রুমিন ফারহানা

সংসদে রুমিন ফারহানা | ফাইল ছবি
৫২ দিনে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার; সংসদে রুমিন ফারহানা

নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫২ দিনের মাথায় ব্যাংক খাত থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, এমন তথ্য তুলে ধরে জাতীয় সংসদে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সরকার অতিমাত্রায় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় দেশের অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ আছে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।   রুমিন ফারহানার সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এই ঋণের বড় অংশই মূলত বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দেনার ধারাবাহিকতা বা ‘ক্যারিওভার’। এটি বর্তমান সরকারের নতুন কোনো আর্থিক বোঝা নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির অর্থনৈতিক লক্ষ্য হলো স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনা, যার প্রতিফলন আগামী বাজেটে দেখা যাবে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
রুমিন ফারহানা
এনসিপিতে যোগের আলোচনা নিয়ে মুখ খুললেন রুমিন ফারহানা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন, তাকে ঘিরে এনসিপিতে যোগদানের যে গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।   শুক্রবার জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগের একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। তার ভাষায়, এ ধরনের প্রচারণার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।   তিনি জানান, বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এনসিপির পক্ষ থেকেও তাকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব দেননি এবং এ নিয়ে কোনো আলোচনায়ও যাননি।   রুমিন ফারহানা বলেন, অন্যান্য দলের মতো এনসিপিও তাকে সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তিনি সেটিকে গুরুত্ব না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।   এনসিপিতে যোগ দিলে সংসদে কথা বলার সুযোগ বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধুমাত্র বক্তব্য দেওয়ার সুযোগের জন্য তিনি কোনো দলে যোগ দেবেন না। তার মতে, নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থান বিসর্জন দিয়ে শুধু সংসদে কথা বলার সুযোগ নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ফাইল ছবি
মনোনয়ন না দেওয়ায় সংসদে বিএনপিকে রুমিন ফারহানার ধন্যবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই ব্যতিক্রমী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। রুমিন ফারহানা বলেন, দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার ফলেই তিনি বুঝতে পেরেছেন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত কত লাখ মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া তার সঙ্গে ছিল।   ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রুমিন ফারহানা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে পরম স্নেহে রাজনীতিতে এনেছিলেন। এই সংসদে তার অনুপস্থিতি যে অপূর্ণতা তৈরি করেছে, তা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।" বক্তব্যের শুরুতে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং প্রতিকূলতার মাঝে পাশে থাকা নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।   রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব কাজই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে করতে হয়। বিএনপি তাদের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং ‘৩১ দফা’য় এই ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রেখেছিল। তিনি আশা করেছিলেন, এবার রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ভাষণের বাইরে নিজের মতো করে বক্তব্য দিতে পারবেন, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি।   নির্বাচনি লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করে এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বলেন, অসংখ্য নেতাকর্মী বহিষ্কারের ভয় উপেক্ষা করে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, কেবল দলীয় গণ্ডির মধ্যে থেকে নির্বাচন করলে দেশজুড়ে মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা অনুধাবন করার সৌভাগ্য তার হতো না। ১৭ বছরের রাজনৈতিক লড়াই ও পরবর্তী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য সংসদীয় অধিবেশনে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নারী এমপিদের নিয়ে ‘কুৎসিত’ মন্তব্য: সংসদে বিচার চাইলেন রুমিন ফারহানা

নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে ওয়াজ মাহফিলে আপত্তিকর ও কুৎসিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই ঘটনার প্রতিকার ও স্পিকারের কাছে বিচার দাবি করেন। একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে তিনি জানান, বর্তমান সংসদেরই একজন সদস্য অপর তিনজন নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে জনসমক্ষে কদাকার ভাষায় মন্তব্য করেছেন।   স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রুমিন ফারহানা বলেন, “আজকে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, এই সংসদে উপস্থিত আমি এবং আমার আরও দুজন নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে আরেকজন সংসদ সদস্য কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ মাহফিল করেছেন। যে ভাষায় তারা বক্তব্য দিয়েছেন, আমি আপনার কাছে এই ব্যাপারে বিচার চাইছি। আমি বিষয়টি সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” তিনি স্পিকারকে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান।   রুমিন ফারহানার এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, কার্যপ্রণালি বিধি (রুলস অব প্রসিডিউর) অনুযায়ী সংবাদপত্রের রিপোর্টিং নিয়ে সরাসরি পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন করার সুযোগ নেই। তবে নারী সংসদ সদস্যদের প্রতি এমন অবমাননাকর বক্তব্যের বিষয়টি নিয়ে সংসদ আঙিনায় এবং রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মব কালচার নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি: বিশৃঙ্খলা দমনে কঠোর ব্যবস্থা

দেশে কথিত ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনি এবং দাবির নামে রাস্তা অবরোধের মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি আর বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কঠোর সতর্কবার্তা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে বা মব গঠন করে কোনো দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হলে সরকার তা দমনে কঠোরতম অবস্থানে যাবে।   অধিবেশনে রুমিন ফারহানা সাম্প্রতিক সময়ের মব সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি তথ্য দেন যে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এই ধরনের সহিংসতায় প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি নিজেও এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ জানতে চান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া সড়ক অবরোধের প্রবণতা বন্ধে সরকার বদ্ধপরিকর।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন যে, প্রতিটি বিশৃঙ্খলাকে ঢালাওভাবে ‘মব’ বলা ঠিক নয়; অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পিত হামলা ও ভাঙচুরকে সুসংগঠিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্মারকলিপি প্রদান বা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মতো গণতান্ত্রিক উপায়ে মত প্রকাশের অধিকার সবার আছে। তবে মব তৈরি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা থেকে সবাইকে সরে আসতে হবে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা অনিবার্য।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ফাইল ছবি
‘আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এই সংসদ...’: শপথ নিয়েই সংসদে বিস্ফোরক রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। হাঁস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুরগাছ প্রতীক) পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫৭৯ ভোট।   এটি রুমিন ফারহানার সংসদে দ্বিতীয়বার যোগদান হলেও সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এটাই তার প্রথম সংসদে যাওয়া। একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি বিএনপির সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং সে সময় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।   নির্বাচনের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার রাজনৈতিক পথচলা, বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক এবং নির্বাচনী অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, এই বিজয় তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন এবং নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে দোয়া করেছেন।   তিনি বলেন, বিএনপি তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যেতে পেরেছেন এবং দেশজুড়ে মানুষের দোয়া ও সমর্থন পেয়েছেন। তার মতে, এই অপমান মানুষের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছিল এবং তারা তাকে সমর্থন দিয়েছে।   দল থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সঠিক কারণ তার জানা নেই এবং সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা কেবল সংশ্লিষ্টরাই দিতে পারবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন দলের হয়ে কাজ করলেও কোনো কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।   নতুন সংসদ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ খারাপ না হলেও বড় একটি অংশ নির্বাচনের বাইরে থাকায় সংসদ পূর্ণ প্রতিনিধিত্বমূলক হয়নি। অনেক নতুন সদস্য থাকায় কিছু জায়গায় অভ্যস্ত হতে সময় লাগছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধায় শ্রদ্ধা জানাতে পারলেন না ব্যারিস্টার রুমিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত নেতাকর্মীরা রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবকটি বেদীর সামনেই টেনে-হিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলেন।   প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাত পৌনে ১২টার দিকে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শহীদ মিনারে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। তিনি যখন পুষ্পস্তবক নিয়ে বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা রুমিন ফারহানাকে লক্ষ্য করে 'ভুয়া ভুয়া' স্লোগান দিতে শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাঁর হাতের পুষ্পস্তবকটি কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে রুমিন ফারহানা কর্মী-সমর্থকদের কড়া পাহারায় এলাকা ত্যাগ করেন।   এই ঘটনার প্রতিবাদে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং বিক্ষোভকারীরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার দাবি করেন।   ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি নিয়ম মেনেই প্রথমে ফুল দিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু বিএনপির কিছু নেতাকর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। এখন যদি তারা তৃণমূলের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। দলের পদ ব্যবহার করে যারা এমন হিংস্রতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে হাই-কমান্ডের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, অন্যথায় সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।”   ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, শহীদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   অমর একুশের পবিত্র রাতে এমন রাজনৈতিক সংঘাত ও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধায় বিঘ্ন ঘটানোর ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
জাতীয়

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0