লিবিয়া

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ‘সরকার পরিবর্তন’ নীতি তিন দেশে বিপর্যয়কর হয়েছে

বিগত দুই দশকে ইরাক, আফগানিস্তান এবং লিবিয়ায় শাসনক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত পদক্ষেপগুলো চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ওয়াশিংটনের এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ মিশনগুলো শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতেই নয়, বরং খোদ আমেরিকার জন্যও বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে এনেছে। ইরাক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি স্থলসেনা মোতায়েন এবং ব্যাপক বোমা হামলার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পথ বেছে নিয়েছিল। এর ফলস্বরূপ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় এবং হাজার হাজার মার্কিন সেনার প্রাণের বিনিময়ে ইরাকে যে পরিবর্তন এসেছিল, তা শেষ পর্যন্ত চরম বিশৃঙ্খলা আর লক্ষ লক্ষ ইরাকবাসীর মৃত্যুতে পর্যবসিত হয়। অন্যদিকে, আফগানিস্তানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের অধীনে দীর্ঘ ২০ বছর অবস্থান করেও কোনো স্থায়ী স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি হোয়াইট হাউস। বিপুল অর্থ ব্যয়ে আফগান বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিলেও মার্কিন প্রত্যাহারের পরপরই তালেবানের হাতে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ চলে যায়, যা আমেরিকার দীর্ঘতম যুদ্ধের এক শোচনীয় সমাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। লিবিয়ার ক্ষেত্রে কৌশল কিছুটা ভিন্ন হলেও ফলাফল ছিল একই। সেখানে সরাসরি সেনা মোতায়েন না করে ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে নিয়ে গাদ্দাফি শাসনের পতন ঘটানো হয়। কিন্তু আজ এক দশকের বেশি সময় পার হলেও লিবিয়া এখনো বিভাজন, সহিংসতা এবং চরম অরাজকতার কবলে আটকে আছে। সামগ্রিকভাবে, গত দুই দশকে আমেরিকার এই তিনটি প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে যে, জোরপূর্বক শাসন পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত কেবল মানবিক ও কৌশলগত বিপর্যয়ই ডেকে আনে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ বাংলাদেশি

লিবিয়া থেকে ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা–এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তারা দেশে প্রত্যাবর্তন করেন।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ৩০ জন এবং বেনগাজী ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত দুস্থ, অসহায় ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ১৪৫ জনসহ মোট ১৭৫ জন স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনেচ্ছুক অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে লিবিয়া থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।   প্রত্যাবাসিতদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহায়তায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত নাগরিকদের অভ্যর্থনা জানান। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।   লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
গাদ্দাফি পুত্রের শেষ বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল

লিবিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দেশটির বানি ওয়ালিদ শহরে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তাকে সমাহিত করা হয়। রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই শহরটিতে গাদ্দাফি পরিবারের কট্টর সমর্থকদের শোকাচ্ছন্ন উপস্থিতি লিবিয়ার বর্তমান রাজনীতিতে এক নতুন বার্তাও দিয়েছে।   ৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি গত মঙ্গলবার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে নিজ বাসভবনে অজ্ঞাত চার বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হন। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত করেছে যে, সরাসরি সংঘর্ষে গুলির আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত তা শনাক্তে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।   দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লিবিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ বানি ওয়ালিদে জড়ো হন। সির্তে শহর থেকে জানাজায় অংশ নিতে আসা ওয়াদ ইব্রাহিম নামের এক সমর্থক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন লিবিয়ার সাধারণ মানুষের শেষ আশার আলো, যাকে ঘিরে তারা একটি ঐক্যবদ্ধ আগামীর স্বপ্ন দেখছিলেন।   উল্লেখ্য, সাইফ আল-ইসলামকে একসময় তার বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মনে করা হতো। তিনি আন্তর্জাতিক মহলে সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিতি পেলেও ২০১১ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ২০২১ সালে তিনি পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবে সেই নির্বাচন নানা জটিলতায় স্থগিত হয়ে যায়।   বর্তমানে লিবিয়া কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত—একদিকে ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ-সমর্থিত আবদুল হামিদ দাবেইবার সরকার এবং অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলে খলিফা হাফতারের প্রশাসন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাইফ আল-ইসলামের এই হত্যাকাণ্ড লিবিয়ার ভঙ্গুর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে এবং নতুন করে সংঘাতের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি
বেনগাজি হামলার মূল হোতা যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার

লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন কনস্যুলেটে ২০১২ সালের ভয়াবহ হামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত জুবায়ের আল-বাকুশকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   পাম বন্ডি জানান, লিবিয়া থেকে জুবায়ের আল-বাকুশকে উদ্ধার করে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে। শুক্রবার ভোর রাত ৩টায় তাকে বহনকারী বিমানটি অ্যান্ড্রুজ এয়ারফোর্স বেসে অবতরণ করে। বর্তমানে সে মার্কিন হেফাজতে রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক অভিযোগ আনা হবে।   উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বেনগাজিতে মার্কিন মিশনে উগ্রপন্থীদের ওই হামলায় তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার স্টিভেন্সসহ চারজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। প্রাথমিকভাবে একে বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়া মনে করা হলেও পরবর্তীতে তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, এটি ছিল আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট উগ্রবাদী গোষ্ঠীর একটি সুপরিকল্পিত হামলা।   এই ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI) হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। এর আগে এই হামলায় জড়িত থাকার দায়ে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সাজা প্রদান করেছে মার্কিন আদালত।   বেনগাজি হামলার এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও দীর্ঘকাল ধরে বিতর্কের জন্ম দিয়ে আসছিল। বিশেষ করে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ভূমিকা নিয়ে রিপাবলিকানরা দফায় দফায় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর জুবায়ের আল-বাকুশের গ্রেপ্তার এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
সাইফ আল-ইসলাম। ছবি: রয়টার্স
গাদ্দাফির ছেলে সাইফকে গুলি করে হত্যা

পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে গত এক দশক ধরে অবস্থান করছিলেন তিনি।   লিবিয়ার সাবেক এক নায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি দেশটির একটি শহরে নিহত হয়েছেন।   পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে ৫৩ বছর বয়সী সাইফ গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার খবর দিয়েছে রয়টার্স ও আল জাজিরা।   তিনি গত এক দশক ধরে ওই শহরেই অবস্থান করছিলেন।   আল জাজিরা আরবির লিবিয়া সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা বলেন, সাইফ গাদ্দাফিকে ধারণা করা হচ্ছে খুন করা হয়েছে।   লিবিয়ার সাবেক একনায়ক গাদ্দাফির ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও ক্ষমতাধর ছিলেন সাইফ গাদ্দাফি। ২০১১ সালে বাবার পতনের পর তিনি গ্রেপ্তার হলেও পরে মুক্তি পান। তিনি দেশটির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টাও করেন।   তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলছে, তার আইনজীবী খালেদ এল-জাইদি এবং লিবিয়ার গণমাধ্যম তার নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।   সাইফ গাদ্দাফির নিহত হওয়ার সময়কার ঘটনা ও বিবরণও পরিষ্কার নয় বলে প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।   এক নায়ক পিতার শাসনামলে কোনো সরকারি পদে না থাকলেও তেলসমৃদ্ধ উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে একসময় তাকে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হত।   সাইফ গাদ্দাফিকে তার পিতার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবেও বিবেচনা করতেন অনেকে।   লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করা সাবলীল ইংরেজিভাষী সাইফ একসময় লিবিয়ার গ্রহণযোগ্য, পশ্চিমাপন্থি মুখ হিসেবে পরিচিতি পান।   তবে তার বাবার ক্ষমতা হারানোর পর এক দশক ধরে বন্দিত্ব ও অজ্ঞাতবাসে কাটান। মুক্তির দীর্ঘদিন পর ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রচারণাও শুরু করেছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।   ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাইফ গাদ্দাফিকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিল।   ২০১১ সালে অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর আগে তার পিতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি শাসন করেছিলেন।   রয়টার্স লিখেছে, সাইফ তার বাবার সরকারে নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখতেন এবং উচ্চ পর্যায়ের ও সংবেদনশীল কূটনৈতিক মিশনে মধ্যস্থতার ভূমিকাও পালন করতেন। তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবির আকাশে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা করেন।  

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি
লিবিয়ায় গাদ্দাফির ছেলেকে গুলি করে হত্যা

লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র এবং একসময়ের দেশটির দ্বিতীয় শীর্ষ ক্ষমতাধর ব্যক্তি সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।   লিবিয়া থেকে আলজাজিরা আরবির সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা জানিয়েছেন, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে অবস্থানরত ৫৩ বছর বয়সী সাইফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তার মৃত্যু হয়। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই শহরেই অবস্থান করছিলেন। সাইফ গাদ্দাফির রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওথমান এই হত্যাকাণ্ডের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূল কারণ কী, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। লিবিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   উল্লেখ্য, মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনামলে ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি কোনো দাপ্তরিক পদে না থাকলেও তাকে তার বাবার পর লিবিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০১১ সালে এক অভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর সাইফ গাদ্দাফিকে জিনতানের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী বন্দি করে। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর ২০১৭ সালে তিনি মুক্তি পান এবং তখন থেকেই জিনতান শহরে অনেকটা নিভৃতে অবস্থান করছিলেন। লিবিয়ার ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার এই আকস্মিক মৃত্যু নতুন করে সংঘাত ও অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
জাতীয়

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0