আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল এক ভয়াবহ সতর্কবাণী উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, চলমান ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট তেল ও গ্যাস সংকট ১৯৭৩, ১৯৭৯ এবং ২০২২ সালের সম্মিলিত সংকটের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী রূপ নিয়েছে। ফরাসি সংবাদপত্র ল্য ফিগারোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা ইতিহাসের সবথেকে গুরুতর সংকট। আইইএ প্রধানের মতে, এই সংকটে সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণে এসব দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির হার দ্রুত ত্বরান্বিত হবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তুলবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোসহ জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও এই অর্থনৈতিক ধাক্কার বাইরে থাকবে না বলে তিনি সতর্ক করেন। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা আসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া চরম হুঁশিয়ারির পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ট্রাম্প তার বার্তায় উল্লেখ করেন, ইরান যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তিতে না আসে তবে আজ রাতেই একটি আস্ত সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ১১০.৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং নিউ ইয়র্ক লাইট ক্রুডের দাম ২.৫ শতাংশ বেড়ে ১১৫.১৭ ডলারে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা এখন বিশ্ববাসীর প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে বিশ্ব অর্থনীতি এক মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়বে। আইইএ প্রধানের এই বিরল সতর্কতা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
পারস্য উপসাগরের হরমজ প্রণালী নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে টানাপোড়েন তুঙ্গে, ঠিক তখনই লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ‘বাব আল-মানদেব’ হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন এক মহা-সংকট। ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সরু জলপথটি এখন কেবল একটি বাণিজ্যিক রুট নয়, বরং এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের এক বিধ্বংসী রণক্ষেত্র। আরবি শব্দ ‘বাব আল-মানদেব’-এর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘কান্নার দরজা’, যা বর্তমানে তার নামের মতোই বিশ্ববাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এক করুণ ও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ইয়েমেন, জিবুতি এবং ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত মাত্র ৩০ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথটি ভারত মহাসাগরকে লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খালের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে ইউরোপ ও এশিয়ার বিশাল ও জটিল এক সরবরাহ ব্যবস্থা। প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং বিশাল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এই পথ দিয়ে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়। কেবল জ্বালানি নয়, বরং বিশ্বের ১২ শতাংশ গম এবং বিশাল পরিমাণ চাল ও সার এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয় যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আক্ষরিক অর্থেই এক অপরিহার্য ধমনী। ২০২৬ সালের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের প্রভাবে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু জাহাজ লোহিত সাগরের গভীরে তলিয়ে গেছে এবং অনেক বড় বড় শিপিং কোম্পানি এখন প্রাণভয়ে এই ঐতিহাসিক রুটটি পুরোপুরি বর্জন করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে জাহাজগুলোকে এখন আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে কয়েক হাজার মাইল পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে যা পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত দুই সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘপথ ভ্রমণের ফলে জ্বালানি খরচ ও জাহাজের বীমা প্রিমিয়াম বহুগুণ বেড়ে গেছে যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে বাব আল-মানদেব যদি দীর্ঘমেয়াদে অনিরাপদ হয়ে পড়ে তবে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে এবং খাদ্য সংকট এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের রূপ নিতে পারে। আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনী এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লোহিত সাগরে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বাড়ালেও ড্রোন ও চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান এই জলপথটিকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিমা বিশ্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন ও জটিল মেরুকরণ তৈরি করেছে। একদিকে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি আর অন্যদিকে খাদ্য পণ্যের সরবরাহ ঘাটতি—এই দ্বিমুখী সংকটে পড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি এখন পুরোপুরি পতনের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের মধ্য দিয়ে বিকল্প পাইপলাইন ও স্থলপথের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে যা সাময়িকভাবে বিশ্ববাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারছে না। সব মিলিয়ে বাব আল-মানদেব এখন বিশ্ব রাজনীতির এক অগ্নিগর্ভ দাবার ছক যেখানে প্রতিটি ভুল চাল পুরো মানবজাতির জন্য এক অপূরণীয় ও দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে। বিশ্ব শান্তিকামী মানুষ এখন কেবল একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতির অপেক্ষায় রয়েছে যা এই ‘কান্নার দরজা’র ভয়াবহতা কমিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে আবার স্বাভাবিক ও নিরাপদ ছন্দ ফিরিয়ে আনতে পারবে।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কামানের গোলার গর্জনের সাথে পাল্লা দিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দামে এখন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে যা প্রতিটি সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিচ্ছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে হরমজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এখন প্রায় রুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং জোগান ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকটের কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় এক বিশাল ধস নেমেছে যা আন্তর্জাতিক বাজারকে পুরোপুরি অস্থির করে তুলেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তেলের দাম মূলত কার নিয়ন্ত্রণে থাকে—এই প্রশ্নটি এখন সবচাইতে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে যেখানে সাধারণ মানুষের কোনো হাত নেই। ঐতিহাসিকভাবে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে ওপেকের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর জোট এবং তাদের মিত্র দেশগুলো যারা তেলের উৎপাদন কমানো বা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সউদী আরব ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো যখনই তেলের উৎপাদন কমিয়ে দেয় তখনই বিশ্ববাজারে এর অভাব দেখা দেয় এবং দাম তরতর করে আকাশপানে ছুটতে শুরু করে। তবে বর্তমানে কেবল ওপেকের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয় বরং আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক চালও তেলের দাম নির্ধারণে অত্যন্ত বড় ও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ ও ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে তেলের বাজারে যোগানের চেয়ে চাহিদার এক অসম টানাপোড়েন মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। তেলের দাম বাড়ার পেছনে কেবল যুদ্ধই দায়ী নয় বরং বড় বড় কর্পোরেট হাউসের ফটকা কারবার এবং বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক ধারণাও সমানভাবে দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। যখনই কোনো অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বাজে তখনই ভবিষ্যতের অভাবের কথা চিন্তা করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয় যা পরোক্ষভাবে তেলের দাম বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এই তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং এর ফলে যাতায়াত খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সরাসরি পরিবহন খরচ বেড়ে যায় যার ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হন যা মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়। সার ও সেচ কাজের জন্য ব্যবহৃত জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন খরচও বহুগুণ বাড়ছে যা সরাসরি চাল, ডাল ও তেলের খুচরা বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করছে। হরমজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এবং বর্তমানে এই নৌপথটি নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত। এই একটি সরু জলপথ যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় তবে পুরো বিশ্বের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ার এবং বড় বড় শিল্প কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই উচ্চমূল্য এক মরণফাঁদ কারণ তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি বড় অংশই কেবল তেল আমদানিতে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে যা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। আমেরিকা যখন তাদের কৌশলগত তেলের মজুদ থেকে বাজারে তেল ছাড়ে তখন সাময়িকভাবে দাম কিছুটা কমে এলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও সমঝোতা। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে তেলের দাম এখন কেবল একটি ব্যবসায়িক পণ্য নয় বরং এটি একটি মরণঘাতী রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে যা দিয়ে বিশ্ব শাসন করা হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা মানেই হচ্ছে বিশ্ব রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করা যা বড় দেশগুলো তাদের নিজেদের স্বার্থে প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে চলেছে এবং সাধারণ মানুষ ভুগছে। পরিশেষে বলা যায় যে তেলের বাজার এখন এমন এক গোলকধাঁধায় আটকে গেছে যেখান থেকে বেরিয়ে আসা কেবল কূটনৈতিক আলোচনা ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের মাধ্যমেই সম্ভব বলে মনে হয়। বিশ্ব শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি এবং জ্বালানি কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতির বড় ও নামকরা বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে এবং তেলের এই লাগামহীন দৌড় না থামলে বিশ্ব এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি ঘোষণা করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ডিজেলের দাম এক লাফে ৫৫ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এবং অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এই ঐতিহাসিক মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেন, যা দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৮৪.৪৯ রুপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২০.৩৫ রুপিতে। অন্যদিকে, পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১৩৭.২৪ রুপি বেড়ে ৪৫৮.৪০ রুপি নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়া কেরোসিন তেলের দামও লিটারপ্রতি ৩৪.০৮ রুপি বাড়িয়ে ৪৫৭.৮০ রুপি করা হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রী পারভেজ মালিক এই মূল্যবৃদ্ধিকে ‘অনিবার্য’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, ইরান যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। নতুন এই হার ঘোষণার পরপরই সারাদেশে কার্যকর করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, জ্বালানির এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে পাকিস্তানে পরিবহন খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যেই উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির চাপে থাকা দেশটির সাধারণ নাগরিকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত একটি বড় ধরনের ‘ইকোনমিক শক’ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আঞ্চলিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক সংকটকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানে আরও তীব্র আক্রমণের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই যুদ্ধংদেহী বার্তার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলারের বেশি বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৭.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুড তেলের দাম ৫.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৫.৪০ ডলারে পৌঁছেছে। গত বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমরা কাজ শেষ করতে যাচ্ছি। শিগগিরই এর সমাপ্তি হবে। আমরা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।” আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি দাবি করেন। তবে তার ভাষণে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক সমাধানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না থাকায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা সতর্ক করেছেন যে, উত্তেজনা আরও বাড়লে তেলের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের প্রভাবে নৌপথে চলাচলের ঝুঁকিও বাড়ছে। কাতারের জলসীমায় কাতার এনার্জির একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে তেলের পাশাপাশি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪৭২৮.৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ। তবে তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে কিছুটা পতন লক্ষ করা গেছে। সূত্র: রয়টার্স
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবিলম্বে ইরান যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) কায়রোতে আয়োজিত 'ইজিপ্ট এনার্জি শো-২০২৬' সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল ট্রাম্পই পারেন উপসাগরীয় অঞ্চলের এই সংঘাত বন্ধ করতে। সিসি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া মোটেও অতিরঞ্জিত কিছু নয়। সিসি বলেন, "আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলছি—দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আপনি ছাড়া আর কেউ এই যুদ্ধ থামাতে পারবে না।" তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, জ্বালানি অবকাঠামো ও শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির 'দ্বৈত ধাক্কা' লাগবে। ধনী দেশগুলো এই ধাক্কা সামলাতে পারলেও মধ্যম আয়ের ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্থিতিশীলতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সম্মেলনে সিসি আরও মনে করিয়ে দেন যে, গত নভেম্বরে শার্ম আল-শেখে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের একক ভূমিকা ছিল। এছাড়া জিসিসি মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আলবুদাইউই ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। সূত্র: রয়টার্স ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধের অবসানে সরাসরি চুক্তিতে আসার জন্য কঠোর আল্টিমেটাম দিয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইরানের একটি ‘নতুন এবং আরও যুক্তিবাদী’ গোষ্ঠীর সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা চলছে। তবে যদি দ্রুত কোনো সমঝোতা না হয় এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ এবং কৌশলগত খারগ দ্বীপ উড়িয়ে দিয়ে দেশটিকে 'নিশ্চিহ্ন' করে দেবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেন, এর আগে ইরানকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু স্থানে আঘাত করা থেকে বিরত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত ৪৭ বছরের ‘সন্ত্রাসের রাজত্বে’ মার্কিন সেনা ও নাগরিকদের হত্যার প্রতিশোধ নিতেই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার জন্য তেহরানের হাতে মাত্র ১০ দিন সময় আছে। উল্লেখ্য, এই প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রায় সাড়ে তিন হাজার মার্কিন নৌসেনা ইউএসএস ত্রিপোলিতে চড়ে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন। এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন এই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব না দিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, আমেরিকা আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় মুহূর্তে মিসর, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে দেওয়া কঠোর হুঁশিয়ারির পর আজ সোমবার (৩০ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার দাবি করেছিলেন, কিন্তু তেহরানের অনমনীয় অবস্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আজ সকালে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩.১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ১০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডের দাম ২.৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলার ৩০ সেন্টে কেনাবেচা হচ্ছে। অয়েল প্রাইজ ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাই মূলত বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এর আগে গত রোববার ইরানের সংসদের স্পিকার এক বক্তব্যে জানান যে, তাদের বাহিনী মার্কিন সেনাদের মোকাবিলা করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হলেও গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান যে আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। সূত্র: অয়েল প্রাইজ ডটকম ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews