কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গোমতী নদী রক্ষায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেছেন, জনগণের সমর্থন থাকলে এ লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় গোমতী নদী রক্ষায় আয়োজিত এক মানববন্ধনে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ স্থানীয়দের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আপনারাই আমার শক্তি ও প্রেরণা। যতদিন বেঁচে থাকব, অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।” তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করছে। এ সময় তিনি এ কাজে জড়িত কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেন। গোমতী নদী এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদী রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাসও দেন তিনি। মানববন্ধনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে পরিবেশ ও জনজীবনের ক্ষতি করছে।
নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে কাজের হিসাব তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ‘পুঁজি হলো সততা, ন্যায়-ইনসাফ-জনতা’ স্লোগান সামনে রেখে মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি সংসদীয় এলাকায় বরাদ্দকৃত সরকারি সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ডিজিটাল বোর্ডে স্লাইড দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপিত এই লাইভটি অনেকটা শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মতো হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। লাইভে তিনি দেবিদ্বার উপজেলায় চলমান সরকারি সেবা, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় ঠিকাদারদের উদ্দেশ্যে তিনি ‘কমিশনমুক্ত ব্যবসার নিশ্চয়তা’ দিয়ে দক্ষতা বাড়িয়ে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার আহ্বান জানান। লাইভের শেষ দিকে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ‘জবাবদিহিতা’ নামে একটি বিশেষ ফেসবুক পেজ খোলার ঘোষণা দেন তিনি। সেখানে তার নির্বাচনী এলাকার সব উন্নয়ন কাজের নিয়মিত আপডেট এবং প্রতিটি প্রকল্পের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হবে বলে জানান। রাজনীতিতে আসার আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষকতা ও কোচিং পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষার্থী থাকাকালে তিনি ‘স্কুল অব এক্সিলেন্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি পান। সংসদ সদস্য হওয়ার পরও শিক্ষকসুলভ ভঙ্গিতে লাইভে এসে কাজের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করাকে তিনি জনগণের সামনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন। লাইভে তিনি রাস্তাঘাট নির্মাণসহ মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে ধারণা দেন। পাশাপাশি এলাকার মানুষের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় নিয়েও দিকনির্দেশনা দেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একজন সংসদ সদস্যের সরাসরি জনগণের সামনে এসে এভাবে কাজের হিসাব দেওয়া এবং শিক্ষকতার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাসনাত আব্দুল্লাহর এই ‘লাইভ ক্লাস’ উদ্যোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত ও প্রশংসিত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন থেকে বিজয়ী হওয়ার পর এক ব্যতিক্রমী ও বলিষ্ঠ রাজনৈতিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। ১১ দলীয় জোটের এই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর এলাকায় দল-মত নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সঙ্গে সমান আচরণ করা হবে এবং কোনো ধরনের বেইনসাফি সহ্য করা হবে না। ভোটের পরদিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর এই ঐতিহাসিক বিজয়ের নেপথ্য লড়াইয়ের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এই নির্বাচনটি ছিল হাসনাত আবদুল্লাহ বনাম এক শক্তিশালী অশুভ সিন্ডিকেটের লড়াই। আমার বিরুদ্ধে একদিকে ছিল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ, অন্যদিকে ছিল লুটেরা, চাঁদাবাজ, মাদক সম্রাট এবং ব্যাংক লুটেরারা। কিন্তু সব ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে জনগণ আমার ওপর আস্থা রেখেছে, তাই আজ আমি বিজয়ী।” রাজনীতিতে নতুন শিষ্টাচার প্রবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সমাজে প্রকৃত ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করব। আমি এমন একটি সিস্টেম তৈরি করতে চাই, যেখানে আমার কট্টর শত্রুর সঙ্গেও যেন কোনো অবিচার না হয়। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোকে নতুন করে বিনির্মাণ করা।” ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বিলুপ্তিই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। এনসিপি জনগণের প্রতি যে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে জিরো টলারেন্স। আমরা পুরো রাষ্ট্র কাঠামোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেব, যাতে সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।” দেবিদ্বারের এই জয়কে ‘নতুন বাংলাদেশের’ নতুন রাজনীতির সূচনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তরুণ এই নেতার এমন সাহসী ও ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্যে স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন জামায়াত–এনসিপি জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এলাকায় ব্যাপক হারে কালো টাকা ছড়ানো এবং প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার পক্ষপাতমূলক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। ভিডিও বার্তায় হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, দেবিদ্বারের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনি ফলাফল প্রভাবিত করতে বিপুল পরিমাণ ‘কালো টাকা’ ঢুকছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, "জাফরগঞ্জ এলাকায় কিছু স্বর্ণকারের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে টাকা বিতরণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বরকামটা ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন প্রিজাইডিং অফিসার এরই মধ্যে ‘বিক্রি হয়ে গেছেন’ বলে আমরা খবর পেয়েছি।" এছাড়া সুলতানপুর, রাজামেহের ও ফতেয়াবাদ ইউনিয়নেও একই কায়দায় অর্থের লেনদেন শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, "ভোট একটি পবিত্র আমানত। অর্থের বিনিময়ে এই আমানত কেনাবেচা হতে দেওয়া হবে না। আমি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, এই কালো টাকার জোয়ার প্রতিরোধে আপনারা কঠোর হোন।" তিনি সাধারণ ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, কোথাও অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখলে সাথে সাথে এনসিপি নির্বাচনি কন্ট্রোল রুমে জানান এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করুন। ভিডিওতে আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা এই তরুণ নেতা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যারা টাকা নিয়ে বের হবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। জনতাকে সাথে নিয়ে তাদের পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, যারা অর্থের মাধ্যমে নির্বাচনকে কলুষিত করার চেষ্টা করছেন, তাদের নাম ও পরিচয় উপযুক্ত প্রমাণসহ দেশবাসীর সামনে উন্মোচন করা হবে। নিজের রাজনৈতিক সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, "আমি এখন থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে সশরীরে অবস্থান করব। ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল এবং জনগণের বিজয় নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমি মাঠ ছেড়ে ঘরে ফিরব না।" নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হাসনাত আবদুল্লাহর এমন মারমুখী অবস্থান ও গুরুতর অভিযোগ দেবিদ্বারের ভোটের মাঠে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। এই আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী জসীম উদ্দিনকে ‘ট্রাক’ প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার জন্য সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন। নাছির উদ্দিন নাছির দেবিদ্বারের বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি ট্রাক প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করার অনুরোধ জানান। নাছির তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে, এই আসনে জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ। তবে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভের চেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হওয়াই একজন প্রকৃত নেতার বৈশিষ্ট্য।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, হাসনাত আবদুল্লাহ ও জসীম উদ্দিনের মধ্যে একটি প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী নির্বাচনী লড়াই হবে এবং উভয়ের জন্যই তিনি শুভকামনা জানান। ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে গণ অধিকার পরিষদের নেতা জসীম উদ্দিনের বিজয় নিশ্চিত করতে নাছির উদ্দিন নাছিরের এই প্রকাশ্য সমর্থন দেবিদ্বারের নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ছাত্রদল নেতার এই আহ্বানের ফলে এই আসনে ভোটের লড়াই আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এবং এর প্রভাব সরাসরি তৃণমূলের ভোটারদের ওপর পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews