সেনাবাহিনী

কাশিশ মেথওয়ানি
গ্ল্যামার জগত মাতিয়ে এবার ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট হলেন 'মিস ইন্ডিয়া' কাশিশ

গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্য আর সামরিক জীবনের কঠিন শৃঙ্খলা— এই দুই বিপরীত মেরুকে এক সুতোয় বেঁধে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কাশিশ মেথওয়ানি। ২০২৩ সালে ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া’র মুকুট জয়ী এই সুন্দরী এখন আর কেবল র‍্যাম্পের মডেল নন, তিনি এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত লেফটেন্যান্ট। ভারতের পুণের সাবিত্রীবাই ফুলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী কাশিশের স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শৈশব থেকেই তাঁর মনে ছিল দেশসেবার অদম্য বাসনা। ২০২৩ সালে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় সাফল্যের শীর্ষবিন্দু ছোঁয়ার পর তিনি থেমে থাকেননি। নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে যোগ দেন কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিসেস (সিডিএস) পরীক্ষায়। সেখানেও সফলতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি, অর্জন করেন সর্বভারতীয় দ্বিতীয় র‍্যাঙ্ক। চেন্নাইয়ের অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে টানা ১১ মাসের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে গত ৬ সেপ্টেম্বর পাসিং আউট প্যারেডের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন তিনি। কাশিশ প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা আর একাগ্রতা থাকলে একই অঙ্গে রূপ আর শৌর্যের মিলন ঘটানো সম্ভব। উল্লেখ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও কাশিশ পিছিয়ে নেই। ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময়ে তিনি ‘ক্রিটিক্যাল কজ’ নামক একটি উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল রক্তদান ও অঙ্গদান সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। র‍্যাম্পের মোহময়ী জগত ছেড়ে দেশের সীমান্ত রক্ষার এই কঠিন পথ বেছে নেওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন এই নতুন সেনাসদস্য।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
দক্ষিণ লেবাননে সেনা উপস্থিতি বাড়ালো ইসরাইল
দক্ষিণ লেবাননে সেনা উপস্থিতি বাড়ালো ইসরাইল

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন এই ডিভিশন সামনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে এবং উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য হুমকি কমাতে ভূমিকা রাখবে।   এদিকে ইসরাইলের সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের ভৌগোলিক পরিবেশ—বিশেষ করে পাহাড়ি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা—গাজার তুলনায় বেশি জটিল, যা অভিযানে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অভিযানের একটি বড় লক্ষ্য হচ্ছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লিতানি নদীর উত্তরে সরিয়ে দেওয়া এবং সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী একটি বিস্তৃত সামরিক পরিকল্পনা রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতেও অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ইসরাইলের ‘নিরাপত্তা বলয়’ তৈরির কৌশলের অংশ হলেও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে তা দখলদারিত্ব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
জেনারেল ডেভিড এম. হোডনি এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়র
সেনাপ্রধানের পর আরও দুই শীর্ষ জেনারেলকে সরালেন হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগে বড় ধরনের রদবদল ও অস্থিরতা নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে নাটকীয়ভাবে অপসারণের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও দুজন প্রভাবশালী শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। পেন্টাগনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের শিকার হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন— জেনারেল ডেভিড এম. হোডনি এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়র। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে শীর্ষ সারির কর্মকর্তাদের এভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মার্কিন সামরিক প্রশাসনের অন্দরে তীব্র উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, জেনারেল হোডনি অতি সম্প্রতি গত অক্টোবর মাসে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ড’-এর নেতৃত্বে ছিলেন। বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণে এই চার-তারকা পদের ভূমিকা অপরিসীম। অন্যদিকে, মেজর জেনারেল গ্রিন সেনাবাহিনীর ‘টপ চ্যাপলিন’ বা প্রধান যাজক হিসেবে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক দিকগুলো তদারকি করতেন। উল্লেখ্য, এর আগে বরখাস্ত হওয়া সেনাপ্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মনোনীত করেছিলেন। সাধারণত চার বছর মেয়াদী এই পদ থেকে মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের এই কঠোর ও আপসহীন অবস্থান মার্কিন সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আমলাতন্ত্রে এক বিশাল পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংস্কার নাকি কোনো গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ— ঠিক কী কারণে এই ‘ক্লিনআপ ড্রাইভ’ বা গণ-বরখাস্তের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষমতাধর মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেনি, যা জনমনে এবং সামরিক বাহিনীতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
আইডিএফ প্রধানের সতর্কবার্তা: ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে
আইডিএফ প্রধানের সতর্কবার্তা: ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির সতর্ক করেছেন, জনবল সংকট দ্রুত সমাধান না হলে সেনাবাহিনী যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারে। এ সতর্কবার্তা তিনি এক নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বৈঠকে দিয়েছেন, রিপোর্ট করেছে জেরুজালেম পোস্ট।   সেনাবাহিনীর সামরিক সূত্র জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের পরিস্থিতিতে জনবল ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও পশ্চিম তীর সীমান্তে আরও বেশি সৈন্য প্রয়োজন হতে পারে। যথেষ্ট সংখ্যক নিয়োগ না হলে বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।   বিশেষ করে হরেদি (অতি-অর্থডক্স ইহুদি) সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির কোনো কার্যকর আইন এখনও নেই, যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। এর আগে সরকার ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’-এর আগে একটি বিতর্কিত ড্রাফট আইন প্রণয়ন করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সমালোচকেরা বলছেন, এটি মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং বাস্তবে নিয়োগ বৃদ্ধি করতে কার্যকর হতো না।   জামিরের সতর্কবার্তার পর বিরোধীরা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইয়ার ল্যাপিড বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো বিপর্যয় ঘটলে সরকার দায় এড়াতে পারবে না। অ্যাভিগডর লিবারম্যান সকল নাগরিকের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বর্তমান সরকারের দেরি করার সমালোচনা করেছেন।   অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট বলেন, সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালু করা এখন সময়ের দাবি। জনবল সংকট, বিতর্কিত নিয়োগ নীতি এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব মিলিয়ে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।   সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হচ্ছে আমেরিকার দুর্ধর্ষ '৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন'

ইরানের সাথে আলোচনার টেবিলে যখন আশার আলো দেখছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ঠিক সেই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত ‘৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন’-এর প্রায় ১,০০০ সৈন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে রওনা হতে প্রস্তুত। উত্তর ক্যারোলিনা থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মাত্র ১৮ ঘণ্টার নোটিশে পৌঁছে যাওয়ার অবিশ্বাস্য সক্ষমতা রয়েছে এই বাহিনীর। একে বলা হয় ‘ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স’ বা আইআরএফ। এই বিশেষ সক্ষমতা সর্বশেষ ২০২১ সালে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছিল, যখন আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দর থেকে তড়িঘড়ি করে মার্কিন নাগরিক ও মিত্রদের সরিয়ে নিতে ঝড়ের গতিতে পৌঁছে গিয়েছিল এই ৮২তম ডিভিশন। এই বিশেষ ডিভিশনের শক্তি অপরিসীম। এতে রয়েছে প্রায় ৪,০০০ সৈন্যের তিনটি কমব্যাট টিম, বিধ্বংসী হেলিকপ্টার বহর সংবলিত অ্যাভিয়েশন ব্রিগেড, শক্তিশালী গোলন্দাজ ইউনিট এবং একটি দক্ষ লজিস্টিক ব্রিগেড। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় গঠিত এই বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার প্রথম প্যারাশুট বা এয়ারবোর্ন ডিভিশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৪৪ সালের ঐতিহাসিক নরম্যান্ডি আক্রমণ থেকে শুরু করে ভিয়েতনাম, গ্রেনাডা, পানামা, ইরাক এবং আফগানিস্তানে আইসিসের বিরুদ্ধে লড়াই—প্রতিটি বড় যুদ্ধেই এই বাহিনীর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই 'এলিট' বাহিনীর উপস্থিতি নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
নাইজেরিয়ায় ৮০ জঙ্গি নিহ্ত
নাইজেরিয়ায় সেনাবাহিনীর পাল্টা আঘাত: ৮০ জঙ্গি নিহ্ত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। বুধবার এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।  গত কয়েক মাস ধরে সাধারণ মানুষের ওপর বোকো হারাম ও আইএস-এর মতো গোষ্ঠীগুলোর নৃশংস হামলার প্রেক্ষাপটে এই অভিযানকে একটি শক্ত জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। বাজার, হাসপাতাল ও পোস্ট অফিসের মতো জনবহুল স্থানে নিয়মিত আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে আসছিল সন্ত্রাসীরা। চলতি সপ্তাহের শুরুতে এমনই এক ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় ২৩ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নাইজার সীমান্তের কাছে একটি সেনাঘাঁটির পাশে জঙ্গিদের অবস্থানের খবর পায় নিরাপত্তা বাহিনী। সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়। এই অভিযানে পদাতিক বাহিনীর পাশাপাশি বিমান বাহিনীও সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। আকাশপথ ও স্থলপথের সম্মিলিত আক্রমণে কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে জঙ্গি ঘাঁটিটি। দীর্ঘদিন ধরেই নাইজেরিয়ার এই অঞ্চলে বোকো হারাম এবং আইএস-এর অনুসারী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার দায় কোনো গোষ্ঠী সরাসরি স্বীকার না করলেও, সেনাবাহিনী এই রক্তক্ষয়ী অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে শুরু হলো যৌথ অভিযান
সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে শুরু হলো যৌথ অভিযান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সোমবার ভোরে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সকাল ছয়টায় সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের প্রায় চার হাজার সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন।   ভোরের আলো ফুটতেই ড্রোন ব্যবহার করে এলাকার কিছু স্পট চিহ্নিত করা হয়। এরপর সেনাবাহিনীর এপিসি ট্যাংক, পুলিশের জলকামান, সাজোয়াযান, ডগ স্কোয়াডসহ ভারি অস্ত্র সজ্জিত গাড়ি এবং অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বাহিনী এলাকায় প্রবেশ করে।   র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযানটি জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধ ও সন্ত্রাসমুক্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে সেনাবাহিনী, র‍্যাবের বিভিন্ন ইউনিট, চট্টগ্রাম মেট্রো ও রেঞ্জের পুলিশ এবং বিজিবি অংশগ্রহণ করছে।   জঙ্গলের সলিমপুর এলাকায় রুকন ও ইয়াসিন বাহিনীর আধিপত্য মূলত পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি এবং চাঁদা আদায় নিয়ে। এলাকায় প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ১৯ জানুয়ারি ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান ইয়াসিনকে গ্রেফতার করতে গেলে র‍্যাবের ওপর হামলা চালায় তার বাহিনী। এই ঘটনায় একজন র‍্যাব কর্মকর্তা প্রাণ হারান।   দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে হাজারো অবৈধ বসতি এবং এখনও পাহাড় কেটে প্লট-বাণিজ্য চলছে। এই বাণিজ্য এবং দখল রক্ষা করতে এলাকার সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।   বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরে প্রায় ২০–২৫ হাজার বাড়িতে আনুমানিক দেড় লাখ মানুষ বসবাস করছে, যাদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৯, ২০২৬ 0
লেবাননে সংঘর্ষে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত
লেবাননে সংঘর্ষে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত

দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানের সময় দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। রোববার (৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।   বাহিনী জানায়, নিহতদের একজনের নাম মাহের খাতার (৩৮)। তিনি ইসরাইল অধিকৃত গোলান মালভূমির মাজদাল শামস এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। সেনাবাহিনীর যুদ্ধ প্রকৌশল ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।   পরে জানানো হয়, দক্ষিণ লেবাননের একই এলাকায় আরও একজন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   গত সপ্তাহে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এবং ইসরাইলের বিমান হামলা বাড়ার পর এই প্রথম তাদের সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটল।   ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এদিকে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরাইল-লেবানন সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকে সেনাবাহিনীতে পাঠানোর দাবি—ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট চালু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট চালু করেছেন অ্যানিমেটেড টিভি সিরিজ ‘সাউথ পার্ক’-এর সাবেক লেখক টবি মর্টন।   ওয়েবসাইটটিতে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেহেতু নিজেকে শক্তিশালী নেতা হিসেবে তুলে ধরেন, তাই তাঁর ছেলে ব্যারনও দেশের জন্য যুদ্ধে যেতে পারেন। সেখানে ট্রাম্প পরিবারের “প্রমাণিত জিন” ও “সাহসিকতার উত্তরাধিকার” নিয়েও বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে।   সাইটটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি অফিসের চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়ার মতো ভঙ্গিতে দেখানো কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া সেখানে ট্রাম্পের বড় ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের নামে কিছু কাল্পনিক মন্তব্যও দেওয়া হয়েছে, যা মূলত রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবে তৈরি।   এর আগে টবি মর্টন ট্রাম্প প্রশাসনকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট তৈরি করেছিলেন। এর মধ্যে একটি ওয়েবসাইট ছিল ট্রাম্পের নামে কেনেডি সেন্টারের নাম যুক্ত করার বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে ঘিরে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৮৬৬ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৫ হাজার ৯৪৬ জন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
এবার ইকুয়েডরে মার্কিন বাহিনীর অভিযান শুরু

ইকুয়েডরে সক্রিয় শক্তিশালী মাদক কার্টেল ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দমনে বড় ধরনের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইকুয়েডরের সশস্ত্র বাহিনী। গত ৩ মার্চ থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (US Southern Command)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, ইকুয়েডরের অভ্যন্তরে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে এই সামরিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে 'নারকো-টেরোরিজম' বা মাদক-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মার্কিন অংশীদারদের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, এই অভিযান ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদের মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা এবং প্রস্তুতির একটি বড় উদাহরণ। মূলত ইকুয়েডরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসে ইকুয়েডর থেকে আসা একটি বিশাল মাদকের চালান জব্দ করার পর এই যৌথ অভিযানের বিষয়টি সামনে এল। ডাচ প্রসিকিউশন সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ইকুয়েডর থেকে একটি জাহাজে করে আসা ইলেকট্রিক ম্যাগনেটের কন্টেইনার তল্লাশি করে প্রায় ৪.৮ টন কোকেন উদ্ধার করা হয়, যা দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম মাদকের চালান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইকুয়েডর থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় মাদকের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দুই দেশ এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ইকুয়েডরের বিভিন্ন স্থানে মাদক কার্টেল বিরোধী এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল ইরান
ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল ইরান

ইরান থেকে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।   তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হতে শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরপরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে।   সেনাবাহিনীর এক ঘোষণায় নাগরিকদের ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’-এর নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরাইলি বিমান বাহিনী সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সরাসরি পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম নয়; তাই সবাইকে নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করা জরুরি।   এর আগে ইসরাইল দাবি করে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধমূলক অভিযান’ শুরু করেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক জরুরি বার্তায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এ তথ্য জানান।   ইরানে হামলা শুরুর পর তিনি সারা দেশে ‘বিশেষ ও চলমান জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেন। সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।   অন্যদিকে, ইরানের রাজধানী তেহরানে কেন্দ্রস্থলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম Fars News Agency জানিয়েছে, রাজধানীর রিপাবলিক এলাকায় কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার তথ্য তারা পেয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ইরানের ইসফাহান প্রদেশের দোরচেহ এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধারকাজ করছেন কর্মকর্তারা। ছবি: ইরানের রেড ক্রিসেন্টের সৌজন্যে
ইরানে ফলের বাজারে ওপর আছড়ে পড়ল হেলিকপ্টার, নিহত ৪

ইরান-এর ইসফাহান প্রদেশের দোরচেহ শহর-এ একটি ফলের বাজারে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন সামরিক পাইলট এবং বাজারে কাজ করা দুই দোকানি রয়েছেন।   মঙ্গলবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারটি সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাজার এলাকায় বিধ্বস্ত হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।   ইরান আর্মি এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার এক বিবৃতিতে নিহত দুই সেনা সদস্যের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন— পাইলট কর্নেল হামিদ সারভাজাদ এবং কো-পাইলট মেজর মোজতবা কিয়ানি।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই আগুন ধরে যায়। এতে বাজারের দোকানে কাজ করা দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।   দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্থানীয় বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ আইনি তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় বিচার বিভাগীয় প্রধান আসাদুল্লাহ জাফারি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।   উল্লেখ্য, এর আগে এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে হামাদান প্রদেশ-এ প্রশিক্ষণ মিশনের সময় বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত পুরোনো এফ–৪ ফ্যান্টম টু যুদ্ধবিমান ছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তাদের সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজ আধুনিকায়ন করতে পারছে না, যার ফলে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে এবং তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করা হবে।      

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
ইরানের ইসফাহান প্রদেশের দোরচেহ এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধারকাজ করছেন কর্মকর্তারা । ছবি ইরানের রেড ক্রিসেন্টের সৌজন্যে
ইরানে ফলের বাজারে সেনা হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৪

ইরানের ইসফাহান প্রদেশের দোরচেহ শহরে একটি ফলের বাজারে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই সামরিক পাইলট ও দুই দোকানি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সরকারি সূত্র।   সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দোরচেহ শহরে সেনাবাহিনীর একটি বড় বিমানঘাঁটি রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই হেলিকপ্টারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাজার এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।   Army Aviation Training Center এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন পাইলট কর্নেল হামিদ সারভাজাদ এবং কো-পাইলট মেজর মোজতবা কিয়ানি। হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই আগুন ধরে যায়। এতে বাজারে কাজ করা দুজন দোকানি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।   দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বিচার বিভাগীয় প্রধান আসাদুল্লাহ জাফারি জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।   উল্লেখ্য, এর এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হামাদান প্রদেশে প্রশিক্ষণ মিশনের সময় বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। সেটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পুরোনো এফ-৪ মডেলের ছিল বলে জানা গেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তাদের পুরোনো সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজ আধুনিকায়নে সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে। ফলে দেশটিতে মাঝেমধ্যে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
সেনা ও জেএসএসের গোলাগুলিতে বান্দরবানে একজন নিহত
সেনা ও জেএসএসের গোলাগুলিতে বান্দরবানে একজন নিহত

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন PCJSS (Mool)-এর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে হ্লামংনু মার্মা নামে একজন নিহত হয়েছেন।   ঘটনা সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে তারাছা ইউনিয়নের মুরুং বাজার এলাকায় ঘটে।   আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুরুং বাজার এলাকায় জেএসএস (মূল)-এর সশস্ত্র সদস্যরা গাড়ি আটকে চাঁদা আদায় করছিল। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল অভিযান চালায়। সেনাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র সদস্যরা পালানোর সময় গুলি ছুড়ে, যার জবাবে সেনারা পাল্টা গুলি চালায়।   একপর্যায়ে সশস্ত্র সদস্যরা পাশের একটি স্কুলঘরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে পরে তারা পালিয়ে যান। গোলাগুলির পর সেনারা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হ্লামংনু মার্মাকে উদ্ধার করেন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ১৪৩ রাউন্ড এসএমজি গুলি, ১৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৫ রাউন্ড ব্ল্যাঙ্ক অ্যামোনিশন, দুটি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ অন্যান্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়।   রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম সাকের আহমেদ জানান, গোলাগুলিতে আহত একজন পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।   আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী কঠোরভাবে কাজ করছে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
সেনাবাহিনীতে বড় রদবদল: ডিজিএফআই পেল নতুন প্রধান

সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে ব্যাপক রদবদল আনা হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক সরকারি আদেশে নতুন পরিবর্তন কার্যকর হয়।   প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কায়সার রশীদ। তিনি পদোন্নতি পেয়ে ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলমকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।   সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে লে. জেনারেল কামরুল হাসানকে সরিয়ে বিদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। আর্টডকের লে. জেনারেল মাইনুর রহমানকে চিফ অফ জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   অন্য পদক্ষেপ হিসেবে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জেড এম এমদাদুল ইসলামকে চট্টগ্রামের ইবিআরসিতে, এবং ইবিআরসির মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসান সেলিমকে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিজিএফআই-এ সংযুক্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজুর রহমানকে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির | ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের প্রকৃত শাসক আসিম মুনির? যা বললেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী

চরম আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পাকিস্তানে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। সম্প্রতি তাঁকে দেশটির প্রথম ‘চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— নির্বাচিত সরকার কি কেবল নামমাত্র, নাকি আড়ালে থেকে প্রকৃত ক্ষমতা পরিচালনা করছেন সেনাপ্রধানই। এই প্রেক্ষাপটে মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ।   নতুন দায়িত্ব পাওয়ার ফলে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ কর্তৃত্বও সেনাপ্রধানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে বলে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি সেনাবাহিনীকে সন্তুষ্ট রেখে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছেন, আর তাতেই প্রশাসনে সেনাবাহিনীর প্রভাব আগের চেয়ে বেড়েছে।   সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তিনি সরাসরি আসিম মুনিরকে ‘ডি-ফ্যাক্টো শাসক’ বলতে না চাইলেও, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে সেনাপ্রধানের প্রভাব যে উল্লেখযোগ্য, তা কার্যত স্বীকার করেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ-এর কঠোর শর্ত পূরণে ব্যস্ত শাহবাজ সরকার জনঅসন্তোষের মুখে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান-এর পতনের পর পাকিস্তানে গণতন্ত্র আবারও সেনাবাহিনীর প্রভাবের নিচে চলে যাচ্ছে কি না— সে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে।   খাজা আসিফের এই বক্তব্য পাকিস্তানের তথাকথিত ‘হাইব্রিড’ শাসনব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নতুন সরকার যখন বলবে তখনই ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী সেনাপ্রধান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং ব্যারাকে ফিরে যাওয়া নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সিএএস দরবারে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলেই সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যারাকে ফিরে যাবে।   সশস্ত্র বাহিনীর সকল পদমর্যাদার সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “দেশ সফলভাবে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। সেনাবাহিনী তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সাথে পালন করেছে। আমরা সর্বদা জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছি এবং যা করণীয় ছিল তা সম্পন্ন করেছি। সেনাবাহিনী এখন কেবল নতুন সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকবে।”   নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, ভোটের সময় সারাদেশে যে বিশাল সংখ্যক অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল, বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার প্রেক্ষাপটে সেই সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে এবং অনেককে ইতোমধ্যেই মূল কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   ভাষণে সেনাপ্রধান বিশেষ করে ইউনিট প্রধানদের প্রতি কঠোরভাবে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সেনাসদস্যদের মনোবল দৃঢ় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া বর্তমান সময়ে ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা তথ্যের (Fake News) বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সচেতন থাকতে বাহিনীর সকল সদস্যকে পরামর্শ দেন তিনি।   উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি মিশনে নিয়োজিত সেনাসদস্যরা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর বলিষ্ঠ ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
মুন্সীগঞ্জ এর মোল্লাকান্দিতে পরিত্যক্ত দোকান থেকে বিপুল ককটেল উদ্ধার
মুন্সীগঞ্জ এর মোল্লাকান্দিতে পরিত্যক্ত দোকান থেকে বিপুল ককটেল উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জ সদরের মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন এর ঢালিকান্দি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত মুদি দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ তাজা ককটেল ও চোরাই ব্যাটারি উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।   উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে তিনটি বালতিভর্তি ককটেল রয়েছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে মোট অর্ধশতাধিক ককটেল মজুত থাকতে পারে।   সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে কয়েকদিন ধরেই এলাকায় টহল জোরদার করা হয়। শনিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ঢালিকান্দি এলাকার মানিক শিকদারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পাশের একটি ফাঁকা দোকানে তিনটি লাল প্লাস্টিকের বালতি দেখে সন্দেহ হলে তল্লাশি চালানো হয়।   পরে সেখান থেকে ককটেলগুলো উদ্ধার করা হয়। একই স্থান থেকে মোবাইল টাওয়ারে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি চোরাই ব্যাটারিও জব্দ করা হয়।   ১৯ বীর মাওয়া সেনানিবাস এর সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকৃত আলামত স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।   এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল। শনিবার সন্ধ্যায় নোয়াদ্দা এলাকায় মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের পরাজিত এমপি প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ককটেল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে বলে জানান স্থানীয়রা।   মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে, তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।   জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী জানান, জেলার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত ও স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
ভোটের মাঠে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে প্রশংসিত সেনাবাহিনী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহলে ভূয়সী প্রশংসা কুড়াচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত দেড় বছর ধরে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা (ইন অ্যাইড টু সিভিল পাওয়ার) দেওয়ার পর, নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ জয় করে এবার ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে সশস্ত্র বাহিনী।   ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে সেনানিবাস থেকে মাঠে নামে সেনাবাহিনী। থানাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকা এবং পুলিশের অনুপস্থিতিতে সেই কঠিন সময়ে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছেন সেনাসদস্যরা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দমনে তারা ছিলেন আপসহীন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাড্ডায় ২১টি অস্ত্রসহ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার কিংবা যাত্রাবাড়ীতে বিদেশি পিস্তল ও মাদক উদ্ধারের মতো ঘটনাগুলো জনগণের মনে স্বস্তি ফিরিয়েছিল।   আইএসপিআর সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রায় এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন ছিল। এর পাশাপাশি নৌবাহিনীর ৫ হাজার এবং বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন সদস্যও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সারা দেশের ৬২টি জেলা ও ৪১১টি উপজেলায় ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়েছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছাতে ব্যবহৃত হয়েছে সামরিক হেলিকপ্টার।   সেনাবাহিনীর এই দীর্ঘ মিশনের পরিসংখ্যান রীতিমতো চমকপ্রদ। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তারা সারা দেশে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার ১৫২টি অবৈধ অস্ত্র এবং প্রায় ২ লাখ ৯১ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। এছাড়া ২২ হাজার ২৮২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীকে আটক করে প্রশাসনের হাতে সোপর্দ করেছে। ভোটের দিন কেন্দ্র দখলরোধ, ব্যালট ছিনতাই ঠেকানো এবং সাধারণ ভোটারদের অভয় দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।   সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নিজে বিভিন্ন জেলা পরিদর্শন করে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় করে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাঁর সেই নির্দেশনার প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে প্রতিফলিত হয়েছে, যার ফলে কোনো বড় ধরণের সংঘাত ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে এই ঐতিহাসিক নির্বাচন।   আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছে। এখন সরকার যখনই চাইবে, তখনই তারা মাঠের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে ব্যারাকে ফিরে যেতে প্রস্তুত। দীর্ঘ ১৮ মাসের এই গৌরবোজ্জ্বল মিশন নতুন বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
এ্যানি চৌধুরীর গাড়ি থেকে নগদ ১৫ লাখ উদ্ধার
এ্যানি চৌধুরীর গাড়ি থেকে নগদ ১৫ লাখ উদ্ধার

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা জব্দ করেছে সেনাবাহিনী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনী অনুসন্ধান এবং তদন্ত কমিটির সদস্য তাহমিনা আক্তার নওরিন।   প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে জেলা শহরের ঝুমুর গোলচত্বর এলাকায় তল্লাশির সময় এ্যানির ব্যক্তিগত সহকারী বদরুল আলম শ্যামলের ব্যবহৃত গাড়ি থেকে নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। শ্যামল প্রার্থীর খালাত ভাই এবং তার গাড়িটি নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছিল।   ঘটনার পর সেনাবাহিনী শ্যামলসহ দুজনকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আধা ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির সদস্য তাহমিনা আক্তার নওরিন।   প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগদ অর্থ বহন ও ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে: এম খায়ের উদ্দীন

সেনাবাহিনীর বরিশালের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এম খায়ের উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশন বরিশাল বিভাগের সকল জেলা এবং মাদারীপুর ও বাগেরহাট জেলায় অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে মোতায়েন আছে। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রয়েছি।   বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বরিশালে নির্বাচনকালীন জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শনী মহড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।   তিনি আরো বলেন, আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভাবে পেশাদারিত্বের সাথে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করি এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভোটের জন্য সুষ্ঠ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই আমাদের মুল লক্ষ্য। এ কাজে বাধাদানকারী সে যেই হোকনা কেন, আমরা কঠোর হস্তে তাদের দমন করবো এ ব্যাপারে আমরা অনড় এবং দৃঢ়।   তিনি বলেন, যে কোনো জরুরী প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে করে বিজার্ভ ফোর্স আনা হবে। শুধু বরিশাল নয়, ৭ পদাতিক ডিভিশনের যে কোনো স্থানে অর্থাৎ পুরো বাংলাদেশে এ ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত আছে। তিনি জনগণকে নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে ভোট কেন্দ্রে এসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান।   এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাত পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালীন ভোট কেন্দ্রে উদ্ভূত ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর জরুরী প্রতিক্রিয়া ও সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মহড়াটি অনুষ্ঠিত হয়।   মহড়ায় একটি ভোট কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে কাল্পনিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও এর সমাধানের মহড়া পরিচালনা করা হয়। এতে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার অংশ নেয়। মহড়ায় বরিশাল বিভাগ,জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0