মধ্যপ্রাচ্য-সংকট

ছবি: সংগৃহীত
৪৭ দিন পর হরমুজ পাড়ি দিচ্ছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ৪৭ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।   শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। এর পেছনে আরও ৮ থেকে ১০টি জাহাজ একই পথে চলাচল করছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, রাত তিনটার দিকে জাহাজটি পুরো প্রণালি অতিক্রম করার কথা রয়েছে।   এর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করলেও ইরান সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি আরব আমিরাতের মিনাসাকার বন্দরের বহির্নোঙরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।   বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ অতিক্রমের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দরে তেল সংগ্রহ (ব্যাংকারিং) করা হবে। এরপর জাহাজটির গন্তব্য নির্ধারিত রয়েছে আফ্রিকার মোজাম্বিক অথবা দক্ষিণ আফ্রিকা।   জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সাশ্রয়ে রেশনিং করে তা দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাদ্য বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে এবং দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ওয়ার অ্যালাউন্স।   উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে পণ্য নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর-এ পৌঁছায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট সংঘাতের কারণে জাহাজটির যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়।   পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে ফেরত আনা হলেও অবশেষে যুদ্ধবিরতির সুযোগে আবারও গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা আলোচনা; মধ্যপ্রাচ্যে কি ফিরবে স্থায়ী শান্তি?

প্রায় আট সপ্তাহের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এখন এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার পর, আগামী ১৬ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, উভয় পক্ষের আলোচক দল পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   প্রথম দফার বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নেতৃত্ব দেন। সেখানে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিপূর্বে নিজেকে জয়ী দাবি করেছিলেন, তবুও রণাঙ্গনের চেয়ে কূটনীতিকেই এখন প্রাধান্য দিচ্ছে সব পক্ষ। তবে ইসরায়েলের অতীত ইতিহাস এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েই গেছে।   এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ফোনালাপে বর্তমান পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছেন। সৌদি আরব এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের স্থায়ী অবসানে এই সংলাপ-প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিশ্ববাসী এখন ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এই আলোচনা সফল হলে কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়াসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত হতে পারে। সংঘাতের পুনরায় বিস্তৃতি রোধে ইসরায়েলের সদিচ্ছাই এখন বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে যুদ্ধবিরতি নয়: হিজবুল্লাহ

লেবাননে ইসরায়েলের হামলা পুরোপুরি বন্ধ না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ এই অবস্থান তুলে ধরেছেন।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদলাল্লাহ বলেন, ইসরায়েল যদি সব ধরনের শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ না করে, তাহলে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার প্রশ্নই ওঠে না। তার ভাষায়, বাস্তব পরিস্থিতির ওপরই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নির্ভর করছে।   তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে কার্যকর হতে পারে এমন একটি স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বৈরুতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হিজবুল্লাহকে অবহিত করেছেন। এতে বোঝা যায়, প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতি ঘিরে আঞ্চলিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।   ট্রাম্প বলেন, দুই দেশই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠকে বসেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন।   স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান রেজিন কেইনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। তবে হিজবুল্লাহর কঠোর অবস্থান যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের দাবি

ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ প্রায় সব শর্তেই সম্মত হয়েছে।   হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে। তিনি আরও জানান, চুক্তিটি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত হলে সেখানে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে তার।   ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই চুক্তি সম্পন্ন হলে মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই সপ্তাহান্তেই দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।   তবে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যদি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকরভাবে বজায় রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তার মতে, এই অবরোধ ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন চুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ পুনরায় শুরুর হুমকি পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজ ডুবানোর হুমকি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার এবং সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাঈ এ হুমকি দেন।   বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ‘পুলিশের ভূমিকা’ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাজ নয়। তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে ধ্বংস করতে সক্ষম।   রেজাঈ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সাহস পায় না। তার ভাষায়, ইরান তাদের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি ছাড়বে না এবং আলোচনার শর্ত নির্ধারণ করবে তেহরানই।   এদিকে, সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। দাবি করেন, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ইরান ‘হাজার হাজার জিম্মি’ ধরে বিপুল অর্থ আদায় করতে পারবে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক বিমানবাহী রণতরী অঞ্চলটিতে অবস্থান করছে।   এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও আগের দফার দীর্ঘ আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবে হোয়াইট হাউস চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক তৎপরতা—দুই দিক থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে ‘গঠনমূলক’ ভূমিকার আহ্বান তুরস্কের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে তুরস্ক। দেশটি বলেছে, যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দিতে সংলাপের বিকল্প নেই এবং এ প্রক্রিয়ায় তারা সমর্থন অব্যাহত রাখবে।'   আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ন্যাটো সদস্য ও ইরানের প্রতিবেশী তুরস্ক ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। দেশটি শুরু থেকেই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে।   তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানায়, চলমান যুদ্ধবিরতি ধরে রেখে তা স্থায়ী শান্তিতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে আঙ্কারা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনায় গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান সংলাপকে আরও এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সপ্তাহের শেষে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আনতালিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে বৈঠকে বসতে পারেন।   এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাতার সফর শেষে তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর এই ধারাবাহিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে রূপ দিতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পরমাণু ইস্যুতে ছাড়ের ইঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির আশা ইরানের

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ায় নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার পথ সুগম করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করেছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সংলাপ আয়োজনের জন্য পাকিস্তানের ভূমিকাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন এবং আলোচনায় অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেন।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মূলত তিনটি ইস্যুতে সমঝোতার চেষ্টা চলছে—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্ন। এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল বিষয় হয়ে উঠেছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ও তার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা।   জানা গেছে, ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো, সমৃদ্ধির মাত্রা কমিয়ে আনা অথবা প্রাকৃতিক পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার সময়সীমা নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে—ইরান ৫ বছর এবং যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছর পর্যন্ত সময়সীমা চায়। তবে মাঝামাঝি কোনো সমাধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।   গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও এরপর থেকে ‘শাটল কূটনীতি’ চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। একদিকে তেহরানের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ, অন্যদিকে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয়—এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে সম্ভাব্য চুক্তির পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা চলছে।   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা কমেছে, লেবাননে সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষেরই সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান কিছুটা নমনীয় হলে একটি চুক্তির সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সংকটে এশিয়াকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে জাপান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে এশিয়ার দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জাপান। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরিশোধিত তেল আমদানি সহায়তায় ১০ বিলিয়ন ডলার তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।   বুধবার এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এশিয়ার দেশগুলো পারস্পরিকভাবে সরবরাহ ব্যবস্থার (সাপ্লাই চেইন) সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে একটি অঞ্চলের সংকট অন্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলছে।   জাপান সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সংগ্রহে সহায়তা করা, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং প্রয়োজনীয় মজুত গড়ে তুলতে সহায়তা করা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও অবরোধের কারণে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অর্থায়ন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্যদের প্রায় এক বছরের অপরিশোধিত তেল আমদানির সমপরিমাণ ব্যয় মেটাতে সক্ষম। এ তহবিল বিভিন্ন উৎস থেকে আসবে, যার মধ্যে রয়েছে জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা।   বাংলাদেশসহ ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়া এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতারা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।   তবে জাপান সরকার আশ্বস্ত করেছে, এই সহায়তা কর্মসূচির ফলে তাদের নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। দেশটির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহারের প্রস্তুতিও রয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে এশিয়ার জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতিগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে জাপানের এই সহায়তা উদ্যোগ আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
চুক্তির পথে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র: চাপ, কৌশল আর সমঝোতার সমীকরণ

দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন বাস্তবসম্মত একমাত্র পথ হয়ে উঠছে একটি সমঝোতা চুক্তি। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে প্রথম দফার দীর্ঘ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র মূলত দর-কষাকষিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কৌশল নিয়েছে। একই সময়ে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের মাধ্যমে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।   অন্যদিকে ইরান-এর জন্যও পরিস্থিতি সহজ নয়। টানা বোমাবর্ষণ, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক চাপ দেশটিকে দ্রুত একটি সমঝোতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও বাহ্যিকভাবে শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করা হচ্ছে, বাস্তবে দেশটির ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে একটি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের জন্যও একটি সমঝোতা জরুরি হয়ে পড়েছে।   দ্বিতীয় দফার আলোচনায় মূল বিরোধ বড় কোনো নীতিগত প্রশ্নে নয়, বরং সময়সীমা ও শর্ত নিয়ে। ইরান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র চাইছে দীর্ঘমেয়াদি—প্রায় ২০ বছরের—নিয়ন্ত্রণ।   এই বিরোধের মধ্যেও উভয় পক্ষ অন্তত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু রাখার বিষয়ে একমত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে মার্কিন অবরোধ ইরানের দর-কষাকষির ক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।   এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ইসরাইল এবং লেবানন সীমান্তে সক্রিয় হিজবুল্লাহ। ইরান চায় তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ কমানো হোক, অন্যদিকে ইসরাইল নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আলোচনায় এসব ইস্যু আলাদা করে বিবেচনা করা হতে পারে, যাতে মূল চুক্তির পথে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত না হয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির মূল চ্যালেঞ্জ হলো—দুই পক্ষই যেন নিজেদের জনগণের কাছে এটিকে ‘জয়’ হিসেবে তুলে ধরতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্র চাইবে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার সাফল্য দেখাতে ইরান চাইবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট আছে—এ বার্তা দিতে   সব মিলিয়ে, বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পথই এখন বেশি সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই সম্ভাব্য চুক্তি কি ২০১৫ সালের চুক্তির চেয়েও কার্যকর হবে, নাকি নতুন করে আরও জটিল বাস্তবতার জন্ম দেবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে লেবাননের অভিযোগ

সাম্প্রতিক ব্যাপক বিমান হামলার ঘটনায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে লেবানন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   লেবাননের অভিযোগ, গত ৮ এপ্রিল দেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এসব হামলার মধ্যে রাজধানী বৈরুত-এর ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাও ছিল লক্ষ্যবস্তু। ব্যস্ত সময়ের মধ্যে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।   এই ঘটনার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।   সরকারি তথ্যমতে, হামলায় এখন পর্যন্ত ৩০৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩০ জন শিশু ও ৭১ জন নারী রয়েছেন। এছাড়া অন্তত ১ হাজার ১৫০ জন আহত হয়েছেন।   লেবানন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে চাপে রাখতে নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যা চলমান কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।   ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় তিনজন ব্যক্তি, ১৭টি প্রতিষ্ঠান এবং ৯টি জাহাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।   এর আগে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দেন, সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় রাশিয়া ও ইরানের তেল কেনার যে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা আর নবায়ন করা হবে না। ফলে ইরান-সংশ্লিষ্ট তেল বাণিজ্যে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত ইরানের জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছে, যা দেশটির বৈদেশিক আয় ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।   যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—এটি কি কূটনৈতিক আলোচনায় চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি ভবিষ্যৎ সংঘাতের পূর্বাভাস। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিবাচক বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের সাইডলাইনে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বাড়তি ঋণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ।   অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির কিস্তি ছাড়ের বাইরে অতিরিক্ত অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছরের জুনের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হতে পারে।   বর্তমানে বাংলাদেশ আইএমএফের ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে জুন মাসে দুটি কিস্তিতে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ছাড় হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি, সরকার অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা চেয়েছে। বিশ্বব্যাংক থেকেও প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।   অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক লেনদেনে চাপ এবং রিজার্ভের ওপর প্রভাব পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে গুরুত্ব দিয়ে খেলাধুলা, সংগীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যভিত্তিক পেশাকে অর্থনীতির মূলধারায় আনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বিশ্বব্যাংক এ খাতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।   অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির মিল থাকায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, বৈঠকটি বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চুক্তির আশা দেখছে হোয়াইট হাউস, ইসলামাবাদেই হতে পারে দ্বিতীয় দফা সংলাপ

ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস। দেশটির প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে।   বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি, তবে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে হোয়াইট হাউস আশাবাদী। তাঁর ভাষায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়, কিন্তু আমরা ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করছি।   প্রেস সচিব আরও জানান, সম্ভাব্য এই সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এর আগে গত সপ্তাহেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।   হোয়াইট হাউসের ধারণা, পূর্ববর্তী বৈঠকের ধারাবাহিকতায় একই স্থানেই আবারও আলোচনা হতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এই সংলাপ প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও কূটনৈতিক এই অগ্রগতি ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো বেশ কিছু জটিল বিষয় নিষ্পত্তি প্রয়োজন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দারিদ্র্য বাড়ার শঙ্কা: বাংলাদেশের অগ্রগতি ঝুঁকিতে—ইউএনডিপি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসে অর্জিত অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সংস্থাটি বলছে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়াসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানব উন্নয়ন বড় ধাক্কার মুখে পড়বে।   বুধবার প্রকাশিত ‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মানব উন্নয়নের প্রভাব’ শীর্ষক এক প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়। প্রতিবেদনে ৩৬টি দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে সম্ভাব্য ধাক্কা—এই তিনটি প্রধান কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।   ইউএনডিপি জানায়, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নতুন করে বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। সংস্থাটি এটিকে শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং গত কয়েক দশকের মানব উন্নয়নের অগ্রগতি ধরে রাখার একটি বড় পরীক্ষার মুহূর্ত হিসেবে দেখছে।   বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে রেমিট্যান্স খাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এই অঞ্চলে কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সরাসরি রেমিট্যান্স কমিয়ে দিতে পারে, যা প্রভাব ফেলবে লাখো অভিবাসী পরিবারের জীবিকায় এবং খাদ্য নিরাপত্তায়।   এ ছাড়া আকাশসীমায় উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশের রপ্তানি খাতেও চাপ তৈরি হচ্ছে। দেশের কার্গো পণ্যের বড় একটি অংশ সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের হাব হয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছে—এই প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন শ্রমবাজারে অভিবাসন কমে যেতে পারে এবং বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে সংকট দীর্ঘ হলে তা বাংলাদেশের সামগ্রিক মানব উন্নয়ন সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু নীতিগত পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেছে ইউএনডিপি। জ্বালানি সাশ্রয়ে স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক ছাড় এবং কর্মঘণ্টা কমানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সমন্বিত নীতি গ্রহণ না করলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও দারিদ্র্য হ্রাসে অর্জিত সাফল্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ ‘ভুল’ ছিল: ব্রিটিশ চ্যান্সেলরের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর রাচেল রিভস। তিনি বলেছেন, এই সংঘাত বিশ্বকে আগের তুলনায় নিরাপদ করেছে—এমনটা তিনি মনে করেন না।   বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রিভস এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা ছিল এবং আলোচনাও চলছিল। সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া ছিল একটি বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত।   রিভস আরও বলেন, ইরান সরকারকে পছন্দ বা অপছন্দ করার বিষয়টি এখানে মুখ্য নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার সঠিক পদ্ধতি কী। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি ইরান সরকারকে অপছন্দ করেন বলেও উল্লেখ করেন।   ব্রিটিশ চ্যান্সেলরের মতে, যুদ্ধের পর বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে—এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। বরং সংঘাতের কারণে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি বেড়েছে বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, সামরিক অভিযানে ইরান ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, রিভসের এই মন্তব্য যুক্তরাজ্যের নীতিনির্ধারণী মহলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও এই সংঘাতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। ওয়াশিংটনের মাটিতে দেওয়া রিভসের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্কেও নতুন করে টানাপড়েন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ঘিরে জল্পনা, নেপথ্যে কি চীনের কৌশল?

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হামিদ মীর দাবি করেছেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ১৪ মের আগেই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বার্তা দিয়েছে। কারণ, ওই সময় ট্রাম্পের চীন সফরের সম্ভাব্য সূচি রয়েছে।   হামিদ মীর আরও জানান, ট্রাম্প পাকিস্তানে গিয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি চীনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে একটি বৈঠকের উদ্যোগ নিতে চান বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি সরাসরি যুদ্ধের দিকে না গিয়ে ‘নিয়ন্ত্রিত সংঘাত’-এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, তবে দুই পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়িয়ে চলার কৌশল নিচ্ছে।   এই প্রেক্ষাপটে ইরানকে ঘিরে নতুন কোনো সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। অতীতে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। বর্তমানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে, যা নতুন চুক্তির প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করছে।   অন্যদিকে, চীন মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই প্রভাব বিস্তার করছে। ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে মধ্যস্থতার মাধ্যমে দেশটি কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ফলে ইরান ইস্যুতে চীনের সক্রিয় ভূমিকা এখন বৈশ্বিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।   তবে পাকিস্তানে গিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর বা চীনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে বৈঠকের মতো নির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিষয়ে এখনো কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক কূটনীতি সাধারণত দীর্ঘ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনার আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
বৃহস্পতিবারই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নতুন বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা নিরসনে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।   মার্কিন কর্মকর্তা ও মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এ তথ্য জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুই পক্ষই আলোচনায় ফেরার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।   তবে বৈঠকের স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ আবারও সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি জেনেভা-কেও বিকল্প স্থান হিসেবে ভাবা হচ্ছে।   এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আগের বৈঠকের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে এই নতুন বৈঠক কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নৌ-অবরোধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ইরানের, ‘অবৈধ যুদ্ধনীতি’ বললেন বাঘাই

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন নৌ-অবরোধকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর ও ‘অবৈধ যুদ্ধনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বাঘাই প্রশ্ন তোলেন, একটি ‘অবৈধ ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ কি বৈশ্বিক অর্থনীতির বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক সিদ্ধান্ত দিয়ে জয় করা সম্ভব? তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত সবার জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।   তার এই মন্তব্য আসে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জাহাজগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানি কোনো জাহাজ মার্কিন অবরোধের আওতাধীন এলাকায় কাছাকাছি এলে তা ‘তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হবে’।   নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইতোমধ্যে ইরানের বহু নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট জাহাজগুলোর বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমুদ্রপথে অবৈধ কার্যক্রম দমনে যে কৌশল ব্যবহার করা হয়, ইরানের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি এমন কড়া অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি ‘ভঙ্গুর’, পরিস্থিতি শান্ত করতে ভূমিকা রাখতে চায় চীন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতিকে ‘খুবই ভঙ্গুর’ বলে মন্তব্য করেছে চীন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আগ্রহও প্রকাশ করেছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার-এর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে এ মন্তব্য করেন বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।   আলোচনায় ওয়াং ই বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কঠোর প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জিত যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি বা যুদ্ধবিরতি নস্যাৎ করার প্রচেষ্টা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে।   চীন জানিয়েছে, সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান যদি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তবে তা স্বাগত জানাবে বেইজিং। পাশাপাশি নিজ উদ্যোগেও পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রয়োজনীয় অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছে দেশটি।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে চীনের এই অবস্থান কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের উপকূলের মাত্র ১২৪ মাইল দূরে মার্কিন রণতরি, বাড়ছে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরি। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, USS Abraham Lincoln গত শনিবার ইরান উপকূল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৪ মাইল) দূরে অবস্থান করছিল।   BBC Verify-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধজাহাজের সবচেয়ে কাছের অবস্থান। উপগ্রহচিত্রে রণতরিটিকে ওমান উপসাগরের পূর্ব প্রান্তে দেখা গেছে, যা ইরানি উপকূল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে।   এ ছাড়া একই ছবিতে আরও দুটি যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর আকার ও কাঠামো মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলোও ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্ট্রাইক গ্রুপের অংশ।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সামরিক অবস্থান কৌশলগত চাপ বাড়ানোর অংশ হতে পারে এবং এটি অঞ্চলে চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
ইরানের আন্দোলনে ‘মোসাদ এজেন্ট’ ঢুকে সাধারণ মানুষ হত্যার অভিযোগ

মাত্র কয়েক মাস আগের ঘটনা হলেও ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এখন অনেকের কাছে যেন পুরোনো স্মৃতি। জানুয়ারিতে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদ দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুতই সরকারবিরোধী বিস্তৃত ক্ষোভে রূপ নেয়। তবে এই বিক্ষোভ চলাকালে কিছু রহস্যময় ও সহিংস ঘটনার বর্ণনা এখনো আলোচনায় রয়েছে।   একজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, তেহরানের একটি নিরিবিলি গলিতে তিনি দেখেছেন—পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেশে থাকা এক ব্যক্তি আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে দুই তরুণীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। একই ধরনের আরেকটি ঘটনার কথা জানা গেছে কাস্পিয়ান সাগরসংলগ্ন একটি শহর থেকেও, যেখানে একটি বাসার ছাদ থেকে এমন দৃশ্য দেখার কথা জানানো হয়েছে।   এছাড়া তেহরান থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের কাজভিন শহরেও অস্বাভাবিক একটি হত্যাকাণ্ডের তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে কোনো বিক্ষোভ না থাকলেও একটি রাস্তায় এক মা ও তার শিশুকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবহৃত অস্ত্রটি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মিল নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।   বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরেকজন জানান, পূর্ব তেহরানে তিনি মুখোশধারী একটি দলের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। তারা মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিল এবং স্লোগান দিচ্ছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হলেই তারা হঠাৎ করে ছত্রভঙ্গ হয়ে যেত। এই ধরনের কৌশল ইউরোপের ‘ব্ল্যাক ব্লক’ পদ্ধতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ইরানের জন্য নতুন বলে মনে করা হচ্ছে।   ইরান সরকার জানিয়েছে, এসব বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।   এদিকে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানে মোসাদের উপস্থিতি নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। পাশাপাশি ইসরায়েলের এক মন্ত্রীও দাবি করেন, তাদের লোকজন ইরানে সক্রিয় রয়েছে। এসব বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0