ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, ইরান যুদ্ধ, কূটনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। পাশাপাশি প্রশাসনিক অনিয়ম ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিও গুরুত্ব পেয়েছে। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো— কালের কণ্ঠ: ‘বিষাদে বিলীন ঈদ আনন্দ’ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর টানা উদ্ধার অভিযানে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সব মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে যার মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্যও আছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন যাত্রী আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে নতুন করে কেউ না আসায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে এত বড় দুর্ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। একসঙ্গে এত প্রাণহানিতে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ফেরিতে ওঠার সময় তাড়াহুড়ো এবং প্রতিযোগিতাও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্ঘটনার পরপরই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে নিহতদের দাফন ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হচ্ছে। অনেক পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। কেউ হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, আবার কেউ হারিয়েছেন সন্তান বা স্বজন। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতেও এমন দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে। দেশ রূপান্তর: ‘সর্বনাশী পদ্মায় বিষাদের ঢেউ’ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মহান স্বাধীনতা দিবসে যেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন স্বজন হারানোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি মুহূর্তের মধ্যেই পানিতে তলিয়ে যায়। কেউ কেউ জানালা ও দরজা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ যাত্রী বের হতে পারেননি। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় ডুবে যাওয়া বাসটি পন্টুনে তোলা হয়। ওই সময় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখে পরদিন বিকেল পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ডুবুরি দল নদীর তলদেশে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। এই দুর্ঘটনায় বহু পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে। কারও একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, আবার কারও সন্তান বা স্বজন হারিয়ে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেরিঘাটের অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি এড়ানো যায়। আজকের পত্রিকা: ‘তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ’ এই খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) এবং আট হাজারের বেশি কনস্টেবল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জেলা কোটা লঙ্ঘন, স্থায়ী ঠিকানা গোপন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে অনিয়ম করে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, এসব নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে এবং তদন্তে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশগামী জ্বালানি জাহাজ চলাচলে ইরানের সম্মতি’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জ্বালানি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানকেও এই সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। সমকাল: ‘জ্বালানি তেল ও গ্যাস আনতে বিকল্প আট দেশে নজর’ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত, অ্যাঙ্গোলা ও থাইল্যান্ডসহ আটটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব দেশ থেকে জ্বালানি বহনকারী ২১টি জাহাজ এসেছে এবং আরও চালান আসার কথা রয়েছে। যদিও এসব উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল, তবে হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইত্তেফাক: ‘জ্বালানি আমদানি ব্যয় ৪৮০ কোটি ডলার বাড়ার আশঙ্কা’ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ব্যয় বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় চাপ তৈরি করবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। দ্য ডেইলি স্টার: ‘ছুটির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন’ ঈদের দীর্ঘ ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ব্যাংক বন্ধ থাকায় অর্থ লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এপ্রিল মাসের জন্য পরিকল্পিত অনেক জ্বালানি চালান এখনো নিশ্চিত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। প্রথম আলো: ‘ফেরিঘাটে অব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অরক্ষিত পন্টুন’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলিংবিহীন পন্টুন, ভাঙাচোরা সংযোগ সড়ক, ফেরিতে আগে ওঠার প্রতিযোগিতা এবং নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচল ফেরিঘাটকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বণিক বার্তা: ‘সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে আসছে না প্রকৃত হতাহতের তথ্য’ সাম্প্রতিক সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বেসরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে সরকারি হিসাবের বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবল সংকট ও দক্ষতার অভাবে এই তথ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। মানবজমিন: ‘সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ’ স্বাধীনতা দিবসে সারা দেশে শহীদদের স্মরণ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজ করার অঙ্গীকার
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আজকের প্রধান সংবাদগুলোতে উঠে এসেছে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- যুগান্তর: এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তেলের মজুত সর্বনিম্ন। খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং তেল বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার অদক্ষতা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২০ সালে অন্তত ৬০ দিনের তেল মজুত সক্ষমতা তৈরির সিদ্ধান্ত থাকলেও বর্তমানে দেশের মজুত ক্ষমতা মাত্র ৩০–৩৫ দিনের, যার মধ্যে ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় ১০–১১ দিনের। আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের মজুত সক্ষমতা অনেক কম। ভারতে তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ৭৪ দিনের, ভিয়েতনামে ৪৫ দিন, থাইল্যান্ডে ৬১ দিন এবং জাপানে প্রায় ২৫০ দিনের সমপরিমাণ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান মজুত আসলে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়; বরং এটি কেবল স্বাভাবিক পরিচালনার জন্য রাখা মজুত। বিশেষজ্ঞরা আরও অভিযোগ করেছেন, তেল বিতরণকারী কোম্পানিগুলো মজুত অবকাঠামো বাড়ানোর পরিবর্তে ব্যাংকে অর্থ জমা রেখে সুদ অর্জনের দিকেই বেশি আগ্রহী। এ পরিস্থিতিকে অদক্ষ ব্যবস্থাপনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। প্রথম আলো: এক বছরে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে করা এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে ভুক্তভোগী নারী ও তাদের পরিবারের ভিড় থেকেই বোঝা যায় বিচারপ্রার্থীদের মানসিক যন্ত্রণা কতটা গভীর। আদালতের কক্ষের ভেতরে জায়গা না থাকায় অনেকেই বারান্দায় অপেক্ষা করেন। মামলার শুনানির সময় অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের বেদনাদায়ক বর্ণনাও শোনা যায়। এসব আদালতে ধর্ষণসহ বিভিন্ন নির্যাতনের মামলায় ভুক্তভোগীরা বিচার পাওয়ার আশায় হাজির হন। তবে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও মানসিক চাপ তাঁদের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে এবং ধর্ষণের মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। গত বছরে নারী নির্যাতনের মোট মামলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল ধর্ষণের অভিযোগ। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে করা ধর্ষণের অভিযোগের ১১ হাজারের বেশি মামলার তদন্তে প্রায় ৪৪ শতাংশ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বণিক বার্তা: পাকিস্তানে ৭০ শতাংশ পেট্রল পাম্প বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পাকিস্তানেও পড়তে শুরু করেছে। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় করাচির বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে এবং কিছু পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করে সতর্কবার্তা জারি করেছেন পেট্রোলিয়াম ডিলাররা। যদিও পাকিস্তান সরকার বলছে দেশে পেট্রল ও ডিজেলের কোনো ঘাটতি নেই, তবে নতুন জ্বালানি মূল্যের ঘোষণা কার্যকর হওয়ার আগেই অনেক নাগরিক তড়িঘড়ি করে জ্বালানি কিনতে পাম্পে ভিড় করছেন। খাইবার পাখতুনখোয়া পেট্রোলিয়াম ডিলারস অ্যান্ড কটেজ কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য সচিব নাজিবুল্লাহ জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের কাছে পেট্রল ও ডিজেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে অনেক এলাকার পাম্প ইতোমধ্যে জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী সোমবারের মধ্যে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পেট্রল পাম্পের মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। মানবজমিন: জ্বালানি তেল নিয়ে ‘তেলেসমাতি’। খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারেও। এ মুহূর্তে বড় ধরনের সংকট না থাকলেও ভবিষ্যৎ সংকটের আশঙ্কায় বাড়তি জ্বালানি মজুতের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সরকার বলছে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং আমদানির পাইপলাইনে তেল রয়েছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল কিনতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে অনেকেই এই আহ্বান উপেক্ষা করে বাড়তি তেল সংগ্রহ করতে পাম্পে ভিড় করছেন। এতে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। সংকটের সুযোগে পাম্প মালিকরা বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগও উঠেছে। এমনকি পুলিশ পাহারায় জ্বালানি তেল বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে। নিউ এইজ: Women's affairs reforms still on paper-অর্থাৎ নারী বিষয়ক সংস্কারের কথা এখনো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। খবরে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশে নারীদের প্রতি বৈষম্য দূর করা, সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর বেশিরভাগই এখনো বাস্তবায়নের বাইরে রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন মোট ৪৩৩টি সুপারিশ জমা দেয়। এসব সুপারিশের মধ্যে নারীদের সমান সম্পত্তির অধিকার, একটি ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড প্রণয়ন এবং একটি স্থায়ী ও স্বাধীন নারী বিষয়ক কমিশন গঠনের প্রস্তাব ছিল। এদিকে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার জানিয়েছে, তারা কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে। নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। আজকের পত্রিকা: শুল্ক কমানোর সুফল নেই এলপি গ্যাসের দামে। খবরে বলা হয়েছে, সরকার এলপি গ্যাসের আমদানি শুল্ক কমালেও বাজারে এর সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৩৪১ টাকা হলেও রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় তা প্রায় ১,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে প্রতি কেজি গ্যাসে ভোক্তাদের অন্তত ৩০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। দেশের দৈনিক প্রায় ৫ হাজার টন গ্যাসের চাহিদা বিবেচনায় প্রতিদিন প্রায় ১৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা প্ল্যান্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ডিস্ট্রিবিউটরদের মতে, সীমিত সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় ও অপেক্ষার সময় বাড়ায় প্রান্তিক পর্যায়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মতে, আমদানিকারকেরা প্রকৃত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে গ্যাস সরবরাহ করছে। সরকারি ইনভয়েস ও বাস্তব বিক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্যের প্রমাণও পাওয়া গেছে, যার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বাড়তি মুনাফা করছে। দ্য ডেইলি স্টার: Family Card pilot to cover 40,000 households-অর্থাৎ পরীক্ষামূলকভাবে ৪০ হাজার পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড। সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় আগামী চার মাসে ৪০ হাজার পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগামী ১০ মার্চ থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে এবং প্রতিটি পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। এই কর্মসূচির জন্য সংশোধিত বাজেটের ব্লক বরাদ্দ থেকে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ দশমিক ১৫ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে ব্যয় হবে এবং বাকি অর্থ উপকারভোগী নির্বাচন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। প্রথম ধাপে ১৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারের ৫০ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হবে যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য। এ কাজে ৫৬০ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হবে এবং প্রত্যেকে ৫,০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। জুনের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ শেষ করে ৪০ হাজার উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। নয়া দিগন্ত: সংসদে নিজেদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন। এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দল তাদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। কারণ এবারের সংসদের অধিকাংশ সদস্যই নতুন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা সংসদে নিজেদের সক্ষমতা ও উপস্থিতি তুলে ধরতে চান। সংসদে সম্ভাব্য তর্ক-বিতর্ক ও রাজনৈতিক মোকাবেলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে বিভিন্ন দল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সব দলই নিজেদের সংসদ সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে বলে জানা গেছে। আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সেই অধিবেশনেই বোঝা যাবে নতুন সংসদ সদস্যদের প্রস্তুতি সংসদের আলোচনায় কতটা প্রতিফলিত হয়। দেশ রূপান্তর: দুবাই থেকে পুঁজি সরানোর পথ খুঁজছেন এশিয়ার ধনী ব্যক্তিরা। ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর ফলে দুবাইয়ে বসবাসকারী অনেক এশীয় ধনী ব্যক্তি ও উদ্যোক্তা তাদের সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দুবাইয়ে বসবাসকারী ভারতীয় দুই উদ্যোক্তা তাদের সম্পদ নিয়ে উদ্বেগে পড়েন। তারা স্থানীয় ব্যাংক হিসাব থেকে কিছু অর্থ সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরের চেষ্টা করেন। প্রথমে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও পরে তাদের একজন বিকল্প পদ্ধতিতে সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠাতে সক্ষম হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলকে নিরাপদ বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে যে সুনাম ছিল, তা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কালের কণ্ঠ: হামলার শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জঙ্গিবিমান ও ড্রোনের তৎপরতায় অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের হামলার ঘোষণা দিলে জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর নজর রাখছে। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পণ্যবাহী জাহাজের জন্য কার্যত বন্ধ রয়েছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জড়ো করছে, ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews