৫৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে মহাকাশ জয়ের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসা। সোমবার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। এর আগে কোনো মানুষ পৃথিবী থেকে এত দূরে ভ্রমণ করেনি। বুধবার চাঁদের কক্ষপথ থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নভোচারীরা তাদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা জানান। মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন বর্তমানে ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে ঘণ্টায় প্রায় ৩৮ হাজার কিলোমিটারের বেশি গতিতে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হচ্ছেন। ফেরার পথে তারা চাঁদের অন্ধকার দিক (ফার সাইড) এবং একটি বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করেছেন। নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন জানান, খালি চোখে চাঁদের পৃষ্ঠ দেখা ছিল এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। এই মিশনের সফলতার ওপর ভিত্তি করেই ২০২৮ সালে মানুষকে পুনরায় চাঁদের বুকে নামানোর পরিকল্পনা করছে নাসা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে তাদের এই ওরিয়ন ক্যাপসুল।
মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে পৃথিবীর দিকে ফিরতে শুরু করেছে নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের ওরিয়ন মহাকাশযান। দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে চার নভোচারী এখন তাঁদের ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর অভিযানের শেষ ধাপে রয়েছেন। গতকালের (৬ এপ্রিল) ঐতিহাসিক 'লুনার ফ্লাইবাই' বা চাঁদের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার পর আজ সপ্তম দিনে নভোচারীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) থাকা সহকর্মীদের সাথে একটি দীর্ঘ দূরত্বের অডিও কলে যুক্ত হন। প্রায় ১৫ মিনিটের এই কথোপকথনে তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন। এই অভিযানে নভোচারীরা অ্যাপোলো-১৩-এর গড়া পূর্বের রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে সর্বাধিক দূরত্ব (প্রায় ২,৫২,৭৫৬ মাইল) অতিক্রম করার এক নতুন বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছেন। ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের উল্টো পিঠ (Far Side) দিয়ে যাওয়ার সময় মহাজাগতিক এক বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করেছে, যা পৃথিবীর বুক থেকে দেখা অসম্ভব। মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ ও পাইলট ভিক্টর গ্লোভার চাঁদের পৃষ্ঠের অসাধারণ সব খানাখন্দ (Craters) এবং ধুলোবালির স্তরের বর্ণনা দিয়েছেন। ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, "চাঁদের এই দৃশ্য দেখে আমি অভিভূত। এটি এতটাই বাস্তব মনে হচ্ছিল যে মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল আমি চাঁদের মাটির খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছি।" নভোচারীরা তাঁদের ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালার কাছ থেকে হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা দিয়ে অসংখ্য ছবি তুলেছেন, যা ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী বসতি স্থাপনে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। নাসা জানিয়েছে, ওরিয়ন এখন চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাটিয়ে পৃথিবীর পথে যাত্রা শুরু করেছে। আজ রাতে মহাকাশযানের থ্রাস্টারগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু করার মাধ্যমে এর গতিপথ সংশোধন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি অবতরণ করবে। এই অভিযানে আছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। ২০২৬ সালের এই সফল মিশনটি মূলত আগামী বছরের আর্টেমিস-৩ মিশনের প্রস্তুতি, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন। তথ্যসূত্র: নাসা অফিশিয়াল ব্লগ।
মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সূচিত হলো। দীর্ঘ ৫৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে দূরতম পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে নাসার ‘আর্টেমিস ২’ মিশন। সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) চার নভোচারীবাহী এই মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭৩ কিলোমিটার দূরে পৌঁছে মানব ইতিহাসের নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার দূরে গিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। আর্টেমিস ২ সেই সীমানাকে আরও ৬ হাজার ৬০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। ওরিয়ন ক্যাপসুলে থাকা তিন আমেরিকান এবং এক কানাডীয় নভোচারী বর্তমানে চাঁদের অন্ধকার দিক (ফার সাইড) প্রদক্ষিণ করছেন। এই যাত্রায় তারা প্রথমবারের মতো খালি চোখে চাঁদের এমন কিছু দৃশ্য দেখছেন যা এর আগে কোনো মানুষ সরাসরি দেখার সুযোগ পায়নি। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে ব্যবহার করে ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি’ পদ্ধতিতে মহাকাশযানটি এখন পৃথিবীর পথে ফিরে আসবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে ১০ দিনের এই ঐতিহাসিক মিশনের সমাপ্তি ঘটবে। এই মিশনের সাফল্য ২০২৮ সালে চাঁদে পুনরায় মানুষের অবতরণ এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের পথ আরও প্রশস্ত করবে।
প্রায় পাঁচ দশক পর মানুষকে পুনরায় চাঁদের কক্ষপথে ফিরিয়ে নিতে কাজ করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। কিন্তু এই ঐতিহাসিক অভিযানের প্রস্তুতির মাঝেই দেখা দিয়েছে এক অস্বস্তিকর বিপত্তি। আর্টেমিস-২ (Artemis II) মিশনের জন্য ব্যবহৃত মহাকাশযানে টয়লেট বা শৌচাগার নিয়ে বড় ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন নভোচারীরা। টয়লেটের ফ্ল্যাশ ঠিকমতো কাজ না করায় মহাকাশযান জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে উৎকট দুর্গন্ধ, যা নভোচারীদের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর অনুযায়ী, আর্টেমিস-২ মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নভোচারীরা যখন বিভিন্ন যান্ত্রিক পরীক্ষা চালাচ্ছেন, তখনই ওরিয়ন (Orion) ক্যাপসুলের টয়লেট সিস্টেমে ত্রুটি ধরা পড়ে। নভোচারীরা অভিযোগ করেছেন যে, মূত্র ত্যাগের পর ফ্ল্যাশ করার সময় তরল বর্জ্য ঠিকমতো নিষ্কাশিত হচ্ছে না। ফলে সেই বর্জ্য থেকে মহাকাশযানের ভেতরে তীব্র ও অস্বস্তিকর গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। শূন্য মাধ্যাকর্ষণ বা জিরো গ্র্যাভিটিতে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। আর্টেমিস-২ মিশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে প্রথমবারের মতো চারজন নভোচারী চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার কথা রয়েছে। প্রায় ১০ দিনের দীর্ঘ এই যাত্রায় নভোচারীদের সুস্থতা এবং স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা অপরিহার্য। কিন্তু টয়লেট বা ‘ইউনিভার্সাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (UWMS) যদি সঠিকভাবে কাজ না করে, তবে দীর্ঘ যাত্রায় নভোচারীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। কারিগরি জটিলতা: মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মহাকাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উন্নত মানের পাখা ও এয়ার ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। আর্টেমিস-২ এর ক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্ল্যাশ সিস্টেমের প্রেশার বা বায়ু চলাচলের পথে কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছে। যার ফলে বাতাস পরিশোধিত হওয়ার বদলে দুর্গন্ধ ভেতরেই আটকে থাকছে। পূর্বের অভিজ্ঞতা: মহাকাশে টয়লেট সমস্যা নাসার জন্য নতুন নয়। এর আগেও স্পেস-এক্স (SpaceX) এর ড্রাগন ক্যাপসুলেও একবার একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল, যার ফলে নভোচারীদের ডায়াপার ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হয়েছিল। নাসার প্রকৌশলীরা বর্তমানে এই ত্রুটি সারিয়ে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আর্টেমিস-২ মিশনের যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে। তার আগেই এই ‘গন্ধময়’ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে না পারলে অভিযানের সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নভোচারীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাদের মানবিক প্রয়োজনগুলো নিশ্চিত করাই এখন নাসার প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৯৬৯ সালে নীল আর্মস্ট্রং যখন চাঁদের বুকে প্রথম পা রেখেছিলেন, তখন পুরো নাসা টিমের কাছে যে কম্পিউটিং ক্ষমতা ছিল, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী প্রসেসর আজ আপনার হাতের স্মার্টফোনটিতে রয়েছে। প্রযুক্তির এই অবিশ্বাস্য উন্নতির পরও প্রশ্ন জাগে—৫০ বছর আগে যা সম্ভব হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসেও সেই চাঁদে পা রাখতে আমাদের এতোটা বেগ পেতে হচ্ছে কেন? কেনই বা ঐতিহাসিক 'আর্টেমিস-২' মিশনের চার নভোচারী চাঁদের এতো কাছে গিয়েও পৃষ্ঠে নামবেন না? ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপিত ওরিয়ন মহাকাশযানে থাকা চার সাহসী নভোচারী—রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কচ, ভিক্টর জে. গ্লোভার এবং জেরেমি হ্যানসেন—১০ দিনের এক রোমাঞ্চকর মিশনে রয়েছেন। তবে তারা চাঁদে নামবেন না, বরং চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসবেন। মূলত ২০২৮ সালের 'আর্টেমিস-৪' মিশনে মানুষের চূড়ান্ত অবতরণ নিশ্চিত করতেই এই পরীক্ষামূলক মহড়া। অ্যাপোলো মিশনের সময় আমেরিকার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক আধিপত্য। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে টেক্কা দিতে নাসা তাদের মোট বাজেটের ৫ শতাংশ খরচ করত, যা বর্তমানে মাত্র ০.৩৫ শতাংশ। আধুনিক যুগে মহাকাশ অভিযান কেবল 'পতাকা ওড়ানোর' লড়াই নয়, বরং এটি একটি টেকসই বাণিজ্যিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তৈরির চেষ্টা। চাঁদে নামার জন্য প্রয়োজনীয় স্পেসস্যুট এবং ল্যান্ডার (ইলন মাস্কের স্পেসএক্স বা জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন নির্মিত) তৈরির কাজ এখনো শেষ হয়নি। এছাড়াও নাসা এবার চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে জলের সন্ধান ও খনিজ সম্পদের দিকে নজর দিচ্ছে, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে চীনও পৌঁছাতে চায়। এই নতুন 'মহাকাশ প্রতিযোগিতা' এবং প্রয়োজনীয় ফান্ডের অভাবই মূলত আমাদের ফের চাঁদে নামার পথকে দীর্ঘায়িত করেছে। মিশনের মূল আকর্ষণ: চাঁদের অন্ধকার দিক আর্টেমিস-২ এর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি আসবে যখন এই চার নভোচারী ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সশরীরে চাঁদের সেই রহস্যময় 'অন্ধকার অংশ' বা ফার সাইড (Far Side) দেখতে পাবেন। যদিও চীন ও ভারতের রোভার সেখানে পৌঁছেছে, কিন্তু মানুষের চোখে সেই দুর্গম ভূখণ্ড দেখা হবে বিজ্ঞানের এক বিশাল জয়। চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি বা 'লুনার গেটওয়ে' তৈরি এবং সেখান থেকে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে পাড়ি জমানোর যে স্বপ্ন নাসা দেখছে, আর্টেমিস-২ সেই দীর্ঘ পথের প্রথম সোপান।
মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসা। দীর্ঘ ৫০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চাঁদের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে ‘আর্টেমিস-টু’। শক্তিশালী ইঞ্জিনের গতি বাড়িয়ে মহাকাশযানটি সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগ করে চন্দ্রপৃষ্ঠের দিকে নিজের পথ পরিবর্তন করেছে। অ্যাপোলো-১৭ মিশনের সেই ঐতিহাসিক যাত্রার ঠিক অর্ধশতাব্দী পর, এবার তিন মার্কিন এবং এক কানাডিয়ান মহাকাশচারীকে নিয়ে এই রোমাঞ্চকর অভিযানে নেমেছে নাসা। মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথ অতিক্রম করার মাত্র ১০ মিনিট পরেই এক আবেগঘন বার্তা পাঠান কানাডিয়ান মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন। তিনি জানান, মহাশূন্য থেকে চাঁদের আলোয় আলোকিত পৃথিবীর দৃশ্য এতটাই মন্ত্রমুগ্ধকর যে, তার সহকর্মী মহাকাশচারীরা জানলা থেকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখ সরাতে পারছেন না। এই মিশনটি শুধুমাত্র চাঁদে ফেরার লড়াই নয়, বরং গভীর মহাকাশ গবেষণায় মানুষের সক্ষমতার এক অনন্য প্রমাণ। বৈশ্বিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই যাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।