রোহিঙ্গা

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ট্রলারডুবি: ছয় বাংলাদেশি ও তিন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড

অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে আড়াই শতাধিক যাত্রীবাহী একটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।   বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল বিকেলে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভাসমান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’। পরে তাঁদের কোস্ট গার্ডের টহল জাহাজ ‘মনসুর আলী’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশি ও তিনজন রোহিঙ্গা। তাঁদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন।   উদ্ধার হওয়া এক রোহিঙ্গা যুবক জানান, তাঁকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারের কুতুপালং এলাকা থেকে অপহরণ করে টেকনাফে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছাকাছি সমুদ্রে একটি বড় ট্রলারে তোলা হয়, যেখানে প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন রোহিঙ্গা এবং বাকিরা বাংলাদেশি।   তিনি দাবি করেন, ট্রলারে নারী ও শিশুসহ অনেক যাত্রী ছিলেন। আন্দামান সাগরের কাছে পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পাচারকারীরা যাত্রীদের সংকীর্ণ কুঠুরিতে গাদাগাদি করে রাখলে শ্বাসরোধে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জনের মৃত্যু হয়। পরে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়।   আরেক উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি জানান, তিনি পানির ট্যাংক আঁকড়ে ধরে দুই দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর উদ্ধার হন। এ ঘটনায় কোস্ট গার্ড বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তানজিনা সুলতানা’ নামের ট্রলারটি অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় পড়ে।   টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৬ জনকে সন্দেহভাজন মানব পাচারকারী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিনজনকে ভুক্তভোগী হিসেবে আদালতের নির্দেশে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে।   নিখোঁজ যাত্রীদের সঠিক সংখ্যা ও তাঁদের পরিণতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্ধার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ায় ঘটনাটি তদন্তে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পুলিশ সংস্কার ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফ্রড সামিটের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।   স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের ‘এমওই৩’ কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্কের প্রশংসা করেন। তিনি প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। লর্ড হ্যানসনও এই অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।   ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সমর্থনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   গত সপ্তাহে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা সংস্কার, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ বিচার খাতে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।   বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার ও আধুনিকায়ন বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ পুলিশের অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের উদাহরণ তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের পুলিশের কৌশলগত সংস্কার, মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা কামনা করেন।   এছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।   লর্ড হ্যানসন বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের সংস্কার পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে ভিয়েনায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা (ফাইল ফটো)
১৪ মাসে বাংলাদেশে আরও প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ

২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নতুনভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৭ জন রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।   গত ডিসেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৩২ জন। বর্তমানে ক্যাম্পগুলোতে মোট ১১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৫ জন রোহিঙ্গা চিহ্নিত করা হয়েছে। ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৪ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে লক্ষ্যযুক্ত সহিংসতা এবং নির্যাতনের কারণে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যার ফলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে নিরাপত্তা খুঁজছে।   ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ইউএনএইচসিআর ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৪২৮ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন করেছে, যারা ১৯৯০ এবং ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৪৩৩ জন ১৯৯০ সালের পর এবং ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৫ জন ২০১৭ সালের পর বাংলাদেশে এসেছেন।   প্রতিবেদন বলছে, রাখাইন রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে ২০২৪ সাল থেকে নতুন শরণার্থীরা বাংলাদেশে নিরাপত্তার সন্ধান অব্যাহত রেখেছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ক্যাম্পগুলোতে নতুন আগতদের ঢেউ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বায়োমেট্রিক সনাক্তকরণ চলছে।   শরণার্থীদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ নারী ও শিশু রয়েছে। এছাড়া ১২ শতাংশ শরণার্থী বিশেষ সুরক্ষা প্রয়োজন—যেমন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, একক পিতা-মাতা, গুরুতর চিকিত্সা প্রয়োজন এমন রোগী, সঙ্গীহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ঝুঁকিপূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তি।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
উখিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযান
উখিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৫০০ রোহিঙ্গা আটক

সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর অভিযানে কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে বসবাস করা অন্তত ১৫শ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে ।   রোববার ভোরে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীসহ আশেপাশের এলাকায় এই অভিযান শুরু হয় বলে জানিয়েছেন যৌথবাহিনীর একজন কর্মকর্তা। অভিযান অব্যাহত থাকায় আটকের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।   আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের অপব্যবহার করা হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই এই অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।   তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য ক্যাম্পে জায়গা নির্ধারণ করে দেয়া আছে। কিন্তু তারপরও তারা নিয়ম ভেঙ্গে বাঙালিদের জমি দখল করে অবস্থান করছে। যা স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।”   বর্তমানে আটককৃতদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত করা হচ্ছে। পরে তাদেরকে স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হবে এবং ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।   “তাদেরকে আমরা এখনই ক্যাম্পে পাঠাবো না। আগে সবাইকে আটক করা হবে। তারপর অনুসন্ধান করা হবে যে তারা কেন ক্যাম্পে নিজেদের নির্ধারিত জায়গা থেকে বেরিয়ে এসেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখার পর স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাদেরকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো ব্যবস্থা করা হবে।”   এদিকে ক্যাম্পের বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।   এর আগে, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারিতে বার্মা কলোনিসহ আশেপাশের এলাকা থেকে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠায় যৌথ বাহিনী।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী/ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারের পরিস্থিতি জটিল, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেই অগ্রাধিকার

মিয়ানমারের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও বহুপাক্ষিক জিওপলিটিক্যাল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেন, দেশটিতে একাধিক শক্তি ও পক্ষ সক্রিয় থাকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুটি সহজ নয়, তবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার স্পষ্ট—রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন।   মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।   লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে মিয়ানমারে সামরিক সরকার, রাখাইনে সক্রিয় আরাকান আর্মি, বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক পক্ষ একসঙ্গে সক্রিয় রয়েছে। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে।   তিনি বলেন, মিয়ানমারে গণতন্ত্র আছে কি নেই, অং সান সু চি জেল থেকে বের হচ্ছেন কি না—এগুলো আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। যেই সরকারই থাকুক, রোহিঙ্গা বিষয়ে তাদের অবস্থান মোটামুটি একই রকম ছিল।   মানবিক সংকট ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু এখন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্পের ভার বহন করছে।   একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমারকে ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের অন্যতম বড় উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, মিয়ানমার থেকে এখন সাইবার ক্রাইম, মানবপাচার, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধের এক্সপোর্ট হচ্ছে। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয় বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।   আন্তর্জাতিক অঙ্গণে অগ্রগতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়াতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধান উপদেষ্টার এক বছর আগের অনুরোধের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্যোগে একটি হাই-লেভেল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।   লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশ এখন এই ইস্যুতে আরও স্পটলাইট চাইছে। এ ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে ভালো অগ্রগতি হয়েছে।   সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত জানান, রোহিঙ্গা বিষয়ক সরকারের উচ্চ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান সব পক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করছেন। এমনকি যেসব তৃতীয় পক্ষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয়, তাদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।   লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ডিপ্লোমেটিকভাবে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। তবে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।   ধারাবাহিক কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত অগ্রগতি সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন লুৎফে সিদ্দিকী।  

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
জাতীয়

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0