আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আতঙ্কের আরেক নাম ‘ইরানি ড্রোন’। কয়েক দশক ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা একটি দেশ কীভাবে ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তা এখন সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছে এক বিস্ময়। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি—সবখানেই এখন ইরানের তৈরি ড্রোনের জয়জয়কার। খেলনা থেকে মারণাস্ত্র: এক সংগ্রামের ইতিহাস: ইরানের এই সাফল্যের গল্প শুরু হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে। তৎকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ইরানের বিমানবাহিনী খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছিল। অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থী মিলে প্রথম ড্রোনের পরিকল্পনা করেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, তাদের প্রথম তৈরি ড্রোনটির জ্বালানি ট্যাংক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল মেডিকেল আইভি ব্যাগ (IV Bag), আর পাখা ছিল হাতে তৈরি। যুদ্ধের ব্যাকরণ পরিবর্তন: ইরানি সামরিক কৌশলের মূল ভিত্তি হলো—কম খরচে শত্রুর দামী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কুপোকাত করা। যেখানে একটি অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইলের দাম ২০ লাখ ডলার, সেখানে একটি ইরানি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ২০ হাজার ডলার। কিন্তু যখন ঝাঁকে ঝাঁকে ১০০টি ড্রোন পাঠানো হয়, তখন সেগুলোকে ধ্বংস করতে প্রতিপক্ষকে ব্যয় করতে হয় কয়েকশ কোটি ডলার। এই অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপই ইরানকে ড্রোন যুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। বৈশ্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ: ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হাতে ইরানি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের উপস্থিতি বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেয়। ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হামলা ড্রোনের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে, যেখানে অত্যাধুনিক মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ব্যর্থ হয়েছিল। আজ ইরান এমন সব ড্রোন তৈরি করছে যা হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দীর্ঘ চার দশকের ধৈর্য আর উদ্ভাবনী চিন্তার ফসল হিসেবে ইরান আজ ড্রোন প্রযুক্তিতে এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করেছে।
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এক বিশেষ অভিযানে প্রণালীতে পেতে রাখা সামুদ্রিক মাইন শনাক্ত করতে পানির নিচে চলতে সক্ষম ড্রোন বা 'সি রোবট' এবং অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে একজন অজ্ঞাতনামা মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই কাউন্টার-মাইন অভিযানে মানবচালিত এবং চালকবিহীন (Unmanned) উভয় প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর বিশাল এলাকায় মাইন অনুসন্ধানের কাজ সাধারণ পদ্ধতিতে অনেক সময়সাপেক্ষ হলেও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তা অত্যন্ত দ্রুত করা সম্ভব। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ভাইস অ্যাডমিরাল কেভিন ডনেগান জানান, আগে যেখানে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগত, এখন আনম্যানড আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল (UUV) বা সি রোবট ব্যবহার করে মাত্র কয়েক দিনেই মাইন শনাক্ত করা সম্ভব। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ড্রোনগুলো প্রথমে সমুদ্রের তলদেশে স্ক্যান করে মাইনের অবস্থান নিশ্চিত করে। এরপর বিশেষায়িত রোবটের মাধ্যমে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। মূলত ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতেই পেন্টাগন এই উদ্যোগ নিয়েছে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযান ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ও ইতালি একে অপরের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি গবেষণার তথ্য আদান-প্রদান করত। প্রধানমন্ত্রী মেলোনির এই ঘোষণার ফলে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতায় বড় ধরনের ছেদ পড়ল। ইতালির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি বলেছেন, "বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিরক্ষা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজায় মানবিক বিপর্যয় এবং সম্প্রতি ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর আগে স্পেনও ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। ইতালির এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্ব সাগরে আবারও একটি 'অজ্ঞাত' ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার (৮ এপ্রিল) একই দিনে এটি ছিল পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই খবর জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, তারা নতুন এই উৎক্ষেপণটি শনাক্ত করেছে, তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কত দূর পর্যন্ত উড়েছে বা এর ধরন কী—সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। এর আগে বুধবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে বেশ কিছু স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। জেসিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ২৪০ কিলোমিটার (১৪৯ মাইল) পথ অতিক্রম করে সাগরে পতিত হয়। এটি ছিল এ বছর উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনা। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি এই ঘটনার পরপরই কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিমান ও নৌযান চলাচলে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সিউলের দাবি, উত্তর কোরিয়া গত মঙ্গলবারও একটি প্রজেক্টাইল ছুড়েছিল যা উড্ডয়নের পরপরই ব্যর্থ হয়। পর পর দুই দিন এমন সামরিক তৎপরতায় ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সম্প্রতি বেসামরিক নাগরিকদের উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং এর ফলে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন। তার বক্তব্যের জবাবে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং সিউলকে 'বেপরোয়া উস্কানি' থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার এই তৎপরতার ওপর নিবিড় নজর রাখছে। মার্কিন বাহিনীর মতে, এই উৎক্ষেপণগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের জন্য সরাসরি কোনো হুমকি তৈরি না করলেও তারা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদে একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল পিয়ংইয়ং। সাম্প্রতিক এই উৎক্ষেপণগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ২০২৬ অর্থবছরের জন্য একটি উচ্চাভিলাষী ও বিতর্কিত বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন। এই প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে যেমন জাতীয় প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক খাতের ব্যয় বা ‘ডিসক্রিশনারি স্পেন্ডিং’ এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই বাজেট প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি খরচ কমিয়ে আনা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ কমিয়ে সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করায় মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে। বাজেট প্রস্তাবের মূল দিকগুলো: ১. প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ব্যয়: ট্রাম্পের প্রস্তাবনায় পেন্টাগন বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আধুনিক সমরাস্ত্র সংগ্রহ এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে এই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হবে। ২. অভ্যন্তরীণ খাতে ব্যাপক কর্তন: ডিসক্রিশনারি স্পেন্ডিং বা বিবেচনামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কাটছাঁটের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে আবাসন সহায়তা, সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প এবং বৈদেশিক সাহায্যের মতো বিষয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ৩. অর্থনৈতিক যুক্তি: ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দেশের ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ কমাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন জরুরি। তারা মনে করছেন, সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে আনলে অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবে। বাজেট প্রস্তাবটি ঘোষণার পরপরই ওয়াশিংটনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান শিবিরের অনেকেই এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, ডেমোক্র্যাটরা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিরোধী দলগুলোর মতে, এই বাজেট সাধারণ আমেরিকানদের জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দেবে এবং কেবল সামরিক শিল্পকেই সমৃদ্ধ করবে। উল্লেখ্য যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এই বাজেট প্রস্তাবটি কার্যকর করতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে এই বাজেট পাশ করা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন বাজেট রূপরেখা বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে উপসাগরীয় অঞ্চলে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘র্যাপিড রেঞ্জার’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শুক্রবার সকালে কুয়েতের যুবরাজের সাথে এক ফোনালাপে এই সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ‘র্যাপিড রেঞ্জার’ মূলত একটি স্বল্পপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা বিশেষভাবে ড্রোন এবং দ্রুতগামী লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। প্রায় ৮ কিলোমিটার রেঞ্জ সম্পন্ন এই সিস্টেমটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে পারদর্শী। উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ড্রোনের হুমকি মোকাবিলায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঢাল হিসেবে কাজ করবে। লন্ডন থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে একটি প্রতিরক্ষা সিস্টেম সৌদি আরবে পাঠানো হচ্ছে। এটি সরাসরি সৌদি আরবের মূল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা হবে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তাদের আরএএফ (RAF) রেজিমেন্ট গান ইতিমধ্যেই কার্যকর ভূমিকা পালন করছে এবং বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর সাথে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগে বড় ধরনের রদবদল ও অস্থিরতা নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে নাটকীয়ভাবে অপসারণের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও দুজন প্রভাবশালী শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। পেন্টাগনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের শিকার হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন— জেনারেল ডেভিড এম. হোডনি এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়র। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে শীর্ষ সারির কর্মকর্তাদের এভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মার্কিন সামরিক প্রশাসনের অন্দরে তীব্র উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, জেনারেল হোডনি অতি সম্প্রতি গত অক্টোবর মাসে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ড’-এর নেতৃত্বে ছিলেন। বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণে এই চার-তারকা পদের ভূমিকা অপরিসীম। অন্যদিকে, মেজর জেনারেল গ্রিন সেনাবাহিনীর ‘টপ চ্যাপলিন’ বা প্রধান যাজক হিসেবে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক দিকগুলো তদারকি করতেন। উল্লেখ্য, এর আগে বরখাস্ত হওয়া সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মনোনীত করেছিলেন। সাধারণত চার বছর মেয়াদী এই পদ থেকে মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের এই কঠোর ও আপসহীন অবস্থান মার্কিন সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আমলাতন্ত্রে এক বিশাল পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংস্কার নাকি কোনো গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ— ঠিক কী কারণে এই ‘ক্লিনআপ ড্রাইভ’ বা গণ-বরখাস্তের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষমতাধর মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেনি, যা জনমনে এবং সামরিক বাহিনীতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিলো ইতালি। মধ্যপ্রাচ্যগামী একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে সিসিলির সিগোনেলা সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণ করতে সরাসরি বাধা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যথাযথ পূর্বানুমতি না থাকায় এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত হওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম 'RAI'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিমানটি যখন মাঝ আকাশে ছিল, তখনই অবতরণের জন্য অনুরোধ করা হয়। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানান, কোনো ধরনের আলোচনা বা আগাম বার্তা ছাড়াই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। অধিকন্তু, তদন্তে দেখা গেছে এই ফ্লাইটটি সাধারণ লজিস্টিক বা নিয়মিত কোনো কার্যক্রমের অংশ ছিল না, যা বিদ্যমান চুক্তির পরিপন্থী। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইতালি আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এর আগে স্পেনও একইভাবে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি মার্কিন এবং ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ইতালির এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইউরোপীয় দেশগুলোর পরিবর্তিত কূটনৈতিক মেরুকরণেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গাজা ও লেবানন সীমান্তে সংঘাতের এক মাস অতিবাহিত হলেও ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করছেন যে তার দেশ যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে এবং ইরানকে কোণঠাসা করে ফেলেছে, অন্যদিকে খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরেই বাড়ছে তীব্র সমালোচনা। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা নূর ওদেহের পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, ইসরায়েলি নেতাদের বক্তব্যে যুদ্ধ জয়ের এক ধরণের ‘আভাস’ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ইসরায়েলি বিরোধী দলীয় নেতারা এখন সরাসরি নেতানিয়াহুর সমালোচনা করছেন। তাদের অভিযোগ, এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা (Exit Strategy) সরকারের কাছে নেই। এছাড়া ইসরায়েল যা অর্জন করতে পারবে বলে প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তবে তার সক্ষমতাকে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছে। ত্রিমুখী আক্রমণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা সংকট সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েল বর্তমানে তিনটি প্রধান দিক থেকে সরাসরি হুমকির সম্মুখীন: ১. ইরান: এক মাস পার হওয়ার পরও ইসরায়েল এখনও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। ২. হিজবুল্লাহ: লেবানন সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহর রকেট ও মিসাইল হামলা অব্যাহত রয়েছে। ৩. হুথি বিদ্রোহী: ইয়েমেনের হুথিরা এখন ইসরায়েলের জন্য তৃতীয় ফ্রন্ট বা তৃতীয় রণাঙ্গন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই ত্রিমুখী আক্রমণের কারণে ইসরায়েলের বিশ্বখ্যাত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defence System) এখন চরম চাপের মুখে। সব দিক থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলা করতে গিয়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে এখন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত হিসেব করে বা ‘রেশনিং’ করে ব্যবহার করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহু প্রশাসন জয়ের দাবি করলেও সামরিক ও কৌশলগতভাবে ইসরায়েল বর্তমানে এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিরক্ষা খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে এক ঐতিহাসিক সফরে তিনি আগামী এক দশকের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে যৌথভাবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, "আমরা ১০ বছরের এক সুদূরপ্রসারী সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করছি। ইতিমধ্যে সৌদি আরবের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং কাতারের সাথেও সমজাতীয় একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। খুব শীঘ্রই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথেও একই ধরনের চুক্তি হতে যাচ্ছে।" এই চুক্তির বিশেষত্ব হলো কেবল অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় নয়, বরং দুই অঞ্চলেই যৌথভাবে অত্যাধুনিক অস্ত্রের কারখানা ও প্রোডাকশন লাইন স্থাপন করা। এর ফলে ইউক্রেনের মাটিতে যেমন নতুন কারখানা তৈরি হবে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও ইউক্রেনীয় প্রযুক্তিতে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদিত হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের এক বিতর্কিত পদক্ষেপে তোলপাড় শুরু হয়েছে পেন্টাগনসহ পুরো ওয়াশিংটনে। অত্যন্ত যোগ্য হিসেবে বিবেচিত চারজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছেন তিনি, যাদের মধ্যে দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং দুইজন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে ওয়ান-স্টার জেনারেল হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে দেওয়ার বিষয়টিকে হেগসেথের ‘উওক কালচার’ বা অতি-উদারপন্থী প্রভাবমুক্ত সামরিক বাহিনী গড়ার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। পিট হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সেনাবাহিনীতে প্রচলিত ডাইভারসিটি, ইক্যুইটি এবং ইনক্লুশন (DEI) নীতির কড়া সমালোচনা করে আসছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই কর্মকর্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকলকে চাপ দিয়েছিলেন। তবে ড্রিসকল এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানান, ওই কর্মকর্তারা কয়েক দশকের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার এবং যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সেনাসচিবের আপত্তি তোয়াক্কা না করেই হেগসেথ ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে তাদের নাম সরিয়ে দেন। হেগসেথের এই সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করছেন, মেধার পরিবর্তে রাজনৈতিক আদর্শ এবং গায়ের রঙ বা লিঙ্গকে ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাহিনীর মনোবলে আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে সংশোধিত এই তালিকাটি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিনেটে পেশ করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই মেয়াদে প্রতিরক্ষা বিভাগের নেতৃত্বে আসা হেগসেথের এমন একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার-এ একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাতজন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন তুরস্কের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তুর্কি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের একজন ছিলেন তুর্কি সেনাবাহিনীর সদস্য। বাকি দুজন দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাসেলসান-এর নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দুর্ঘটনায় নিহত অন্য চারজন কাতার সশস্ত্র বাহিনী-এর সদস্য বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। রোববার ভোরে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ছয়জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ থাকার তথ্য দেওয়া হলেও পরে নিশ্চিত করা হয়, সাতজনই নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়। এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা নিজেদের সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড (THAAD) সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এসব সরঞ্জাম তড়িঘড়ি করে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার এই পদক্ষেপ এশীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-সহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা এবং ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র আটটি থাড ব্যাটারি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সিওংজু (Seongju) ঘাঁটিতে থাকা থাড ইন্টারসেপ্টরগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এই সিদ্ধান্তে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে জানান, তারা এই স্থানান্তরের বিরোধিতা করলেও মার্কিন সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, থাড সরিয়ে নিলেও উত্তর কোরিয়াকে ঠেকানোর মতো সক্ষমতা তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রয়েছে। অন্যদিকে, চীন শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড মোতায়েনের বিরোধী। বেইজিংয়ের দাবি, এই ব্যবস্থার শক্তিশালী রাডার চীনের অভ্যন্তরীণ সামরিক কার্যক্রম নজরদারি করতে সক্ষম। থাড সরিয়ে নেওয়ার খবর আসার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় তাদের আগের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা এশিয়ার মিত্রদের মধ্যে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে যে, সংকটকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব প্রয়োজনে যেকোনো অঞ্চল থেকে সামরিক সমর্থন প্রত্যাহার করতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি জাপান ও তাইওয়ানও তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত পরিবর্তন এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের আধিপত্য বিস্তারের পথ আরও সুগম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে, উত্তর কোরিয়া এই সুযোগে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং উস্কানি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুদ্ধের শুরুতে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আহতের সংখ্যা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে কেবল সাতজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের মৃত্যুর খবর জানানো হলেও, গত ২৪ ঘণ্টায় জানা গেছে যে প্রকৃত আহতের সংখ্যা ১০০ থেকে ১৫০ জনেরও বেশি। আহত এই বিশাল সংখ্যক সেনাকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তিনটি সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে—যার দুটি যুক্তরাষ্ট্রে এবং একটি জার্মানির ল্যান্ডস্টুলে অবস্থিত। সূত্রমতে, জার্মানিতে চিকিৎসাধীন সেনাসদস্যদের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর। এমনকি একজনের অঙ্গহানির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কেন মার্কিন সামরিক বাহিনী এই বিশাল সংখ্যক আহতের তথ্য গোপন রাখল, তা নিয়ে এখন ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। এই লুকোচুরির নেপথ্যে কৌশলগত কারণ নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
যুক্তরাজ্যের আকাশসীমায় বাড়ছে মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা। গ্লুচেস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স বা আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে নতুন করে আরও তিনটি মার্কিন বি-১ বি ল্যান্সার বোম্বার অবতরণ করেছে। ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই মোতায়েনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরই এই বি-১ বোম্বারগুলো যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে শুরু করে। লন্ডন এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে একটি 'প্রতিরক্ষামূলক' অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার প্রথম একটি বি-১ ল্যান্সার বোম্বার এই ঘাঁটিতে অবতরণ করে। এরপর শনিবার আরও দুটি বিমান এসে পৌঁছায়। বর্তমানে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মার্কিন বোম্বারদের একটি শক্তিশালী বহর অবস্থান করছে, যা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় সক্ষম। বি-১ ল্যান্সার মূলত একটি সুপারসনিক কৌশলগত বোম্বার, যা বিশাল পরিমাণ অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং দূরপাল্লার অভিযানে অত্যন্ত কার্যকর।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে বড়সড় ধাক্কা খেল ওয়াশিংটন। ইরানের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডানে অবস্থিত আমেরিকার শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘থাড’ (THAAD) পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। শনিবার একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, যা পেন্টাগনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল এই অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পালটা জবাব দিতে তেহরান যে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি শুরু করেছিল, তাতেই গুঁড়িয়ে যায় এই রাডার। যদিও প্রাথমিক অবস্থায় ওয়াশিংটন দাবি করেছিল যে তারা ইরানের হামলা রুখে দিয়েছে, তবে সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মার্কিন গর্ব ‘থাড’-এর রাডারটি এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘থাড’ কেবল একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নয়, এটি আমেরিকার আকাশ নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি। এর বিশেষ ‘এন/টিপিওয়াই-২’ রাডার বহুদূর থেকে শত্রু মিসাইল শনাক্ত করতে পারে। প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই সিস্টেমটি ধ্বংস হওয়া মানে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার নজরদারির সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া। এক কথায়, এই অঞ্চলে মার্কিন সেনারা এখন কার্যত ‘অন্ধ’ হয়ে পড়েছে। ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিজের উপ-পরিচালক রায়ান ব্রবস্ট এই ঘটনাকে ইরানের ‘অন্যতম সফল সামরিক অভিযান’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রশাসন এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে।
ভারত মহাসাগরের অতন্দ্র প্রহরী হওয়ার যে উচ্চাভিলাষী দাবি ভারত করে আসছিল, সম্প্রতি এক মার্কিন হামলায় তা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। গত বুধবার শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস দেনা’ (IRIS Dena) ডুবে যাওয়ার ঘটনা ভারতের আঞ্চলিক প্রভাব ও নিরাপত্তা প্রদানের সক্ষমতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক নৌ-মহড়া ‘মিলান’-এ অংশ নিয়ে ফেরার পথে লঙ্কার জলসীমার মাত্র ৪৪ নটিক্যাল মাইল দূরে আক্রান্ত হয় ইরানি জাহাজটি। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই হামলাকে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হামলায় অন্তত ৮০ জন ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক নিখোঁজ রয়েছেন। মোদি সরকারের ‘গার্ডিয়ান’ ইমেজে ধাক্কা: মাত্র কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় নৌবাহিনীকে ভারত মহাসাগরের ‘গার্ডিয়ান’ বা অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু নিজের ঘরের আঙিনায় ভারতের আমন্ত্রিত এক ‘অতিথি’ জাহাজকে রক্ষা করতে না পারা বা হামলার বিষয়ে আগে থেকে কোনো তথ্য না থাকা নয়াদিল্লির জন্য কৌশলগতভাবে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। কৌশলগত উভয়সংকট: প্রাক্তন নৌ-কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এখন এক কঠিন ‘ক্যাচ-২২’ পরিস্থিতিতে। প্রশ্ন উঠেছে, ভারত কি এই মার্কিন হামলার কথা আগে থেকে জানত? যদি জানত, তবে তা বন্ধুরাষ্ট্র ইরানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। আর যদি না জানত, তবে তা ভারতের গোয়েন্দা ব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ সীমাবদ্ধতাকেই প্রকট করে তোলে। অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ আল জাজিরাকে বলেন, “যদি ভারত এই হামলা সম্পর্কে অন্ধকারে থেকে থাকে, তবে তা ওয়াশিংটনের সাথে আমাদের সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে চিন্তার কারণ।” কূটনৈতিক নীরবতা ও সমালোচনা: ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর ভারতীয় নৌবাহিনী একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিলেও মার্কিন হামলার বিষয়ে কোনো নিন্দা বা কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এমনকি নিহত ইরানি নাবিকদের প্রতি শোক প্রকাশে মোদি সরকারের ‘অনীহা’ নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেছেন যে, মোদি সরকার ভারতের জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে দেশের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি ধ্বংস করছে। আঞ্চলিক প্রভাবের ভবিষ্যৎ: বিশ্লেষক শ্রীনাথ রাঘবন মনে করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাত ভারতের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। ভারত ঐতিহাসিকভাবে ‘জোট নিরপেক্ষ’ আন্দোলনের নেতা থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও আমেরিকার দিকে ঝুঁকে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে তার বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটে পড়তে পারে। ভারত মহাসাগরকে নিজের প্রভাব বলয় হিসেবে দাবি করা নয়াদিল্লির জন্য ‘আইরিস দেনা’ ডুবির ঘটনা কেবল একটি সামরিক বিপর্যয় নয়, বরং একটি বড় কূটনৈতিক ও কৌশলগত পরাজয় হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের কয়েক ডজন মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করা হলেও তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফফি ডেফরিন এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে, যদিও তারা ইসরায়েলি সীমান্তের জন্য হুমকিস্বরূপ বহু লঞ্চার গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, তবুও ইরানের হাতে এখনও ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণে’ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে। ডেফরিন সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “আমরা ক্রমাগত হামলা চালিয়ে তাদের সক্ষমতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি, কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ অভেদ্য নয়।” ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এই স্বীকারোক্তি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের কয়েক ডজন মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করা হলেও তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফফি ডেফরিন এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে, যদিও তারা ইসরায়েলি সীমান্তের জন্য হুমকিস্বরূপ বহু লঞ্চার গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, তবুও ইরানের হাতে এখনও ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণে’ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে। ডেফরিন সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “আমরা ক্রমাগত হামলা চালিয়ে তাদের সক্ষমতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি, কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ অভেদ্য নয়।” ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এই স্বীকারোক্তি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে এবার কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বর্তমানে চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটানো এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন তিনি। সিডনির লোয়ি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় কার্নি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তার এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এবং মিত্র দেশগুলোর সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কানাডার অবস্থানের পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিকতম ঘটনায় কুয়েতের আকাশে আমেরিকার আরও একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তেহরান টাইমসের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টিভি জানিয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে এই বিমানটি ধ্বংস হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৪ মার্চ) সকালে কুয়েতের আকাশসীমায় টহলরত বা অভিযানে থাকা একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়। এতে বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেটি কুয়েতের মাটিতে আছড়ে পড়ে। তবে এটি এই সপ্তাহের প্রথম ঘটনা নয়; গত সোমবারও কুয়েতে ইরানের হামলায় তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবি করেছিল তেহরান। ইরানি সংবাদ সংস্থা 'ইরনা' (IRNA) একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি যুদ্ধবিমান আগুনের গোলার মতো নিচে পড়ে যাচ্ছে। ইরানের দাবি, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে দাবি করেছিল যে, বিমানগুলো ইরানের সরাসরি হামলায় নয়, বরং 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার' বা কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলক্রমে ছোড়া গোলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বুধবারের নতুন এই ঘটনা নিয়ে পেন্টাগন থেকে এখনও বিস্তারিত কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। গত শনিবার ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকে পুরো অঞ্চল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরান 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪' (Operation True Promise 4) এর আওতায় কুয়েত, দুবাই এবং আবুধাবিতে থাকা মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিতে ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। দুবাই, কুয়েত এবং দোহার মতো প্রধান শহরগুলোতে গত কয়েকদিনে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দুবাই এবং কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান একের পর এক ভূপাতিত হওয়ার এই ঘটনাগুলো যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ইরান যেখানে এটিকে তাদের সামরিক শক্তির প্রদর্শন বলছে, সেখানে আমেরিকা ও তার মিত্ররা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।