২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। এ ছাড়া সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদ, সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎকালীন কমিশনার মনিরুজ্জামানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাজা দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকেও। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল ও হাফিজুর রহমানকে যথাক্রমে পাঁচ ও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশসহ আরও কয়েকজনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে মাহাফুজুর রহমান শামীম, ফজলে রাব্বী, আখতার হোসেন, সেজান আহম্মেদ ও ধনঞ্জয় কুমারকে তিন বছর এবং ইমরান চৌধুরী ও মাসুদুল হাসানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ীদের বিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে ৩০ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ২০২৫ সালের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরু হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই রায়ে আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটে।
রংপুরে আন্দোলনের উত্তাল দিনে টিয়ার শেলের ধোঁয়া আর গুলির শব্দের মধ্যে দুহাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের সেই দৃশ্য এখনও নাড়া দেয় দেশবাসীকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারানো এই শিক্ষার্থীকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলার রায় আজ ঘোষিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এ মামলার রায় ঘোষণা করবে। এতে ৩০ আসামির দায় ও শাস্তি নির্ধারিত হবে। গত ৫ মার্চ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ রায়ের দিন ধার্য করেন। মামলাটিতে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য প্রদান করেন। তদন্তে উঠে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাংশ, পুলিশ কর্মকর্তারা এবং ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী মিলে আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে উল্টো সহিংসতা উসকে দেন। রংপুর মহানগর পুলিশের তৎকালীন কমিশনার মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বেতার বার্তার মাধ্যমে অধস্তন কর্মকর্তাদের কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার নির্দেশ বাস্তবায়নে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি ভূমিকা রাখেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এএসআই আমির হোসেনের বিরুদ্ধে সরাসরি গুলি চালিয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন দমনে উসকানি ও সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও হামলা ও সহিংসতায় জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে মামলার ছয় আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন, বাকিরা পলাতক। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আশা প্রকাশ করে বলেছেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত একটি প্রত্যাশিত রায় দেবেন। তিনি জানান, এ হত্যাকাণ্ড দেশ-বিদেশে আলোচিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বহুল আলোচিত এই মামলার রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
রংপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য চলাফেরা ও সক্রিয়তায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলার আসামিরা জামিনে বের হয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন, এমনকি ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকিও দিচ্ছেন। এতে এসব পরিবার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশও রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু আসামি গ্রেপ্তার হলেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের পর অনেক আসামি একের পর এক জামিন পাচ্ছেন। জামিনে বেরিয়েই তারা বাদী ও সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব বিষয় পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং পুলিশের কিছু কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাহস দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির কিছু নেতার সহায়তা পাওয়ায় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে আরও উৎসাহ পাচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, গঙ্গাচড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন পদধারী নেতা প্রকাশ্যে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও পুলিশ গ্রেপ্তারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে পীরগাছা ও বদরগঞ্জ উপজেলাতেও। সেখানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতা মামলার আসামি হয়েও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন এবং বাদী-সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের কিছু শীর্ষ নেতা সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাদের ওপর ভরসা করে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীরা সক্রিয় হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিঠাপুকুর উপজেলাতেও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা বিভিন্নভাবে কর্মীদের সক্রিয় থাকতে উৎসাহ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পক্ষে থাকা পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশের ভেতরে এখনো এমন অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধা পেয়েছিলেন। তাদের একটি অংশ এখনো আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলেও তারা জানান। রংপুর মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় হামলা ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত অনেকেই এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. তানজিউল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী অপরাধীদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে। জুলাইয়ের সহিংসতায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মজিদ আলী বলেন, পুলিশ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে। কেউ অপরাধ করলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্টের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রংপুর রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি আমিনুল ইসলামও বলেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা অপরাধ করেছে বা করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে গ্রেপ্তারও করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সকল প্রকার সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা শেষ হলেও রংপুরের ভোটের মাঠে চিত্র ভিন্ন। ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, নির্বাচনি আচরণবিধি তোয়াক্কা না করে ভোটারদের প্রলুব্ধ করতে শাড়ি-লুঙ্গি ও নগদ অর্থ বিতরণ করছে বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। বিশেষ করে প্রশাসনের চোখের সামনেই ‘কালো টাকা’র ছড়াছড়ি চললেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন জোটের নেতারা। রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে লড়ছেন ৪৩ জন প্রার্থী। জোট নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি প্রার্থীরা সারা জেলায় রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহার করে আচরণবিধি ভঙ্গের রেকর্ড গড়েছেন। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়িতে ডেকে ভূরিভোজের আয়োজন ও নগদ অর্থ দিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আসনভিত্তিক অনিয়মের চিত্র: রংপুর-১: এখানে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে নগদ টাকা পৌঁছানোর অভিযোগ করেছে ১১ দলীয় জোট। রংপুর-২: জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে টাকা বিলানোর অভিযোগ বিএনপিরই। পাল্টা অভিযোগ হিসেবে বিএনপি কর্মীরা জামায়াত ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছে জোট। রংপুর-৩: জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাসভবনে প্রকাশ্য ভূরিভোজ ও অর্থ বিতরণের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসন নিশ্চুপ। রংপুর-৪: বিএনপি ও জাপা প্রার্থীর পক্ষ থেকে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণের অভিযোগ তুলেছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। রংপুর-৫ ও ৬: এখানেও ভোটারদের দাওয়াত করে খাওয়ানো এবং জোটের কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখনো নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে পারেনি। প্রকাশ্যে উপঢৌকন বিলানোর তথ্য দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেই। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতে কমিশন পুরোপুরি ব্যর্থ।” জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো তৈরি হয়নি। তবে আমরা আশাবাদী যে সাধারণ মানুষ সব বাধা ডিঙিয়ে নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসবে।” এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে রংপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান জানিয়েছেন, মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও যৌথ বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভোটের আগে এমন টানটান উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রংপুরের নির্বাচনি পরিবেশ এখন সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
রংপুর-৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব এবং জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেনকে ফোনে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শাপলা কলি প্রতীকের এই প্রার্থী। হুমকির ঘটনার পর রাতেই এক ভিডিও বার্তায় আখতার হোসেন তাঁর দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “ভয় দেখিয়ে বা হত্যার হুমকি দিয়ে আমাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। আমরা জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আদর্শ ও কর্মসূচির লড়াই ছেড়ে যারা হুমকি-ধমকির পথ বেছে নিয়েছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।” আখতার হোসেন ভিডিও বার্তায় আরও জানান, শনিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে পীরগাছা থানার ছাওলা ইউনিয়নের কিশামত গ্রামে গণসংযোগের সময় তাঁর মোবাইলে একটি কল আসে। অপরিচিত এক ব্যক্তি তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নির্বাচনের পর ‘দেখে নেওয়া’ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেয়। এই ঘটনায় তিনি এবং তাঁর পরিবার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। জিডি সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির হুমকিতে নির্বাচনী এলাকায় এক ধরণের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। আখতার হোসেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। ফ্যাসিবাদের আমলে অনেক জেল-জুলুম সহ্য করে আমরা এই পর্যায়ে এসেছি, তাই কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের জয়যাত্রাকে রুখতে পারবে না।” ভোটের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতে একজন প্রার্থীর ওপর এমন হুমকির ঘটনায় কাউনিয়া ও পীরগাছা এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আদর্শিক লড়াইয়ে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় একটি মহল এখন ভীতি প্রদর্শনের কৌশল অবলম্বন করছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী আখতার হোসেনকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার রাত ১১টার দিকে তিনি পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে আখতার হোসেন উল্লেখ করেন, বিকেল অনুমানিক সাড়ে পাঁচটার সময় তিনি পীরগাছা থানার ছাওলা ইউনিয়নের কিশামত গ্রামে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় একটি অপরিচিত মুঠোফোন নম্বর থেকে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। আখতার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সারা দেশের মতো আমার আসনেও শাপলা কলির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছে। প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, গোপনে হুমকিও এসেছে। তবে ভয় দেখিয়ে, উড়ো কথা বলে কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আমাদের জয়যাত্রাকে থামানো যাবে না। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী তদন্ত চালানো হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ বিষয়ক গণভোটকে সামনে রেখে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে এক বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। তারেক রহমান তাঁর ভাষণের শুরুতেই জুলাই বিপ্লবের আইকন শহীদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪শ শহীদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “রংপুর কেবল একটি জেলা নয়, এটি ত্যাগের এক পবিত্র ভূমি। আবু সাঈদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের অবশ্যই সংস্কারের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষের বিজয়ের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে।” রংপুরের সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে এক বিশেষ অর্থনৈতিক রূপরেখা পেশ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “রংপুরকে যারা গরিব অঞ্চল মনে করেন, তারা ভুল করছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো রংপুরকে একটি আধুনিক শিল্প ও আইটি হাবে রূপান্তর করা। এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষিজাত পণ্যের কলকারখানা স্থাপন করা হবে এবং স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী কর ছাড় (Tax holiday) সুবিধা দেওয়া হবে।” কৃষক ও নারীদের কল্যাণে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। প্রতিটি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে স্মার্ট কৃষি কার্ড, যার মাধ্যমে অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাবেন তারা। এছাড়া নারীদের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে।” ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঐক্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, এদেশের মানুষ আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন দেখতে চায় না। ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি একটি জবাবদিহিমূলক এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রংপুরের এই জনসভা নির্বাচনী প্রচারণায় ধানের শীষের পালে এক নতুন হাওয়া যোগ করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মকবুল হোসেন বলেন, আশা করি তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ফল হিসেবে একটি উন্নত, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন পূরণ হবে। এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুরে উপস্থিত হয়ে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন তিনি। পরে শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেন তারেক রহমান। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালর ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আবু সাঈদ। পরদিন তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ছিলেন জুলাই আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনরত সেনা সদস্যদের পরিদর্শনের লক্ষ্যে রংপুর এরিয়া পরিদর্শন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এ সময় সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনকে পেশাদারি, নিরপেক্ষতা ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রংপুরে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। রংপুর সার্কিট হাউসে আয়োজিত এ মতবিনিময়সভায় জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সামরিক-বেসামরিক প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মতবিনিময়সভা শেষে নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন করা সেনা সদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে সেনা সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রখেন। এ সময় তিনি সর্বোচ্চ পেশাদারি ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সবাইকে নাগরিকবান্ধব আচরণের নির্দেশ দেন। সেনাপ্রধানের রংপুর এরিয়া পরিদর্শনকালে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, জিওসি, ৬৬ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, রংপুর এরিয়া এবং সেনাসদর ও রংপুর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্যেই সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাচ্ছে। তবে যারা পরাজিত শক্তি, যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, গণমানুষের প্রতিপক্ষ একমাত্র তারাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় গণঅভুত্থ্যানে রংপুর জেলা শহীদদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। আদিলুর রহমান খান বলেন, ছাত্র-জনতার অনেক রক্ত ও ত্যাগের মধ্যদিয়ে গণঅভুত্থ্যানে ফ্যাসিস্ট সরকার পরাজিত হয়েছে। সেই গণঅভুত্থ্যানের মাধ্যমে এই সরকার এসেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার গণভোটের আয়োজন করেছে। এ দেশের মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, যারা গণমানুষের প্রতিপক্ষ তারাই অন্য কিছু চিন্তা করবে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ, জনতার কাফেলা, জনতার জোয়ার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক শেষে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুরের আরডিএ ও তাজহাট জমিদারবাড়ি পরিদর্শন করেন। পরে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা পর্যায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন। এছাড়াও তিনি মিঠাপুকুরে এলজিইডির সড়ক পরিদর্শন ও শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে শানেরহাটে নির্মিত রাস্তা পরিদর্শন করবেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।