মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপের আঁচ এবার সরাসরি গায়ে লাগছে বাংলাদেশের। দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি পার হতে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’কে অনুমতি দিচ্ছে না ইরান। ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমায় আটকা পড়ে আছে জাহাজটি। মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধে বাংলাদেশের ‘অস্পষ্ট’ অবস্থান এবং তেহরানের প্রতি যথাযথ শোক প্রকাশ না করায় এই কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং পরবর্তী উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া বিবৃতি নিয়ে অসন্তুষ্ট তেহরান। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শুরুতে দেওয়া বিবৃতিতে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে উল্টো ইরানের পাল্টা হামলার নিন্দা জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়েছে আইআরজিসি (ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর)। যদিও পরে শোক প্রকাশ করে আরেকটি বিবৃতি দেওয়া হয়, তবে তা তেহরানের কাছে ‘যথেষ্ট’ মনে হয়নি। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজটি বর্তমানে রাস আল খাইর বন্দর থেকে সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবানের পথে ছিল। দুই দফায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেও ইরানি নৌবাহিনীর বাধার মুখে ফিরে আসতে বাধ্য হয় জাহাজটি। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, কূটনৈতিক পর্যায়ে জোর তৎপরতা চলছে এবং দ্রুতই জট খোলার আশা করছেন তারা। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমী জাহানাবাদী সরাসরিই উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিবৃতিতে তেহরান সন্তুষ্ট নয়। এমনকি শোক বইতে সই করতে কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার না যাওয়াকেও ভালোভাবে নেয়নি দেশটি। সাবেক কূটনীতিকদের মতে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ‘নৈতিক ভিত্তি’ এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থনের বিষয়ে অবস্থান অস্পষ্ট হওয়ার কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তুরস্কে অবস্থানরত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে জাহাজটির নিরাপদ প্রস্থানের অনুরোধ জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, এই কূটনৈতিক ‘মনোকষ্ট’ কাটিয়ে বাংলার জয়যাত্রা কবে নাগাদ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের একজন শীর্ষ অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং তা মোকাবিলার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভারত, সুদান, কেনিয়া, ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশে গুরুত্বপূর্ণ বপন মৌসুম চলছে। এই সময়ে জ্বালানি ও সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কৃষকরা প্রয়োজনীয় উপকরণ কম ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন, যা সরাসরি উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সারের সরবরাহের একটি প্রধান রুট। এই পথ বন্ধ বা অচল থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং বাজারে খাদ্যের প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে। তোরেরো আরও বলেন, যদি দ্রুত কোনো সমঝোতা না হয়, তবে ক্ষতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এমনকি প্রণালি পুনরায় খুলে গেলেও বাণিজ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এবং বাজারের ধাক্কা সামাল দিতে প্রায় ৯০ দিন সময় লাগতে পারে। এই সময়সীমা কৃষি ও সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, যদি অচলাবস্থা দ্রুত শেষ করা যায়, তাহলে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হতে পারে এবং সম্ভাব্য খাদ্যসংকট এড়ানো সম্ভব। এদিকে, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে, ইরানের স্বার্থ ও অধিকার স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের এক সামরিক উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো ভবিষ্যৎ চুক্তিতে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সতর্কতার সঙ্গে নতুন সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্যও ইরান প্রস্তুত রয়েছে। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান এই অচলাবস্থা শুধু জ্বালানি খাত নয়, বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে কোনো জাহাজই এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পার হতে পারেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা দেশটির উপকূলে যাওয়া–আসা করা জাহাজগুলোকে আটকে দেওয়া হচ্ছে বা পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হচ্ছে। তবে অন্যান্য দেশের গন্তব্যে থাকা জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট শর্তে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক আপডেটে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো জাহাজই এই অবরোধ ভেঙে যেতে পারেনি। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জাহাজ থেকে ইরান যে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিল, তা বন্ধ করা এবং একই সঙ্গে দেশটির তেল রপ্তানিতে চাপ সৃষ্টি করা। অন্যদিকে, ইরান এই অবরোধকে ‘সমুদ্র দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রতিক্রিয়ায় তারা পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগরে নৌ চলাচলে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ বন্দর আব্বাস ত্যাগের পর অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়ান্স সেটিকে বাধা দিয়ে অন্যদিকে যেতে বাধ্য করে।
উত্তর কোরিয়া তাদের অত্যাধুনিক রণতরী ‘চো হিউন’ থেকে শক্তিশালী ক্রুজ ও জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, শীর্ষ নেতা কিম জং উন স্বয়ং উপস্থিত থেকে এই সামরিক মহড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল রণতরীর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদে নাবিকদের দক্ষতা যাচাই করা। মহড়ায় দুটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং তিনটি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পশ্চিম উপকূলের আকাশে প্রায় সাত হাজার নয়শ সেকেন্ড উড়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। কিম জং উন এই সফল মহড়ার পর নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে শত্রুর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পাল্টা হামলা চালানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এই মহড়ার সময় কিমকে বর্তমানে নির্মাণাধীন আরও দুটি আধুনিক রণতরীর কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া একই শ্রেণির তৃতীয় ও চতুর্থ যুদ্ধজাহাজ তৈরির মাধ্যমে নৌবহরকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পিয়ংইয়ং তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর গতি ত্বরান্বিত করছে। তারা মূলত বিচ্ছিন্ন কোনো যুদ্ধজাহাজের বদলে একটি শক্তিশালী সমন্বিত রণতরী বহর তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার এই ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা কোরীয় উপদ্বীপসহ বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। কিমের এই আধুনিক রণতরী নির্মাণের ঘোষণা প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া ২০২৫ সাল থেকেই এই ৫ হাজার টন ওজনের শক্তিশালী জাহাজ থেকে মরণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। দেশটির লক্ষ্য প্রতি বছর অন্তত দুটি করে এই ধরণের উন্নত যুদ্ধজাহাজ তৈরি করে নৌবাহিনীর শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমাদের মনোযোগ যখন অন্য যুদ্ধের দিকে নিবদ্ধ তখন কিম তার কৌশলগত পরমাণু শক্তিকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলছেন। উত্তর কোরিয়ার এই ধরণের পরীক্ষাগুলো মূলত তাদের দীর্ঘমেয়াদী সমরাস্ত্র উন্নয়ন পরিকল্পনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ২০২৬, কিম জং উন সামরিক মহড়া, চো হিউন রণতরী, কোরিয় উপদ্বীপ উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সংবাদ।
ইরান জরুরি বা অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে চলার অনুমতি দিয়েছে। দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার এই খবর সিএনএন প্রকাশ করেছে। তবে এখনো স্পষ্ট নয়, কোন ধরনের পণ্যকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ধরা হবে এবং শত্রু দেশের জাহাজগুলো এই অনুমতির আওতায় পড়বে কি না। ইরানের বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগের উপ-প্রধান হুমান ফাতি বলেন, বিশেষ করে মৌলিক খাদ্যপণ্য এবং পশুখাদ্য বহনকারী জাহাজগুলোকে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা শুধুমাত্র সেই জাহাজগুলোর জন্য প্রযোজ্য, যেগুলো ইরানের বন্দরের দিকে আসছে বা বর্তমানে ওমান উপসাগরে অবস্থান করছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত প্রোটোকল অনুসারে জাহাজগুলোর চলাচল সহজ করতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে সক্ষম জাহাজগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় চীন থেকে রাসায়নিক বহনকারী কয়েকটি জাহাজ ইরানে পৌঁছানোর ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু সাধারণ বাণিজ্য নয়, বরং এর পেছনে কৌশলগত গুরুত্বও থাকতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকে অন্তত চারটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ, যেগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে, দেশের বিভিন্ন বন্দরে ভিড়েছে। এছাড়া আরও একটি জাহাজ উপকূলের কাছে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব জাহাজ চীনের ঝুহাইয়ের গাওলান বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এবং এগুলো মূলত রাসায়নিক সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজগুলোতে সোডিয়াম পারক্লোরেট রয়েছে, যা কঠিন জ্বালানিভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি সম্ভব, যা ইরানের সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক মার্কিন বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে এবং এই ধরনের আমদানি সেই প্রচেষ্টার অংশ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতার একটি বড় অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে, যা আগের কিছু দাবির সঙ্গে ভিন্নতা দেখায়। ফলে নতুন করে কাঁচামাল আসা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, আংশিক ক্ষতি সত্ত্বেও দেশটি এখনো তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সম্ভবত বিকেন্দ্রীকৃত বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের সামরিক উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, সিএনএন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল পর্যবেক্ষণে ওমানের সাথে একটি বিশেষ প্রটোকল বা নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানান, শান্তি চলাকালেও উপকূলীয় দেশগুলোর ‘তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ের’ অধীনে জাহাজ চলাচল করা উচিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার লক্ষ্য জাহাজ চলাচলে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করা নয়, বরং কৌশলগত এই জলপথে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। গরিবাবাদি আরও উল্লেখ করেন, এই নীতিমালার মাধ্যমে জাহাজগুলোকে আরও উন্নত পরিষেবা প্রদান এবং যাত্রাপথকে আরও ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বাণিজ্যিকভাবে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ওমান সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ। বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী। রাষ্ট্রদূত জানান, ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল জাহাজগুলোকে নিরাপদে গন্তব্যে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। বর্তমানে ঢাকা ও তেহরান জাহাজগুলোর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করলেও যুদ্ধের বিষয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে ইরানের অসন্তোষের কথা লুকাননি। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ ইরানের ভাই। দুর্দিনে এক ভাই আরেক ভাইয়ের পাশে দাঁড়াবে—এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি আমরা নিন্দারও প্রত্যাশা করি।" তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল ইরানের বিরুদ্ধে নয়, বরং মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন। জলিল রহীমি জাহানাবাদী আমেরিকার কড়া সমালোচনা করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের উসকানিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনার সময়েই এই আগ্রাসন শুরু করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, "আমেরিকা এখন পালানোর পথ খুঁজছে।" সাধারণ জনগণের ওপর হামলা, স্কুল-কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বোমা বর্ষণকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "মসজিদ কি উগ্রবাদের আখড়া? শিশুরা কি তাদের জন্য হুমকি ছিল?" ইরানি রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, তারা কোনো প্রতিবেশী দেশকে লক্ষ্যবস্তু করছেন না, বরং আমেরিকান ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আমেরিকা ইরানের প্রযুক্তি বা ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়ে এখন পারমাণবিক হামলার হুমকি দিচ্ছে, যাতে ইরান মোটেও ভীত নয়। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "জাতিসংঘ এখন শক্তিশালী দেশগুলোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিপদে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকা বৃথা।"
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যখন অস্থিরতার কালো মেঘ, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য এলো স্বস্তির খবর। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে শঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত রয়েছে স্থিতিশীল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ৩ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ২৫ দিনেই দেশে পৌঁছেছে ৩০টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ। এরই মধ্যে ২৭টি জাহাজ থেকে তেল খালাস সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে দুটি জাহাজে খালাস প্রক্রিয়া চলছে। স্বস্তির খবর এখানেই শেষ নয়; আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ৬টি জ্বালানি জাহাজ বন্দরে ভিড়তে যাচ্ছে। যার মধ্যে থাকবে এলএনজি, গ্যাস অয়েল এবং এলপিজি। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান বাংলাদেশকে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবে বিশেষ অভয় দিয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের সাথে আরও রয়েছে ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তান। মূলত কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে নিয়মিত আসছে এলএনজি ও জ্বালানি তেল। তবে পরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল নিয়ে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান বন্দরে পৌঁছায়নি। তবে আশার কথা হলো, দেশের মোট চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ক্রুড অয়েল আর বাকি ৮০ শতাংশই পরিশোধিত তেল, যা বর্তমানে নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশে আসছে। ফলে বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বললেই চলে।
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে হামলার কবলে পড়া থাই মালবাহী জাহাজ ‘ময়ূরী নারি’ এবার ইরানি উপকূলে আটকা পড়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে আক্রান্ত হওয়া এই জাহাজটি দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে কিশম দ্বীপের রামচাহ গ্রামের কাছে বালুচরে আটকে যায়। পরবর্তীতে জাহাজটির অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি শুক্রবার জানিয়েছে, জাহাজটি কিশম দ্বীপ থেকে সরে গিয়ে পার্শ্ববর্তী লারাক দ্বীপে পৌঁছেছে। তবে জাহাজটি ঠিক কীভাবে সেখানে পৌঁছাল বা বর্তমানে এর যান্ত্রিক অবস্থা কেমন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি তেহরান। উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ ২৩ জন ক্রু নিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করা হয়। ওই ভয়াবহ হামলার পর ৩ জন ক্রু নিখোঁজ হন। বাকি ২০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদে ব্যাংককে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও জাহাজটির ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছেই না। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার বন্দর থেকে ছেড়ে আসা একটি তুর্কি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইস্তাম্বুলের বসফরাস প্রণালীর অদূরে সংঘটিত এই বিস্ফোরণে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন এতে থাকা ২৭ জন নাবিক। তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ‘আলতুরা’ নামক জাহাজটি যখন বসফরাস প্রণালী থেকে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার দূরে ছিল, তখনই এই হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে আসা এই জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করেই মূলত হামলাটি চালানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের পরপরই তুর্কি কোস্টগার্ড দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, জাহাজটি প্রায় পূর্ণ বোঝাই ছিল এবং এর উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার তেল সরবরাহ করা। তুরস্কের জলসীমার ঠিক বাইরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি ওই অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বিদেশি জাহাজগুলোর জন্য টোল আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। এ সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে দেশটির পার্লামেন্টে গৃহীত হয়েছে এবং এর খসড়া তৈরির কাজ চলছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ–কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পার্লামেন্টের এক আইনপ্রণেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম কর্তৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা এবং এই পথ ব্যবহারকারী বিদেশি জাহাজ থেকে ফি আদায়ের লক্ষ্যে এই আইন আনা হচ্ছে। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হয়েছে, যার ফলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের এই পদক্ষেপ মূলত ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে ‘মিত্র’ বা নিরপেক্ষ দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে সরাসরি বাধা না থাকলেও নতুন নিয়ম অনুযায়ী তাদেরও নির্দিষ্ট অনুমতি নিতে হবে। এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন–এর সদস্য দেশগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র : দ্য স্ট্রেইট টাইমস
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে একটি মাল্টার পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য ধরা পড়েছে। ১৮ মার্চ ধারণ করা ওই ছবিতে দেখা গেছে, ‘সাফিন প্রেসটিজ’ নামক ১৭৫ মিটার দীর্ঘ বিশাল জাহাজটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। ওমানের রাস মাখবুক থেকে প্রায় ৪.৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে বর্তমানে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ভাসছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, গত ৪ মার্চ একটি ‘অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল’ বা ক্ষেপণাস্ত্র জাতীয় বস্তুর আঘাতে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে প্রথম আগুন লাগে। প্রাণ বাঁচাতে জাহাজের সব ক্রু ইতোমধ্যেই সেটি ত্যাগ করেছেন। পাকিস্তানের ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক অফিস বুধবার এক জরুরি নেভিগেশনাল সতর্কবার্তায় ওই এলাকায় চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজকে সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাওয়া এই নতুন আগুন ঠিক কখন শুরু হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিএনএন জাহাজের দৈর্ঘ্য এবং অবস্থান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে যে, এটি সেই ক্ষতিগ্রস্ত ‘সাফিন প্রেসটিজ’ জাহাজই।
দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমদানিকৃত জ্বালানি দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে বন্দরে ভিড়তে যাচ্ছে আরও দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ ও ‘এলপিজি সেভেন’ নামের জাহাজ দুটি বর্তমানে খালাস কার্যক্রমে রয়েছে। এর মধ্যে ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ বুধবার এবং ‘এলপিজি সেভেন’ শুক্রবার (২০ মার্চ) মূল বন্দরে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ গত ১৫ মার্চ বন্দরে পৌঁছে বর্তমানে ব্রাভো মুরিং এলাকায় অবস্থান করছে। জাহাজটি থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি খালাস হয়েছে এবং ১৯ মার্চের মধ্যে পুরো খালাস শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘এলপিজি সেভেন’ গত ৮ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ২০ মেট্রিক টন এলপিজি খালাস করা হয়েছে। ২০ মার্চের মধ্যে জাহাজটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মোট ২৮টি জ্বালানিবাহী জাহাজের মধ্যে অধিকাংশই কার্গো খালাস শেষে বন্দর ত্যাগ করেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ওমান ও ভারত থেকে আসা এসব জাহাজে এলএনজি, এলপিজি, ক্রুড অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, অ্যাঙ্গোলা, থাইল্যান্ড ও ওমান থেকে আরও কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়াত হামিম বলেন, জ্বালানি খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন জাহাজগুলোর আগমনে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস
হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপত্তা সম্পর্কিত নতুন কূটনৈতিক ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ইরান ভারতের কাছে তিনটি জাহাজ—অ্যাসফেল্ট স্টার, আল জাফজিয়া এবং স্টেলার রুবি—ফেরত চেয়েছে। পাশাপাশি, ভারতের কাছে জরুরি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামের অনুরোধও জানানো হয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে। জাহাজগুলোর মধ্যে স্টেলার রুবি ইরানের মালিকানাধীন, আর আল জাফজিয়া ও অ্যাসফেল্ট স্টার যথাক্রমে মালি ও নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী। গত ফেব্রুয়ারিতে আরব সাগরের ভারতীয় সীমানায় এই জাহাজগুলো জব্দ করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড, কারণ তাদের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে তিনটি জাহাজ মুম্বাই বন্দরে রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনটি জাহাজ ফেরত চাওয়া হয় এবং ইরানের জনগণের জন্য জরুরি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামের অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় ও ইরানি সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো মন্তব্য করেননি। হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে চলাচল করা তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট ব্যবহার করে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানির জন্য এই পথ অপরিহার্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ১২টিরও বেশি ট্যাঙ্কার জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে, তবে ভারতের জাহাজে কোনো হামলা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি নির্দেশ দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজগুলোকে নিরাপদ রাখা হবে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়ম জয়শঙ্কর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, এই নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং এতে কোনো ‘লুকোছাপা’ নেই। এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ভারতের চারটি জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজকে নিরাপদ প্যাসেজ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত জলসীমায় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অধিকাংশ নাবিককে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএমটিও)-র তথ্যমতে, হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিকাণ্ডের শিকার এই জাহাজটির আগুন পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজটিতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাপানি কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ এবং দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথ’ নামের আরও একটি জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দুটি জাহাজের নাবিকরা সুরক্ষিত আছেন বলে নিশ্চিত করেছে মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক এই তিনটি হামলাসহ সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হলো।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল নাগাদ থাইল্যান্ডের ফুকেট দ্বীপের কাছে সমুদ্রে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। ‘লায়েম প্রোমথেপ’ উপকূল থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে বাংলাদেশ অভিমুখী ‘সিলয়েড আর্ক’ নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজ হঠাৎই ডুবে যায়। তবে স্বস্তির বিষয়, জাহাজে থাকা ১৬ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয় থাই কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, প্রায় ৪ হাজার ৩৩৯ টন ওজনের জাহাজটি ২৯৭টি কন্টেইনার বহন করছিল এবং সেগুলো নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। মাঝ সমুদ্রে আচমকা জাহাজে পানি ঢুকতে শুরু করলে ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং একপর্যায়ে জাহাজটি নিমজ্জিত হয়ে যায়। ঘটনার পরপরই থাইল্যান্ডের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নৌ ও হেলিকপ্টারের সহায়তায় জাহাজে থাকা সব ক্রু সদস্যকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও যাচাই চলছে। জাহাজডুবির ফলে সমুদ্রজুড়ে বড় ধরনের পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রায় ৪ দশমিক ৫ মাইল দীর্ঘ ও ১ মাইল প্রশস্ত এলাকাজুড়ে তেলের স্তর ভেসে থাকতে দেখা গেছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—জাহাজে থাকা কন্টেইনারগুলোর মধ্যে অন্তত ১৪টিতে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থ ছিল। এই পরিস্থিতিকে থাই কর্তৃপক্ষ একটি বড় ধরনের সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলায় রোববার একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে থাইল্যান্ড। আকাশপথে নজরদারি চালিয়ে তেলের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত ফুকেটের মূল উপকূলীয় এলাকায় তেল পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিক বোঝাই কন্টেইনার সামুদ্রিক প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে। এদিকে বাংলাদেশগামী এই জাহাজে আমদানিকৃত পণ্য থাকায় দেশের বাজারে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাই সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও সমুদ্র পরিষ্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।