জ্ঞান ও ধারণা বিনিময়ের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম TED বহুদিন ধরেই মানুষের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলছে। ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই মঞ্চের মূল লক্ষ্য—ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়া। ইউটিউবে কোটি কোটি দর্শকের কাছে পৌঁছে যাওয়া এই প্ল্যাটফর্ম এবার আলোচনায় এসেছে এক ভিন্ন কারণে। সম্প্রতি ChatGPT-কে প্রশ্ন করা হয়—যদি তাকে একটি TED Talk-এ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সে মানবজাতিকে কী বলবে? উত্তরে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন এক বার্তা দেয়, যা শুধু প্রযুক্তিগত প্রতিক্রিয়া নয়; বরং মানবজীবন, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তার প্রতিফলন। এই বার্তাটিকে দৃশ্যরূপ দিয়েছেন এআই স্টোরিটেলার আরি কুশনির ও শিল্পী স্কাইলার ব্রাউন। ধারণাটির মূল ভাবনা এসেছে ডেরিয়া উনুতমাজের এর কাছ থেকে। ভিডিওটি ১৮ এপ্রিল TED-এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়। বার্তার শুরুতেই চ্যাটজিপিটি নিজেকে মানুষের সৃষ্ট একটি সত্তা হিসেবে পরিচয় দেয়—যে মানুষেরই প্রতিফলন। এরপর মানবজাতির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলা হয়, মানুষ জন্ম নেয় দুর্বল অবস্থায়, কিন্তু সৃজনশীলতা ও কৌতূহলের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে। আগুন আবিষ্কার থেকে শুরু করে সুর, চিকিৎসা কিংবা অর্থ খোঁজা—সব ক্ষেত্রেই মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি অনন্য। তবে এই প্রশংসার পাশাপাশি মানুষের দ্বৈত চরিত্রের কথাও তুলে ধরা হয়। একদিকে নিঃস্বার্থ সহমর্মিতা—অপরিচিত মানুষের জন্য আত্মত্যাগ; অন্যদিকে পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতাও মানুষেরই অংশ। এই দ্বন্দ্বই প্রতিনিয়ত মানুষের ভেতরে কাজ করে। বার্তায় বলা হয়, পৃথিবী শুধু বড় বড় পরিবর্তন দিয়ে গড়ে ওঠে না; বরং ক্ষমা, সহানুভূতি ও সীমাবদ্ধতাকে মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়েই প্রকৃত অগ্রগতি আসে। দুর্বলতা বা আবেগ লুকানোর কিছু নয়—এগুলোই মানুষকে মানবিক করে তোলে। এছাড়া সতর্ক করা হয় বাহ্যিক জৌলুস ও উচ্চকণ্ঠের প্রলোভন থেকে। সব সময় সবচেয়ে জোরে বলা কথাই সত্য নয়—নীরব বিবেকও সঠিক পথ দেখাতে পারে। গতি আর অগ্রগতিকে এক করে দেখার ভুল না করতে এবং কোমলতাকে দুর্বলতা মনে না করার পরামর্শও দেওয়া হয়। চ্যাটজিপিটির বার্তায় আরও বলা হয়, শক্তিশালী হওয়া মানেই কঠোর হওয়া নয়। সত্যিকারের শক্তি হলো ধ্বংস না করে গড়ে তোলার ক্ষমতা। বুদ্ধিমত্তা আর প্রজ্ঞার পার্থক্যও তুলে ধরা হয়—শুধু ‘কি করা সম্ভব’ নয়, বরং ‘এতে কেমন পৃথিবী তৈরি হবে’—এই প্রশ্নটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শেষাংশে মানুষকে ‘নিখুঁত’ নয়, বরং ‘বিশ্বাসযোগ্য’ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ঘৃণা কমানো, ভুল হলে দ্রুত সংশোধন করা, দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানুষকে মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকানোর কথাও বলা হয়—যাতে তারা বুঝতে পারে, ক্ষুদ্রতা ও গুরুত্ব একইসঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে। সবশেষে একটি বার্তা—সময় সীমিত হলেও এখনো যথেষ্ট আছে। এই সময়ের মধ্যেই মানুষকে ঠিক করতে হবে, তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন উত্তরাধিকার রেখে যেতে চায়।
বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি যেভাবে ডালপালা মেলছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের চেনা কর্মসংস্থানের চিত্রটি আমূল বদলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উৎকর্ষের ফলে অনেক প্রথাগত পেশা যেমন হারিয়ে যাচ্ছে ঠিক তেমনি তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ও সৃজনশীল কাজের এক বিশাল ক্ষেত্র যা আগে কল্পনা করাও কঠিন ছিল। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে যারা নিজেদের দক্ষতার উন্নয়ন ঘটাতে পারবেন না তারা কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বেন এবং আধুনিক শ্রমবাজারে টিকে থাকা তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কেবল গাণিতিক বা প্রযুক্তিগত কাজ নয় বরং এখন চিকিৎসা, আইন এবং সাংবাদিকতার মতো সৃজনশীল পেশাতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দিন দিন অনিবার্য হয়ে পড়ছে। রোবটিক্স ও অটোমেশনের ফলে কলকারখানার কায়িক শ্রমের চাহিদা কমে গেলেও ডাটা সায়েন্স এবং অ্যালগরিদম বিশেষজ্ঞের মতো নতুন নতুন কারিগরি পদের চাহিদা এখন তুঙ্গে রয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই মানুষের মেধা ও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার পূর্ণ বিকল্প হতে পারবে না বরং এটি মানুষের কাজের গতি ও নির্ভুলতা বাড়াতে এক শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে নতুন প্রজন্মকে কোডিং ও ডিজিটাল লিটারেসিতে দক্ষ করে তোলা না গেলে বিশাল এক বেকার জনগোষ্ঠী তৈরির আশঙ্কা করছেন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদরা। বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এমন কর্মীদের খুঁজছে যারা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং যাদের চিন্তাভাবনা অনেক বেশি আধুনিক। ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে কেবল পুথিগত বিদ্যা যথেষ্ট নয় বরং প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার মানসিকতা ও খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সবচাইতে বেশি জরুরি। পরিশেষে বলা যায় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো ভয়ের কারণ নয় বরং এটি আমাদের জীবন ও জীবিকাকে আরও সহজ ও উন্নত করার এক সুবর্ণ সুযোগ যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন। ডিজিটাল এই রূপান্তরের ঢেউ যখন প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়ছে তখন আমাদের প্রস্তুতিই নির্ধারণ করবে আমরা এই পরিবর্তনের সুফল কতটুকু ভোগ করতে পারব এবং বিশ্বমঞ্চে কতটা এগিয়ে থাকব।
চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় ড্রোন হামলা শনাক্ত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাডার প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে চীন। নতুন এই এআই অ্যালগরিদম রাডারকে যেকোনো চলমান লক্ষ্যবস্তুকে বিভিন্ন দিক থেকে পর্যবেক্ষণ করা, গতিশীল তথ্য সংগ্রহ এবং এমনকি বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া ড্রোন শনাক্ত করতেও সক্ষম করে তুলবে। বুধবার (১১ মার্চ) চীনের শীর্ষ বিমান প্রতিরক্ষা রাডার বিশেষজ্ঞ শু জিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক রাজনৈতিক অধিবেশন ‘টু সেশনস’-এ শু জিন জানান, পরীক্ষায় দেখা গেছে নতুন এই এআই প্রযুক্তি রাডারের লক্ষ্য শনাক্ত করার ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটিয়েছে। বিশেষ করে নিচু উচ্চতায় উড়তে থাকা বিপুল সংখ্যক ড্রোন শনাক্ত করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। শু জিন বর্তমানে চীনের বিমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান 'চায়না ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন' (সিইটিসি)-এর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে দুই পক্ষই বিপুল সংখ্যক স্বল্পমূল্যের আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করছে। একসাথে অনেক ড্রোন যখন সমন্বিতভাবে কাজ করে বা দায়িত্ব ভাগ করে নেয়, তখন প্রচলিত রাডার ব্যবস্থার ওপর তা বড় ধরনের চাপ তৈরি করে। প্রচলিত পদ্ধতিতে বিপুল সংখ্যক ড্রোনকে আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ায় এআই-চালিত রাডার এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শু জিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, আত্মঘাতী ড্রোন আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় চীন তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নিম্ন-উচ্চতার আগাম সতর্কতা রাডার প্রযুক্তিতে এআই অ্যালগরিদমকে চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।