ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
ক্যাপিটাল ওয়ান গ্রাহকদের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ: জেনে নিন আপনি এই অর্থ পাবেন কি না

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ওয়ান তাদের বর্তমান ও সাবেক লাখো গ্রাহকের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টের নামকরণে বিভ্রান্তি এবং গ্রাহকদের প্রাপ্য সুদ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই বড় অংকের সমঝোতায় পৌঁছেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে যে, ক্যাপিটাল ওয়ান একই ধরনের নামের দুটি ভিন্ন সেভিংস অ্যাকাউন্ট চালু করে সাধারণ গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করেছে, যার ফলে অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষাকৃত কম সুদের অ্যাকাউন্টে নিজেদের অর্থ জমা রাখতে বাধ্য হয়েছেন।   মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ক্যাপিটাল ওয়ান তাদের গ্রাহকদের জন্য '৩৬০ সেভিংস' এবং '৩৬০ পারফরম্যান্স সেভিংস' নামে দুটি পৃথক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছিল। নাম দুটি প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষে বুঝে ওঠা কঠিন ছিল যে কোনটিতে সুদের হার বেশি। এর ফলে লাখ লাখ গ্রাহক তাদের অজান্তেই কম সুদের '৩৬০ সেভিংস' অ্যাকাউন্টে টাকা রেখে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, যেখানে অন্য অ্যাকাউন্টটিতে অনেক বেশি মুনাফা পাওয়া যাচ্ছিল। এই স্বচ্ছতার অভাবকেই মামলার প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।   এই বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব গ্রাহক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ থেকে ১৬ জুন ২০২৫-এর মধ্যবর্তী সময়ে ক্যাপিটাল ওয়ান-এর '৩৬০ সেভিংস' অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন, তারা এই তহবিলের অর্থ পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। বর্তমান গ্রাহকদের পাশাপাশি যারা এই সময়ের মধ্যে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন, তারাও এই ক্ষতিপূরণ দাবির সুযোগ পাবেন। এটি মূলত সেই সব গ্রাহকদের জন্য একটি বড় স্বস্তি যারা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকটির ব্যবসায়িক কৌশলের কারণে লোকসানের শিকার হয়েছেন।   আপনি এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য কি না, তা যাচাই করা এখন অত্যন্ত সহজ। ক্যাপিটাল ওয়ান গ্রাহকরা তাদের মোবাইল অ্যাপ বা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে লগইন করে সরাসরি অ্যাকাউন্টের ধরন পরীক্ষা করতে পারেন। অ্যাপে প্রবেশের পর সেভিংস অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করে 'অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস' থেকে 'ভিউ অল' অপশনে গেলে আপনার অ্যাকাউন্টের সঠিক নাম দেখা যাবে। এছাড়া যারা বর্তমানে ব্যাংকটির গ্রাহক নন, তারা তাদের পুরনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ইমেইল চেক করে নিশ্চিত হতে পারেন যে তারা উল্লিখিত সময়ের মধ্যে '৩৬০ সেভিংস' অ্যাকাউন্টের আওতাভুক্ত ছিলেন কি না।   ক্ষতিপূরণের অর্থের পরিমাণ প্রতিটি গ্রাহকের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। ব্যাংকের সূত্রমতে, গ্রাহক কতদিন ধরে উক্ত অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করেছেন, তার অ্যাকাউন্টে গড় জমার পরিমাণ কত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত মোট কতজন গ্রাহক এই অর্থের জন্য দাবি পেশ করছেন—এই তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে টাকার পরিমাণ নির্ধারিত হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে যোগ্য গ্রাহকদের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অর্থ পাঠানো শুরু হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আলাদা করে আবেদনের প্রয়োজন না হলেও, নিজের অ্যাকাউন্টের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তাবিথ আউয়াল ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ফিরলেন

ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদে নতুন করে যোগ দিয়েছেন তাবিথ আউয়াল ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তা নাজনীন আহমেদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতাবলে ৩১ মার্চ তাদের দুজনকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।   রবিবার (৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৫৪১তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় নতুন পরিচালকরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবিন, ভাইস চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মুখলেসুর রহমান, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সাত্তার সরকার, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. জুলকার নায়েন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক মুনীর আহমেদ চৌধুরী।   তাবিথ আউয়াল ব্যাংকিং, বীমা, রিয়েল এস্টেট, জ্বালানি, কৃষি, টেক্সটাইল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সুপরিচিত উদ্যোক্তা। তিনি বর্তমানে মাল্টিমোড গ্রুপের ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি।   যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তাবিথ আউয়াল। নাজনীন আহমেদ ডাই অ্যাফিন লিমিটেড ও অফিসিনা বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাংকে পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।   এর আগে চব্বিশের আন্দোলনের পর ন্যাশনাল ব্যাংকে ফিরে এসেছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা পরিচালক আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন। এরপর ২ মার্চ অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন ন্যাশনাল ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
রোববার থেকে ব্যাংকের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন: জেনে নিন নতুন নিয়ম

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের সকল ব্যাংকের লেনদেন ও অফিসের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামীকাল রোববার থেকেই কার্যকর হচ্ছে এই নতুন নিয়ম।  দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, এখন থেকে ব্যাংকের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য লেনদেনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। অর্থাৎ, আগের তুলনায় গ্রাহকরা লেনদেনের জন্য এক ঘণ্টা সময় কম পাবেন। এর আগে ব্যাংকগুলোতে সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত লেনদেন চলত এবং দাপ্তরিক কাজ চলত সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। বর্তমানের নতুন সূচিতে অফিস এবং লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে শুক্র ও শনিবার আগের মতোই বহাল থাকছে।  গ্রাহকদের ভোগান্তি এড়াতে এবং নতুন সময়ের সাথে অভ্যস্ত হতে ব্যাংকিং কার্যক্রমের এই পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
এপ্রিলের মধ্যে এনডিএ চুক্তি বাস্তবায়নের নির্দেশ গভর্নরের
পাঁচ ব্যাংকের পাচার অর্থ ফেরত: এপ্রিলের মধ্যে এনডিএ চুক্তি বাস্তবায়নের নির্দেশ গভর্নরের

একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে ঋণের নামে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যক্রম জোরদার করেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চলতি এপ্রিলের মধ্যে বিদেশি আইনি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি (এনডিএ) সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।   বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের এ নির্দেশ দেন। আলোচ্য ব্যাংকগুলো হলো: সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। এর মধ্যে প্রথম চারটি ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল, যারা ঋণের নামে মোট ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এক্সিম ব্যাংক পরিচালিত হতো নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের অধীনে, যাদের ঋণ রয়েছে ৯ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।   ছয়টি বড় শিল্পগোষ্ঠীর মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ইতোমধ্যে ১০টি ব্যাংক ৩৬টি এনডিএ চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এই শিল্পগোষ্ঠীগুলো হলো: এস আলম গ্রুপ, আরামিট গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ এবং নাসা গ্রুপ।   এস আলম গ্রুপের অর্থ উদ্ধারে ১০টি এনডিএ চুক্তি করা হবে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে তিনটি সম্পন্ন হয়েছে। আরামিট গ্রুপের জন্য ইউসিবি ব্যাংক ছয়টি চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যেখানে ঋণের পরিমাণ ১৭ হাজার কোটি টাকা। বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণ ৫৩ হাজার ৪২ কোটি টাকা, যা মূলত জনতা ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে। এই গ্রুপের সম্পদের খোঁজ ও উদ্ধার জনতা ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বে রয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে ৯টি এনডিএ চুক্তি হয়েছে। সিকদার গ্রুপের বিরুদ্ধে ৯টি এনডিএ সম্পন্ন হয়েছে, ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। নাসা গ্রুপের বিরুদ্ধে ৮টি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ওরিয়ন গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ ১০ হাজার ১২ কোটি টাকা, যেখানে একটি এনডিএ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।   গভর্নর বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং দেশীয় সম্পদ উদ্ধার করে ব্যাংকগুলো সচল রাখতে হবে।   ব্যাংকভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার সর্বোচ্চ ৯৭.৬৪ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৬.৪৩ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৬.২৭ শতাংশ এবং সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৩৮.৩৮ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে আছে এক্সিম ব্যাংক, যেখানে খেলাপি ঋণের হার ৬২.৪৫ শতাংশ।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি।
দেশের সব ব্যাংকে নতুন কার্যনির্দেশনা জারি

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব ব্যাংককে অফিসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণে সতর্ক থাকার জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   বুধবার (১১ মার্চ) জারি করা সার্কুলারে ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয়, শাখা ও উপশাখায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারের ওপর একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, লাইট, ফ্যান ও এসি শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে। দিনের আলো বেশি ব্যবহার করা এবং এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো যাবে না।   সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, অফিসিয়াল গাড়ি ব্যবহার সীমিত করতে হবে এবং ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রমণ কমাতে হবে। কর্মকর্তাদের গণপরিবহণ বা কার-শেয়ারিং ব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে। জেনারেটরের জ্বালানি ব্যবহার সীমিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় সাজসজ্জা ও ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ডের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে আর্থিক খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর জারি করা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার সম্পর্কিত পূর্বের নির্দেশনাও কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা দুই মাস ব্যাংক থেকে নগদ উত্তোলন বৃদ্ধি
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা দুই মাস ব্যাংক থেকে নগদ উত্তোলন বৃদ্ধি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের নগদ অর্থপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসরত অনেক মানুষ ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরছেন। এতে তাঁদের যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ বেড়েছে।   পাশাপাশি যাঁরা প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার–প্রচারণায় যুক্ত, তাঁদের ব্যয়ও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। প্রার্থী, দলীয় নেতা–কর্মী, সমর্থক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্বাচনী ব্যয়ের কারণে সারা দেশে নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি মাসে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। সর্বশেষ হিসাবে দেখা যায়, গত বছরের নভেম্বরে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা।   নির্বাচনকে ঘিরে প্রবাসী আয়ও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যাংক ও এটিএম বুথ থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়ায় লেনদেনের গতি কিছুটা বেড়েছে।   মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুব রহমানের মতে, নির্বাচন উপলক্ষে মানুষের নিজ এলাকায় যাওয়া ও প্রচারণামূলক ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই সাময়িকভাবে নগদ উত্তোলন বেড়েছে। তাঁর ধারণা, নির্বাচন শেষ হলে এই অর্থের বড় অংশ আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে।   এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগের সময়েও ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ বাড়তে দেখা যায়। তখন কিছু ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যায়।   সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ করলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার ফলে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে এবং ব্যাংকে আমানত বাড়তে শুরু করে। তবে কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগের সময় আবারও কিছু অর্থ ব্যাংকের বাইরে চলে যায়।   বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ ধীরে ধীরে কমেছিল। জুলাইয়ে যা ছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, তা আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে পর্যায়ক্রমে কমে নভেম্বর নাগাদ ২ লাখ ৬৯ হাজার কোটির ঘরে নেমে আসে।   নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনে নজরদারি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। ১১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো হিসাবে এক দিনে মোট ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে (অনলাইন ও এটিএমসহ) তা নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) হিসেবে জমা দিতে হবে।   আপাতত সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এসব প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য না দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।   এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবায় দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করা যাচ্ছে এবং একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাচ্ছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির হিসাবে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ভোটার প্রভাবিত করার আশঙ্কা কমাতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   নির্বাচনের আগে ব্যাংক বন্ধ থাকার সম্ভাবনা এবং অতিরিক্ত চাহিদার কারণে জানুয়ারির তুলনায় চলতি মাসে কিছু ব্যাংকে নগদ উত্তোলন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে এটিএম বুথ থেকে স্বাভাবিক নিয়মেই টাকা তোলা যাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
গৃহঋণের পুনঃতপশিলের জন্য নতুন নির্দেশনা
গৃহঋণের পুনঃতপশিলের জন্য নতুন নির্দেশনা

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এখন থেকে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের বিদ্যমান ঋণের মেয়াদকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে গৃহঋণ পুনঃতপশিল করতে পারবে। তবে সর্বশেষ কিস্তি গ্রাহকের ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে পরিশোধ করতে হবে। এর আগে এই সীমা ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত নির্ধারণ করা হতো। নতুন এই নির্দেশনা সব ব্যাংকে সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, সাধারণভাবে গৃহনির্মাণ ঋণের মেয়াদ দীর্ঘ হয়। ২০২২ সালে গৃহঋণের পুনঃতপশিল ও পুনর্গঠন সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসারে, ১০০ কোটি টাকার কম ঋণের ক্ষেত্রে পুনঃতপশিলের পর সর্বোচ্চ ছয় বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো যেত। তবে এই নিয়মের কারণে অনেক সময় ঋণের শোধের সময় কমে যেতে পারতো এবং গ্রাহক সব সময় ঋণের মেয়াদ বাড়াতে পারতেন না। তাই নতুন নির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়েছে।   নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুনঃতপশিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। প্রথম দফায়, অবশিষ্ট মেয়াদ অনুযায়ী ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সময় বাড়ানো যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ঋণের শেষ কিস্তি পরিশোধে ১০ বছর বাকি থাকে, তবে প্রথম দফায় আরও ৩ বছর বাড়ানো সম্ভব। দ্বিতীয় দফায় ২০ শতাংশ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় অবশিষ্ট মেয়াদ সমপরিমাণ বাড়ানো যাবে।   তবে কোনোভাবেই ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ মূল ঋণ মঞ্জুরির সময়ের চেয়ে বেশি হবে না। এছাড়া শেষ কিস্তির তারিখ কখনোই গ্রাহকের ৬৫ বছর বয়স অতিক্রম করবে না। অন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুনঃতপশিল ঋণ অধিগ্রহণে পূর্ববর্তী পুনঃতপশিলের ক্রম অনুসরণ করতে হবে এবং গ্রাহকের থেকে একটি ঘোষণাপত্র নেওয়া আবশ্যক। পুনঃতপশিলের আগে মূল ঋণ মঞ্জুরির সব প্রযোজ্য শর্ত এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন পূর্ণ করতে হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত
টানা ৪ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) সারা দেশে সব তফসিলি ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা চার দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে।   রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) থেকে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ২৫ জানুয়ারির এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ওই দুই দিনে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।   এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
জাতীয়

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0