গণমাধ্যম

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইসলামাবাদ সংলাপ: যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ‘গঠনমূলক’ আলোচনায় বসবে—আশা পাকিস্তানের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কীভাবে প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে একটি বিশাল রাষ্ট্রের জনমত নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন—সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সেই জটিল বাস্তবতা। দীর্ঘদিন মস্কোতে কর্মরত সাংবাদিক মার্ক বেনেটস তাঁর বই ‘দ্য ডিসেন্ট’-এ দেখিয়েছেন, ধারাবাহিক মিথ্যাচার ও তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে কীভাবে রাশিয়ার জনগণের যুক্তিবোধ দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।   এক প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিস্ট জানায়, এই প্রক্রিয়া এতটাই গভীরে গিয়েছে যে মানুষ অনেক সময় তথ্যকে মিথ্যা জেনেও তা বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছে। রাশিয়ার বিরোধী রাজনীতিক ইলিয়া ইয়াশিন কারাগারে থাকার সময় এক সহবন্দির কাছ থেকে শুনেছিলেন, ইউক্রেন ‘নাজিতে ভরা’। অথচ সেই বন্দি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রায়ই মিথ্যা প্রচার করে। তবুও বিকল্প নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে তিনি সেই প্রচারণাকেই সত্য হিসেবে গ্রহণ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘দ্বৈত বাস্তবতা’ই পুতিনের প্রোপাগান্ডার মূল শক্তি—মানুষ জানে তথ্য বিকৃত হতে পারে, কিন্তু বিকল্প না থাকায় সেটিকেই মেনে নেয়। পুতিনের ভাবমূর্তি গঠনে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ গ্লেব পাভলোভস্কি। তিনি এমন এক নেতার চিত্র তৈরি করেন, যিনি শক্তিশালী, রহস্যময় এবং জনগণের রক্ষক। এই ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র ম্যাক্স অটো ভন স্টিয়ারলিটজ-এর আদলে পুতিনকে উপস্থাপন করা হয়।   রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় পুতিনকে এমনভাবে তুলে ধরা হয় যেন তিনি সর্বশক্তিমান সিদ্ধান্তদাতা—যিনি সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন। এমনকি ২০০০ সালের কুরস্ক সাবমেরিন দুর্ঘটনায় ১১৮ নাবিক নিহত হলেও তাঁকে সরাসরি দায়ের সঙ্গে যুক্ত হতে দেওয়া হয়নি। প্রোপাগান্ডার আরেকটি কৌশল হলো ‘ভালো জার, খারাপ কর্মকর্তা’ তত্ত্ব—রাষ্ট্রে কোনো ব্যর্থতা হলে তা পুতিনের নয়, বরং অধস্তনদের দায় বলে তুলে ধরা হয়।   'এর উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় নেতা আলেক্সান্ডার শেসতুনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়, যিনি একটি পরিবেশগত প্রকল্পের বিরোধিতা করায় দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পুরোপুরি প্রচারণার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। এমনকি ২০১৪ সালে মস্কোর একটি বড় যুদ্ধবিরোধী সমাবেশকে টেলিভিশনে প্রায় ফাঁকা দেখানো হয়েছিল।   এই প্রচারণার উদ্দেশ্য শুধু বিভ্রান্তি সৃষ্টি নয়, বরং জনগণের মধ্যে অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি করা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ মনে করে, তাদের জীবনের সিদ্ধান্ত মস্কোতেই নেওয়া হয়—ফলে প্রতিবাদের কোনো অর্থ নেই। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে জনগণের মধ্যে গর্বের অনুভূতি তৈরি করা হয়, যেমন ক্রিমিয়া দখল নিয়ে উল্লাস। যদিও এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।   তবে এই প্রোপাগান্ডার নেতিবাচক প্রভাবও স্পষ্ট। অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, জীবনমান কমেছে, অনেক এলাকায় মৌলিক সুবিধার অভাব রয়ে গেছে। তবুও রাষ্ট্রীয় প্রচারণা এসব বাস্তবতাকে আড়াল করে রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই কৌশল শুধু রাশিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়; উপযুক্ত পরিবেশ পেলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের প্রোপাগান্ডা কার্যকর হতে পারে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: দ্য ইকোনমিস্ট
প্রোপাগান্ডার জালে রাশিয়া: পুতিন কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখছেন জনমত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কীভাবে প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে একটি বিশাল রাষ্ট্রের জনমত নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন—সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সেই জটিল বাস্তবতা।   দীর্ঘদিন মস্কোতে কর্মরত সাংবাদিক মার্ক বেনেটস তাঁর বই ‘দ্য ডিসেন্ট’-এ দেখিয়েছেন, ধারাবাহিক মিথ্যাচার ও তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে কীভাবে রাশিয়ার জনগণের যুক্তিবোধ দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। এক প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিস্ট জানায়, এই প্রক্রিয়া এতটাই গভীরে গিয়েছে যে মানুষ অনেক সময় তথ্যকে মিথ্যা জেনেও তা বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছে।   রাশিয়ার বিরোধী রাজনীতিক ইলিয়া ইয়াশিন কারাগারে থাকার সময় এক সহবন্দির কাছ থেকে শুনেছিলেন, ইউক্রেন ‘নাজিতে ভরা’। অথচ সেই বন্দি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রায়ই মিথ্যা প্রচার করে। তবুও বিকল্প নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে তিনি সেই প্রচারণাকেই সত্য হিসেবে গ্রহণ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘দ্বৈত বাস্তবতা’ই পুতিনের প্রোপাগান্ডার মূল শক্তি—মানুষ জানে তথ্য বিকৃত হতে পারে, কিন্তু বিকল্প না থাকায় সেটিকেই মেনে নেয়।   পুতিনের ভাবমূর্তি গঠনে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ গ্লেব পাভলোভস্কি। তিনি এমন এক নেতার চিত্র তৈরি করেন, যিনি শক্তিশালী, রহস্যময় এবং জনগণের রক্ষক। এই ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র ম্যাক্স অটো ভন স্টিয়ারলিটজ-এর আদলে পুতিনকে উপস্থাপন করা হয়।   রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় পুতিনকে এমনভাবে তুলে ধরা হয় যেন তিনি সর্বশক্তিমান সিদ্ধান্তদাতা—যিনি সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন। এমনকি ২০০০ সালের কুরস্ক সাবমেরিন দুর্ঘটনায় ১১৮ নাবিক নিহত হলেও তাঁকে সরাসরি দায়ের সঙ্গে যুক্ত হতে দেওয়া হয়নি। প্রোপাগান্ডার আরেকটি কৌশল হলো ‘ভালো জার, খারাপ কর্মকর্তা’ তত্ত্ব—রাষ্ট্রে কোনো ব্যর্থতা হলে তা পুতিনের নয়, বরং অধস্তনদের দায় বলে তুলে ধরা হয়। এর উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় নেতা আলেক্সান্ডার শেসতুনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়, যিনি একটি পরিবেশগত প্রকল্পের বিরোধিতা করায় দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।   সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পুরোপুরি প্রচারণার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। এমনকি ২০১৪ সালে মস্কোর একটি বড় যুদ্ধবিরোধী সমাবেশকে টেলিভিশনে প্রায় ফাঁকা দেখানো হয়েছিল।   এই প্রচারণার উদ্দেশ্য শুধু বিভ্রান্তি সৃষ্টি নয়, বরং জনগণের মধ্যে অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি করা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ মনে করে, তাদের জীবনের সিদ্ধান্ত মস্কোতেই নেওয়া হয়—ফলে প্রতিবাদের কোনো অর্থ নেই।   একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে জনগণের মধ্যে গর্বের অনুভূতি তৈরি করা হয়, যেমন ক্রিমিয়া দখল নিয়ে উল্লাস। যদিও এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।   তবে এই প্রোপাগান্ডার নেতিবাচক প্রভাবও স্পষ্ট। অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, জীবনমান কমেছে, অনেক এলাকায় মৌলিক সুবিধার অভাব রয়ে গেছে। তবুও রাষ্ট্রীয় প্রচারণা এসব বাস্তবতাকে আড়াল করে রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই কৌশল শুধু রাশিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়; উপযুক্ত পরিবেশ পেলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের প্রোপাগান্ডা কার্যকর হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ভয়েস অব আমেরিকার প্রধান কার্যালয়। ছবি: রয়টার্স
আদালতের নির্দেশে আবার সচল হচ্ছে ভয়েস অব আমেরিকা, সাংবাদিকদের পুনর্বহালের নির্দেশ

এক বছর বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম Voice of America (ভয়েস অব আমেরিকা)। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দায়িত্ব নেওয়ার পর এক নির্বাহী আদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেন। তবে আদালত সেই সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছেন।   ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক Royce Lamberth গত মঙ্গলবার দেওয়া এক আদেশে বলেন, ভয়েস অব আমেরিকা বন্ধ করে দেওয়া আইনের পরিপন্থী ছিল। একই সঙ্গে তিনি শত শত সাংবাদিককে পুনরায় কাজে বহাল করার নির্দেশ দেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যক্রম চালুর সময়সীমা বেঁধে দেন।   দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি প্রোপাগান্ডার মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠিত এই গণমাধ্যমটি বন্ধ হওয়ার আগে প্রায় ৫০টি ভাষায় টেলিভিশন, রেডিও ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ ও তথ্যসেবা প্রদান করত।   ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছিলেন, ভয়েস অব আমেরিকার কনটেন্টে পক্ষপাত রয়েছে। একই সঙ্গে ‘রেডিও ফ্রি ইউরোপ’ ও ‘রেডিও ফ্রি এশিয়া’র মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।   এই প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি করে US Agency for Global Media। সংস্থাটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া Kari Lake দায়িত্ব নেওয়ার পর ৮৫ শতাংশের বেশি কর্মীকে বরখাস্ত করেন। ভয়েস অব আমেরিকায় এক হাজারের বেশি কর্মী চাকরি হারান।   তবে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, সিনেটের অনুমোদন না থাকায় ক্যারি লেকের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো বৈধ ক্ষমতা ছিল না। বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে ‘খামখেয়ালি’ বলেও মন্তব্য করেন বিচারক। ভয়েস অব আমেরিকার তিনজন সাংবাদিক ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার রায়েই আদালত প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন।   মামলাকারীদের একজন প্যাটসি উইডাকুসওয়ারা রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তাঁরা আশা করছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার এই উদ্যোগ আবারও শক্তিশালীভাবে ফিরে আসবে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করবে। এদিকে, আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সভা।
সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পেট্রল মজুত: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে জ্বালানি তেলে যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, পেট্রল পাম্পে যা দেখা দিয়েছে তা কোনো সত্যিকারের সংকট নয়। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে। তিনি জানান, অনেকেই পেট্রল মজুত করার চেষ্টা করছেন, তাই যদি কোথাও তেলের অস্বাভাবিক সংকট দেখা দেয়, তা নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দেশের সব গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে এটাই সরকারের প্রত্যাশা, তবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সাংবাদিকদের নতুন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হবে।   সভায় প্রতিমন্ত্রী ময়মনসিংহের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ ও যানজট নিরসনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, শহরের যানজটের মূল কারণ রাস্তার সংকট নয়, বরং ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।   সভায় জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রীরা, পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৯, ২০২৬ 0
সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষা ছাড়া গণমাধ্যম এগোবে না: তথ্যমন্ত্রী
সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষা ছাড়া গণমাধ্যম এগোবে না: তথ্যমন্ত্রী

নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাব-এ গণমাধ্যম সংগঠকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ন্যায্য দাবি ও পেশাগত সমস্যার সমাধান ছাড়া দেশের গণমাধ্যম প্রত্যাশিত উন্নয়নে পৌঁছাতে পারবে না।   তিনি জানান, সাংবাদিক সমাজের সংকটগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধান না করলে গণমাধ্যম খাতের সামগ্রিক সমস্যাও দূর করা সম্ভব নয়।   মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিকাশের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ কর্মসূচির আলোকে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও কর্মকৌশল শিগগিরই উপস্থাপন করা হবে।   এর আগে সাংবাদিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   সভায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং কালের কণ্ঠ-এর সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তারেক রহমানের বিজয়

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরঙ্কুশ বিজয় এখন বিশ্ব গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই প্রথম নির্বাচনে বিএনপির এই বিশাল জয়কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো।   রয়টার্সের বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আশা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির এই বিজয় দলটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সাফল্য। সংস্থাটি আশা প্রকাশ করেছে যে, এই ভোটের মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে।   এএফপি: ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতায়: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত’ ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খবর প্রকাশ করেছে। তাদের শিরোনাম: ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতায়: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ বছর বয়সে তারেক রহমান ১৭ কোটি মানুষের দক্ষিণ এশীয় দেশটির নেতৃত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দেশকে আরও উন্নত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।     দ্য গার্ডিয়ান: ‘হাসিনার উৎখাতের পর ঐতিহাসিক প্রথম নির্বাচনে বিএনপির জয় দাবি’ যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানেও বাংলাদেশের সংবাদ প্রকাশ করেছে। তাদের খবরের শিরোনাম, ‘হাসিনার উৎখাতের পর ঐতিহাসিক প্রথম নির্বাচনে বিএনপির জয় দাবি’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর সামগ্রিকভাবে নির্বাচনি প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।   বিবিসি: রাজপথ থেকে ক্ষমতার শীর্ষ চূড়ায় ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি তারেক রহমানকে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ওপর আলোকপাত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের পরিবার কয়েক দশক ধরে রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করলেও তার এই পথ মসৃণ ছিল না। বাবার হত্যাকাণ্ড, দুর্নীতির অভিযোগ এবং দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে তার এই ফিরে আসাকে একটি বড় রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখছে বিবিসি।   সিএনএন: সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তারেক রহমানের বিজয়ের পাশাপাশি তার আগামীর চ্যালেঞ্জগুলোকেও গুরুত্ব দিয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অস্থিরতা কাটিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং তৈরি পোশাক খাতকে পুনর্গঠন করাই হবে তার নতুন সরকারের প্রধান কাজ। তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন উল্লেখ করে, "প্রতিহিংসা ভালো কিছু আনে না, বরং ধ্বংস করে।"    ভারতীয় গণমাধ্যম ও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মুহূর্ত ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক 'দ্য হিন্দু' তারেক রহমানের এই জয়কে একটি "চমকপ্রদ রাজনৈতিক অভিষেক" হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের সেই মুহূর্তটি, যখন দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে জুতা খুলে জন্মভূমির মাটিতে পা রাখেন। দলটি জানিয়েছে, বিজয় পরবর্তী কোনো আনুষ্ঠানিক সমাবেশ তারা করবে না।   বিশ্ব গণমাধ্যমের সার্বিক বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন পথচলার ওপর এখন সারা বিশ্বের নজর। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখাই হবে নবনির্বাচিত এই নেতৃত্বের জন্য অ্যাসিড টেস্ট।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
জাতীয়

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0