বিজ্ঞানী

ছবি: সংগৃহীত।
‘ডার্ক ম্যাটার’ অনুসন্ধানে নাসার নতুন বিস্ময় 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান' টেলিস্কোপ

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নাসা তাদের পরবর্তী ফ্ল্যাগশিপ মহাকাশ টেলিস্কোপ 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান'-এর মূল কাঠামো তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাবলের উত্তরসূরি, জেমস ওয়েবের সঙ্গী নাসার এই নতুন টেলিস্কোপটিকে বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং 'মাদার অফ হাবল' খ্যাত ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি বিখ্যাত হাবল টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি এলাকা একবারে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। যেখানে হাবল টেলিস্কোপের কোনো নির্দিষ্ট এলাকার ছবি তুলতে বছরের পর বছর সময় লাগত, সেখানে 'রোমান' সেই কাজ সম্পন্ন করবে মাত্র কয়েক দিনে। সহজ কথায়, এটি হাবলের চেয়ে ১০০০ গুণ দ্রুতগতিতে মহাকাশের মানচিত্র তৈরি করতে সক্ষম। ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপের মূল লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বের রহস্যময় 'ডার্ক এনার্জি' এবং 'ডার্ক ম্যাটার' নিয়ে গবেষণা করা। এর ৩০০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী ক্যামেরা কোটি কোটি গ্যালাক্সির প্যানোরামিক ছবি তুলবে, যা মহাবিশ্বের প্রসারণ এবং বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। এছাড়া আমাদের সৌরজগতের বাইরে হাজার হাজার নতুন গ্রহ বা 'এক্সোপ্ল্যানেট' খুঁজে বের করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারিগরি উৎকর্ষ মেরিল্যান্ডের গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে এই টেলিস্কোপটির সংযোজন সম্পন্ন হয়েছে। এর আয়নাটি হাবলের মতোই ২.৪ মিটার চওড়া হলেও, এর প্রযুক্তিগত ক্ষমতা অনেক গুণ বেশি। এটি মহাকাশের এমন গভীর এবং প্রশস্ত ছবি তুলবে যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। নাসার প্রকল্প বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেখানে মহাবিশ্বের গভীরে সুনির্দিষ্ট কোনো বস্তুর ওপর ফোকাস করে, সেখানে রোমান টেলিস্কোপ পুরো আকাশজুড়ে এক বিশাল মানচিত্র তৈরি করবে। এই দুই টেলিস্কোপের যৌথ তথ্য মহাকাশ গবেষণায় নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
শ্রমিক সংকট কাটাতে নামানো হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চালকবিহীন ট্রাক

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হংকংয়ের বন্দরে তীব্র শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো বন্দর এলাকায় পণ্য পরিবহনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত চালকবিহীন ট্রাক। হংকংয়ের কুয়াই তসিং টার্মিনালে এই স্বায়ত্তশাসিত ট্রাকগুলো ইতিমধ্যে সফলভাবে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই চালকবিহীন ট্রাকগুলো প্রায় ৮,০০০-এর বেশি কন্টেইনার মুভমেন্ট সম্পন্ন করেছে। মূলত বন্দরের ট্রেলার চালকদের অভাব এবং ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ সামাল দিতেই এই আধুনিক প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি স্বায়ত্তশাসিত ট্রাক দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। হংকংয়ের লজিস্টিক খাতে এটি একটি বড় মাইলফলক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যবহার শুধুমাত্র শ্রমিকের অভাবই পূরণ করবে না, বরং বন্দরের সার্বিক দক্ষতা এবং নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আধুনিক এই ট্রাকগুলো সেন্সর এবং এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে মানুষের সাহায্য ছাড়াই ভারী কন্টেইনার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে ‘বাথটাব রিং’

লাল গ্রহ মঙ্গলে এক সময় কি সত্যিই নীল জলরাশি বয়ে চলত? এই প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন এক জোরালো প্রমাণ পেয়েছেন, যা এই সম্ভাবনাকে প্রায় নিশ্চিত করে তুলেছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধে এক বিশাল প্রাচীন সমুদ্রের উপকূলীয় স্তর বা 'কোস্টাল শেলফ' (Coastal Shelf) খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (ক্যালটেক) এবং ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট অস্টিন-এর গবেষকদের মতে, কয়েকশ কোটি বছর আগে মঙ্গলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সমুদ্রের নিচে ছিল। এই সমুদ্রটি ছিল অনেকটা পৃথিবীর মহাদেশীয় সোপানের (Continental Shelf) মতো। গবেষক দলের প্রধান আবদুল্লাহ জাকি জানান, তারা নাসার ‘মার্স অরবিটার লেজার অল্টিমিটার’ (MOLA) থেকে প্রাপ্ত ডেটা ব্যবহার করে মঙ্গলের ভূ-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করেছেন। সেখানে তারা এমন এক সমতল ভূমি বা উপকূলীয় ধাপের সন্ধান পেয়েছেন, যা কেবল দীর্ঘস্থায়ী এবং বিশাল কোনো সমুদ্রের ঢেউ ও পলির মাধ্যমেই সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। একে বিজ্ঞানীরা বর্ণনা করছেন অনেকটা 'বাথটাব রিং'-এর মতো—যেমন বাথটাবের জল কমে গেলে দেয়ালে একটি দাগ থেকে যায়, ঠিক তেমনি মঙ্গলের বুকে এই চিহ্নটি প্রাচীন সমুদ্রের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই উপকূলীয় স্তরটি প্রায় ৬৬০ থেকে ১৩০০ ফুট চওড়া। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মঙ্গলের এই সমুদ্রটি কেবল অল্প সময়ের জন্য ছিল না, বরং কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে স্থিতিশীল ছিল। নদীগুলো যখন সমুদ্রে এসে পড়ত, তখন তারা প্রচুর পলি ও কাদা বহন করে নিয়ে আসত, যা কালক্রমে এই শেলফ তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার কেবল মঙ্গলের ইতিহাস নয়, বরং সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনাকেও আরও জোরালো করে তুলল। যদি সেখানে দীর্ঘকাল সমুদ্র থেকে থাকে, তবে সেখানে অণুজীব বা অন্য কোনো প্রাণের বিবর্তন ঘটাও অসম্ভব নয়। ২০৩০ সালে মঙ্গলে অবতরণ করতে যাওয়া ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভারটি এই অঞ্চলে প্রাণের সন্ধান চালাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
স্থলপথেই ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ চীনের! ড্রোন চার্জ হবে মহাকাশ থেকে আসা অদৃশ্য রশ্মিতে

বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও বাস্তবে এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে চীনের বিজ্ঞানীরা, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার এবং সক্ষমতাকে আমূল বদলে দিতে পারে। সমুদ্রের বিশাল রণতরী বা ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ নয়, বরং এবার তারা তৈরি করেছে ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ বা স্থলচর যুদ্ধজাহাজ। এর সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো—এই যানটি উড়ন্ত ড্রোনকে কোনো তার ছাড়াই মাঝ-আকাশে চার্জ করতে সক্ষম! সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা বিজ্ঞানীরা এমন এক শক্তিশালী ‘মাইক্রোওয়েভ বিম’ বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করেছেন, যা দিয়ে মাটিতে থাকা যান থেকে আকাশে উড়তে থাকা ড্রোনে বিদ্যুৎ পাঠানো যাবে। ফলে ড্রোনগুলোকে চার্জ দেওয়ার জন্য আর নিচে নামতে হবে না। তারা দীর্ঘ সময় বা প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকাল ধরে আকাশে উড়তে পারবে। কিভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? সাধারণত ড্রোনগুলোর ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে সেগুলোকে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু চীনের এই নতুন সিস্টেমে স্থলভাগের বিশেষ ট্রাক বা বাহন থেকে উচ্চশক্তির মাইক্রোওয়েভ রশ্মি ড্রোনের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। ড্রোনে থাকা বিশেষ রিসিভার সেই রশ্মিকে পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তর করে ব্যাটারি চার্জ করে নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল ড্রোনের স্থায়িত্বই বাড়াবে না, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদী হামলায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর আগে ড্রোনের পাল্লা সীমিত থাকলেও, এই প্রযুক্তির ফলে ড্রোনগুলো শত শত মাইল দূরে থেকেও নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারবে। চীনের এই উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে সামরিক বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বর্তমান যুগের ‘ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ বা ড্রোন যুদ্ধের কৌশল এই এক উদ্ভাবনের ফলে পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রোবো-ডাইভিং স্যুট, সমুদ্রের গভীরে দীর্ঘক্ষণ থাকার নতুন প্রযুক্তি চীনের

সমুদ্রের তলদেশে গবেষণা বা জটিল উদ্ধারকাজে ডুবুরিদের জন্য সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো অক্সিজেন। সেই সংকট কাটাতে এবার যুগান্তকারী এক রোবোটিক ডাইভিং স্যুট উদ্ভাবন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।  দাবি করা হচ্ছে, এই ‘রোবো-ডাইভিং স্যুট’ ব্যবহার করলে একজন ডুবুরি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম অক্সিজেন খরচ করে দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে অবস্থান করতে পারবেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ স্যুটটিতে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত মানের অ্যালগরিদম যা ডুবুরির প্রতিটি নড়াচড়া বা মুভমেন্টকে নিখুঁতভাবে অনুসরণ করতে পারে। ফলে ডুবুরিকে সাতার কাটতে বা হাত-পা নাড়াতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয় না, যা তার শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা কমিয়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি শুধু অক্সিজেন সাশ্রয়ই করবে না, বরং গভীর সমুদ্রের প্রতিকূল পরিবেশে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমিয়ে আনবে। পানির নিচে ভারী কোনো যান্ত্রিক কাজ বা উদ্ধার তৎপরতার সময় এই রোবোটিক স্যুট ডুবুরিকে ‘শ্যাডো’ বা ছায়ার মতো সহায়তা করবে। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও ভবিষ্যতে সমুদ্র সম্পদ আহরণ এবং সামরিক ক্ষেত্রে এটি বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
দক্ষিণ আফ্রিকার মিরক্যাট রেডিও টেলিস্কোপ ওই সংকেতটি শনাক্ত করেছে।
৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে ভেসে এল শক্তিশালী লেজার সংকেত, তাজ্জব বিজ্ঞানীরা!

মহাবিশ্বের অসীম রহস্যের বুক চিরে ভেসে এল এক শক্তিশালী সংকেত। প্রায় ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে আসা এই 'মেগা লেজার' রশ্মি দেখে রীতিমতো বিস্মিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার 'মিরক্যাট' (MeerKAT) রেডিও টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সাধারণত মহাকাশে এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় যেকোনো সংকেত ক্রমশ দুর্বল হয়ে একসময় মিলিয়ে যায়। কিন্তু এই সংকেতটি তার উজ্জ্বলতা ও তীব্রতা বজায় রেখে পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে, যা প্রচলিত অনেক বৈজ্ঞানিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই শক্তিশালী রশ্মিটি আসলে একটি ‘হাইড্রক্সিল মেগামেসার’। মহাকাশে দুটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে যখন গ্যাস সংকুচিত হয়, তখন হাইড্রক্সিল অণুগুলো উত্তেজিত হয়ে এই ধরণের তীব্র বিকিরণ ঘটায়। তবে এবারের সংকেতটি এতটাই শক্তিশালী যে একে বিজ্ঞানীরা ‘গিগামেসার’ হিসেবে অভিহিত করছেন। কিন্তু ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকেও কেন এই সংকেত ম্লান হলো না? এর উত্তরে বিজ্ঞানীরা ‘মহাকর্ষীয় লেন্সিং’ (Gravitational Lensing)-এর কথা বলছেন। তাদের মতে, সংকেতটি আসার পথে সামনে থাকা কোনো একটি ছায়াপথ ‘আতস কাঁচের’ মতো কাজ করেছে, যা সংকেতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের টেলিস্কোপে ধরা পড়তে সাহায্য করেছে।   এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের আদি গঠন এবং বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
কন্ডোমের দিন শেষ! পুরুষদের ‘গর্ভনিরোধক’ তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা

এতদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের সিংহভাগ দায়ভার কেবল নারীদের ওপরেই বর্তাতো। তবে আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে সেই ধারায় আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। সম্প্রতি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী পুরুষদের জন্য বিশেষ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে শুক্রাণুর মূল স্টেম সেলগুলোকে কোনো প্রকার ক্ষতি না করেই সাময়িকভাবে সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।  গবেষণার প্রধান অধ্যাপক পলা কোহেনের মতে, এটি একটি অত্যন্ত নিরাপদ পদ্ধতি যেখানে কোনো হরমোনাল জটিলতা নেই। এই প্রক্রিয়ায় অণ্ডকোষে প্রয়োগ করা ইনজেকশন বা পিল শুক্রাণুর গতিপথকে সাময়িকভাবে স্থবির করে দেয়, যা গর্ভধারণ রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, এই পদ্ধতিটি স্থায়ী নয়। কোনো পুরুষ যদি পুনরায় সন্তান নিতে চান, তবে এই চিকিৎসা বন্ধ করার কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসবে এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপরও এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। সফলভাবে মানুষের ওপর প্রয়োগ করা গেলে এটি পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
সৌরজগতে প্রাণের রহস্য উন্মোচনে চীনের বিজ্ঞানীদের অভাবনীয় সাফল্য

মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে চাঁদের বুক থেকে সংগৃহীত মাটি। চীনের চ্যাং'ই-৫ এবং চ্যাং'ই-৬ মিশনের মাধ্যমে আনা চন্দ্ররেণু বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা একাধিক নাইট্রোজেনযুক্ত জৈব যৌগের সন্ধান পেয়েছেন।  আন্তর্জাতিক গবেষক দলের এই আবিষ্কার সৌরজগতে জৈব পদার্থের বিবর্তন এবং পৃথিবীতে প্রাণের উৎস সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আদি সৌরজগতে গ্রহাণু এবং ধূমকেতুগুলো ছিল মূলত মহাজাগতিক বার্তাবাহক। এগুলোই বিভিন্ন গ্রহে কার্বন, নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেনের মতো প্রাণের জন্য অপরিহার্য উপাদান পৌঁছে দিত। পৃথিবীর সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণে এই আদি রেকর্ডগুলো মুছে গেলেও চাঁদের শান্ত পরিবেশে এই উপাদানগুলো কোটি কোটি বছর ধরে সংরক্ষিত ছিল।  গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদের মাটিতে থাকা এই জৈব উপাদানগুলো মূলত তিনটি অবস্থায় পাওয়া যায় এবং এগুলোতে অ্যামাইড ফাংশনাল গ্রুপের উপস্থিতি রয়েছে, যা জটিল রাসায়নিক রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়।  এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, মহাকাশ থেকে আসা জৈব পদার্থগুলো কেবল চাঁদে জমা হয়নি, বরং সেখানে সৌর বিকিরণ ও উল্কাপাতজনিত প্রভাবে নতুন রূপে বিবর্তিত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যিশুর শেষ শয্যায় বাংলাদেশের ছোঁয়া? তুরিনের রহস্যময় চাদরে মিলল চমকপ্রদ তথ্য

যিশুর শেষ শয্যায় বাংলাদেশের ছোঁয়া? তুরিনের রহস্যময় চাদরে মিলল চমকপ্রদ তথ্য হযরত ঈসা (আঃ) বা যিশু খ্রিস্টের পবিত্র দেহ যে চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল, সেই ঐতিহাসিক ‘শবাচ্ছাদন বস্ত্র’ বা ‘শ্রাউড অব তুরিন’ নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যে যুক্ত হলো নতুন এক মাত্রা। সাম্প্রতিক এক ডিএনএ গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই পবিত্র কাপড়ের সঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের গভীর সংযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশও এই উপমহাদেশের অংশ। ইতালির পাডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিয়ান্নি বারকাচ্চিয়ার নেতৃত্বে একদল গবেষক এই চাদর থেকে পাওয়া ধূলিকণা এবং ফাইবারের জেনেটিক বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কাপড়টিতে থাকা ডিএনএ-র প্রায় ৩৮.৭ শতাংশই উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভূত।  বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই কাপড়টি প্রাচীন সিন্ধু উপত্যকা অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত লিনেন বা সুতো দিয়ে তৈরি হয়ে থাকতে পারে, যা প্রাচীন রেশম পথ বা সমুদ্রপথে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছিল। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, গুড ফ্রাইডে-তে যিশুর দেহ ক্রুশ থেকে নামানোর পর একটি মসীনার কাপড়ে জড়িয়ে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।  ইতালির তুরিন শহরের ‘ক্যাথিড্রাল অব সেন্ট জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট’-এ সংরক্ষিত এই ৪.৩৬ মিটার লম্বা কাপড়ে আজও এক দীর্ঘকায় পুরুষের আবয়ব এবং রক্তের ছাপ দৃশ্যমান। নতুন এই গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যিশুর সেই অন্তিম বিদায়ের চাদরটি হয়তো তৎকালীন উপমহাদেশের দক্ষ কারিগরদের বোনা কাপড় ছিল।  যদিও এই চাদরটির সত্যতা নিয়ে বিজ্ঞান মহলে বিতর্ক রয়েছে, তবে উপমহাদেশের সাথে এর বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র স্থাপনের এই দাবি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রেকর্ড গড়ে পৃথিবীর পথে আর্টেমিস-২: মহাকাশে নতুন ইতিহাস লিখলেন চার নভোচারী

৫৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে মহাকাশ জয়ের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসা। সোমবার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।  এর আগে কোনো মানুষ পৃথিবী থেকে এত দূরে ভ্রমণ করেনি। বুধবার চাঁদের কক্ষপথ থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নভোচারীরা তাদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা জানান।  মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন বর্তমানে ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে ঘণ্টায় প্রায় ৩৮ হাজার কিলোমিটারের বেশি গতিতে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হচ্ছেন। ফেরার পথে তারা চাঁদের অন্ধকার দিক (ফার সাইড) এবং একটি বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করেছেন। নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন জানান, খালি চোখে চাঁদের পৃষ্ঠ দেখা ছিল এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। এই মিশনের সফলতার ওপর ভিত্তি করেই ২০২৮ সালে মানুষকে পুনরায় চাঁদের বুকে নামানোর পরিকল্পনা করছে নাসা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে তাদের এই ওরিয়ন ক্যাপসুল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
১১ হাজার বছরের প্রাচীন রহস্যের সমাধান: ব্রিটেনের গুহায় মিলল আদিম শিশুর দেহাবশেষ

১১ হাজার বছর আগের এক বিষাদময় উপাখ্যান! শেষ তুষারযুগের বরফ যখন গলতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ে উত্তর ব্রিটেনের এক অন্ধকার গুহায় সমাহিত করা হয়েছিল তিন বছরের এক ছোট্ট শিশুকে। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা উন্মোচন করেছেন মানব ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়। কামব্রিয়ার ‘হিনিং উড বোন কেভ’ থেকে উদ্ধার হওয়া এই দেহাবশেষটি বর্তমানে উত্তর ব্রিটেনের ইতিহাসে আবিষ্কৃত প্রাচীনতম মানুষের নিদর্শন। বিজ্ঞানীদের তথ্যানুযায়ী, শিশুটি খ্রিস্টপূর্ব ৯২৯০ থেকে ৮৯২৫ অব্দের মাঝামাঝি সময়ে মারা গিয়েছিল। আধুনিক ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং রেডিওকার্বন ডেটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শিশুটির বয়স ছিল মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে তিন বছর। স্থানীয়ভাবে তাকে ‘অসিক ল্যাস’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে এক আবেগঘন সত্য। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগেকার সেই আদিম মানুষগুলোও যে তাদের প্রিয়জনদের প্রতি কতটা যত্নশীল ছিল, তার প্রমাণ মেলে এই সমাধিতে। শিশুটিকে গুহার ভেতর অত্যন্ত সম্মানের সাথে সমাহিত করা হয়েছিল। তার দেহের সাথে পাওয়া গেছে পাঁচটি ছিদ্রযুক্ত ঝিনুকের পুঁতি, যা তৎকালীন সময়ের গয়না বা বিশেষ উপহার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এটি প্রমাণ করে, প্রাচীনকালেও মৃতদেহ সৎকারে শোক এবং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হতো। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই গুহায় খননকাজ চালিয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিক মার্টিন স্টেবেলস। তার মতে, গুহাটি সম্ভবত তৎকালীন মানুষের কাছে কোনো পবিত্র বা আধ্যাত্মিক স্থান ছিল। ল্যাঙ্কাশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক ডক্টর রিক পিটারসন এই আবিষ্কারকে বিজ্ঞানের এক অভাবনীয় জয় হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, এত প্রাচীন দেহাবশেষ থেকে লিঙ্গ ও বয়স নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা ব্রিটেনের আদিম জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা বুঝতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশ থেকে সরাসরি পৃথিবীতে ফোন, শুরু হলো আর্টেমিস-২-এর ঘরে ফেরার পালা

মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে পৃথিবীর দিকে ফিরতে শুরু করেছে নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের ওরিয়ন মহাকাশযান। দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে চার নভোচারী এখন তাঁদের ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর অভিযানের শেষ ধাপে রয়েছেন। গতকালের (৬ এপ্রিল) ঐতিহাসিক 'লুনার ফ্লাইবাই' বা চাঁদের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার পর আজ সপ্তম দিনে নভোচারীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) থাকা সহকর্মীদের সাথে একটি দীর্ঘ দূরত্বের অডিও কলে যুক্ত হন। প্রায় ১৫ মিনিটের এই কথোপকথনে তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন। এই অভিযানে নভোচারীরা অ্যাপোলো-১৩-এর গড়া পূর্বের রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে সর্বাধিক দূরত্ব (প্রায় ২,৫২,৭৫৬ মাইল) অতিক্রম করার এক নতুন বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছেন। ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের উল্টো পিঠ (Far Side) দিয়ে যাওয়ার সময় মহাজাগতিক এক বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করেছে, যা পৃথিবীর বুক থেকে দেখা অসম্ভব। মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ ও পাইলট ভিক্টর গ্লোভার চাঁদের পৃষ্ঠের অসাধারণ সব খানাখন্দ (Craters) এবং ধুলোবালির স্তরের বর্ণনা দিয়েছেন। ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, "চাঁদের এই দৃশ্য দেখে আমি অভিভূত। এটি এতটাই বাস্তব মনে হচ্ছিল যে মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল আমি চাঁদের মাটির খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছি।" নভোচারীরা তাঁদের ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালার কাছ থেকে হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা দিয়ে অসংখ্য ছবি তুলেছেন, যা ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী বসতি স্থাপনে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। নাসা জানিয়েছে, ওরিয়ন এখন চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাটিয়ে পৃথিবীর পথে যাত্রা শুরু করেছে। আজ রাতে মহাকাশযানের থ্রাস্টারগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু করার মাধ্যমে এর গতিপথ সংশোধন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি অবতরণ করবে। এই অভিযানে আছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। ২০২৬ সালের এই সফল মিশনটি মূলত আগামী বছরের আর্টেমিস-৩ মিশনের প্রস্তুতি, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন। তথ্যসূত্র: নাসা অফিশিয়াল ব্লগ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশ থেকে বিদ্যুৎ ও শক্তিশালী অস্ত্র: চীনের নতুন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল চীন। বেইজিংয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি নতুন প্রজন্মের স্পেস সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের (SSPP) নকশা প্রকাশ করেছেন। তবে এই প্রকল্প কেবল বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর নেপথ্যে থাকা বিশাল সামরিক সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কী এই নতুন প্রযুক্তি? চীনের গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, এই বিশালাকার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করবে এবং সূর্যের আলো থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করবে। সংগৃহীত এই শক্তি মাইক্রোওয়েভ বা লেজারের মাধ্যমে সরাসরি পৃথিবীতে অবস্থিত রিসিভার স্টেশনে পাঠানো হবে। মেঘ, বৃষ্টি বা রাত—কোনো কিছুই এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাধা হতে পারবে না, ফলে এটি হবে অবিরাম শক্তির উৎস। সামরিক সক্ষমতা ও উদ্বেগের কারণ: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তি কেবল সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ দেবে না, বরং এটি মহাকাশ থেকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তি বা এনার্জি বিম নিক্ষেপ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে শত্রুদেশের রাডার ব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়া, স্যাটেলাইট ধ্বংস করা বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করা সম্ভব হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে একটি 'মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র' হিসেবেও কাজ করতে পারে, যা লেজার ওয়েপন বা মাইক্রোওয়েভ পালস ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দিতে সক্ষম। প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ: যদিও এই বিশাল স্থাপনা মহাকাশে তৈরি করা এবং সেখান থেকে নিরাপদে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো একটি অত্যন্ত জটিল প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ, তবুও চীনের বিজ্ঞানীরা আত্মবিশ্বাসী। তারা মনে করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। এই প্রকল্পটি সফল হলে চীন জ্বালানি খাতে যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, তেমনি মহাকাশ যুদ্ধ বা 'স্পেস ওয়ারফেয়ার'-এ অপরাজিত শক্তিতে পরিণত হবে। আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশগুলোও এখন চীনের এই 'মহাকাশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র' প্রকল্পের গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে মহাকাশ দখলের এই লড়াই এখন কেবল বিজ্ঞানের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি রণকৌশলের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের এই নতুন পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
চাঁদের পথে বড় বাধা ‘টয়লেট বিভ্রাট’: মহাকাশযানে উৎকট গন্ধে দিশেহারা নভোচারীরা

প্রায় পাঁচ দশক পর মানুষকে পুনরায় চাঁদের কক্ষপথে ফিরিয়ে নিতে কাজ করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। কিন্তু এই ঐতিহাসিক অভিযানের প্রস্তুতির মাঝেই দেখা দিয়েছে এক অস্বস্তিকর বিপত্তি। আর্টেমিস-২ (Artemis II) মিশনের জন্য ব্যবহৃত মহাকাশযানে টয়লেট বা শৌচাগার নিয়ে বড় ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন নভোচারীরা।   টয়লেটের ফ্ল্যাশ ঠিকমতো কাজ না করায় মহাকাশযান জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে উৎকট দুর্গন্ধ, যা নভোচারীদের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর অনুযায়ী, আর্টেমিস-২ মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নভোচারীরা যখন বিভিন্ন যান্ত্রিক পরীক্ষা চালাচ্ছেন, তখনই ওরিয়ন (Orion) ক্যাপসুলের টয়লেট সিস্টেমে ত্রুটি ধরা পড়ে।   নভোচারীরা অভিযোগ করেছেন যে, মূত্র ত্যাগের পর ফ্ল্যাশ করার সময় তরল বর্জ্য ঠিকমতো নিষ্কাশিত হচ্ছে না। ফলে সেই বর্জ্য থেকে মহাকাশযানের ভেতরে তীব্র ও অস্বস্তিকর গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। শূন্য মাধ্যাকর্ষণ বা জিরো গ্র্যাভিটিতে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। আর্টেমিস-২ মিশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে প্রথমবারের মতো চারজন নভোচারী চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার কথা রয়েছে। প্রায় ১০ দিনের দীর্ঘ এই যাত্রায় নভোচারীদের সুস্থতা এবং স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা অপরিহার্য। কিন্তু টয়লেট বা ‘ইউনিভার্সাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (UWMS) যদি সঠিকভাবে কাজ না করে, তবে দীর্ঘ যাত্রায় নভোচারীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।   কারিগরি জটিলতা: মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মহাকাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উন্নত মানের পাখা ও এয়ার ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। আর্টেমিস-২ এর ক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্ল্যাশ সিস্টেমের প্রেশার বা বায়ু চলাচলের পথে কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছে। যার ফলে বাতাস পরিশোধিত হওয়ার বদলে দুর্গন্ধ ভেতরেই আটকে থাকছে। পূর্বের অভিজ্ঞতা: মহাকাশে টয়লেট সমস্যা নাসার জন্য নতুন নয়। এর আগেও স্পেস-এক্স (SpaceX) এর ড্রাগন ক্যাপসুলেও একবার একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল, যার ফলে নভোচারীদের ডায়াপার ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হয়েছিল। নাসার প্রকৌশলীরা বর্তমানে এই ত্রুটি সারিয়ে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আর্টেমিস-২ মিশনের যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে। তার আগেই এই ‘গন্ধময়’ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে না পারলে অভিযানের সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নভোচারীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাদের মানবিক প্রয়োজনগুলো নিশ্চিত করাই এখন নাসার প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
চীনে মিলল কোটি কোটি বছরের পুরনো জীবাশ্ম: বদলে যেতে পারে পৃথিবীর বিবর্তনবিদ্যার ইতিহাস

পৃথিবীতে জটিল প্রাণের বিবর্তন ঠিক কবে এবং কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। সম্প্রতি চীনে আবিষ্কৃত একদল অতি প্রাচীন জীবাশ্ম (Fossil) বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই আবিষ্কারটি পৃথিবীর আদিম প্রাণের বিকাশের সময়কালকে আরও কয়েক কোটি বছর পিছিয়ে দিতে পারে। দক্ষিণ চীনের পার্বত্য অঞ্চলে একটি প্রাচীন শিলাস্তরে এই জীবাশ্মগুলোর সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ভূতত্ত্ববিদরা। গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন (৫৫ থেকে ৬০ কোটি) বছর আগের। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জীবাশ্মগুলোতে আদিম বহুকোষী প্রাণের জটিল গঠন লক্ষ্য করা গেছে, যা এর আগে এই সময়ের কোনো নমুনায় দেখা যায়নি। আবিষ্কারের গুরুত্ব: বিজ্ঞানীদের এতদিনকার ধারণা ছিল যে, পৃথিবীতে ‘ক্যাম্ব্রিয়ান পিরিয়ড’ (Cambrian Period) বা প্রায় ৫৪ কোটি বছর আগে প্রাণের হঠাৎ এবং দ্রুত বিবর্তন ঘটেছিল। কিন্তু চীনের এই নতুন আবিষ্কার প্রমাণ করছে যে, তারও অনেক আগে থেকে পৃথিবীতে জটিল গঠনের প্রাণী বা জীব বাস করত। গবেষক দলের প্রধান বলেন, "আমরা যা পেয়েছি তা কেবল কিছু পাথর নয়, বরং প্রাণের ইতিহাসের একটি হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়। এই জীবাশ্মগুলো প্রমাণ করে যে, বিবর্তন আমরা যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও ধীরগতিতে এবং অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছিল।" গঠনগত বৈশিষ্ট্য: প্রাপ্ত জীবাশ্মগুলোতে আদিম অমেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহের প্রতিসাম্য (Symmetry) এবং বিশেষায়িত টিস্যু বা কলার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এটি নির্দেশ করে যে, সেই প্রাচীনকালেই প্রাণীরা চলাফেরা করতে এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শুরু করেছিল। বিবর্তনবাদে নতুন মাত্রা: এই আবিষ্কারটি ডারউইনের বিবর্তনবাদ এবং পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক সময়রেখা নিয়ে পুনরায় ভাববার অবকাশ তৈরি করেছে। বিশ্বজুড়ে জীববিজ্ঞানীরা এই অনুসন্ধানকে ‘বিস্ময়কর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এটি কেবল নতুন একটি প্রজাতির খোঁজ নয়, বরং আমাদের আদি পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে জানার এক নতুন চাবিকাঠি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক গবেষক দল জীবাশ্মগুলোর আরও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই গবেষণা শেষ হলে জীববিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকের অনেক তথ্যই পুনরায় লিখতে হবে। পৃথিবীর রহস্যময় সৃষ্টিতত্ত্ব এবং প্রাণের উন্মেষ নিয়ে চীনের এই আবিষ্কার আগামী দিনগুলোতে বিজ্ঞানের জগতে আরও নতুন নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সব রেকর্ড চুরমার, কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে অসম্ভবকে সম্ভব করার জাদু দেখাল চীন

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) লড়াইয়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেল চীন। দেশটির বিজ্ঞানীরা এমন একটি যুগান্তকারী 'ডাবল-ফোটন' বা দ্বি-ফোটন ডিভাইস তৈরি করেছেন, যা কোয়ান্টাম কণার কার্যক্ষমতার প্রচলিত সব সীমা বা 'এফিসিয়েন্সি সিলিং' ভেঙে দিয়েছে।  সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উদ্ভাবনটি কোয়ান্টাম নেটওয়ার্ক এবং সুপার-ফাস্ট ডেটা প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। প্রথাগত কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে কণার (ফোটন) কার্যক্ষমতা একটি নির্দিষ্ট সীমার পর আর বাড়ানো সম্ভব হতো না। চীনা গবেষক দল, বিশেষ করে সান ইয়াত-সেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা, একটি ন্যানো-স্কেল 'ফোটন ফ্যাক্টরি' তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন।  এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্ট বা কণার মধ্যকার রহস্যময় সংযোগের হার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আগে ছিল মাত্র ০.১ শতাংশের নিচে। কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? ১. সুপারফাস্ট কম্পিউটিং: এই প্রযুক্তির ফলে কোয়ান্টাম চিপগুলো বর্তমানের এনভিডিয়া (NVIDIA) জিপিইউ-এর চেয়েও হাজার গুণ দ্রুত কাজ করতে সক্ষম হবে। ২. নিরাপদ যোগাযোগ: কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্টের স্থায়িত্ব বাড়ার ফলে হ্যাকিং-মুক্ত বিশ্বব্যাপী কোয়ান্টাম ইন্টারনেট গড়ার পথ প্রশস্ত হলো। ৩. শিল্পে বিপ্লব: মহাকাশ গবেষণা, বায়ো-মেডিসিন এবং আর্থিক খাতের জটিল হিসাব-নিকাশ এখন কয়েক মুহূর্তেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। গবেষক দলের প্রধানদের মতে, তারা লিথিয়াম নিওবেট (Lithium Niobate) নামক একটি বিশেষ পাতলা স্তরের ওপর এই মাইক্রোচিপ তৈরি করেছেন। এটি সাধারণ সিলিকন চিপের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। বিজ্ঞানীরা এটিকে 'আর্টিফিশিয়াল অ্যাটম' বা কৃত্রিম পরমাণু কাঠামোর এক অনন্য প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন, যা বিশ্বজুড়ে কোয়ান্টাম রেসে চীনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই সাফল্য শুধুমাত্র গবেষণাগারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ইতিমধ্যে বাস্তব ডেটা সেন্টারে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডেটা প্রসেসিংয়ের সংজ্ঞাই বদলে যেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়ল মহাকাশের রহস্যময় ‘অদৃশ্য গ্যালাক্সি’

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন একটি গ্যালাক্সির সন্ধান পেয়েছেন যা প্রায় অদৃশ্য এবং যার ৯৯.৯ শতাংশই গঠিত হয়েছে রহস্যময় ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা কৃষ্ণবস্তু দিয়ে। মহাকাশের এই রহস্যময় বস্তুটি নিয়ে দীর্ঘদিনের কৌতূহল নিরসনে এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষকদের আবিষ্কৃত এই গ্যালাক্সিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্যান্ডিডেট ডার্ক গ্যালাক্সি-২’ বা CDG-2। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই গ্যালাক্সিটি এতটাই অস্পষ্ট যে সাধারণ টেলিস্কোপে এর অস্তিত্ব ধরা পড়াও অসম্ভব। হাবল টেলিস্কোপের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সর এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কারটি সম্ভব হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ গ্যালাক্সিগুলো (যেমন আমাদের মিল্কিওয়ে) শত শত কোটি নক্ষত্র এবং উত্তপ্ত গ্যাস দিয়ে গঠিত হয় যা উজ্জ্বল আলো ছড়ায়। কিন্তু CDG-2 গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। আমাদের মিল্কিওয়ের তুলনায় এটি মাত্র ০.০০৫ শতাংশ উজ্জ্বল। এর বিশাল ভরের প্রায় পুরোটাই ডার্ক ম্যাটার, যা কোনো আলো প্রতিফলন বা শোষণ করে না। বিজ্ঞানীরা মূলত গ্যালাক্সিটির ভেতরে থাকা চারটি প্রাচীন নক্ষত্রপুঞ্জের (Globular Clusters) নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করে এর মহাকর্ষীয় টান বুঝতে পেরেছেন এবং এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিস্টিকস ও অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের গবেষক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক দাই লি (Dayi Li) জানান, "এটি একটি ব্যর্থ গ্যালাক্সি। সম্ভবত সৃষ্টির শুরুর দিকেই এর চারপাশের বড় গ্যালাক্সিগুলো এর ভেতরে থাকা নক্ষত্র তৈরির প্রয়োজনীয় হাইড্রোজেন গ্যাস কেড়ে নিয়েছিল। ফলে এটি শুধুমাত্র একটি ডার্ক ম্যাটার হ্যালো এবং কিছু নক্ষত্র নিয়ে মহাকাশে টিকে আছে।" ডার্ক ম্যাটার মহাবিশ্বের মোট ভরের প্রায় ৮৫ শতাংশ হলেও আজ পর্যন্ত সরাসরি এটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। CDG-2 এর মতো গ্যালাক্সিগুলো বিজ্ঞানীদের জন্য একটি ল্যাবরেটরি হিসেবে কাজ করবে, যেখানে সাধারণ নক্ষত্রের আলো বা গ্যাসের প্রভাব ছাড়াই ডার্ক ম্যাটারের ধর্ম নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালানো সম্ভব হবে। এই আবিষ্কারটি আবারও প্রমাণ করল যে মহাবিশ্বের বিশাল অন্ধকার অংশে এখনও এমন অনেক কিছু লুকিয়ে আছে যা আমাদের চেনা জগতের চেয়েও অনেক বেশি রহস্যময়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৫, ২০২৬ 0
Solar Flare
৫ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের

শান্ত স্বভাব ভুলে সূর্য এখন রীতিমতো অগ্নিশর্মা। গত ২৪ ঘণ্টায় সৌরপৃষ্ঠে ঘটে যাওয়া একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ কপালে ভাঁজ ফেলেছে মহাকাশবিজ্ঞানীদের। বিশাল এক সৌরকলঙ্ক থেকে ধেয়ে আসা আগুনের হলকা কি লণ্ডভণ্ড করে দেবে পৃথিবীর যোগাযোগ ব্যবস্থা? ৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার ঠিক কী ঘটতে চলেছে আমাদের ভাগ্যে?   সূর্যের বুকে এখন চলছে মহাপ্রলয়। ‘রিজিয়ন ৪৩৬৬’ নামক সানস্পটটি গত দু’দিনে সূর্যের বুকে যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা গত কয়েক বছরের মধ্যে বিরল। রবিবার সন্ধ্যায় সেখান থেকে সৃষ্টি হওয়া ‘X8.1’ মাত্রার সৌর শিখাটি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে শেষবার এমন ভয়াবহ রূপ দেখা গিয়েছিল।   মার্কিন সংস্থা NOAA-এর স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছে, ৫ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে ভূ-চৌম্বকীয় কার্যকলাপ চরমে পৌঁছতে পারে। সূর্য থেকে প্লাজমার একটি বিশাল মেঘ বা ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ আমাদের বায়ুমণ্ডলে আঘাত হানার অপেক্ষায়। যদিও এটি সরাসরি পৃথিবীকে ধাক্কা না দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তবুও এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।   কী কী প্রভাব পড়তে পারে? ইতিমধ্যেই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আংশিক রেডিও ব্ল্যাকআউট শুরু হয়েছে। ৫ তারিখের এই মহাজাগতিক ঝাপটায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হওয়া, জিপিএস বিকল হওয়া এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগে বড় ধরনের বিভ্রাট ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, নিম্ন অক্ষাংশের এলাকাগুলোতেও দেখা যেতে পারে অপূর্ব অরোরা বা মেরুজ্যোতি।   নাসার তথ্যমতে, সূর্য এখন তার ১১ বছরের চক্রের ‘সোলার ম্যাক্সিমাম’ বা সর্বাধিক সক্রিয় পর্যায়ে রয়েছে, যা ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। আপাতত ৫ ফেব্রুয়ারি বড় কোনো বিপত্তি ঘটে কি না, সেদিকেই রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে বিশ্ববাসী।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
জাতীয়

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0