ওমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র সালালাহ বন্দরে আকস্মিক ড্রোন হামলার পর থমকে গেছে সব ধরনের কার্যক্রম। হামলার পরপরই নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো এলাকা দ্রুত খালি করে ফেলা হয়। ওমানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় বন্দরের একজন শ্রমিক আহত হয়েছেন এবং স্থাপনার আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, এই হামলার দায় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে ইরান। দেশটির আইআরজিসি-র খাতাম আল-আনবিয়া সদর দফতরের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইরানি বাহিনী সালালাহ বন্দর থেকে কিছুটা দূরে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তা প্রদানকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে ওমানের সার্বভৌমত্বের প্রতি তাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে শীর্ষস্থানীয় শিপিং লাইন মায়েরস্ক তাদের কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন সামরিক অভিযানের ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল নয়াদিল্লি। ইরানি নৌযান 'আইআরআইএস লাভান'-কে ভারতের কোচি বন্দরে নোঙর করার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে মোদী সরকার। শনিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত বার্ষিক 'রাইসিনা ডায়ালগ' অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত বুধবার থেকে কেরালার কোচি বন্দরে অবস্থান করছে ইরানি এই নৌযানটি। একই দিনে শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের অপর একটি ফ্রিগেট 'দেনা'-তে বিধ্বংসী হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যাতে অন্তত ৮৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়ের আবেদন জানানো হলে ভারত এই সিদ্ধান্ত নেয়। এস জয়শঙ্কর বলেন, "আইনি জটিলতা যাই থাক না কেন, আমরা স্রেফ মানবিকতার খাতিরে এই পদক্ষেপ নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি আমরা সঠিক কাজটিই করেছি।" তিনি আরও জানান, জাহাজগুলো এর আগে ভারতের নৌ মহড়ায় অংশ নিলেও বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তারা পরিস্থিতির ভুল দিকে আটকা পড়েছিল। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, ইরানি নৌবাহিনীকে নির্মূল করাই বর্তমানে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। এমন উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের এই 'মানবিক' অবস্থান বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে ঘোষিত চলমান কর্মবিরতি আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্থাপিত পাঁচটি দাবি বাস্তবায়ন না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর ও মোহাম্মদ ইব্রাহীম খোকনের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এনসিটি (নিউ কনটেইনার টার্মিনাল) বিষয়ে উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের মেয়াদে এনসিটি চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ করা হয়, আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বন্দর কর্তৃপক্ষ পাঁচজন কর্মচারীকে গ্রেফতার ও মামলা করেছে। পাশাপাশি ১৫ জন কর্মচারীকে দেশের বিভিন্ন বন্দরে বদলি করা হয়েছে, যা হয়রানিমূলক বলে দাবি করা হয়। আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে এবং ১৬ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজান মাসে পণ্য খালাস নির্বিঘ্ন রাখতে জনস্বার্থে এই কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উল্লিখিত পাঁচটি সমস্যার সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়। উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা মো. হুমায়ুন কবীর।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর। আজ রোববার সকাল আটটা থেকে 'চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ'-এর ডাকে শুরু হয়েছে এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। জেটি ও বহির্নোঙরে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের পণ্য আমদানির প্রধান এই প্রবেশদ্বার। আসন্ন রমজান এবং জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এমন অচলাবস্থায় দেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। পরিস্থিতি নিরসনে ইতিবাচক কোনো সমাধান না আসায় তারা এখন সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আন্দোলনকারীদের প্রধান ৪টি দাবি হলো: এনসিটি কোনো বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা না দেওয়া। বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যানের প্রত্যাহার। আন্দোলনরত কর্মচারীদের ওপর নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া। উল্লেখ্য, এর আগে নৌপরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিত করা হলেও, আন্দোলনকারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের নির্দেশে পরিস্থিতি আবারও জটিল আকার ধারণ করেছে। দ্রুত সমাধান না হলে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ এবং রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরণের ধস নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার থেকে থমকে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল কার্যক্রম। দুবাইভিত্তিক কোম্পানি 'ডিপি ওয়ার্ল্ড'-এর সাথে চুক্তি বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে এবার আর কোনো আপস নয়, সরাসরি অনির্দিষ্টকালের লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো যা আপনার জানা প্রয়োজন: সব কার্যক্রম বন্ধ: এবারের ধর্মঘটে বন্দরের ভেতরে কাজ তো বটেই, এমনকি বহির্নোঙরের পণ্য খালাসও পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত: বন্দর নেতাদের দাবি, বারবার আল্টিমেটাম দিলেও সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় এই চূড়ান্ত কর্মসূচি। আন্দোলনের মূল দাবি: ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে ইজারা চুক্তি বাতিল, বন্দরের চেয়ারম্যানের প্রত্যাহার এবং শ্রমিক নেতাদের নামে থাকা মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার। অচল হওয়ার পথে আমদানি-রপ্তানি: এর আগে কালো পতাকা মিছিল ও কর্মবিরতি চললেও বৃহস্পতিবার তা শিথিল ছিল। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়ায় দুই দিনের মাথায় আবারও অচল হচ্ছে দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড। শ্রমিক নেতাদের হুঁশিয়ারি—দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো কর্মচারী কাজে ফিরবেন না। এই অচলাবস্থায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আপনার কি মনে হয়, ইজারা পদ্ধতি কি বন্দরের জন্য সমাধান নাকি সংকট? আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করুন।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বন্দর এলাকায় আয়োজিত অবরোধ কর্মসূচি থেকে আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন শ্রমিক নেতা ইব্রাহিম খোকন। শ্রমিক নেতাদের প্রধান দাবিগুলো হলো: এনসিটি জেটি বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া বন্ধ করা। চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ। আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর দেওয়া বদলির আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার। হুমকি ও দমনের অভিযোগ: শ্রমিক দলনেতা ইব্রাহিম খোকন অভিযোগ করে বলেন, নৌ-উপদেষ্টা শ্রমিকদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের এমন দমন-পীড়নের প্রতিবাদেই তারা এই কঠোর পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রভাবিত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি: ইতিমধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে বন্দরের সিসিটি ও এনসিটিসহ সব টার্মিনালে পণ্য ওঠানামা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। জাহাজ জেটিতে বসে থাকায় এবং রপ্তানি পণ্য আটকে পড়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিজিএমইএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর ফলে পোশাক খাতের শিপমেন্ট শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। পুলিশি বাধা এবং কর্তৃপক্ষের অনমনীয় অবস্থানের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।