ্য ব্যবস্থাপনাএ সংকটকে আরো গভীর করেছে।’ সমাপনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যানও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন,‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট নতুন বিষয় নয়, তবে নতুন রিসোর্স পারসন ওনতুন ভাবনা জানার জন্য এ সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। দেশে সমস্যার অভাব নেই,,নীতিগত সমাধানও আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এর মূল কারণ দুটি,এক. অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশের অভাব এবং ২. ন্যায়বিচারের দুর্বলতা। রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া বিচার নিশ্চিত করা যায় না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যখন সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়,তখন লিকেজ মডেল তৈরি হয় এবং বিচার ব্যবস্থা প্রভাবিত হয়।এ দুই জায়গায় সংস্কার ছাড়া নীতির সুফল আসবে না।’ সেমিনারের শেষে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে আলোচকরা বলেন, ‘বাংলাদেশে দেশীয়ও বিদেশী বিনিয়োগ কম আসার প্রধান কারণ নীতিগত অস্থিতিশীলতা, দুর্বল দেশীয় রেটিং,দক্ষ শ্রমশক্তির ঘাটতি এবং বাজার বৈচিত্র্যের অভাব। বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘমেয়াদিও স্থিতিশীল নীতি, দক্ষ মানবসম্পদ, আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বহুমুখী উৎপাদন কাঠামো জরুরি। গ্রামীণ অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাহিম শাহারিয়ারের উপস্থাপনায় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়সাল, প্রভাষক কাজী মান্না ইয়াসমিন, ফারহানা ইয়াসমিন, মুবাসিরা চৌধুরী নাবিলা, যোগাযোগও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শহিদুল হকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকও শিক্ষার্থীরা। সেমিনারে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে অর্থনৈতিক গবেষণা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।এসব প্রস্তাবনার মধ্য থেকে তসলিমা জান্নাত,ওসমান ফারুকওসুমাইয়া তাবাসসুমের গবেষণা প্রস্তাবনাকে পুরস্কৃত করে পিটিইআরসি। পাশাপাশি গবেষণা প্রস্তাবনা উপস্থাপনকারী আরো পাঁচজন শিক্ষার্থীকে সংস্থাটির বিভিন্ন অর্থনৈতিক গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে।   প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0