গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানায় সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। আপাতত ১৫ দিনের জন্য এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) পরিচালিত পাঁচটি ইউরিয়া কারখানার মধ্যে বর্তমানে কেবল শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড চালু রয়েছে। অন্যদিকে ঘোড়াশালের পলাশ ফার্টিলাইজার, চট্টগ্রামের ইউরিয়া ফার্টিলাইজার, যমুনা ফার্টিলাইজার এবং আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানিতে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। বিসিআইসির পরিচালক (উৎপাদন ও গবেষণা) মনিরুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ১৫ দিনের জন্য কারখানাগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে বেসরকারি খাতে পরিচালিত কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)ও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশের মোট ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে পাঁচটিতেই উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, তাদের পাঁচটি ইউরিয়া কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। বর্তমানে চালু থাকা শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১,৩০০ মেট্রিক টন। এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নির্দেশনা জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই নির্দেশনায় প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমানো, গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতি অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যবহার না করা এবং পাইপলাইনের লিকেজ দ্রুত প্রতিরোধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি তেল সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত রাখতে বলা হয়েছে।
প্রতিযোগিতামূলক আধুনিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে মানুষের মৌলিক চাহিদার ধারণা বদলেছে, তেমনি বদলেছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়; বরং নাগরিকদের ন্যূনতম দারিদ্র্য নিশ্চিত করা—যা বিশেষভাবে বেকারত্ব কার্যকরভাবে হ্রাস করার মাধ্যমে অর্জন সম্ভব। ১. দারিদ্র্য ও বেকারত্ব সরাসরি নাগরিকের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করাই রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মূল উদ্দেশ্য। এই মৌলিক চাহিদাগুলো হলো— (১) বিশুদ্ধ বাতাসের নিশ্চয়তা (২) স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা (৩) সুষম ও পর্যাপ্ত খাদ্যের নিশ্চয়তা (৪) রুচিসম্মত ও পরিমিত পোশাকের নিশ্চয়তা (৫) সাশ্রয়ী সুচিকিৎসার নিশ্চয়তা (৬) নিরাপদ বাসস্থানের নিশ্চয়তা (৭) ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষার নিশ্চয়তা (৮) কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির নিশ্চয়তা (৯) মাদকমুক্ত জনগোষ্ঠী তৈরিতে সহায়তা করা এই মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের মূলনীতি হলো— “প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং নিশ্চিত কর্মসংস্থানের সমন্বয়।” রাষ্ট্রকে প্রচলিত সীমাবদ্ধতার বাইরে এসে নীতিগত সংস্কার ও বাস্তবভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে গ্লোবাল প্রতিযোগিতায় অগ্রাগামী হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। এই প্রবন্ধে একটি সামগ্রিক ধারণার পাশাপাশি কিছু বাস্তব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হলো—কীভাবে বাংলাদেশের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সংস্কার করা যেতে পারে। ২. ফ্রিল্যান্সারদের কাঠামোগত উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা বর্তমানে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা বছরে প্রায় ১.৩–১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। এই আয়ের বড় অংশই ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্জিত। তবে উন্নত বহির্বিশ্বে এখনও বহু পেশাগত খাত রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের যুবসমাজ বৈদেশিক বাজারে পর্যাপ্তভাবে প্রবেশ করতে পারেনি—যার পেছনে রয়েছে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার ঘাটতি। ভবিষ্যতে এই খাত রেমিট্যান্সের অন্যতম প্রধান উৎস হতে পারে। ২.১ রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন (ক) কম মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ: (১ক) বিশেষ বিদ্যুৎ ট্যারিফ (২ক) লোডশেডিং-মুক্ত সংযোগ (৩ক) সৌরশক্তি ও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (খ) নির্দিষ্ট কম দামে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট: (১খ) বিশেষ ফ্রিল্যান্সার ইন্টারনেট প্যাকেজ (হ্রাসকৃত, কর-মুক্ত/কর-ছাড়যুক্ত) (২খ) সহজ ব্যাংকিং ও বৈদেশিক আয়ের কাগজপত্র (৩খ) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে সরকারি এবং বেসরকারি (JV) সহায়তা ২.২ নতুন সম্ভাবনাময় খাতসমূহ * শিক্ষা * স্বাস্থ্যসেবা * হিসাবরক্ষণ * ডিজিটাল মার্কেটিং * কারিগরি ও প্রকৌশল সেবা * অনুবাদ * কাস্টমার সাপোর্ট * ডেটা অ্যানালিটিক্স/ডেটা এন্ট্রি ও ব্যাক-অফিস সার্ভিস * গ্রাফিক্স/ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট ও ভিডিও এডিটিং * ই-কমার্স অপারেশনস * সাইবার সিকিউরিটি বেসিক সার্ভিস ও QA টেস্টিং এখানে সরকারের ভূমিকা নিয়ন্ত্রকের নয়; বরং হবে সহায়ক (Facilitator)। ৩. Trainer of Trainers (ToT): স্থানীয় প্রশিক্ষণ থেকে বৈশ্বিক কর্মসংস্থান প্রতিটি জেলা সদরে Trainer of Trainers (ToT) কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে। কার্যপদ্ধতি: * আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ * কোর কারিকুলাম, মূল্যায়ন ও সার্টিফিকেশন * দক্ষ কর্মী তৈরি— ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান, কেয়ারগিভার, নার্সিং সহকারী, IT কর্মী, কনস্ট্রাকশন টেকনিশিয়ান, প্রজেক্ট অফিসার সার্টিফিকেশন ও মাননিয়ন্ত্রণ এই কর্মসূচির মূল শর্ত হওয়া উচিত। লক্ষ্য: * রেমিট্যান্স বৃদ্ধি * দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান * দারিদ্র্য হ্রাস * মানবসম্পদ রপ্তানি ৪. পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতা আজকের কর্মসংস্থান হচ্ছে— রিমোট নির্ভর, স্কিলভিত্তিক, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নির্ভর, গ্লোবাল বাজারভিত্তিক এবং AI নির্ভর। ডিগ্রির চেয়ে এখন স্কিল + সার্টিফিকেশন + আউটপুট গুরুত্বপূর্ণ। ৫. ভূমিপুত্র (Son of the Soil) নীতি দেশের সম্পদ ও কর্মসংস্থানে দেশের সন্তানদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা। Local first, Global ready নীতিতে আধুনিক সংস্করণ প্রয়োজন। ৬. সমন্বিত ভূমিপুত্র মডেল জাতীয় পর্যায়ে: * চাকরিতে কোটা * বিদেশি নিয়োগ সীমিত * Knowledge Transfer * Skill Database স্থানীয় পর্যায়ে: * স্থানীয় রেজিস্ট্রি * স্থানীয় নিয়োগ * প্রশিক্ষণ কেন্দ্র * উদ্যোক্তা সহায়তা ৭. গ্রামীণ SME শিল্পায়ন গৃহস্থালি পণ্য, কৃষি উপকরণ, পোশাক, হালকা শিল্প—স্থানীয় উৎপাদন। উপকারিতা: কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ। ৮. বিকেন্দ্রীকরণ ও কর সংস্কার গ্রামে কর ছাড়, শহরে নিয়ন্ত্রণমূলক করনীতি। ফলাফল: ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন। ৯. উপসংহার ফ্রিল্যান্সিং সহায়তা, ToT কর্মসূচি, ভূমিপুত্র নীতি, গ্রামীণ শিল্পায়ন ও বিকেন্দ্রীকরণ—এই পাঁচ স্তম্ভ বাস্তবায়িত হলে বেকারত্ব হ্রাস, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। এটি একটি জাতীয় উন্নয়ন দর্শন—যেখানে দেশের সন্তানই হবে উন্নয়নের মূল শক্তি। লেখক: প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ইমেইল: usaaisf@gmail.com ফোন: (303) 718-3144 (WhatsApp)
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews