ডলার

ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালীতে ইরান-চীন জোট: মার্কিন ডলারের একাধিপত্যে বড় আঘাত

বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য বা ‘হেজেমনি’ মোকাবিলায় নতুন রণকৌশল নিয়েছে ইরান ও চীন। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ ব্যবহার করে এবার ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’-এর প্রচলন শুরু করেছে দেশ দুটি। আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন টালমাটাল, ঠিক তখনই তেহরান ও বেইজিং এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে ট্রানজিট ফি হিসেবে ডলারের পরিবর্তে ইউয়ান গ্রহণ করছে ইরান। অন্তত দুটি বড় জাহাজ ইতোমধ্যে ইউয়ানে তাদের ফি পরিশোধ করেছে বলে লয়েড’স লিস্ট (Lloyd’s List) নিশ্চিত করেছে। কেন এই পদক্ষেপ? বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও চীন উভয়েই দীর্ঘকাল ধরে ওয়াশিংটনের ‘ডলার ডিপ্লোমেসি’ বা ডলারের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার রাজনীতির শিকার। বিশ্ব তেলের বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ লেনদেন ডলারে হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র খুব সহজেই যেকোনো দেশের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই আধিপত্য খর্ব করতেই তেহরান ও বেইজিং এখন ‘পেট্রো-ইউয়ান’ (Petroyuan) ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ কেনেথ রোগফ আল-জাজিরাকে বলেন, "ইরান একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের চোখে আঙুল দিয়ে নিজেদের শক্তি দেখাচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইউয়ানকে বেছে নিয়েছে। চীনও চাইছে তাদের মুদ্রাকে বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সিতে রূপান্তর করতে।" সুবিধা ভোগ করছে দুই পক্ষই চীনের জন্য এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশটি ইরানের তেলের ৮০ শতাংশেরই ক্রেতা। ইউয়ানে লেনদেন করলে উভয় দেশই মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সহজে ও কম খরচে বাণিজ্য করতে পারছে। ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় এই সহযোগিতা আরও জোরালো হয়েছে। ডলারের ভবিষ্যৎ কী? যদিও ইউয়ান দ্রুত প্রভাব বিস্তার করছে, তবে মার্কিন ডলারের জায়গা দখল করা এখনো বেশ কঠিন। বর্তমানে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ৫৭ শতাংশই ডলারে রাখা হয়, যেখানে ইউয়ানের অবস্থান মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি। এছাড়া চীনের কঠোর মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে ইউয়ান এখনো ডলারের মতো অবাধে বিনিময়যোগ্য নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একদিনে সম্ভব না হলেও ধীরে ধীরে ডলারের ভিত দুর্বল করে দিচ্ছে। কিলে ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বুলেন্ট গোকায় বলেন, বেইজিং একটি 'মাল্টিপোলার' বা বহুমুখী আর্থিক বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে, যেখানে একক কোনো মুদ্রার খবরদারি থাকবে না। ইরান বুধবার ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় তারা হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতের গ্যারান্টি দেবে। তবে এই সময়ের মধ্যেও ইউয়ানে লেনদেন অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন ডলারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
বিশ্ববাজারে সোনার দামে নজিরবিহীন ধস

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি আর মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের মুখে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে সোনা। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ।  মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি আর তেলের বাজারের অস্থিরতায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। বিশ্ববাজারের এই বড় পতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ার সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে সোনার দাম ২.৮ শতাংশের বেশি কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪,৬২২.৫৯ ডলারে। দিনের শুরুতে এই পতন ৪ শতাংশও ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা টানা চার দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে থামিয়ে দিয়েছে। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ৩.৪ শতাংশ কমে ৪,৬৪৯ ডলারে নেমেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণই এই অস্থিরতার মূল কারণ। ইরানের ওপর আরও আগ্রাসী হামলার হুঁশিয়ারি এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ইঙ্গিতের পর তেলের দাম এক লাফে ৬ শতাংশ বেড়ে গেছে।  ক্যাপিটাল ডট কমের সিনিয়র বিশ্লেষক কাইল রড্ডা জানান, ডলারের সূচক এবং মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড বেড়ে যাওয়ায় সোনার ওপর চাপ বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন সোনার চেয়ে ডলার এবং তেলের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। বিশ্ববাজারে দামের এই বড় পতনের ফলে দেশের বাজারেও সোনা সস্তা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাজুস সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে যেকোনো সময় স্থানীয় বাজারে দাম কমানোর ঘোষণা আসতে পারে। উল্লেখ্য যে, গত ১ এপ্রিল দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২,৪৭,৯৭৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২,৩৬,৭২১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ২,০২,৮৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের শীর্ষ নেতাদের তথ্য দিলে ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিচালিত রিওয়ার্ড ফর জাস্টিস কর্মসূচির ওয়েবসাইটে এই ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, আইআরজিসি এবং এর বিভিন্ন শাখার গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অবস্থান, কার্যক্রম এবং নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করাই এই পুরস্কার ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য। ওয়াশিংটনের দাবি, আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে, তাই তাদের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   রিওয়ার্ড ফর জাস্টিস কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে পুরস্কার ঘোষণা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং প্রয়োজনে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই পুরস্কার ঘোষণা কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা চাপ বাড়ানোর একটি অংশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্সে জোয়ার, দিনে গড়ে ১২ কোটি ডলার
ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্সে জোয়ার, দিনে গড়ে ১২ কোটি ডলার

চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২১৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে এসেছে প্রায় ১২ কোটি ডলার।   এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাসে দিনের সংখ্যা কম হলেও মোট রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর আগে টানা দুই মাস—ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে—৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল।   বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ফেব্রুয়ারির একই সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছিল ১৬৭ কোটি ডলার। সেই তুলনায় এবার প্রায় ৪৬ কোটি ডলার বেশি এসেছে, যা প্রবৃদ্ধির হার ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।   চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।   অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসাবে বেড়েছে ৩৯৩ কোটি ডলার বা ২২ দশমিক ২৯ শতাংশ। উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল ৬৪২ কোটি ডলার, যা শতাংশের হিসাবে ২৬ দশমিক ৮৩।   দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড হয় গত বছরের মার্চে—৩৩০ কোটি ডলার। রমজান ও ঈদকে ঘিরে সে সময় প্রবাসীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠান। পরে ডিসেম্বরে আসে ৩২২ কোটি ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে নির্বাচন ও রোজাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, অর্থ পাচার রোধে কঠোর নজরদারি এবং অবৈধ হুন্ডি কার্যক্রম দমনে উদ্যোগের ফলে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। গত বৃহস্পতিবার দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
দুই দিনের ব্যবধানে আরও ১৭ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

দুই দিনের ব্যবধানে দেশের ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৭ কোটি ১০ লাখ (১৭১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।    বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ক্রয় করা এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। ডলার কেনার ক্ষেত্রে কাট-অফ হারও ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   এর আগে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ (২১৮.৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এর ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৩৮৯.৫০ মিলিয়ন বা ৩৮ কোটি ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।   একই দরে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৫০ লাখ (৫৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ২০ জানুয়ারি দুই বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১২ জানুয়ারি ১০ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, ৬ জানুয়ারি ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আজ আমরা ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২.৩০ টাকা কাট-অফ রেটে মোট ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার ক্রয় করেছি। এর ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৩৮৯.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয় দাঁড়াল ৪ হাজার ৩২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।  

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
মার্কিন ডলাররয়টার্স ফাইল ছবি
বিশ্ববাজারে ডলারের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

বিশ্ববাজারে সোনার দাম তরতর করে বাড়ছে। দুই দিন আগেই সোনার দাম ইতিহাসে প্রথম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে কমে গেছে ডলারের দাম। বাস্তবতা হলো, বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার নিরিখে ডলারের মান এখন চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।   পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যত অস্ত্র আছে, সম্ভবত তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো আর্থিক ব্যবস্থা। আরও স্পষ্ট করে বললে, তার মুদ্রা ডলার। কেননা বিশ্বের সিংহভাগ বাণিজ্যই হয় এই মার্কিন মুদ্রা ডলারে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সেই ডলারের মান কমলেও তিনি নির্বিকার। তাঁর ভাষ্য, ডলারের মান অনেক উঁচুতে। এর পেছনে অবশ্য কৌশলগত কারণ আছে। খবর রয়টার্সের।   বিভিন্ন কারণেই ডলারের মান কমছে। সংবাদে বলা হয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভ নীতি সুদহার আরও কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশা, শুল্কনীতি ঘিরে অনিশ্চয়তা, নীতিনির্ধারণে অস্থিরতা—এসব নানা কারণেই ডলারের দাম কমছে। পাশাপাশি ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের আশঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান রাজস্বঘাটতির প্রভাবও বাজারে পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হচ্ছে।   ডলারের দর কমলে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকদের সুবিধা হয়। কেননা এতে মার্কিন পণ্য বিদেশি বাজারে তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ডলারের মূল্য আরও কমে যাক—এমনটা তিনি চান না। তাঁর চাওয়া, ডলার নিজের জায়গাতেই থাক।   আইওয়ায় এক ভাষণের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এ ভাষণে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই প্রাধান্য পাওয়ার কথা। বিষয়টি হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গ্রামীণ ভোটব্যাংককে সক্রিয় করতে চাইছেন ট্রাম্প। ডলারের মূল্য খুব বেশি কমে গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমি মনে করি, ডলার দারুণ অবস্থানেই আছে। ডলারের মূল্য…ডলার ভালোই করছে।’   কিন্তু ট্রাম্পের কপাল খারাপ। এসব মন্তব্যের পর ডলার ইনডেক্স বা ডলারের পতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের সমান নির্ণয়কারী এই সূচক ৯৫ দশমিক ৫৬৬-এ নেমে এসেছে—২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর যা সর্বনিম্ন।   ট্রাম্প আরও বলেন, ‘চীন ও জাপানের দিকে তাকালে দেখবেন, তাঁদের সঙ্গে আমাকে একসময় প্রচণ্ড লড়াই করতে হতো, তারা সব সময় নিজেদের মুদ্রার মান কমাতে চাইত।’   বিষয়টি হলো, দীর্ঘদিন ধরেই ডলার দুর্বল—এমন প্রেক্ষাপটেই এ মন্তব্য করেন তিনি। সম্প্রতি ডলারের ওপর চাপ বেড়েছে। কারণ হিসেবে সংবাদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে—ব্যবসায়ীরা এমন সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। লক্ষ্য, দুর্বল হয়ে পড়া ইয়েনকে শক্তিশালী করা।   যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান রেট চেক (যখন কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা অর্থ মন্ত্রণালয় বড় ব্যাংক ও ডিলারদের কাছে সরাসরি জানতে চায়, এখন বাজারে ডলার-ইয়েন বা অন্য মুদ্রা ঠিক কোন দরে লেনদেন হচ্ছে) করতে পারে—এমন রটনা ছড়িয়ে পড়ার পর গত দুই অধিবেশনে ইয়েনের দর সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বাজারে সাধারণত এ ধরনের পদক্ষেপকে সরকারি হস্তক্ষেপের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হয়।   নিউইয়র্কে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গ্লোবাল জি-১০ বৈদেশিক মুদ্রা গবেষণা ও উত্তর আমেরিকা ম্যাক্রো কৌশল বিভাগের প্রধান স্টিভেন ইংল্যান্ডার বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অংশগ্রহণকারীরা সব সময়ই এমন কোনো প্রবণতার খোঁজ করেন, যার সঙ্গে যুক্ত হওয়া যায়। সাধারণত মুদ্রার হঠাৎ বড় ধরনের ওঠানামার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়। যখন প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে উদাসীনতা দেখান বা উল্টোভাবে সমর্থন জানান, তখন ডলার বিক্রেতারা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন।’   ডলারের দুর্বলতার সুফলও আছে বাস্তবতা হচ্ছে, ডলারের দরপতন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির শক্তি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের প্রতিফলন। সেই সঙ্গে আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় তা মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে আবার কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উপকৃতও হয়। দুর্বল ডলারের ফলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য বিদেশে অর্জিত মুনাফা ডলারে রূপান্তর করা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়। একই সঙ্গে মার্কিন রপ্তানিপণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী হয়।   ডলারের দর কমলে ডলারে ঋণ নেওয়া দেশ ও করপোরেশনগুলোর চাপও হালকা হয়। এ পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধে তাদের নিজস্ব মুদ্রা তুলনামূলকভাবে কম খরচ করতে হয়।   নিউ জার্সিভিত্তিক মানিকর্পের ট্রেডিং ও স্ট্রাকচার্ড প্রোডাক্টস বিভাগের প্রধান ইউজিন এপস্টাইন বলেন, প্রশাসন দুর্বল ডলারই চায়। এতে বাণিজ্যঘাটতি কমানো সহায়ক হয়। মূল কথা হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথাব্যথার মূল কারণ হলো বাণিজ্যঘাটতি। সে কারণেই ডলারের দুর্বলতা নিয়ে প্রেসিডেন্টের উদ্বেগ নেই।   কানেকটিকাটের গ্রিনউইচে অবস্থিত ইন্টারঅ্যাকটিভ ব্রোকার্সের বাজার কৌশলবিদ স্টিভ সসনিক বলেন, দুর্বল ডলার হলো ‘দুধারী তলোয়ার’।   সসনিক বলেন, ‘একদিকে এটি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য ভালো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাদের কার্যক্রম আছে এবং যারা বিভিন্ন মুদ্রায় আয় করে, ডলারে রূপান্তরের সময় তারা দুর্বল ডলারের সুবিধা পায়। অন্যদিকে এতে আমদানিপণ্যের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি হতে পারে।’   দেশের বাজারে ডলার স্থিতিশীল ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে ডলারের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। ৯ শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে এ মুদ্রার। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই ডলারের মান স্থিতিশীল। বিশ্ববাজারে এ পতনের প্রভাব দেশের বাজারে পড়ছে না। দেশের বাজারে ডলারের মান অনেক দিন ধরেই ১২২ টাকায় স্থিতিশীল।   জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে এ মুদ্রার দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে।    

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
জাতীয়

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0