বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দামে লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই নতুন মূল্য শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৩০ টাকা করা হয়েছে। সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসের শুরুতে আমদানি খরচ ও সরবরাহ সংকট থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারিত ছিল। এদিকে জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে ডিজেলের গড় দাম প্রায় ৯৮ শতাংশ এবং অকটেনের দাম ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মার্চ থেকে জুন প্রান্তিকে ডিজেলে ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা এবং অকটেনে ৬৩৬ কোটি টাকা। এছাড়া এলএনজি আমদানিতে পেট্রোবাংলার জন্য একই সময়ে প্রায় ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন হবে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচসহ নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ বাড়তে পারে, যা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করবে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রেক্ষাপটে দেশে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। শফিকুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম নিম্নমুখী থাকলেও বাংলাদেশে দর সমন্বয়ের নামে আগামীকাল থেকে মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ে সাধারণ মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে তা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে। তার ভাষায়, এই মূল্যবৃদ্ধি হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। তিনি সরকারের প্রতি জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচসহ নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে, যা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সরকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে এবারের বাজেটে গত অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই প্রাক্কলিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি মাথায় রেখেই মোট দেশজ উৎপাদনের আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। এই বিশাল বাজেটের ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ও বৈদেশিক উৎস থেকে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বাজেটে ১১টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা অন্যতম। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং দেশীয় ও প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ লাখ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসাথে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাজেটে নীতিগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আইএমএফ-এর শর্ত থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি, সার ও বিদ্যুৎ খাতে বড় অংকের ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নই এখন এই বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের সাইডলাইনে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বাড়তি ঋণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ। অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির কিস্তি ছাড়ের বাইরে অতিরিক্ত অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছরের জুনের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ আইএমএফের ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে জুন মাসে দুটি কিস্তিতে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ছাড় হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি, সরকার অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা চেয়েছে। বিশ্বব্যাংক থেকেও প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক লেনদেনে চাপ এবং রিজার্ভের ওপর প্রভাব পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে গুরুত্ব দিয়ে খেলাধুলা, সংগীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যভিত্তিক পেশাকে অর্থনীতির মূলধারায় আনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বিশ্বব্যাংক এ খাতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির মিল থাকায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, বৈঠকটি বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসে অর্জিত অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সংস্থাটি বলছে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়াসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানব উন্নয়ন বড় ধাক্কার মুখে পড়বে। বুধবার প্রকাশিত ‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মানব উন্নয়নের প্রভাব’ শীর্ষক এক প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়। প্রতিবেদনে ৩৬টি দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে সম্ভাব্য ধাক্কা—এই তিনটি প্রধান কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউএনডিপি জানায়, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নতুন করে বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। সংস্থাটি এটিকে শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং গত কয়েক দশকের মানব উন্নয়নের অগ্রগতি ধরে রাখার একটি বড় পরীক্ষার মুহূর্ত হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে রেমিট্যান্স খাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এই অঞ্চলে কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সরাসরি রেমিট্যান্স কমিয়ে দিতে পারে, যা প্রভাব ফেলবে লাখো অভিবাসী পরিবারের জীবিকায় এবং খাদ্য নিরাপত্তায়। এ ছাড়া আকাশসীমায় উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশের রপ্তানি খাতেও চাপ তৈরি হচ্ছে। দেশের কার্গো পণ্যের বড় একটি অংশ সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের হাব হয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছে—এই প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন শ্রমবাজারে অভিবাসন কমে যেতে পারে এবং বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে সংকট দীর্ঘ হলে তা বাংলাদেশের সামগ্রিক মানব উন্নয়ন সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু নীতিগত পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেছে ইউএনডিপি। জ্বালানি সাশ্রয়ে স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক ছাড় এবং কর্মঘণ্টা কমানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সমন্বিত নীতি গ্রহণ না করলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও দারিদ্র্য হ্রাসে অর্জিত সাফল্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যে ৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ বিভাগের সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। কমিটিকে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্যহার পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে তারা মন্ত্রিসভার বৈঠকের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রণয়ন করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে, কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এবং বিদ্যুৎ বিভাগ এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।
দেশে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানানো হয়। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)-এর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। মন্ত্রী আরও জানান, আদালতের নির্দেশনার কারণে এই ঋণের মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হয়নি। সংসদে অর্থমন্ত্রী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকাও উপস্থাপন করেন। তালিকায় রয়েছে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন, কেয়া কসমেটিকস, দেশবন্ধু সুগার মিলস, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সারা দেশে দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সময় পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সমিতির নেতারা প্রস্তাব করেছেন যে, প্রয়োজনে তারা সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১১টায় দোকান খুলতে রাজি আছেন, তবে বন্ধের সময় যেন সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে রাত ৮টা করা হয়। সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী ও আড়াই কোটি কর্মচারীর জীবিকার কথা বিবেচনা করে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত করা হয়। একই বৈঠকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সারা দেশের সব দোকানপাট ও শপিংমল আজ (৩ এপ্রিল) থেকেই সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর আগে গতকাল মালিক সমিতি রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের ঘোষণা দিলেও সরকারের নতুন নির্দেশনায় সময় আরও কমিয়ে আনা হয়। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সন্ধ্যা ৬টায় দোকান বন্ধ করে দিলে খুচরা ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নামতে পারে। তাই সকালের সময় কমিয়ে রাতে বাড়তি দুই ঘণ্টা সময় বরাদ্দের জন্য তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির ফলে সরকারি তহবিলে চাপ বাড়ায় দেশের স্বার্থে শিগগিরই জ্বালানির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেডে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ইঙ্গিত দেন। মন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক সংকটের কারণে বর্তমানে সরকারকে অনেক বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আদালত ও সরকারি তহবিলের ওপর চাপের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সরকারি তহবিল যদি এভাবে উচ্চমূল্যে ক্রয়ের কারণে ক্ষয় হতে থাকে, তবে উন্নয়ন ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তাই দেশের স্বার্থে একটি পর্যায়ে গিয়ে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়েছে। অধিকাংশ জ্বালানি ওই অঞ্চল থেকে আসায় বাধ্য হয়ে বিকল্প উৎস থেকে চড়া দামে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে সরকারকে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কোনো আপস করছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জ্বালানি ব্যবহারে রেশনিং চালু করা হয়েছে। তিনি নিজে ৩০ শতাংশ জ্বালানি কম ব্যবহার করছেন উল্লেখ করে বলেন, “এখন পর্যন্ত শিল্পকারখানা, পরিবহন ও কৃষি খাতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সফল হয়েছে।” তবে জ্বালানির দাম বাড়লে সার ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পুঁজিবাজার ও রপ্তানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দ্রুতই বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে। বৈশ্বিক সংকটে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতে আয় কিছুটা কমলেও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং খাতটির পুনরুদ্ধারের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো জ্বালানির দাম সহনীয় রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews