অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বর্তমান সংসদ সদস্যদের; অর্থমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বর্তমান সংসদ সদস্যদের ঋণের পাহাড় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে তিনি জানান, বর্তমান সংসদ সদস্যদের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে তা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি।   কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য সংসদে উপস্থাপন করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে এই বিশাল অঙ্কের ঋণ রয়েছে।   অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করেন যে, মোট ঋণের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা প্রকৃত অর্থে খেলাপি। তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ বা বিশেষ নির্দেশনার কারণে বর্তমানে এগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘খেলাপি’ হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এই আইনি মারপ্যাঁচের কারণে বিশাল অঙ্কের অনাদায়ী ঋণ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা তাদের পদ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছেন।   সংসদে অর্থমন্ত্রীর এই তথ্য প্রদানের পর রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সামান্য ঋণের দায়ে হয়রানির শিকার হন, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ এবং আইনি প্রক্রিয়ায় খেলাপি তকমা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
এমএফএস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা রুখতে সরকারের ৭ পদক্ষেপ

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে হ্যাকার ও প্রতারক চক্রের কারসাজি ঠেকাতে সরকার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এমএফএস প্রযুক্তিগতভাবে নিরাপদ হলেও গ্রাহকদের অসচেতনতা এবং প্রতারকদের নতুন কৌশলের কারণে মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।   প্রতারক চক্র দমনে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে প্রথমত, একটি এনআইডির বিপরীতে একটি এমএফএস প্রোভাইডারের অধীনে একটি মাত্র হিসাব চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের মোবাইল নম্বরটি তার নিজস্ব এনআইডিতে নিবন্ধিত কি না, তা যাচাই করতে বিটিআরসির সহায়তায় একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়া চলছে। দ্বিতীয়ত, গ্রাহকদের পিন নম্বর সুরক্ষা ও সচেতনতা বাড়াতে এমএফএস প্রোভাইডারদের নিয়মিত এসএমএস, ভয়েস মেসেজ ও গণমাধ্যমে প্রচারণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   তৃতীয়ত, এমএফএস এজেন্টদের অস্বাভাবিক লেনদেনের ওপর কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। চতুর্থত, গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রোভাইডারদের নিজস্ব অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। পঞ্চমত, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের এই উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের জন্য শতভাগ নিরাপদ করে তোলা।   ষষ্ঠত, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগ নিয়মিত ঝুঁকি নিরূপণ ও পরিদর্শন কার্যক্রম চালাচ্ছে। সর্বশেষ, সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-এ (বিএফআইইউ) রিপোর্ট করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অনলাইন ব্যাংকিং সেবায় সব ব্যাংকে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ (২এফএ) নিশ্চিত করা হয়েছে, যা গ্রাহকের লেনদেনকে আরও সুরক্ষিত করবে বলে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সংসদ সদস্যদের ঋণ ১১ হাজার কোটি ছাড়িয়েছে, খেলাপি ৩৩৩০ কোটি

বর্তমান সংসদ সদস্যদের (এমপি) নামে এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।   অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা।   তবে তিনি উল্লেখ করেন, আদালতের নির্দেশনার কারণে এই খেলাপি ঋণের একটি অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি। ফলে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   সরকারি এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক দায়বদ্ধতা ও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা নিয়ে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী । ফাইল ছবি
দেশে খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল: অর্থমন্ত্রী

দেশে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানানো হয়।   ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)-এর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।   মন্ত্রী আরও জানান, আদালতের নির্দেশনার কারণে এই ঋণের মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হয়নি।   সংসদে অর্থমন্ত্রী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকাও উপস্থাপন করেন। তালিকায় রয়েছে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন, কেয়া কসমেটিকস, দেশবন্ধু সুগার মিলস, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কেইপিজেডে অনুষ্ঠিত চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
‘আমেরিকায় দাম বাড়লেও আমরা এখনো ডিজেলের দাম বাড়াইনি’: অর্থমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে দেশের জ্বালানির মূল্য সমন্বয় নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   শুক্রবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তেল-গ্যাস উচ্চমূল্যে আমদানি করতে গিয়ে সরকারি তহবিলের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনগণের জন্য ঘোষিত সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিতে প্রভাব পড়তে পারে।   মন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়; বিশ্বের প্রায় সব দেশই এর প্রভাবে ভুগছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় আমদানি প্রক্রিয়াও চাপে পড়েছে। তবে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   রান্নার গ্যাসসহ জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়বে—এটি স্বাভাবিক। তেলের দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতেও এর প্রভাব পড়বে। যদিও এখনো অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আমদানির প্রক্রিয়াও অব্যাহত আছে।   অর্থমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ থাকা সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক কিছু সূচক দেখা যাচ্ছে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, তৈরি পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং রপ্তানি আয়ও বাড়ছে।   পুঁজিবাজার নিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সেখানে কাঠামোগত পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বড় বিনিয়োগ যেন ব্যাংকের ওপর নির্ভর না করে পুঁজিবাজার থেকে আসে, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাড়তে পারে জ্বালানির দাম; শিগগিরই মূল্য সমন্বয়ের ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির ফলে সরকারি তহবিলে চাপ বাড়ায় দেশের স্বার্থে শিগগিরই জ্বালানির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেডে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ইঙ্গিত দেন। মন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক সংকটের কারণে বর্তমানে সরকারকে অনেক বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।   আদালত ও সরকারি তহবিলের ওপর চাপের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সরকারি তহবিল যদি এভাবে উচ্চমূল্যে ক্রয়ের কারণে ক্ষয় হতে থাকে, তবে উন্নয়ন ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তাই দেশের স্বার্থে একটি পর্যায়ে গিয়ে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়েছে। অধিকাংশ জ্বালানি ওই অঞ্চল থেকে আসায় বাধ্য হয়ে বিকল্প উৎস থেকে চড়া দামে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে সরকারকে।   জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কোনো আপস করছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জ্বালানি ব্যবহারে রেশনিং চালু করা হয়েছে। তিনি নিজে ৩০ শতাংশ জ্বালানি কম ব্যবহার করছেন উল্লেখ করে বলেন, “এখন পর্যন্ত শিল্পকারখানা, পরিবহন ও কৃষি খাতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সফল হয়েছে।” তবে জ্বালানির দাম বাড়লে সার ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।   পুঁজিবাজার ও রপ্তানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দ্রুতই বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে। বৈশ্বিক সংকটে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতে আয় কিছুটা কমলেও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং খাতটির পুনরুদ্ধারের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো জ্বালানির দাম সহনীয় রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
অর্থমন্ত্রী ড. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেই ফিরবে অর্থনৈতিক স্বস্তি: বাজেটে বড় পরিবর্তনের আভাস অর্থমন্ত্রীর

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী ড. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বড় ধরনের সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাবে আগামী বাজেটে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এর আগে আইএমএফ-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং খাত, শেয়ার বাজার এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাতের বর্তমান শোচনীয় অবস্থা থেকে উত্তরণে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা এবং উৎপাদন খরচ কমানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। এছাড়া থমকে যাওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে পুনরায় সচল করতে বাজেটে বিশেষ দিকনির্দেশনা থাকবে। ঋণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে ড. আমির খসরু বলেন, আইএমএফ-এর শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যা সম্ভব নয়, তা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। হুট করে সব পরিবর্তন চাপিয়ে না দিয়ে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় নিজস্ব চিন্তাভাবনা অনুযায়ী সংস্কার করা হবে। জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থ সংস্থানের বিষয়ে ওয়াশিংটনে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি।
রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাইছে বাংলাদেশ

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি বা অস্থায়ী ছাড় (ওয়েভার) চেয়েছে। ভারতের মতো বাংলাদেশকেও একই ধরনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।   মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ভারতের জন্য এই ধরনের ওয়েভার দিয়েছে। বাংলাদেশও যদি এই সুযোগ পায়, তবে তা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় সহায়তা হবে। তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিসটেনসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে।   এসময় বৈঠকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুদ্ধের স্বল্প, মধ্যমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
হাসপাতালে ভর্তি অর্থমন্ত্রী, রয়েছেন নিবিড় পর্যবেক্ষণে

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিউমোনিয়া জনিত সমস্যার কারণে মন্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে উদ্বেগের কিছু নেই, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে। এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সিরাজ উদ-দৌলা খান মন্ত্রীর হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও অসুস্থতার ধরন নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানাননি। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করার পর বর্তমান সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানই আমাদের মূল লক্ষ্য: অর্থমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। একইসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সেবায় আমূল পরিবর্তন আনতে চট্টগ্রামে একটি আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত হাসপাতালের জায়গা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। তাই আমরা দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগে বিশেষ জোর দিচ্ছি। আমাদের ট্যাক্স নেট বাড়াতে হবে এবং সেই অর্থ বিনিয়োগে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে।   পতেঙ্গায় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে পতেঙ্গায় একটি বড় পরিসরের হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান: এটি একটি জেনারেল হাসপাতাল হবে, তবে এখানে বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থাও থাকবে।   হাসপাতালের পাশাপাশি একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং টেকনোলজিস্ট তৈরির জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সুবিধার পাশাপাশি অবকাঠামোগত সম্ভাবনাগুলো যাচাই করা হচ্ছে। মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে '১১-তে ১১' নামে যে বিশেষ ঘোষণা ছিল, এই হাসপাতাল প্রকল্প তারই প্রথম দফার বাস্তবায়ন। এদিন তিনি নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত জমি পরিদর্শন করেন, যেখানে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান তাকে প্রকল্প এলাকার ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
নাজুক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কর বাড়ানোর বিকল্প নেই: অর্থমন্ত্রী

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং স্থবিরতা কাটাতে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।  শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত একটি সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত জমি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, "দেশের নাজুক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কর বা ট্যাক্স বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। রাজস্ব বৃদ্ধি ও নতুন নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরির মাধ্যমেই কেবল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব, যা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।" তিনি আরও জানান, আসন্ন বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান—এই তিনটি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ করছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। পতেঙ্গায় বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শনে মন্ত্রী বিকেল ৩টার দিকে মন্ত্রী পতেঙ্গা থানাধীন জেলে পাড়া এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন প্রায় ১৭ একর জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত এই জমিতে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিদর্শনকালে কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান মন্ত্রীকে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ভৌগোলিক অবস্থান ও অবকাঠামোগত সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম মহানগরের স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সময় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), জেলা প্রশাসন, নৌবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
গভর্নর পরিবর্তন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তনকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, ফলে বিভিন্ন জায়গায় পরিবর্তন হবে, এটাই স্বাভাবিক।   বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গভর্নর পদে ড. আহসান এইচ মনসুর-কে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমান-কে নিয়োগ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।   অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন সরকার এসেছে। অনেক কিছুরই পরিবর্তন হবে। এখানেও পরিবর্তন হয়েছে। এটা নতুন কিছু নয়। আরও অনেক জায়গায় পরিবর্তন হবে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’   এদিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।   গভর্নর পদে এত দ্রুত পরিবর্তনের পেছনে কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আরও অনেক জায়গায় পরিবর্তন হবে। এর বিশেষ কোনো কারণ নেই।’

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
‘পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি’ আর চলবে না: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় ব্যক্তির কবজা থেকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নতুন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   বুধবার সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি ‘পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি’ বন্ধের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন।   আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার কর্মপরিকল্পনার তিনটি মূল স্তম্ভের কথা উল্লেখ করেন:   প্রাতিষ্ঠানিক পুনরুদ্ধার: মন্ত্রী শুরুতেই জোর দেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভগ্ন দশা সংস্কারে। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনা না গেলে কোনো বড় কর্মসূচিই সফল হবে না।   অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ: ‘পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি’ বা বিশেষ সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি হতে হবে সর্বজনীন, যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ ও সুফল পাওয়ার অধিকার থাকবে।   নিয়ন্ত্রণের বেড়াজাল মুক্ত করা: বর্তমানে দেশের অর্থনীতি অতিরিক্ত বিধিবিধানের শিকলে বন্দি বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বজায় রাখতেই এই ‘ওভার রেগুলেশন’ তৈরি করা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বড় ধরনের ‘ডিরেগুলেশন’ বা বিধিবিধান শিথিলকরণ এবং উদারীকরণের ঘোষণা দেন তিনি।   অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক এর আগে ২০০১ সালে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বৈত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে তার এই সংস্কারমুখী অবস্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
জাতীয়

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0