বিশ্ব টেনিস র্যাঙ্কিংয়ের সাবেক দুই নম্বর তারকা ও তিউনিসিয়ান গর্ব ওনস জাবেউর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এবার শুধু র্যাকেট হাতে নয়, বরং মানবতার পক্ষে তার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং ব্যক্তিগত জীবনের নতুন এক অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনের গাজা পরিস্থিতি, টেনিসে লিঙ্গবৈষম্য এবং প্রথম সন্তান জন্মের পর কোর্টে ফেরার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এই ‘মিনিস্টার অফ হ্যাপিনেস’। গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাবেউর বলেন, "একজন অ্যাথলেট হিসেবে কথা বলাটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যখন শিশুদের ক্ষুধার্ত থাকতে দেখি বা নিরপরাধ মানুষদের প্রাণ হারাতে দেখি, তখন টেনিস কোর্টের জয়-পরাজয় গৌণ হয়ে যায়।" গাজা ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হলেও, ন্যায়ের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি টেনিস বিশ্বে নারীদের সমান অধিকার এবং লিঙ্গবৈষম্য নিয়েও মুখ খুলেছেন এই তিনবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালিস্ট। টেনিসের বড় আসরগুলোতে নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রচারের ক্ষেত্রে যে ব্যবধান রয়েছে, তা দূর করার আহ্বান জানান তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে জাবেউর এখন এক নতুন রোমাঞ্চের অপেক্ষায়। তিনি প্রথমবারের মতো মা হতে চলেছেন। তবে মা হওয়া মানেই যে ক্যারিয়ারের ইতি, তা মানতে নারাজ এই তিউনিসিয়ান। কিম ক্লিইস্টার্সের মতো কিংবদন্তিদের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, মা হওয়ার পর আরও শক্তিশালী হয়ে টেনিস কোর্টে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। জাবেউর বলেন, "আমি নিজেকে সময় দিতে চাই, দেখতে চাই আমার শরীর কীভাবে সাড়া দেয়। তবে আমি নিশ্চিতভাবেই আবারও টেনিস র্যাকেট হাতে ফিরব এবং আগামী কয়েক বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।" তার এই ঘোষণা ভক্তদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। মাঠ ও মাঠের বাইরে সমানভাবে প্রভাবশালী এই অ্যাথলেট আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং এক বৈশ্বিক পরিবর্তনের দূত।
গাজা, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে ৭৫ জন সংসদ সদস্য (এমপি) স্বাক্ষর করেছেন। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন লেবার পার্টির এমপি রিচার্ড বার্গন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সহকর্মীদের এই উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) মুখপাত্র ব্রেন্ডন ও’হারা, লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন এবং যুক্তরাজ্যের একমাত্র ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এমপি লায়লা মোরান। প্রস্তাবে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান চাপ ও বিভাজনের প্রতিফলন। যদিও প্রস্তাবটি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকারের অবস্থান ও পার্লামেন্টে সমর্থনের ওপর। সূত্র: আল জাজিরা
গাজার এক অস্থায়ী তাবু। ভেতরে বসে আছেন ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধা ইনাম আল-দাহদুহ। কোলে তার ছয় নাতি-নাতনি। হাতে একটি ছবি—যাতে রয়েছে তার আদরের তিন ছেলের মুখ। আজ ১৭ এপ্রিল, ফিলিস্তিনি বন্দি দিবস। কিন্তু ইনামের জন্য এই দিনটি উৎসবের নয়, বরং সীমাহীন যন্ত্রণার। গত দুই বছর ধরে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি তার তিন সন্তান মাহমুদ, আলা এবং দিয়া। তারা বেঁচে আছেন কি না, কেমন আছেন—তার কোনো সঠিক উত্তর নেই এই মায়ের কাছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে নিজ বাড়ি থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায় ইসরায়েলি বাহিনী। সেই অভিযানে নিহত হন ইনামের স্বামী নাঈমও। এরপর থেকে যাযাবর জীবন আর সন্তানদের ফেরার প্রতীক্ষায় দিন কাটছে এই বৃদ্ধার। তবে ইনামের উদ্বেগ এখন বহুগুণ বেড়ে গেছে। সম্প্রতি ইসরায়েলি পার্লামেন্টে বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রেখে একটি নতুন আইন পাস হয়েছে। ইনাম বলেন, "ক্ষুধা, কষ্ট বা নির্যাতন—সবই হয়তো ওরা সহ্য করে নেবে। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড? একজন মা হিসেবে এই আতঙ্ক নিয়ে আমি কীভাবে শান্তিতে থাকি?" বন্দি অধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৯,৬০০ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি রয়েছেন, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৮৩ শতাংশ বেশি। এদের মধ্যে ৩৫০ জন শিশুও রয়েছে। কারাগারের ভেতর অমানবিক পরিবেশ এবং বন্দিদের মৃত্যুর খবরে ইনামের মতো হাজারো ফিলিস্তিনি মা আজ দিশেহারা। ইনম তার বড় ছেলে মাহমুদের সন্তানদের পবিত্র কোরআন শেখাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তার ছেলেরা নির্দোষ এবং একদিন তারা ফিরে আসবে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তার আকুতি, "একজন বন্দিরও বেঁচে থাকার এবং সম্মানের অধিকার আছে। এই নিষ্ঠুরতা বন্ধ করতে বিশ্বকে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে।"
ইসরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা যখন চরম শিখরে, তখন একটি প্রশ্ন বিশ্বজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে—গাজা বা ইউক্রেন যুদ্ধের সময় পশ্চিমা বিশ্বের রাজপথ যেভাবে প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রে কেন তা অনুপস্থিত? আল জাজিরার এক বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই 'নীরবতার' নেপথ্য কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে গাজা এবং ইউক্রেন ইস্যুতে ক্রমাগত আন্দোলন করতে করতে পশ্চিমা অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে এক ধরনের 'ক্লান্তি' (Protest Fatigue) চলে এসেছে। এছাড়া, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে পশ্চিমা সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা নেতিবাচক ধারণা বা ভীতি অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর চলমান সামরিক চাপ এবং অবরোধের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়লেও, পশ্চিমা জনমতে ইরানের প্রতি সহমর্মিতার অভাব স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে পশ্চিমা সরকারগুলোর কঠোর অবস্থান এবং গণমাধ্যমের একপাক্ষিক প্রচারণা সাধারণ মানুষকে দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলেছে। ফলে গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে যে বিশাল গণজোয়ার দেখা গিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজলেও রাজপথে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এই নীরবতাকে 'হতাশা' এবং 'ভয়ের' সংমিশ্রণ হিসেবে দেখছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, একদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে আতঙ্ক, অন্যদিকে নিজ দেশের রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে ইরানের পক্ষে দাঁড়ানোর ঝুঁকি—সব মিলিয়ে স্তিমিত হয়ে পড়েছে পশ্চিমা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযান ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ও ইতালি একে অপরের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি গবেষণার তথ্য আদান-প্রদান করত। প্রধানমন্ত্রী মেলোনির এই ঘোষণার ফলে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতায় বড় ধরনের ছেদ পড়ল। ইতালির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি বলেছেন, "বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিরক্ষা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজায় মানবিক বিপর্যয় এবং সম্প্রতি ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর আগে স্পেনও ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। ইতালির এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত বিশেষ 'শান্তি বোর্ড' (Peace Board) তীব্র অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। এই সংকটের কারণে গাজা উপত্যকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন হাতে নিয়েছিল, তা কার্যত থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। রয়টার্সের শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প গাজা নিয়ে যে বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন, তার মূল চালিকাশক্তি ছিল এই শান্তি বোর্ড। তবে দাতাগোষ্ঠী এবং মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আশানুরূপ অর্থ সহায়তা না পাওয়ায় বর্তমানে বোর্ডটি তহবিল সংকটে ভুগছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এবং অন্যান্য বৈশ্বিক অংশীদারদের কাছ থেকে যে পরিমাণ অর্থের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বড় একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। মূলত গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কী—এমন রাজনৈতিক জটিলতার কারণে অনেক দেশই বড় অংকের বিনিয়োগ করতে দ্বিধাবোধ করছে। ট্রাম্পের এই 'গাজা পরিকল্পনা'র অন্যতম লক্ষ্য ছিল দ্রুত সময়ের মধ্যে গাজা উপত্যকায় আধুনিক আবাসন, ব্যবসায়িক কেন্দ্র এবং অবকাঠামো নির্মাণ করা। এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তহবিলের অভাবে বর্তমানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং প্রাথমিক কারিগরি কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত সমাধান চাইলেও আর্থিক বাস্তবতা এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্তি বোর্ড যদি শিগগিরই বড় কোনো বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে না পারে, তবে গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, যা ওই অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এপ্রিলের এই সময়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনার মাঝে গাজার এই পুনর্গঠন প্রকল্প ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে অর্থ ছাড় না হলে এই পরিকল্পনা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনে গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। একদিকে পবিত্র স্থানগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী সহিংসতা। আল জাজিরার সাপ্তাহিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে ফিলিস্তিনের বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলো এখনো কার্যত অবরুদ্ধ। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনিরা সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না। বিশেষ করে জুমার নামাজে অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের ওপর কড়াকড়ি ও তল্লাশির নামে হয়রানি চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে পবিত্র নগরীজুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত এক সপ্তাহে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জেনিন, নাবলুস এবং তুলকারেম এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলা ও স্থল অভিযানে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের হামলায় ফিলিস্তিনি কৃষকরা তাদের কৃষি জমি থেকে উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন। সহিংসতার পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করলেও ত্রাণ সরবরাহে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সাপ্তাহিক এই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার পথে, যেখানে হাজার হাজার আহত মানুষ নূন্যতম চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন। ফিলিস্তিনে চলমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পবিত্র স্থানগুলোতে ইবাদতের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এবং অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না, বরং দিন দিন তা আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, পবিত্র স্থানগুলো বন্ধ রাখা এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৩৯০ জনেরও বেশি সহকর্মী নিহতের ঘটনায় একটি স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘ ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (UNRWA) বিদায়ী প্রধান ফিলিপ লাজারিনি। জেনেভায় নিজের শেষ কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই দাবি জানান। লাজারিনি বলেন, গাজায় চলমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাদের কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। অবরুদ্ধ গাজায় জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ ও সেবা কার্যক্রমের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে ইউএনআরডব্লিউএ, যা কার্যত সেখানকার অধিকাংশ মানুষের জন্য একমাত্র রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিকল্প। এই সংস্থাটির কর্মীদের ওপর এ ধরণের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফের বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। রোববার ভোরে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় দুটি পুলিশ চেকপোস্ট লক্ষ্য করে চালানো এই বিমান হামলায় এক শিশু ও তিনজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলাকে গত পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো খান ইউনিসের দুটি পুলিশ তল্লাশি চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং এক শিশুসহ তিন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। হামলায় আরও অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি (এএ) জানায়, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আল-মাওয়াসি অঞ্চলের 'বীর ১৯' এলাকায় একদল বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। পরবর্তীতে খান ইউনিসের বানি সুহেইলা চত্বরের কাছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে আরও এক ফিলিস্তিনি নিহত হন। সব মিলিয়ে রোববারের এই সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করে আসছে। ১৮ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীনও ইসরায়েলি হামলায় ৬৯১ জন নিহত এবং ১৮৭৬ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ। ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো। বর্তমানে লেবাননে স্থল অভিযান এবং ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই গাজায় এই নৃশংসতা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে দুটি পুলিশ চেকপোস্ট লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক বিমান হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, নিহতদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য এবং তিনজন সাধারণ নাগরিক। মর্মান্তিক এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে এক শিশুও। হামলায় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে এই বিমান হামলা নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তথাকথিত ' ceasefire' বা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েল সম্মত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১,৮৯৫ জনেরও বেশি মানুষ। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি যখন ইরান পরিস্থিতির দিকে, তখন গাজার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
গাজায় চলমান গণহত্যার নৃশংসতা যেন সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এবার এক ১৮ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুর ওপর ইজরায়েলি বাহিনীর মধ্যযুগীয় বর্বরতার লোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে। বাবার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নিষ্পাপ শিশু করিমকে। তার কোমল শরীরে অসংখ্য সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া ছাড়াও পায়ে গেঁথে দেওয়া হয়েছে লোহার পেরেক। প্যালেস্টাইন টিভির সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই পৈশাচিক ঘটনাটি উঠে এসেছে। ঘটনাটি ঘটে আল মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে। শিশুটির বাবা ওসামা আবু নাসর নিজের জীবিকা ও ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করার সময় হঠাৎ ইজরায়েলি সেনা ও হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে গোলাগুলির কবলে পড়েন। ইজরায়েলি সেনারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে এবং সঙ্গে থাকা ১৮ মাসের শিশু করিমসহ সেনা শিবিরে নিয়ে যায়। সেখানে ওসামাকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে জেরা ও অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়। কিন্তু পাশবিকতার চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে যখন ওসামার চোখের সামনেই তার ছোট্ট শিশুটির ওপর শুরু হয় বর্বরতা। টানা ১০ ঘণ্টা ধরে চলে এই পৈশাচিক উল্লাস। শিশুটির আর্তচিৎকার ইজরায়েলি সেনাদের মনে বিন্দুমাত্র দয়া উদ্রেক করেনি, বরং তারা হিংস্র উল্লাসে মেতে ওঠে। নির্যাতনের পর শিশুটিকে রেডক্রস সোসাইটির মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হলেও ওসামা আবু নাসর এখনও ইজরায়েলি হেফাজতেই বন্দি আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করিমের শরীরে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং মানসিক ট্রমার কারণে সে ঘুমের ঘোরেও যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠছে। বিশ্বজুড়ে এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তথাকথিত 'যুদ্ধবিরতি' চলাকালীন সময়েও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৮৯ জন ফিলিস্তিনি। গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদে গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মাঠ পর্যায়ের সংবাদকর্মীরা এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬০ জন ফিলিস্তিনি। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও গাজার সাধারণ মানুষের ওপর এই নিরবচ্ছিন্ন হামলা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করেই ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার ভোরে মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া পৃথক এক হামলায় তিন শিশুসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি চিকিৎসা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে। চিকিৎসা সূত্রগুলো জানায়, নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ভোরের আলো ফোটার আগেই একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। দিনের অন্য এক ঘটনায়, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে চারজন গুরুতর আহত হন, যাদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই লঙ্ঘন করছে। ১৮ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইসরায়েলি হামলায় ৬৭৭ জন নিহত এবং ১,৮১৩ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৭২,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১,৭২,০০০ মানুষ। দীর্ঘস্থায়ী এই হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে, যা উপত্যকাটিকে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান এবং শান্তি প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর এমন ধারাবাহিক হামলা গাজায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ ও সংকটজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘের শান্তি দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক অধিবেশনে তিনি সতর্ক করে বলেন যে গাজায় প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো তাদের সক্ষমতার মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে উপত্যকাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে এবং সেখানকার অর্থনীতি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ম্লাদেনভ জোর দিয়ে বলেন যে সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং অবশ্যই উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন। মানবিক সহায়তার বর্তমান প্রবাহ গাজার বিশাল চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কিছু পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে তবে সামগ্রিক অবস্থা এখনো চরম উদ্বেগজনক। ম্লাদেনভ বলেন যে ২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বর্তমানে অমানবিক পরিস্থিতিতে বাস করছে যা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেওয়া যায় না। তিনি গাজায় সাহায্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা অবিলম্বে বাড়ানোর এবং অস্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা দ্রুততর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজও একই অধিবেশনে স্বীকার করেছেন যে গাজায় মানবিক প্রচেষ্টা এখনো যথেষ্ঠ নয় এবং এক্ষেত্রে আরও অনেক কাজ বাকি আছে। ওয়াশিংটন গাজার ভেতরে মানবিক প্রবেশাধিকার শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নই একমাত্র পথ যা গাজার পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই মানবিক বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয় বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় কাটাতে এবং ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ। মঙ্গলবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি পদক্ষেপ রুখতে 'তীব্র হস্তক্ষেপ' (massive intervention) ছাড়া গাজার মানুষকে বাঁচানো সম্ভব নয়। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার বিষয়ক এই বিশেষ দূত প্রশ্ন তোলেন, "কীভাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে?" তিনি মনে করিয়ে দেন যে, যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত কোনো রাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র হস্তান্তর না করা প্রতিটি দেশের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা। আলবানিজ উল্লেখ করেন, গাজায় কথিত যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং আরও অবনতি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত ৬৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া অসহায় মানুষদের ওপরও ক্রমাগত হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের মুছে ফেলার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার প্রভাব লেবানন ও ইরানেও ছড়িয়ে পড়ছে। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের প্রচণ্ড মারধর, হাড় ভেঙে দেওয়া, দীর্ঘক্ষণ চোখ বেঁধে রাখা, ঘুম ও খাবার থেকে বঞ্চিত করা এবং এমনকি যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সাড়ে ১৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। বন্দি অবস্থায় প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ইসরায়েলি সমালোচনার জবাবে আলবানিজ সপাটে বলেন, "ইসরায়েল যা খুশি বলতে পারে, কিন্তু তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে। তাদের নেতাদের বিচার হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হওয়া উচিত।" তিনি বিশ্ব নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, অনেক দেশের সরকার ও মন্ত্রীরা নীরব থেকে কার্যত ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের 'লাইসেন্স' দিয়ে রেখেছে। গাজায় বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি 'পরিকল্পিত এবং ইচ্ছাকৃত গণহত্যা' হিসেবে অভিহিত করেন। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, আনাদোলু এজেন্সি।
গাজায় চলমান সামরিক অভিযান ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে গত দুই বছরে ইসরায়েলি অর্থনীতি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সময়ে দেশটির মোট অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৫৭ বিলিয়ন (৫ হাজার ৭০০ কোটি) মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, ব্যাংক অফ ইসরায়েলের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলের মোট ১৭ হাজার ৭০০ কোটি শেকেল বা প্রায় ৫৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা দেশটির বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৮.৬ শতাংশের সমান। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির পেছনে প্রধান কারণ হলো গাজায় দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান এবং লেবাননে ইসরায়েলি অনুপ্রবেশের উচ্চ ব্যয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রভাব এই হিসাবে এখনও পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ইরানের সাথে গত জুন মাসে মাত্র ১২ দিনের সংঘাত ইসরায়েলের জিডিপি প্রায় ০.৩ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছিল। ইসরায়েলের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আটটি দেশের সাথে তাদের বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই দেশগুলোতে ইসরায়েলি রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫ সালে ১.৫ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে। ব্যাংক অফ ইসরায়েল স্বীকার করেছে যে, দেশগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান ইসরায়েলি পণ্যের চাহিদাকে প্রভাবিত করছে। যুদ্ধব্যয় মেটাতে চলতি মাসেই ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা ২০২৬ সালের জন্য সংশোধিত রাষ্ট্রীয় বাজেট অনুমোদন করেছে, যেখানে যুদ্ধের অর্থায়নের জন্য অতিরিক্ত ১৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। এই আগ্রাসনে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। একদিকে মানবিক বিপর্যয়, অন্যদিকে নিজ দেশের অর্থনীতির এই টালমাটাল অবস্থা—সব মিলিয়ে ইসরায়েল এখন এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ঐতিহাসিক নজির ভেঙে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ঈদুল ফিতরের দিনে বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথমবার ঈদের দিনে মুসল্লিদের জন্য মসজিদটি বন্ধ রাখা হলো বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনারা মসজিদের প্রধান ফটকগুলো বন্ধ করে দিলে শত শত ফিলিস্তিনি মুসল্লি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে তারা মসজিদের প্রবেশদ্বার ও আশপাশের সড়কে ঈদের নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার থেকে মসজিদের ভেতরের চত্বরে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে মুসল্লিরা দামেস্ক গেট এলাকায় জড়ো হয়ে নামাজ আদায় করেন, যেখানে গিয়ে তারা তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি অবস্থান নিতে পেরেছেন। এ ঘটনায় জেরুজালেম গভর্নরেট তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ এবং ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন করে ‘ইহুদিকরণ’ বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং মসজিদটিকে ফিলিস্তিনি ও ইসলামি পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।উল্লেখ্য, ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর পর গত ২১ দিন ধরে আল-আকসা মসজিদ-এ মুসল্লিদের প্রবেশ সীমিত বা বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, গাজা উপত্যকা-য় ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই ঈদ পালন করেছেন ফিলিস্তিনিরা। খোলা জায়গা ও ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে তারা নামাজ আদায় করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ১ হাজার ২৪০টি মসজিদের মধ্যে ১ হাজার ১০০টির বেশি ধ্বংস হয়ে গেছে।
দখলকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রনে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সরাসরি হেব্রনের একটি বিউটি স্যালনের ওপর এসে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা 'ওয়াফা'র তথ্যমতে, নিহতরা হলেন ১৭ বছর বয়সী কিশোরী মাইস গাজী মুসালামেহ, ৫০ বছর বয়সী সাহেরা রিজক মুসালামেহ এবং ৩৬ বছর বয়সী আমাল সুবহি আবদেল করিম মুতাওয়া। ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি ধাতব ক্যারাভানে নির্মিত স্যালনের ওপর পড়লে ভেতরে থাকা আরও ১৩ জন নারী গুরুতর আহত হন। ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সুরক্ষিত শেল্টার বা বাঙ্কার থাকলেও, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের জন্য এমন কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। ঘিঞ্জি পরিবেশ এবং অস্থায়ী বসতিতে বসবাসের কারণে আকাশপথের যেকোনো হামলায় চরম ঝুঁকিতে থাকেন এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। এই বিয়োগান্তক ঘটনাটি যুদ্ধের ডামাডোলে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের চরম নিরাপত্তাহীনতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত অক্টোবর মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। গাজা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। হামাস পরিচালিত এই পুলিশ বাহিনী বর্তমানে গাজার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছে। ইসরায়েলের এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গাজার বেসামরিক শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজার ৮০০-এর বেশি পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর থেকেও কয়েক ডজন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই হামলার মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার মধ্য গাজার জাওয়াইদা এলাকায়। সেখানে একটি পুলিশ ভ্যানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্য দাবি করেছে, তারা হামাসের একটি 'সশস্ত্র সেল'কে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যারা হামলার পরিকল্পনা করছিল। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেহাম ওদা বলেন, "এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল একটি পরিষ্কার বার্তা দিতে চায় যে, গাজায় হামাসের কোনো ধরণের নিরাপত্তা বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ তারা মেনে নেবে না। মূলত বেসামরিক শাসনব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়াই এসব হামলার লক্ষ্য।" অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই পুলিশ বাহিনীর ওপর এই আক্রমণ এক নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। হামাস চায় তাদের ১০ হাজার পুলিশ সদস্যকে নতুন প্রস্তাবিত নিরাপত্তা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে, কিন্তু ইসরায়েল সরাসরি এর বিরোধিতা করছে। গাজার সাধারণ মানুষ এই পুলিশ বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল। গাজা সিটির একটি তাবু শিবিরের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল-আরাইশা বলেন, "পুলিশ না থাকলে এখানে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো। তারা অপরাধ দমনে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় কাজ করছে। তাদের ওপর এই হামলা মানে আমাদের নিরাপত্তার ওপর হামলা।" গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অক্টোবর মাসের যুদ্ধবিরতির পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ও হামলায় অন্তত ৬৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক শিশুসহ অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি চলন্ত যানবাহনকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলায় একটি সাদা রঙের জিপ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইয়াহিয়া আবু লাবদা, এহসান হামেদ আল-সামিরি এবং তামের বারাকা নামে এক শিশু নিহত হয়। এই হামলায় আরও ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯৯ জনই শিশু। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২,২৫০ ছাড়িয়ে গেছে। গাজায় হামলার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও দমন-পীড়ন জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার দিবাগত রাত ও মঙ্গলবার ভোরে হেবরন (আল-খলিল), রামাল্লাহ এবং নাবলুসের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। হেবরনের আল-আরউব শরণার্থী শিবিরে হানা দিয়ে অন্তত ১৫ জন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি সেনারা। রামাল্লাহর আল-আমামারি শরণার্থী শিবিরে অভিযানের সময় শব্দবোমা (stun grenades) ব্যবহার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এদিকে নাবলুসের বেইতা এলাকার কাছে আল-ইয়াতমাউইতে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়েছে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার শিকার পরিবারগুলোর সহায়তায় আসা অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও বাধা দেয় তারা। এছাড়া জোসেফের সমাধির কাছেও ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে উগ্রবাদী বসতি স্থাপনকারীরা। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, গাজা এবং পশ্চিম তীরে একই সঙ্গে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও ইসরায়েলি অভিযান অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু, এক গর্ভবতী নারী এবং ৯ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (১৫ মার্চ) মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলা চালানো হয়। আল-আকসা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় চারজন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব এক দম্পতি, তাদের প্রায় ১০ বছর বয়সী ছেলে এবং পাশের বাড়ির ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহত নারীটি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তার গর্ভে যমজ সন্তান ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদ আল-মুহতাসেব জানান, গভীর রাতে তারা ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। তিনি বলেন, আঘাতটি খুবই প্রবল ছিল এবং হামলার আগে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। এছাড়া একই দিনে মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা শহরের প্রবেশমুখে একটি পুলিশ গাড়িকে লক্ষ্য করে আরেকটি হামলা চালানো হয়। ফিলিস্তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে মধ্য গাজার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা কর্নেল ইয়াদ আবু ইউসুফও রয়েছেন। আল-আকসা হাসপাতাল জানিয়েছে, এই হামলায় আরও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, নিহত পুলিশ সদস্যরা পবিত্র রমজান মাসে বাজার তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে এ ঘটনায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews