দুদক

ছবি: সংগৃহীত
সাব-রেজিস্ট্রার বদলি নিয়ে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, আলোচনায় রমজান–মাইকেল চক্র

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে আসিফ নজরুলের শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে যখন দেশ তোলপাড় তখন নেপথ্যে রমজান খান আর মাইকেল মহিউদ্দিনের চক্রের খোজ এসেছে ।   সরকার পতনের পর তাদের নেতৃত্ব ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট নিজেদের সম্পদ বিবরনি জমা দেয়ার বিরুদ্ধে সচিবালয়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্যের জানান দেন। এর পরে নির্বাচন না দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আধিপত্য বিস্তার করা রমজান কমিটি সিনিয়র সহসভাপতি থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধা ভুগি চক্রের সদস্য নিজের এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাইকেল মহিউদ্দিনকে সামনে নিয়ে আসেন। কমিটির মেয়াদ পূরণের আগেই ১২ জানুয়ারি নতুন কমিটি ঘোষণা করেন তারা, যেখানে নামে মাত্র পুতুল সভাপতি করা হয় খন্দকার জামিলুর রহমানকে। যিনি চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আর সকল সাব রেজিস্ট্রারদের একক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নতুন করে বদলি বাণিজ্য শুরু করেন নিজেই মহাসচিবের দায়িত্ব নেয়া মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ। বিগত সরকারের সময় নানা বিতর্কে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে সংবাদের শিরোনাম হওয়া মাইকেল।   বিগত সরকারের সময় লোভনীয় পদায়নে নিয়েছেন মাইকেল, ঢাকার সাভার, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, টঙ্গি, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের সব জায়গায়। সাব রেজিস্ট্রারদের ভাষায়, সেই পদায়ন নিতে অন্তত চার পাঁচ কোটি টাকা খরচ করতে হয়, যা অনায়াসেই লুফে নিয়েছেন মাইকেল। এসব জায়গায় দায়িত্ব পালনের সময় নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে নিয়মিত পত্রিকার শিরোনাম হলেও তাকে নড়াচরা করার সাহস হতো না কারও। কারণ যার সঙ্গে আছেন তৎকালীন বদলি সম্রাট বলে পরিচিত রমজান খান। সরকার পতনের পর পর আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে পরে শতকোটি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করেন আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে। রমজান থেকে মাইকেলের হাতে সিন্ডিকেটের ক্ষমতা চলে গেলেও কাঠি নেড়েছেন রমজানই। যার ফলে নিজেও সুবিধা নিয়েছে রমজান।   তিনি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের সাব রেজিস্ট্রার থেকে জেলা রেজিস্ট্রার পদায়নের সময় বদলিতে সি গ্রেড অফিস পাওয়ার রেওয়াজ থাকলেও নিয়েছেন এ গ্রেডের পোস্টিং মুন্সিগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার । আর মুন্সিগঞ্জ সদরের সাব রেজিস্ট্রারের  দায়িত্বে থাকা মাইকেল নিয়েছেন ঢাকার লোভনীয় খিলগাঁওয়ের সাব রেজিস্ট্রার । মাইকেলকে দিয়ে সাব রেজিস্ট্রার বদলির নতুন সিন্ডিকেটের বস বনে যাওয়া রমজান নতুন কমিটিতে যাদের রেখেছেন, তাদের কাছ থেকে কমপক্ষে ২ থেকে ৫ কোটি টাকা করে নিয়ে মাইকেলের হাতে তুলে দেন, যেই টাকার ভাগ চলে যায় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের হাতে। যার কারণে কমিটির সব সদস্যই তাদের পদায়নের পূর্ণ মেয়াদ তো দূরের কথা নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর থাকলে ১মাসের মাথায় নতুন পদায়ন নিতে দেখা যায়। এভাবেই চলতে থাকে আসিফ নজরুল-রমজান- মাইকেল চক্রের বদলি বাণিজ্য।   ঢাকার গুলশানের গ্লোরিয়া জিন্স রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন নামিদামি হোটেলে চলতো বদলি বাণিজ্যের আলাপ চারিতা, দিন শেষে টাকার বড় ভাগ চলে যেত আসিফ নজরুলের পকেটে। সারা দেশের সাব রেজিস্ট্রারদের হর্তাকর্তা হয়ে উঠেন এই মাইকেল। এমনকি বদলির পরে জায়গা ধরে রাখতে নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয় মাইকেলকে। মাসিক ১০ থেকে ৩০ লাখ টাকা না দিলে পদায়ন টিকবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় সাব রেজিস্টারদের; কয়েকজন সাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যের অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে।   এছাড়া কমিটির যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোস্তফা কমিটিতে প্রবেশ করেই চুয়াডাঙ্গা থেকে বদলি হয়ে চলে আসেন নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায়, যুগ্ম মহাসচিব জাহাঙ্গির আলম শেরপুরে মাত্র কয়েক মাস থেকেই কমিটিতে পদ পাওয়া মাত্র দেশের সব থেকে লোভনীয় পোস্টিং বাড্ডায় বদলি হন। যেখানে বদলি হতে পাঁচ কোটি টাকার বেশি খরচ করতে হয়।   সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন বাবর মিরোজ মানিকগঞ্জের শিংগার থেকে চলে আসেন ঢাকার কেরানিগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার হয়ে। আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল বাতেন পূর্ণ মেয়াদ শেষ না করে ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে লোভনীয় পদায়ন নিয়ে যান গাজিপুর সদরের সাব রেজিস্ট্রার হয়ে। সাংস্কৃতিক সম্পাদক আদনান নোমানও নিয়েছেন লোভনীয় বদলি, যুগ্ম সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন সি গ্রেটের পোস্টিং সিলেটের গোলাপগঞ্জ থেকে এ গ্রেডের পোস্টিং নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারে আসেন। ক্রীড়া সম্পাদক খায়রুল বাসার তিন মাসে তিনবার বদলি হয়ে চলে আসেন আশুলিয়া ঢাকাতে। সেই পদায়নের পেছনে রয়েছে টাকার পাহাড়, প্রত্যেক জায়গায় বড় রকমের অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে নিজের পছন্দমতো বদলি নিয় নেন। প্রথমে টাঙ্গাইলের কালিহাতি থেকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া, কেন্দুয়া থেকে ঢাকার আশুলিয়ায়। দলিল স্বাক্ষর করার জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়ার বিরুদ্ধে দলিল লেখকরা বেশ কয়েকবার লিখিত অভিযোগ ও কয়েক দফা কলম বিরতির পরেও বহাল রয়েয়েন খায়রুল বাসার। অথচ খায়রুল বাসার আশুলিয়াতে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন খালেদা বেগমের। আশুলিয়ায় থাকার জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা দিতের রাজি না হওয়ায়, খালেদা বেগমের আশুলিয়ায় পদায়নের দুই মাসের মাথায় তাকে বদলি করে পাঠানো হয় হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে।   যুগ্ম সম্পাদক খিদমতের দায়িত্বে থাকা মো. জাহিদুর রহমান সি গ্রেডের পোস্টিং গাজিপুরের কালিগঞ্জ থেকে কক্সবাজার সদরের সাব রেজিস্ট্রার হন। এছাড়া কমিটির বাকি সদস্যরাও এই রমজান-মাইকেল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেয়েছেন লোভনীয় পদায়ন। গোপন সূত্রে জানা যায়, এই চক্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে গাজিপুর সদরের সাবরেজিস্ট্রার কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাতেনের মাধ্যমে সকল লেনদেনের কাজ সম্পাদন করেন।   এর আগে,  গত বুধবার দুদকের কার্যালয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন এ নিয়ে আবেদন দাখিল করেন।   ওই প্রতিবেদনের বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ে শুধু সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুস লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকা। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আমলে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নীতিমালা মানা হয়নি। ঘুষের বিনিময়ে বদলির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ না করায় বদলির আদেশ স্থগিত করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাউকে কাউকে ছয়-সাত মাসের মধ্যে তিন-চার বার বদলি করা হয়েছে। আট মাসে (অক্টোবর-২৪ থেকে এপ্রিল-২৫ পর্যন্ত) নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে কমপক্ষে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে পছন্দের অফিসে বদলির আদেশ পেয়েছেন তারা। অতীতে কখনো মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির ঘটনা ঘটেনি। বদলির নীতিমালা অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডের অফিসে অনুরূপভাবে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন করার বিধান রয়েছে। কিন্তু আট মাসে এই নীতিমালার তোয়াক্কা করা হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
মোহাম্মদপুর থানা (ফাইল ছবি)
মোহাম্মদপুরে দুদক মহাপরিচালক ছিনতাইয়ের শিকার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা-২-এর মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। শনিবার (৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের পাশের ফুটপাতে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে মারধর করে আহত করে।   ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১১টার দিকে মো. মোতাহার হোসেন শহীদ ফারহান ফাইয়াজ চত্বর (নানক চত্বর) এলাকায় ফুটপাতে হাঁটছিলেন। এ সময় কয়েকজন ছিনতাইকারী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলে। পরে তাকে মারধর করে তার কাছে থাকা একটি আইফোন ৬ প্লাস, একটি আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স মডেলের মোবাইল ফোন, নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং হাতে থাকা দামি ঘড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।   এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে একজন সরকারি কর্মকর্তা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।   তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মোহাম্মদপুরে দুদকের মহাপরিচালক ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৮, ২০২৬ 0
ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। ফাইল ছবি
দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন পদত্যাগ

সদ্য সাবেক দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাশা পূরণে পদত্যাগ করেছেন, কোনো চাপের কারণে নয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।   মোমেন বলেন, “নতুন সরকারের প্রত্যাশা পূরণে আমরা সহযোগী হিসেবে পদত্যাগ করেছি। নির্বাচিত সরকার আসার ১৪তম দিনে পদত্যাগ করা হলো। এর বিশেষ কোনো কারণ নেই।” তিনি আরও বলেন, “পরিবর্তনের পর আসা নির্বাচিত সরকারেরও প্রত্যাশা আছে। সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য সরকার আমাদের চেয়ে যোগ্য কমিশন স্থাপন করবেন। এতে দুদক এবং রাষ্ট্র উভয়ই উপকৃত হবে।”   দুদকের ক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, “আমাদের নখ-দাঁত থাকা না থাকা বিচার করার মালিক আপনারা। আমরা দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।”   ড. মোমেন ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর পাঁচ বছরের মেয়াদে দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ছিলেন। তাদের সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী এবং হাফিজ আহসান ফরিদও মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ দাখিল

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জমা দেয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। অভিযোগটি দাখিল করেন বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানের একদল ভক্ত।   দুদক সূত্র জানায়, দুপুরে ২০-৩০ জনের একটি দল সাকিব আল হাসানের পক্ষে স্লোগান দিতে দিতে সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ অভিযোগটি গ্রহণ করে।   দুদকের কর্মকর্তা জানান, বেনামে দাখিল করা অভিযোগ সরাসরি তদন্ত বা মামলার পর্যায়ে যায় না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই করা হবে এবং যথাযথ তথ্য প্রমাণ না পাওয়া গেলে তা বাতিল করা হবে। পরবর্তী প্রক্রিয়া অভিযোগের বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রহণ করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল সড়ক

গাজীপুরের কাশিমপুরে উদ্বোধনের আগেই নবনির্মিত সড়ক ধসে পড়ার ঘটনায় দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বৃহস্পতিবার দুদকের গাজীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম ধনঞ্জয়খালী এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন দুদক কর্মকর্তারা দেখেন, সড়ক নির্মাণে চরম গাফিলতি এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সামান্য আঘাতেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে ধসে পড়েছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে সংশ্লিষ্ট রাস্তার নথিপত্র এবং প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নথিপত্র ও সরজমিন পরিদর্শন শেষে তদন্ত দল নিশ্চিত হয়েছে যে, রাস্তা নির্মাণে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এই অনিয়মের বিস্তারিত প্রতিবেদন খুব দ্রুতই কমিশনের কাছে দাখিল করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই দিনে দুদক রাজধানীতে পৃথক আরও একটি অভিযান চালিয়েছে। লিজের শর্ত ভঙ্গ করে সরকারি জমি আত্মসাৎ ও তহবিল তছরুপের অভিযোগে বনফুল আদিবাসী ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে এ তল্লাশি চালানো হয়। ট্রাস্টের আয় অবৈধভাবে আত্মসাতের অভিযোগটি বর্তমানে অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
টিউলিপ সিদ্দিক । ছবি সংগৃহীত
টিউলিপকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় অবৈধভাবে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির অনুমতি দিয়েছেন আদালত।   বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পর এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেন আদালত। একই দিনে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২ এলাকার একটি ফ্ল্যাট দখল ও পরে রেজিস্ট্রি করেন। ফ্ল্যাটটির ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে বাড়ি নম্বর ৫এ ও ৫বি (পুরনো), বর্তমানে ১১৩, ১১বি (নতুন), রোড নম্বর ৭১, ফ্ল্যাট নম্বর বি/২০১।   গত বছরের ১৫ এপ্রিল এ ঘটনায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। পরে শাহ খসরুজ্জামান তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করলে তিন মাসের জন্য তদন্ত স্থগিতের আদেশ দেওয়া হয়। চেম্বার আদালতে দুদকের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দেওয়া হয়।   তদন্ত শেষে গত ১১ ডিসেম্বর দণ্ডবিধির একাধিক ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।   এর আগে প্লট বরাদ্দ–সংক্রান্ত পৃথক তিন মামলায় টিউলিপের দুই বছর করে ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে বলে জানা গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
আব্দুস সালাম মুর্শেদী। ছবি: সংগৃহীত
কারান্তরীণ সালাম মুর্শেদীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

কারাগারে থাকা খুলনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাফুফের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর নামে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে দুদক। পাশাপাশি তার স্ত্রী শারমিন সালামেরও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।   রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালতে দুদকের পক্ষে সংস্থার সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।   সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।   আবেদনে বলা হয়, সালাম মুর্শেদী ও অন্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানকালে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা দেশত্যাগ করে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমন রহিতকরণ একান্ত আবশ্যক।   প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে সালাম মুর্শেদীকে গ্রেফতার  করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
জাতীয়

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0