প্রবল জনরোষ এবং বিরোধী দলগুলোর বাধার মুখে ফ্রান্সে বিতর্কিত ইহুদিবিদ্বেষ বিরোধী বিলটির ওপর ভোটগ্রহণ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বিলটি নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও 'ফিলিবাস্টার' বা দীর্ঘ বক্তৃতার মাধ্যমে অধিবেশন আটকে দেওয়ার আশঙ্কায় এর প্রস্তাবকরা সাময়িকভাবে বিলটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। নতুন এই বিলটির লক্ষ্য ছিল ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষ বা 'অ্যান্টি-সেমিটিজম'-এর সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা। ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষ বর্তমানেও একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, তবে প্রস্তাবিত এই বিলটি সেই সংজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে আরও কঠোর করার কথা বলেছিল। বিলটির প্রস্তাবকরা জানিয়েছেন, এটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি বরং জুন মাসে পুনরায় আলোচনার টেবিলে পেশ করা হবে। মূলত বিরোধীদের রণকৌশলের কাছে নতিস্বীকার করেই আজ এটি আলোচ্যসূচি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই বিলটি নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। সমালোচকদের দাবি, এই বিলটি পাস হলে ফ্রান্সে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব হবে। তাদের মতে, বিলটিতে 'ইসরায়েল রাষ্ট্র' এবং 'ইহুদি জনগোষ্ঠী'কে একই সূত্রে গেঁথে ফেলা হয়েছে। তারা যুক্তি দেন যে, ইসরায়েল রাষ্ট্রের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে গণ্য করা হলে তা উল্টো ইহুদিদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এবং সমাজে বিভেদ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিলটি স্থগিত হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এই বিলের বিপক্ষে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছিলেন। স্থগিতাদেশের পর প্যারিসের রাজপথে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, অন্তত সাময়িকভাবে হলেও একটি বিতর্কিত আইন থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
অপরাধ দমনে এক কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। এখন থেকে দেশটিতে গুরুতর অপরাধের দায়ে ১২ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দেশটির সরকার এই নতুন আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে, যা আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে-এর নেতৃত্বাধীন সরকার গ্যাং সহিংসতা ও অপরাধ নির্মূলে গত দুই বছর ধরে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে রেখেছে। সেই কঠোর নীতির অংশ হিসেবেই এই আইনি সংশোধন আনা হলো। নতুন আইন অনুযায়ী, হত্যা, সন্ত্রাসবাদ বা ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকলে শিশুদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এই আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে। ইউনিসেফের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোর শাস্তি আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের পরিপন্থী এবং এটি শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমালোচকরা বলছেন, অপরাধ দমনের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে। তবে প্রেসিডেন্ট বুকেলে এই সমালোচনার জবাবে জানিয়েছেন, খুনি এবং ধর্ষকদের কারাগারে আটকে রাখাই নাগরিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ কারাবন্দী হারের রেকর্ড।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশি নারীদের ভ্রমণ ঠেকাতে নতুন অভিযান শুরু করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত এই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় এমন সংগঠিত চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে ভেঙে দেওয়া হবে, যারা গর্ভবতী বিদেশি নারীদের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দিতে উৎসাহিত করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই এই ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন এই প্রবণতা করদাতাদের জন্য বড় ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি দেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া নিজেই অবৈধ নয়। কিন্তু কেউ যদি ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বা প্রতারণার মাধ্যমে এই সুবিধা নিতে চায়, তাহলে তা আইনের আওতায় পড়বে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় সংবিধানের একটি সংশোধনীর ভিত্তিতে। তবে এই নিয়ম সীমিত করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে বলা হয়, যদি শিশুর বাবা-মা কেউই মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে সেই শিশুকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এই আদেশ ইতোমধ্যে একাধিক ফেডারেল আদালত স্থগিত করেছে এবং বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন। অভিযান সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই উদ্যোগে মূলত জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ এবং সংগঠিত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এ ধরনের ঘটনার নির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই। এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ সময়ে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার নারী এই উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিচালিত এক অভিযানে ‘বার্থ হাউস’ পরিচালনার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই ঘটনায় এক চীনা নাগরিক দোষ স্বীকার করে কারাদণ্ড ভোগ করেন।
ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়নের এক ভয়াবহ নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। সম্প্রতি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া নতুন এক আইনে ফিলিস্তিনি শিশুদেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকরা এই আইনকে ‘জল্লাদ আইন’ (The Gallows Law) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত ৩০ মার্চ ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া এই বিলে বলা হয়েছে, তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই আইনে শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ছাড় বা বয়সের সীমাবদ্ধতা রাখা হয়নি। ইসরায়েলি সামরিক আদালতগুলোতে বর্তমানে ১২ বছর বয়সী শিশুকেও বিচার করার বিধান রয়েছে, যা এখন এই প্রাণঘাতী আইনের আওতায় চলে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই আইন কেবল প্রাপ্তবয়স্ক নয়, বরং ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ফিলিস্তিনি শিশুদেরও ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে পারে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সতর্ক করে জানিয়েছে, এই আইন পাসের মাধ্যমে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের এক আইনি কাঠামো তৈরি করেছে। আইনের বিধান অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত করার ৯০ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে এবং আপিলের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত করা হয়েছে। ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই আইনের অন্যতম প্রধান সমর্থক। তিনি বারবার দাবি করে আসছেন যে, যারা ইসরায়েলিদের ওপর হামলা চালায় তাদের একমাত্র পরিণতি হতে হবে মৃত্যু। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইন মূলত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি এবং তাদের প্রতিরোধ আন্দোলনকে দমন করার একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার। ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল-প্যালেস্টাইন (DCIP) এর তথ্যমতে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রতি বছর শত শত ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করে এবং তাদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নতুন এই আইন কার্যকর হলে সামরিক আদালতে শিশুদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আরও সংকুচিত হবে এবং সামান্য অজুহাতে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই এই বিতর্কিত আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এই আইনকে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও বৈষম্যমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এটি দ্রুত বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও ব্রিটেন এক যৌথ বিবৃতিতে এই আইনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ২১ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে নির্বিচারে হত্যার পাশাপাশি এখন ‘আইনের’ দোহাই দিয়ে শিশুদের ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া ইসরায়েলের চরম অমানবিকতারই প্রতিফলন। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলসহ মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এই সংশোধনী পাসের ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি আইনিভাবে চূড়ান্ত হলো। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ২০০৯ সালের মূল সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা। আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সেই অধ্যাদেশটি বিল আকারে উত্থাপিত হলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর ফলে দলটির সকল কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞার আইনি বৈধতা অব্যাহত রইল। এদিন সংসদে আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। সেগুলো হলো— ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’। মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপ দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এক সময়ের শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা-র বিয়ে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। অভিযোগ উঠেছে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করায় এটি বাল্যবিবাহের আওতায় পড়তে পারে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মেয়েদের ন্যূনতম বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে সেই বিবাহ বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজমীর সুমী গণমাধ্যমকে জানান, কনের বয়স ১৮ বছরের কম হলে কাজি আইনত সেই বিয়ে নিবন্ধন করতে পারেন না। নিবন্ধন ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়। তিনি আরও বলেন, বয়স গোপন করে বিয়ে হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বিদেশে গিয়ে বিয়ে করলেও তা বাংলাদেশের আইনে বৈধ বিবাহ হিসেবে গণ্য নাও হতে পারে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে লুবাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন এবং ২০২৩ সালেও তিনি স্কুলে অধ্যয়নরত ছিলেন। এসব তথ্য বিবেচনায় তার বয়স আইনি সীমার নিচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইন অনুযায়ী, বাল্যবিবাহে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। সে হিসেবে, লুবাবার স্বামী প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার বিরুদ্ধে এই শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ মাসের আটকাদেশ বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ককে শাস্তি না দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে একই মেয়াদে কারাদণ্ড বা ৩০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ-এর ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ (No Quarter) এবং ‘কোনো দয়া দেখানো হবে না’ (No Mercy) মর্মে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হেগসেথ বলেন, "আমরা চাপ অব্যাহত রাখব, আমরা এগিয়ে যাব। আমাদের শত্রুদের জন্য কোনো ছাড় নেই, কোনো দয়া নেই।" তার এই মন্তব্যের পরই বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা নেই পেন্টাগনের আন্তর্জাতিক আইন এবং হেগ কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে আত্মসমর্পণকারী বা আহত শত্রুপক্ষকে ‘ছাড় দেওয়া হবে না’ বা সরাসরি হত্যা করার হুমকি দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক ম্যানুয়ালেও এ ধরনের হুমকিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র অ্যাডভাইজার ব্রায়ান ফিনুকেন আল জাজিরাকে বলেন, "এই মন্তব্যগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি প্রশ্ন তোলে যে, যুদ্ধক্ষেত্রে এই আইনহীন এবং উস্কানিমূলক বাগাড়ম্বর বাস্তবে কতটা প্রয়োগ করা হচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, আত্মসমর্পণকারী যোদ্ধাদের হত্যা করা অমানবিক এবং পাল্টা ফলদায়ক। তবে প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ এসব সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধের কোনো "বোকামি ভরা নিয়ম" (Stupid rules of engagement) বা "রাজনৈতিকভাবে সঠিক যুদ্ধ" (Politically correct wars) মেনে চলবেন না। হেগসেথের এই 'সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী' (Maximum lethality) কৌশলের প্রভাবে ইরানে বেসামরিক নাগরিক নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। সব মিলিয়ে চলমান এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৪৪৪ জন ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর ওয়াশিংটন ডিরেক্টর সারাহ ইয়েগার বলেন, "আমি দুই দশক ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে কাজ করছি, কিন্তু এ ধরনের ভাষা শুনে আমি স্তব্ধ। উর্ধ্বতন নেতাদের এই বক্তব্য যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের আচরণকে প্রভাবিত করে এবং এটি বড় ধরনের নৃশংসতার পূর্বলক্ষণ।" ওয়াচডগ গ্রুপ ‘এয়ারওয়ারস’ (Airwars)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার গতি আধুনিক ইতিহাসের যেকোনো যুদ্ধের চেয়ে বেশি। যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। এমনকি আইএস (ISIS)-এর বিরুদ্ধে ছয় মাসে যে পরিমাণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছিল, ইরানে প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই তার চেয়ে বেশি হামলা চালানো হয়েছে। সিনেটর জেফ মের্কলি এই পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়ে হেগসেথকে একজন ‘বিপজ্জনক অপেশাদার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “তার এই ‘দ্বিধাহীন’ যুদ্ধের নিয়মনীতি একটি বেসামরিক স্কুল এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে ১৫০ জনেরও বেশি স্কুলছাত্রী ও শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন।” বিশ্লেষকদের মতে, পেন্টাগনের এই আক্রমণাত্মক নীতি আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
নাগরিকদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ইরান। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত ইরানি নাগরিকদের বিষয়ে কড়া সতর্কতা দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সহযোগিতা করলে ইরানি নাগরিকদের দোষী সাব্যস্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সম্পদ জব্দ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণে থাকা ইরানিদের জন্য এই বিধান জারি করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে কার্যালয়টি গত বছরের অক্টোবরে প্রণীত একটি আইনের কথা উল্লেখ করে। প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, ওই আইন অনুযায়ী ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো শত্রু রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করলে ইসলামি দণ্ডবিধি অনুসারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং অন্যান্য আইনি শাস্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। আইনটিতে আরও বলা হয়েছে, জায়নিস্ট (ইসরাইলি) শাসন বা যুক্তরাষ্ট্র সরকারসহ অন্য কোনো শত্রু সরকার, গোষ্ঠী বা তাদের সঙ্গে যুক্ত কোনো উপাদানের পক্ষে দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হলে ২০১৩ সালের ২১ এপ্রিল অনুমোদিত ইসলামি দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী সম্পদ বাজেয়াপ্তসহ অন্যান্য আইনি শাস্তি কার্যকর হতে পারে। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
ডিএমপি সদর দপ্তর: সাধারণ মানুষের বিচারিক ভোগান্তি কমাতে এবং আইনি সেবা আরও গতিশীল করতে দেশের প্রতিটি থানায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ পুলিশ। সোমবার সকালে ডিএমপির সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এই যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে জমি দখল, মারামারি এবং মাদকের মতো মামলাগুলোর দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে, যা বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘসূত্রতা থেকে মুক্তি দেবে। আইজিপি তাঁর বক্তব্যে একটি জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনী গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি ঘোষণা দেন যে, প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানায় রূপান্তর করা হবে, যেখানে নাগরিকরা কোনো হয়রানি ছাড়াই নির্বিঘ্নে সেবা নিতে পারবেন। পুলিশের ‘রিঅ্যাকশন টাইম’ বা সাড়া দেওয়ার সময় কমিয়ে আনার পাশাপাশি পুলিশি সেবাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যাতে সাধারণ মানুষ হাসিমুখে থানা থেকে ফিরতে পারে। অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে যেকোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং গণধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সিআইডি-কে আরও আধুনিকায়ন করে তদন্তের গুণগত মান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন পুলিশ প্রধান। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর নিয়ে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মো. আলী হোসেন ফকির। মহাসড়কে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি রোধে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও র্যাব সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো অসন্তোষ তৈরি না হয়, সেজন্য মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় শুরু করেছে পুলিশ। ঈদ মৌসুমে উগ্র মৌলবাদের উত্থান ঠেকাতে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি একটি দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জনগণের সুচিন্তিত মতামত ও সহযোগিতাও কামনা করেন নবনিযুক্ত আইজিপি।
আইনের বাইরে গিয়ে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাকারিয়া তাহের সুমন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে আইন মেনে এবং সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়–এর অধীন দপ্তরগুলোর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারের প্রতিজ্ঞা—আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করা হবে না। অতীতে যা ঘটেছে, তা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ব্যত্যয় যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, তার মেয়াদকালে প্রকল্প বাস্তবায়নে আইন অনুসরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অপব্যয় রোধ ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দেওয়া হবে এবং স্থগিত থাকা প্রকল্পগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সভায় কুমিল্লায় গণপূর্ত বিভাগের অধীনে চলমান ও নতুন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে থানা ভবন নির্মাণ এবং কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার–এর উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন মু. রেজা হাসান, শাহ আলম এবং আনিসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে মন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অনলাইন কন্টেন্ট সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক (TikTok)। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপটির ডিজাইন এবং কার্যক্রম নিয়ে ইউরোপীয় কমিশন কড়া পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যার ফলে টিকটকের বর্তমান রূপে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। টিকটকের অ্যালগরিদম কি আসলেই আমাদের মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর? জেনে নিন এই আইনি লড়াইয়ের মূল কারণগুলো: ১. অনলাইন কন্টেন্ট নিয়ম লঙ্ঘন: ইউরোপীয় ইউনিয়ন টিকটকের বিরুদ্ধে তাদের 'ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট' (DSA) লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। মূলত ক্ষতিকর কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে এই চার্জ গঠন করা হয়েছে। ২. 'অ্যাডিক্টিভ ডিজাইন' বা আসক্তি তৈরির নকশা: তদন্তে দেখা গেছে, টিকটকের অ্যালগরিদম এবং ডিজাইন এমনভাবে তৈরি যা ব্যবহারকারীদের, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে। এর ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে ইইউ মনে করছে। ৩. অ্যাপে পরিবর্তন আনার নির্দেশ: অভিযোগ প্রমাণিত হলে টিকটককে তাদের ইন্টারফেস এবং অ্যালগরিদমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। ব্যবহারকারীদের আসক্তি কমাতে এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ফিচার যুক্ত করতে বাধ্য হতে পারে তারা। ৪. বিশাল অঙ্কের জরিমানা: যদি টিকটক ইইউ-এর এই নিয়মগুলো মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের বিশ্বব্যাপী বার্ষিক আয়ের ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। ৫. টিকটকের প্রতিক্রিয়া: টিকটক অবশ্য দাবি করেছে যে তারা শিশুদের সুরক্ষা এবং আসক্তি কমাতে নিয়মিত কাজ করছে। তবে ইইউ-এর এই কঠোর অবস্থানে কোম্পানিটি এখন চাপে রয়েছে। সারসংক্ষেপ: ইউরোপে টিকটকের ভবিষ্যৎ এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইউরোপীয় কমিশন যে কড়া বার্তা দিয়েছে, তাতে করে অদূর ভবিষ্যতে টিকটকের ফিচারে বড় ধরনের বদল দেখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews