শিক্ষা

আর্টেমিস ২ মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কচ তার সহকর্মী আমেরিকান ওয়াইজম্যান ও পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং আরেক মিশন স্পেশালিস্ট কানাডিয়ান জেরেমি হ্যানসেনের সাথে ওরিয়ন মহাকাশযানে রয়েছেন । ছবি হ্যান্ডআউট/নাসা, রয়টার্স
বাংলাদেশের নারীদের বলছি..

বাংলাদেশের নারীদের উদ্দেশে একটাই কথা শিক্ষাই আপনাদের প্রকৃত শক্তি, শিক্ষাই মুক্তির একমাত্র পথ। শিক্ষা ছাড়া সামনে এগোনোর কোনো টেকসই বিকল্প নেই। জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে নারীরাই পারে নিজেদের ভাগ্য বদলে দিতে, এমনকি বিশ্বজয় করার স্বপ্নও বাস্তবে রূপ দিতে।   বিশ্বের নানা প্রান্তে নারীরা আজ অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন। মহাকাশ থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য থেকে রাজনীতি—সবখানেই তাদের দৃপ্ত পদচারণা। এই অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে, সুযোগ ও শিক্ষার সমন্বয় ঘটলে নারীরা অসম্ভবকেও সম্ভব করে তুলতে পারেন।   কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের সমাজে এখনো নানা প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, সামাজিক বাধা, কুসংস্কার—এসবের কারণে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথ অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে। তবুও থেমে গেলে চলবে না। প্রতিকূলতাকে জয় করেই এগিয়ে যেতে হবে।   নিজেকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারলে একজন নারী শুধু নিজের জীবনই বদলাতে পারেন না, বদলে দিতে পারেন একটি পরিবার, একটি সমাজ, এমনকি একটি দেশও। শিক্ষা একজন নারীকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি দেয় এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি করে।   দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো আমাদের সমাজে বাল্যবিবাহ, বৈষম্য ও নারীর প্রতি অবমূল্যায়নের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় আসে। অথচ বিশ্বের অন্য প্রান্তে নারীরা প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই বৈপরীত্য দূর করতে হলে শিক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।   তাই বাংলাদেশের নারীদের প্রতি আহ্বান নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের স্বপ্নকে গুরুত্ব দিন এবং সেই স্বপ্ন পূরণে অবিচল থাকুন। সমাজের নেতিবাচক ধ্যানধারণাকে উপেক্ষা করে নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হবে।   ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নারীরাই পারে অসম্ভবকে সম্ভব করতে। অতীত ও বর্তমানের অসংখ্য নারী তাদের সাহস, মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে বিশ্বকে পথ দেখিয়েছেন। তাদের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নতুন প্রজন্মের নারীরাও এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশাই এখন সময়ের দাবি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ সাশ্রয়: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত আসবে পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে। শিক্ষা কার্যক্রমে সশরীর, অনলাইন বা মিশ্র পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে কি না—তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এ সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে।   আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিষয়টি মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সংবাদ সম্মেলন করবে। আমাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কিছু বলা হবে না।”   সাধারণত মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার, তাই পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ এপ্রিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।   শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক প্রস্তাবে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে জোড়-বিজোড় ভিত্তিতে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সশরীর ক্লাস হবে। অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকরা সশরীর উপস্থিত থেকে পাঠদান করবেন। ব্যবহারিক ক্লাস অবশ্যই সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।   তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস কার্যকর করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। ঢাকার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, “শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের সবাইকে অনলাইনে আনা অসম্ভব। করোনা পরিস্থিতিতেও আমরা অনলাইন ক্লাসে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনি।”   প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করানো কঠিন। এ জন্য বিকল্প সমাধান খোঁজা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিপরিষদ থেকে আসবে।   উল্লেখ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৪০ দিনের ছুটি শেষে ২৯ মার্চ খুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটের প্রভাব এ সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আজকের শিক্ষার আধুনিকায়ন ও রূপান্তর

শিক্ষা মানুষের জীবনের সবচেয়ে মৌলিক ও শক্তিশালী রূপান্তরকারী শক্তি। যুগে যুগে সভ্যতার বিকাশের পেছনে শিক্ষা যে বিশাল ভূমিকা রেখেছে, তা ইতিহাসের প্রতিটি স্তরেই স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব এমন এক পরিবর্তনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা আর সময়োপযোগী বলে বিবেচিত হচ্ছে না। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তিত চাহিদা আমাদেরকে বাধ্য করছে নতুন করে ভাবতে-কীভাবে আমরা আগামী প্রজন্মকে প্রস্তুত করব। আজকের শিক্ষার্থীকে কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে গড়ে তুললে সে বাস্তব জীবনের অনিশ্চয়তা, জটিলতা ও প্রতিযোগিতার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে না।   কারণ বর্তমান বিশ্বে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও প্রজ্ঞার অভাবই বড় সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তাই প্রয়োজন এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা, যা শুধু তথ্য সরবরাহ করবে না, বরং তথ্যকে বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও প্রয়োগ করার সক্ষমতা তৈরি করবে। এই প্রেক্ষাপটে “স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল” হতে পারে একটি সমন্বিত, মানবিক এবং ভবিষ্যতমুখী শিক্ষাদর্শন, যা শিক্ষার্থীদের কেবল তথ্যভাণ্ডার হিসেবে গড়ে তুলবে না, বরং তাদেরকে দক্ষ, চিন্তাশীল, নৈতিক, দৃঢ়চেতা এবং প্রযুক্তিসচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এই মডেল এমন একটি ভারসাম্য তৈরি করবে, যেখানে জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ একে অপরের সাথে সমন্বয়পূর্বক একজন মানুষকে পূর্ণতা দিবে।   এই মডেলের মূল ভিত্তি হবে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- দক্ষতা (স্কিল), মানসিকতা (মাইন্ডসেট), মনোভাব (অ্যাটিচ্যূড), সহনশীলতা (রেজিলিয়েন্স) এবং প্রযুক্তি (টেকনোলজী)। এই পাঁচটি উপাদান একে অপরের পরিপূরক এবং সম্মিলিতভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার কাঠামো তৈরি করবে। প্রথমত দক্ষতা এমন একটি উপাদান যা একজন শিক্ষার্থীকে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করবে। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা মূলত তাত্ত্বিক জ্ঞাননির্ভর ছিল, যেখানে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনই ছিল প্রধান লক্ষ্য।   কিন্তু বাস্তব জীবনে সফল হতে হলে শুধু জ্ঞান থাকলেই হয় না; সেই জ্ঞানকে প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করার সক্ষমতাই একজন মানুষের প্রকৃত যোগ্যতা নির্ধারণ করে। সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থী যদি কোনো সমস্যাকে ভেঙে বিশ্লেষণ করতে পারে, সম্ভাব্য কারণগুলো চিহ্নিত করতে পারে এবং যৌক্তিকভাবে সমাধানের পথ নির্ধারণ করতে পারে, তাহলে সে যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারবে। এজন্য শিক্ষার প্রতিটি স্তরে অনুসন্ধানভিত্তিক শিক্ষা, প্রকল্পভিত্তিক কাজ, দলগত আলোচনা এবং বাস্তব জীবনের উদাহরণকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা শুধু উত্তর মুখস্থ করবে না, বরং উত্তর খুঁজে বের করার প্রক্রিয়াটিই শিখবে, যা তাদের চিন্তাশক্তিকে বহুমাত্রিক করে তুলবে।   উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, কোডিং বা প্রোগ্রামিং দক্ষতা আধুনিক যুগে এক ধরনের ভাষায় পরিণত হয়েছে, যা প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সাথে সংযোগ স্থাপনের একটি কার্যকর মাধ্যম। এটি শুধু প্রযুক্তিবিদদের জন্য নয়; বরং সকল শিক্ষার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোডিং শেখার মাধ্যমে তারা লজিক্যাল চিন্তা, ধৈর্য এবং সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের অভ্যাস গড়ে তোলে। একটি ছোট প্রোগ্রাম তৈরি করার মধ্য দিয়েও একজন শিক্ষার্থী শিখে নেয় কীভাবে একটি জটিল সমস্যাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে সমাধান করতে হয়। এর পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করে।   বর্তমান বিশ্বে জ্ঞান যত গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই জ্ঞানকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার ক্ষমতা। একজন শিক্ষার্থী যদি তার ভাবনা স্পষ্ট, সুসংগঠিত এবং কার্যকরভাবে প্রকাশ করতে পারে, তাহলে সে সহজেই অন্যদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে এবং তার চিন্তার মূল্যায়ন পাবে। তাই মৌখিক উপস্থাপনা, লিখিত প্রকাশ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ এই তিনটি ক্ষেত্রেই দক্ষতা উন্নয়ন অপরিহার্য। বিশেষ করে দলগত কাজের ক্ষেত্রে কার্যকর যোগাযোগ পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করে এবং যৌথভাবে সাফল্য অর্জনের পথ সুগম করে। এইভাবে দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী শুধু শিক্ষিত নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত একজন সক্ষম মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।   স্মার্ট-৫.০ মডেলের দ্বিতীয় উপাদান মানসিকতা, যা শিক্ষার্থীর চিন্তার ধরনকে গঠন করবে এবং তার শেখার গভীরতা নির্ধারণ করবে। একটি সুস্থ ও ইতিবাচক মানসিকতা ছাড়া কোনো দক্ষতাই দীর্ঘস্থায়ী বা কার্যকর হয়ে উঠতে পারে না, কারণ দক্ষতার সঠিক প্রয়োগ নির্ভর করে চিন্তার গুণগত মানের উপর। সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বর্তমান তথ্যপ্রবাহের যুগে মানুষ প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ তথ্যের মুখোমুখি হচ্ছে, যার সবই সত্য বা নির্ভরযোগ্য নয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদেরকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা তথ্যের উৎস যাচাই করতে পারে, পক্ষপাতদুষ্টতা চিহ্নিত করতে পারে এবং যুক্তির আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।   শুধু তথ্য গ্রহণ নয়, বরং তথ্যের ভেতরের অর্থ ও প্রভাব অনুধাবন করার ক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে। এর পাশাপাশি গ্রোথ মাইন্ডসেট বা বিকাশমুখী মানসিকতা শিক্ষার্থীদেরকে শেখায় যে প্রতিভা জন্মগত কোনো স্থির বিষয় নয়, বরং এটি চর্চা, অধ্যবসায় এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিকশিত হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষার্থীদেরকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণে উৎসাহিত করে, ভুল থেকে শিক্ষা নিতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে আত্মবিশ্বাসী ও স্বনির্ভর করে তোলে। ফলে তারা ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে বরং সেটিকে উন্নতির সোপান হিসেবে ব্যবহার করতে শেখে।   মনোভাব হলো এই মডেলের তৃতীয় উপাদান, যা একজন মানুষের চরিত্র, আচরণ এবং সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলবে। শিক্ষা যদি কেবল দক্ষতা ও জ্ঞান প্রদান করে, কিন্তু একজন মানুষকে মানবিক ও দায়িত্বশীল করে তুলতে না পারে, তাহলে সেই শিক্ষা পূর্ণতা পায় না। নৈতিকতা একজন মানুষের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু, যা তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানদণ্ড নির্ধারণ করে। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, দায়বদ্ধতা এবং আত্মসম্মান-এই মূল্যবোধগুলো ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্য অপরিহার্য। শিক্ষার্থীদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা শুধু নিজের স্বার্থে নয়, বরং বৃহত্তর সমাজের কল্যাণের কথা চিন্তা করে কাজ করতে শেখে।   একই সাথে সহমর্মিতা এমন একটি গুণ, যা মানুষকে অন্যের অবস্থান বুঝতে এবং তার অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল হতে শেখায়। এটি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শ্রেণিকক্ষে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম, সমাজসেবামূলক উদ্যোগ এবং সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে এই গুণগুলো বিকশিত করা সম্ভব। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বৈচিত্র্যকে সম্মান করতে শেখে এবং ভিন্ন মত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে, যা একটি সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য।   সহনশীলতা স্মার্ট-৫.০ মডেলের চতুর্থ উপাদান, যা একজন শিক্ষার্থীকে জীবনের অনিশ্চয়তা ও প্রতিকূলতার মধ্যে স্থির থাকতে এবং এগিয়ে যেতে শক্তি জোগাবে। বাস্তব জীবন কখনোই পূর্বনির্ধারিত পথে চলে না; বরং এটি নানাবিধ বাধা, পরিবর্তন এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে পরিপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থী যদি সামান্য প্রতিবন্ধকতায় হতাশ হয়ে পড়ে, তাহলে তার পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে যায়। তাই তাকে মানসিকভাবে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে সে প্রতিকূল পরিস্থিতিকে ভয় না পেয়ে বরং তা মোকাবেলার সাহস অর্জন করে। প্রতিটি ব্যর্থতা বা সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার অভ্যাস তাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।   অভিযোজন ক্ষমতা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কারণ বর্তমান বিশ্বে পরিবর্তনই একমাত্র স্থায়ী সত্য। প্রযুক্তির অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির দ্রুত রূপান্তর শিক্ষার্থীদেরকে প্রতিনিয়ত নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করছে। তাই তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা অজানা পরিস্থিতিতেও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে পারে, নতুন দক্ষতা অর্জনে আগ্রহী থাকে এবং পরিবর্তনকে সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে গ্রহণ করে। এই মানসিক দৃঢ়তা ও নমনীয়তার সমন্বয়ই একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের জন্য সত্যিকার অর্থে প্রস্তুত করে তোলে।   প্রযুক্তি হলো স্মার্ট-৫.০ মডেলের পঞ্চম এবং শেষ উপাদান, যা পুরো মডেলকে একটি আধুনিক, কার্যকর এবং ভবিষ্যতমুখী কাঠামো প্রদান করবে। প্রযুক্তি আজ আর কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; এটি শিক্ষা, কর্মজীবন এবং দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ক্লাউড প্রযুক্তির বিকাশ মানুষের শেখার ধরনকেই বদলে দিয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এই পরিবর্তন বিশেষভাবে লক্ষণীয়, কারণ এখন শিক্ষার্থীরা কেবল বইয়ের উপর নির্ভরশীল নয়; বরং তারা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন রিসোর্স এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ টুলের মাধ্যমে জ্ঞান আহরণ করছে।   প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় অবদান হলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার নিজস্ব সক্ষমতা, আগ্রহ এবং শেখার গতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এগোতে পারে। এতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সহায়তা পায় এবং অগ্রসর শিক্ষার্থীরা আরও গভীরভাবে শেখার সুযোগ পায়। তবে প্রযুক্তির এই বিস্তৃত ব্যবহারের সাথে সাথে এর নৈতিক ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল সাক্ষরতা তাই শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা নয়; বরং এটি তথ্য যাচাই, সাইবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা রক্ষা এবং দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণের একটি সমন্বিত চর্চা।   এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিকে কেবল ব্যবহারই করে না, বরং তা বুঝে, মূল্যায়ন করে এবং সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে শেখে। স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল মূলত একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে শিক্ষাকে একটি স্থির কাঠামো নয়, বরং একটি গতিশীল ও ক্রমবিবর্তনশীল প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এখানে শিক্ষক আর একমুখী জ্ঞানপ্রদানকারী নন; বরং তিনি একজন সহায়ক, যিনি শিক্ষার্থীদেরকে প্রশ্ন করতে, অনুসন্ধান করতে এবং নিজের চিন্তার জগৎ তৈরি করতে উৎসাহিত করেন।   এই মডেলে শেখার প্রক্রিয়া একমুখী নয়, বরং দ্বিমুখী এবং পারস্পরিক, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই একে অপরের কাছ থেকে শেখে। শিক্ষার্থীরা এখানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, যারা নিজেদের শেখার দায়িত্ব নিজেরাই গ্রহণ করে এবং নতুন জ্ঞান অর্জনে কৌতূহলকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করে। এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলে শ্রেণিকক্ষের প্রচলিত ধারণাও পরিবর্তিত হয়। শেখা আর নির্দিষ্ট সময় বা স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে ওঠে। ফলে শিক্ষা জীবনের সাথে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত হয় এবং তা কেবল পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।   এই মডেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন একটি সুসংগঠিত ও সমন্বিত উদ্যোগ, যেখানে নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সমাজের প্রতিটি অংশীদারের সক্রিয় ভূমিকা থাকবে। প্রথমত, পাঠ্যক্রমকে এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হবে যাতে তা বাস্তবমুখী, দক্ষতাভিত্তিক এবং সৃজনশীল চিন্তাকে উৎসাহিত করে। শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক পাঠ্যসূচি নয়, বরং এমন বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যা শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণ ক্ষমতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নত করে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক প্রশিক্ষণকে আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে, যাতে তারা নতুন শিক্ষাদর্শন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পদ্ধতির সাথে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারে।   একজন প্রশিক্ষিত ও সচেতন শিক্ষকই পারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই মডেলের মূল্যবোধগুলো সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে। একই সাথে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন অপরিহার্য, যাতে শহর ও গ্রামের মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য কমে আসে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পায়। ইন্টারনেট সংযোগ, ডিভাইসের প্রাপ্যতা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সব মিলিয়ে, এই মডেলের সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করে একটি সমন্বিত, দূরদর্শী এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার উপর, যা শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে ভবিষ্যত উপযোগী করে তুলতে পারে।   পরিশেষে বলা যায়, স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপদ্ধতি নয়; এটি একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, যা আমাদেরকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়-শিক্ষা কী, কেন এবং কীভাবে তা পরিচালিত হওয়া উচিত। এই মডেল শিক্ষাকে কেবল তথ্য অর্জনের প্রক্রিয়া হিসেবে না দেখে, বরং একজন মানুষের সামগ্রিক বিকাশের ধারাবাহিক যাত্রা হিসেবে বিবেচনা করে।   এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার লক্ষ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তারা আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল, দায়িত্বশীল এবং মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে, যারা নিজের জীবনকে অর্থবহ করতে পারে এবং একই সঙ্গে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। এই মডেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মনির্ভরতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করে, যা ভবিষ্যতের জটিল বাস্তবতায় তাদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।   ভবিষ্যতের বিশ্ব হবে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং পরিবর্তনশীল, যেখানে নির্দিষ্ট কোনো জ্ঞান বা দক্ষতা দীর্ঘদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে না। তাই এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন, যা শিক্ষার্থীদেরকে আজীবন শেখার বা জীবনব্যাপী শিক্ষা গ্রহণের মানসিকতা গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে এবং পরিবর্তনের সাথে নিজেকে ক্রমাগত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করে।   স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল সেই প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করে, যেখানে জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা এবং প্রযুক্তি একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে একটি টেকসই শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলে। এটি শিক্ষার্থীদেরকে কেবল কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করে না; বরং তাদেরকে উদ্ভাবক, চিন্তাশীল এবং সমাজসচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, যারা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। অতএব, এখনই সময় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্মূল্যায়ন করার এবং তা সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার।   শুধু নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রেও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে এই মডেলের মূল দর্শন শিক্ষার প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক এবং নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যা আগামী প্রজন্মকে শুধু জ্ঞানী নয়, বরং প্রজ্ঞাবান, মানবিক এবং দূরদর্শী করে তুলবে। স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল সেই পথনির্দেশনা প্রদান করে, যার মাধ্যমে আমরা একটি আলোকিত, দক্ষ এবং নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ সমাজ নির্মাণের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।   মোঃ আবদুর রহমান মিঞা, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), ঢাকা (প্রাবন্ধিক, লেখক ও গবেষক) ই-মেইল: arahmanmiah@gmail.com

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহ।
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, আমূল বদলে যাচ্ছে নেপালের শিক্ষা ব্যবস্থা

নেপালের নবগঠিত সরকার দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই গ্রহণ করা হয়েছে ১০০ দফার এক বিশাল সংস্কার কর্মসূচি। এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পরীক্ষার মানসিক চাপ কমিয়ে আনা। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে নেপালের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব ধরনের রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসগুলো থেকে রাজনৈতিক দল সমর্থিত সংগঠনগুলো সরিয়ে ফেলার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে গঠন করা হবে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’, যারা সরাসরি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করবে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকা বা দলীয় ট্রেড ইউনিয়ন পরিচালনা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো প্রথাগত অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা আর থাকছে না। পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে এবং মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প ও মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন পদ্ধতির প্রবর্তন করা হচ্ছে। এছাড়া সেশন জট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দিষ্ট শিক্ষা ক্যালেন্ডার মেনে দ্রুত ফলাফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। নেপালি জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করতে ‘অক্সফোর্ড’, ‘পেন্টাগন’ বা ‘সেন্ট জেভিয়ার্স’-এর মতো বিদেশি নামধারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি বছরের মধ্যে নেপালি নাম গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উচ্চশিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করতে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব সনদের প্রয়োজনীয়তা তুলে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের পেনশন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রাদেশিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে বালেন শাহর সরকার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে ৫ দফা জরুরি নির্দেশনা

দেশের শহর ও গ্রাম পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  বুধবার (২৫ মার্চ) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মন্ত্রণালয় থেকে ‘অতীব জরুরি’ ৫টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি পুরো কার্যক্রমটি তদারকি করবে। মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি রোগমুক্ত ও মনোরম শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ৫ দফা নির্দেশনাসমূহ হলো: ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা: ঈদের ছুটি শেষে স্কুল-কলেজ খোলার আগেই পুরো ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। নিয়মিত তদারকি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিদিন পরিষ্কার রাখা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তদারকি ব্যবস্থা কঠোর করতে হবে। সাপ্তাহিক অভিযান: কেবল পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওপর নির্ভর না করে প্রতি সপ্তাহে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে। বৃক্ষরোপণ ও বাগান: প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে এবং সৃজিত বাগানের নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি: শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে নিয়মিত উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারা বছর এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় বড় সুখবর: শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পথে ব্যাংক গ্যারান্টি বা সলভেন্সি সার্টিফিকেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা দূর হতে চলেছে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।  আজ মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, বিশেষ করে যারা জাপান, কোরিয়া, চীন বা জার্মানির মতো দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান, তাদের ব্যাংক গ্যারান্টির সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী এই ঋণের ব্যবস্থা করতে বলেছেন। এই ঋণ কার্যক্রমটি পরিচালিত হবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে। প্রতিমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ের মূল পয়েন্টগুলো: শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ: বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি সহায়তায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজারে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন কাজে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ভাষার দক্ষতা: প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে তারা বিদেশের মাটিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে ভালো বেতনে কাজ করতে পারেন। ভিসা জটিলতা নিরসন: ইউরোপের দেশগুলোর কনস্যুলার সেবা বা ভিসা অফিস যেন বাংলাদেশেই নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন বাজার অনুসন্ধান: মালয়েশিয়াসহ বন্ধ থাকা শ্রমবাজারগুলো দ্রুত চালুর পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও ইউরোপের দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ভার্জিনিয়ায় সাবেক কংগ্রেসম্যানদের সঙ্গে শিক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে বৈঠকে ডব্লিউইউএসটির উপাচার্য আবুবকর হানিফ
ভার্জিনিয়ায় সাবেক কংগ্রেসম্যানদের সঙ্গে শিক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে বৈঠকে ডব্লিউইউএসটির উপাচার্য আবুবকর হানিফ

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে সাবেক কংগ্রেসম্যানদের সঙ্গে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মজীবন গঠনের বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছেন ডব্লিউইউএসটির উপাচার্য আবুবকর হানিফ। সম্প্রতি সাবেক কংগ্রেসম্যান জিম মোরানের বাসভবনে আয়োজিত এক নৈশভোজ বৈঠকে তিনি অংশ নেন।   বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কংগ্রেসম্যান জিম মোরান, কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ার এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত ওসমান সিদ্দিকী। সৌজন্য সাক্ষাতে উচ্চশিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।   আবুবকর হানিফ বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের “ডিগ্রি, দক্ষতা ও ক্যারিয়ার” এই তিন লক্ষ্যভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা অর্জন এবং কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে।   উপস্থিত অতিথিরা এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বলেন, এ ধরনের কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   আবুবকর হানিফ বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা যখন একসঙ্গে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেন, তখন সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আলোচনা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
অনুমতি ছাড়া অন্য পেশায় যুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, কোনো শিক্ষক অনুমতি ছাড়া অন্য পেশায় যুক্ত থাকলে তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও শিক্ষার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা, এবং এই দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না।   শুক্রবার চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বা অন্যান্য মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে সত্যতা প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি জানান, বিগত সরকার পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দেননি। দুই-চার মাসের মধ্যে নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।   সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু নাছির, ওসি বোরহান উদ্দিনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতারা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
রাবিতে ইফতার মাহফিলের আয়োজন

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিসিডিসি) গ্যালারিতে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।   অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন মিশন। প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. ফজলুল হক বলেন, রমজান মাস তাকওয়া অর্জনের মাস, যা মানুষের কর্মজীবন ও জাতির উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মানুষের মানবসম্পদে রূপান্তর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।   বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, প্রেসক্লাবের আয়োজনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ এবং রমজানের শিক্ষা নিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। প্রেসক্লাব সভাপতি মনির হোসেন মাহিন বলেন, রমজান মাস সততা, সংযম ও ন্যায়ের পথে অগ্রসর হওয়ার শিক্ষা দেয়, যা সারাবছর অনুসরণীয়।   অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীন, রেজিস্ট্রার ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক আখতার হোসেন মজুমদার, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, রাকসু নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।   রাবি প্রতিনিধি: রাফসান আলম

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
টানা ৩৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে কলেজ, ক্লাস শুরু ২৯ মার্চ
টানা ৩৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে কলেজ, ক্লাস শুরু ২৯ মার্চ

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি শুরু হয়েছে। এই টানা ছুটি শেষে আগামী ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে।   শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, রমজান, ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ একত্রে সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৬ দিন কলেজ বন্ধ থাকবে। এরপর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক দিনের সরকারি ছুটি রয়েছে। পরবর্তী দুই দিন (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বিরতি আরও দীর্ঘ হবে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা ২৯ মার্চ, রোববার থেকে আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরবে।   অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোকেশনাল স্কুল ও কলেজ, ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, বিএমটি কলেজ এবং অন্যান্য কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হবে ৮ মার্চ থেকে। এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানও পুনরায় শুরু হবে ২৯ মার্চ।   এ ছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৪ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত আরও ১০ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।   বছরের শেষ দিকে শীতকালীন অবকাশ হিসেবে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১১ দিনের ছুটি থাকবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
নিশীথ সিংহ রায়। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার অঙ্গনে রাজনীতির করাল ছায়া

শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, এটি একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ—এমন মত প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষানীতি ও পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্র কেবল জ্ঞানার্জনের পরিসর না হয়ে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার মঞ্চে রূপ নিচ্ছে। স্বাধীনতার পর শিক্ষার লক্ষ্য ছিল যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিক নাগরিক তৈরি করা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধারাবাহিক নীতির অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাব শিক্ষাব্যবস্থার ভিতকে দুর্বল করে দিচ্ছে।   শিক্ষানীতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যক্রম পুনর্লিখন, ইতিহাসের নতুন ব্যাখ্যা কিংবা পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বাতিল করার প্রবণতা শিক্ষাব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত পরীক্ষাগারে পরিণত করেছে। বিশেষ করে ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   অন্যদিকে, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও রাজনৈতিক প্রভাব শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্য গুরুত্ব পেলে শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হয়। শিক্ষকরা যদি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে না পারেন, তবে শ্রেণিকক্ষও মুক্তচিন্তার জায়গা হয়ে উঠতে পারে না—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা।   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে ছাত্ররাজনীতির গুরুত্ব থাকলেও, দলীয় রাজনীতির প্রভাব বাড়লে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নষ্ট হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর পড়ে।   উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। কোন গবেষণা ‘সংবেদনশীল’ বা ‘গ্রহণযোগ্য’—এ ধরনের অলিখিত সীমারেখা গবেষণার স্বাধীনতাকে সংকুচিত করছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। প্রশ্ন করার স্বাধীনতা না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র না হয়ে কেবল ডিগ্রি প্রদানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা ও রাজনীতি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না, কারণ রাষ্ট্রকে শিক্ষানীতি নির্ধারণ করতে হয়। তবে সেই নীতির ভিত্তি হওয়া উচিত গবেষণা, সামাজিক বাস্তবতা ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ—দলীয় মতাদর্শ নয়। এজন্য পাঠ্যক্রম, গবেষণা ও শিক্ষক নিয়োগে একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।   শিক্ষাবিদরা বলছেন, একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সর্বদলীয় ঐকমত্যভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়নই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের প্রথম ধাপ হতে পারে। কারণ শিক্ষা জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের মূল ভিত্তি। সেখানে রাজনৈতিক স্বার্থ প্রাধান্য পেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে সমাজে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংঘাতের পেছনেও শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তাই শিক্ষাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।     নিশীথ সিংহ রায় কলকাতা (ভারত) 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
রাজনীতির গ্রাসে বিপন্ন শিক্ষাব্যবস্থা
রাজনীতির গ্রাসে বিপন্ন শিক্ষাব্যবস্থা

বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে একটি গভীরভাবে প্রোথিত ধারণা তৈরি হয়েছে—শিক্ষাব্যবস্থা মূলত প্রশাসনের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে দল ক্ষমতায় আসে, শিক্ষা ব্যবস্থার দিশাও ঠিক হয় তাদের রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী। এর ফলে শিক্ষা কোনো সুদূরপ্রসারী জাতীয় পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠতে পারে না; বরং তা এক ধরনের দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত হয়। পূর্ববর্তী সরকারের গৃহীত নীতি ভালো না মন্দ—এই প্রশ্ন মুখ্য নয়, মুখ্য হয়ে ওঠে সেই নীতি বর্তমান শাসকের মতাদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা।   অথচ শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়, কিংবা কোনো একক সরকারের কৃতিত্বও নয়। শিক্ষা হলো একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা বারবার এই সত্য ভুলে যাই—বা ভুলিয়ে দেওয়া হয়। এর প্রধান কারণ, শিক্ষা সম্পর্কে একটি সুসংহত ও দীর্ঘস্থায়ী দৃষ্টিভঙ্গি এখনও আমাদের সমাজে গড়ে ওঠেনি। শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে না দেখে আমরা তাকে ভোগ্যপণ্যের কাতারে বসিয়ে দিয়েছি। ফলস্বরূপ সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে যে প্রবণতাগুলি দেখা যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষা আজ আর কেবল জ্ঞানার্জন ও মননচর্চার ক্ষেত্র নয়, ক্রমশ তা রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার একটি মঞ্চে রূপ নিচ্ছে।   স্বাধীনতার পর ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিক নাগরিক গড়ে তোলা। সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই পাঠ্যক্রম, শিক্ষক-প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষার কাঠামো নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নীতিগত ধারাবাহিকতার অভাব এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে আদর্শগত পরিবর্তন শিক্ষাব্যবস্থার ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছে। সরকার বদলালেই পাঠ্যক্রম বদলানো, ইতিহাসের ব্যাখ্যা নতুন করে রচনা করা কিংবা পূর্বতন সিদ্ধান্ত বাতিল করার প্রবণতা শিক্ষাকে এক অনিশ্চিত পরীক্ষানিরীক্ষার ক্ষেত্র করে তুলেছে। বিশেষত ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সবচেয়ে প্রকট। কোন বিষয় পড়ানো হবে আর কোনটি বাদ যাবে—এই সিদ্ধান্ত অনেক সময়ই একাডেমিক আলোচনার বদলে রাজনৈতিক স্বার্থের নিরিখে নেওয়া হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়।   শিক্ষার মেরুদণ্ড যদি হয় শিক্ষক, তবে সেই শিক্ষক সমাজও আজ রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দলীয় আনুগত্য যদি যোগ্যতা ও মেধাকে ছাপিয়ে যায়, তবে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই স্বাভাবিক। শিক্ষক যখন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন না, তখন শ্রেণিকক্ষ আর মুক্ত চিন্তার পরিসর হয়ে উঠতে পারে না। এতে শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। অথচ শিক্ষার গুরুত্ব এমন হওয়া উচিত ছিল যে সমাজের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় তার স্থান থাকবে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষা ও শিক্ষক উভয়েই রাজনৈতিক আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।   আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে গর্ব করতে ভালোবাসি। কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগ সমাজের সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখছে কিনা, সে প্রশ্ন খুব কমই তুলি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতিকে অনেক সময় গণতান্ত্রিক অধিকার বলে যুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কি আদৌ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র হওয়া উচিত? শিক্ষক আসেন শিক্ষা দিতে, শিক্ষার্থী আসে শিক্ষা গ্রহণ করতে—সেই পরিসর কীভাবে রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত হয়, তা নিয়ে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। অবশ্যই গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে ছাত্র রাজনীতির গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু যখন তা সরাসরি দলীয় রাজনীতির সম্প্রসারিত রূপ নেয়, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নষ্ট হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর—যার ফল আজ আমরা প্রত্যক্ষ করছি।   উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক চাপ অনেক সময় সূক্ষ্ম অথচ গভীরভাবে কাজ করে। কোন গবেষণা গ্রহণযোগ্য, কোন বিষয় সংবেদনশীল—এই অলিখিত নিয়ম গবেষণার স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে। প্রশ্ন করার সাহস ও ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র না হয়ে কেবল ডিগ্রি প্রদানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকা উচিত, তবে তা কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়ায় নয়—তা হওয়া উচিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বার্থে গঠনমূলক ও স্বাধীন চিন্তার প্রকাশ।   এ কথা সত্য যে শিক্ষা ও রাজনীতি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। রাষ্ট্রকে শিক্ষানীতি নির্ধারণ করতেই হয়। কিন্তু সেই নীতির ভিত্তি হওয়া উচিত গবেষণা, সামাজিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ—দলীয় মতাদর্শ নয়। শিক্ষা যদি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ময়দানে পরিণত হয়, তার মূল্য দিতে হবে গোটা জাতিকেই।   আজ প্রয়োজন একটি স্পষ্ট সীমারেখা টানা—যেখানে রাজনীতি থাকবে নীতি নির্ধারণে, কিন্তু শিক্ষার অন্তঃসারকে নিয়ন্ত্রণ করবে না। পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ ও গবেষণার ক্ষেত্রে একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছাড়া শিক্ষার গুণগত মান রক্ষা করা সম্ভব নয়। সর্বদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষানীতি প্রণয়নই হতে পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের প্রথম ধাপ।   শিক্ষা হলো জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারখানা। সেখানে যদি রাজনৈতিক স্বার্থের ভারী যন্ত্র প্রবেশ করে, তবে সেই ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আজ চারদিকে যে অসহিষ্ণুতা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভাজন চোখে পড়ছে, তার শিকড় অনেকাংশেই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতায় নিহিত। তাই এখনই সময়—শিক্ষাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখার। দেরি হলে তার মাশুল দিতে হবে আগামী প্রজন্মের পর প্রজন্মকে।   লেখক: নিশীথ সিংহ রায়

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0