যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের শ্রীভপোর্ট শহরে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ৮ শিশু নিহত হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে পারিবারিক কলহের জেরে তিনটি ভিন্ন স্থানে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালায় এক বন্দুকধারী। পরে পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় সন্দেহভাজন ওই হামলাকারীও নিহত হয়। শ্রীভপোর্ট পুলিশ প্রধান ওয়েন স্মিথ জানিয়েছেন, নিহত শিশুদের বয়স ১ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। পারিবারিক ঝগড়া বা অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গুলিতে মোট ১০ জন আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ৮ জনই শিশু। হামলায় আহত দুই নারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, হামলাকারী রোববার ভোরে তিনটি পৃথক বাড়িতে গিয়ে এই গুলি চালায়। এরপর একটি গাড়ি চুরি করে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে তার সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হয়।তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, নিহত শিশুদের কয়েকজন হামলাকারীর আত্মীয় ছিল। পুলিশ প্রধান ওয়েন স্মিথ এই ঘটনাকে 'নজিরবিহীন ও অত্যন্ত ভয়াবহ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "আমাদের অভিজ্ঞতায় এর আগে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য আমরা কখনো দেখিনি।" লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশ বর্তমানে ঘটনাটি তদন্ত করছে। এখনো পর্যন্ত হামলাকারীর পরিচয় বা হামলার সঠিক কারণ প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বন্দুক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দেশটিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মিডটাউন ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে সাবওয়ে প্ল্যাটফর্মে এক ব্যক্তি বড় আকৃতির ছুরি (ম্যাশেটি) নিয়ে হামলা চালিয়ে তিনজনকে আহত করেছেন। পরবর্তীতে পুলিশের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হন। নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী ব্যক্তি প্রথমে একটি সাবওয়ে ট্রেনের ভেতর অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। এরপর তিনি ট্রেন থেকে নেমে প্ল্যাটফর্মে আসেন এবং হাতে থাকা বড় ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীকে অস্ত্র নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ওই ব্যক্তি নির্দেশ অমান্য করে পুলিশের দিকে তেড়ে এলে কর্মকর্তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হামলায় তিনজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৪ ও ৬৫ বছর বয়সী দুই পুরুষ এবং ৭০ বছর বয়সী এক নারী রয়েছেন। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘বিবেচনাহীন সহিংসতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হামলাকারীকে প্রতিহত করার জন্য সাহসী পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত হামলাকারীর বিরুদ্ধে আগেও বেশ কিছু অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল। পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এর আগেও তাকে বিভিন্ন সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এখন পর্যন্ত এই ঘটনার সাথে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই স্টেশনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল কেন্দ্র খারগ দ্বীপে হামলার খবর সামনে এসেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হলে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনায় এটি একটি বড় মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে খারগ দ্বীপে হামলার ঘটনা ঘটলেও সেগুলো মূলত সামরিক স্থাপনাকে ঘিরে ছিল। তবে এবারের হামলায় যদি তেল সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকে, তাহলে তা ইরানের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, দেশের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। এদিকে, ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে। হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ইরানের জ্বালানি খাতে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন, কারাজে হামলায় ইরানের সবচেয়ে উঁচু সেতু বি ওয়ান ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার পর ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি পাঁচ সপ্তাহের এই সংঘাত বন্ধ করতে আলোচনায় না আসে, তবে আরও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেতুটির অবস্থান আলবোরজ প্রদেশের কারাজে। আলবোরজ প্রদেশের উপগভর্নর গোদরাতুল্লাহ সাইফ জানান, হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, কারণ সংবাদমাধ্যমের ওপর নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি ধসে পড়েছে, যা আর কখনো ব্যবহারযোগ্য হবে না। সামনে আরও অনেক কিছু ঘটবে। ইরানের জন্য দেরি হয়ে যাওয়ার আগে চুক্তিতে আসার সময় এসেছে।” ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, “অসমাপ্ত সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলার মধ্য দিয়ে ইরানিদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না। বরং এটি শত্রুর বিশৃঙ্খল অবস্থা ও নৈতিক পতনের ইঙ্গিত দেয়।” ফারস নিউজ জানিয়েছে, বি ওয়ান সেতুটি নির্মাণাধীন ছিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু সেতু হিসেবে পরিচিত। এর একটি স্তম্ভের উচ্চতা ৪৪৭ ফুট (১৩৬ মিটার)। এর আগে ট্রাম্প গত বুধবার এক ভাষণে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রায় শেষের পথে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, ইরান শর্ত মানা পর্যন্ত দেশটির ওপর ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলা চালানো হবে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা চালিয়ে তার হাত ও পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন জিস্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত মুক্তিযোদ্ধার নাম অহিদুজ্জামান নাইম (৭২)। তিনি উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, জমির মাপজোখ সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে স্থানীয় নাসিমুল ও মনির হোসেনের সঙ্গে অহিদুজ্জামান নাইমের সালিশ চলছিল। একপর্যায়ে তিনি একা মহাসড়কের পাশে গেলে গজারিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও দনিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি তুহিন প্রধানের নেতৃত্বে ১০–১২ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে রড দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, তুহিনের বাবা খোকন প্রধানের সঙ্গে আগেও জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। পরে স্থানীয়রা আহত মুক্তিযোদ্ধাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসক শারমীন সুলতানা জানিয়েছেন, আহতের অবস্থা গুরুতর ও সংকটাপন্ন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার একটি হাত ও একটি পা ভেঙে গেছে এবং মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। আহত মুক্তিযোদ্ধা বলেন, সালিশ থেকে বের হওয়ার পর তুহিন ও তার সহযোগীরা আমাকে ঘিরে ফেলেছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। অভিযুক্ত তুহিন প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান আলী জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লেবানন সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ভয়াবহ রকেট হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বুধবার উত্তর ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী শহর কিরিয়াত শমোনায় হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলার কিছুক্ষণ আগেই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়। তবে সাইরেন বাজার অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক রকেট এসে আঘাত হানে। এতে কিরিয়াত শমোনার বেশ কিছু স্থাপনা ও ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পারস্য উপসাগরের ওমান উপকূলে ইসরায়েলি মালিকানাধীন একটি বিশাল মালবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে ওমানের মাস্কাট বন্দরের কাছে সংঘটিত এই হামলায় জাহাজটির দুইজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজটির নাম ‘এমটি মার্সার স্ট্রিট’, যা লন্ডন ভিত্তিক একটি ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। ওমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং এর মূল ইঞ্জিন রুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পরপরই ওমানের কোস্টগার্ড এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। নিহত দুই নাবিকের মধ্যে একজন ব্রিটিশ এবং অন্যজন রোমানিয়ান নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ইরান কেবল ইসরায়েলের শত্রু নয়, তারা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।” বিশ্লেষকদের মতে, গত এক মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষিতে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। ওমান বরাবরই মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও, তাদের জলসীমার এত কাছে এই হামলা ওমানের নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর (5th Fleet) আক্রান্ত জাহাজটিকে নিরাপত্তা দিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়ে যাওয়ার কাজ করছে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এই রুট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে।
ইসরাইলের সংসদ নেসেটে সোমবার একটি আইন পাস হয়েছে, যা প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের অনুমতি দেয়। মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং ফিলিস্তিনি নেতারা এই আইনকে বৈষম্যমূলক ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন। আইনটি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি মিত্রদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে পাস করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলিদের হত্যা করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডই হবে প্রধান শাস্তি। আইনটির পক্ষে ছিলেন কট্টর ডানপন্থি ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির, যিনি ৬২-৪৮ ভোটে পাস হওয়ার পর সংসদে শ্যাম্পেনের মাধ্যমে উদযাপন করেন। এই আইনটি এমন সময় এসেছে যখন গাজায় ইসরাইলি হামলা, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক অভিযান ও বসতি সম্প্রসারণ এবং হাজার হাজার গ্রেফতারের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরাইলের নাগরিক অধিকার সমিতি ইতিমধ্যেই এই আইনটির বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এটিকে “বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং উল্লেখ করেছে, অধিকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের ভূমি ইসরাইলের সার্বভৌমত্বাধীন নয়। ফিলিস্তিনি দল হামাসও আইনটি তীব্রভাবে নিন্দা করেছে, বলেছে এটি বন্দি ফিলিস্তিনিদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে। গাজা-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র পিএইচসিআর এই আইনকে “আইনের আড়ালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইসরাইলি দীর্ঘদিনের নীতি আরও দৃঢ় করার চেষ্টা” বলে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও ইসরাইলকে আইনটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে এবং উল্লেখ করেছে যে, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। সূত্র: আল জাজিরা
ক্যারিবীয় দেশ হাইতির আর্টিবোনি অঞ্চলে সশস্ত্র গ্যাংদের হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা। হামলার কারণে বহু বাড়িঘর পুড়ে গেছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, যা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ডিফঁসার প্লাস নামের মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, আর্টিবোনিতে হামলায় নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। সরকার জানিয়েছিল মাত্র ১৬ জন নিহত হয়েছেন, কিন্তু সংস্থার অনুসারে সংখ্যা ৭০ ছাড়িয়েছে। একই সময়ে আরও প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামলা রোববার ভোরে জঁ-দেনি এলাকার আশেপাশের গ্রামীণ এলাকায় শুরু হয় এবং সোমবার ভোর পর্যন্ত চলে। গ্যাং সদস্যরা এলাকায় ঢুকে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেন এবং লোকজনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে। ডিফঁসার প্লাস জানিয়েছে, এই সহিংসতায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ তাদের বাড়ি ত্যাগ করেছে। এর আগে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কয়েকদিনের মধ্যে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিরাপত্তার কারণে পালিয়ে গেছেন। প্রাথমিক সরকারি রিপোর্টে বলা হয়েছিল ১৬ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। সিভিল প্রোটেকশন কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, নিহত ১৭ জন এবং আহত ১৯ জন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগ পুরুষ। জাতিসংঘের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংস্থাটি পরিস্থিতি নজরে রাখছে এবং মৃতের সংখ্যা ১০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করছে। তিনি পুরো ঘটনায় একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। ডিফঁসার প্লাস ও ‘কালেকটিভ টু সেভ দ্য আর্টিবোনি’ যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, “নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যর্থ প্রতিক্রিয়া এবং আর্টিবোনি অঞ্চলে কর্তৃপক্ষের তুচ্ছ মনোভাব সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ দিয়েছে। এটি দায়িত্বহীনতার চরম উদাহরণ।”
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, হিজবুল্লাহর ক্রমাগত রকেট হামলা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, খবর জানিয়েছে সামা টিভি। ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড থেকে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, তিনি সেনাবাহিনীকে চলমান অভিযানের পরিধি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি বর্তমান নিরাপত্তা বলয় সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছি, যাতে হুমকিগুলো ইসরাইলের সীমান্ত থেকে আরও দূরে সরানো যায়।” এর আগে ইসরাইল লিটানি নদী পর্যন্ত বাফার জোন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। তবে নতুন নির্দেশনার ফলে সীমার বাইরে আরও অগ্রসর হওয়া হবে, নাকি একই অঞ্চলে অবস্থান আরও শক্তিশালী করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি এবং বিষয়টি ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় এখনো আলোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিমান হামলার পর থেকে হিজবুল্লাহ তেল আবিবের দিকে রকেট ছোড়া শুরু করে, যার প্রেক্ষিতে ইসরাইল লেবাননে সামরিক হামলা জোরদার করেছে।
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে গত চার সপ্তাহে নিহত মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে, জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় আহত হয়েছেন তিন হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ, যার মধ্যে ১২৪ শিশু অন্তর্ভুক্ত। গত শনিবার এবং রোববার দুই দিনে সংঘটিত হামলায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন উদ্ধারকর্মী এবং তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছেন যে, চলমান সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে এবং জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এই ঘটনায় লেবাননের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কমিউনিটি ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক বিমান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে The Wall Street Journal জানিয়েছে, গত শুক্রবার সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১২ সেনা আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক রাডারসমৃদ্ধ বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি মডেলের একটি বিমান, যা আগাম সতর্কতা ও আকাশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হামলার পর প্রকাশিত ফুটেজে বিমানটিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গেছে। আরব কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, একই হামলায় একাধিক রিফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ই-৩ সেন্ট্রি বিমান উন্নত রাডার প্রযুক্তির মাধ্যমে কয়েকশ কিলোমিটার দূরের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম। যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া এই মডেলের বিমান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছিল মাত্র ১৬টি। অতীতে এ ধরনের বিমানের সংখ্যা প্রায় ৩০টি ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বিমান সহজে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে এর বিকল্প হিসেবে ই-৭ ওয়েজটেইল মডেলের বিমান ব্যবহার করতে হয়, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার। এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর আল-মানার টেলিভিশনের প্রখ্যাত সাংবাদিক আলী শুয়াইবসহ তিন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত অন্য দুই সাংবাদিক হলেন ফাতেমা ও মোহাম্মদ ফাতুনি, যারা ইরানপন্থী আল-মায়াদিন চ্যানেলে কর্মরত ছিলেন। লেবানন সরকার এই আক্রমণকে একটি ‘নির্লজ্জ অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আলী শুয়াইবকে ‘সাংবাদিকের ছদ্মবেশে থাকা একজন সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে এবং তাদের দাবি অনুযায়ী তিনি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান ফাঁস করে দিচ্ছিলেন। তবে হিজবুল্লাহ এবং আল-মানার টেলিভিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করে শুয়াইবকে ‘প্রতিরোধ মিডিয়ার আইকন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, নিহত অন্য দুই সাংবাদিকের বিষয়ে ইসরায়েল কোনো মন্তব্য করেনি। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং যুদ্ধকালীন আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা মনে করে, সাংবাদিকরা যুদ্ধের ময়দানে বেসামরিক নাগরিক হিসেবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন এবং তাদের লক্ষ্যবস্তু করা একটি যুদ্ধাপরাধ। গাজায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের হত্যার পর লেবাননে এই ঘটনা গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার ওপর বড় ধরণের আঘাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দক্ষিণ লেবাননের আল-হানিয়া পৌরসভা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর এক ভয়াবহ হামলায় ৪ জন সিরীয় কৃষি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ আরও অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা জানিয়েছেন, নিহতরা সবাই ওই অঞ্চলে কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন। কোনো উস্কানি ছাড়াই হঠাৎ এই বিমান হামলা চালানো হয়। বর্তমানে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দক্ষিণ লেবাননে ক্রমাগত এই উত্তেজনা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে সংবাদ সংগ্রহের সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর একটি দলের ওপর চড়াও হয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এ সময় সিএনএন-এর ফটো সাংবাদিক সিরিল থিওফিলোসের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয় এবং তাকে শ্বাসরোধ করার (chokehold) চেষ্টা করা হয়। হামলায় তাদের ক্যামেরা ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) প্রকাশিত সিএনএন-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, জেরেমি ডায়মন্ডের নেতৃত্বে সিএনএন-এর প্রতিনিধি দলটি যখন পশ্চিম তীরের একটি গ্রামে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার খবর সংগ্রহ করছিল, তখন ইসরায়েলি সেনারা তাদের বাধা দেয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হঠাৎ করেই এক ইসরায়েলি সেনা পেছন থেকে এসে ফটো সাংবাদিক সিরিলকে জাপটে ধরেন এবং মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় সেনারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি চরম বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে এবং পুরো পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সম্পত্তি বলে দাবি করে। তারা ফিলিস্তিনিদের 'সন্ত্রাসী' হিসেবে আখ্যা দেয় এবং তাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেয়। সিএনএন জানায়, হামলার শিকার হওয়ার পর তাদের সাংবাদিকদের বেশ কিছুক্ষণ সেখানে আটকে রাখা হয়। এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর উগ্রবাদী আচরণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নির্যাতনের বাস্তব চিত্রই এই ঘটনায় প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং সেনাবাহিনীর আগ্রাসন নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড শুক্রবার (২৭ মার্চ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হেভি-ওয়াটার এবং পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার জবাবে তারা পাল্টা হামলা শুরু করেছে। বিপ্লবী গার্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি মালিকানাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে সেনারা হামলা চালাচ্ছে। এই সময়ে কর্মীদের নিরাপত্তার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরান আগেই সতর্ক করেছিল, তাদের কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন শেয়ার থাকা অনেক কোম্পানি রয়েছে, যা ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা “অপরাধ” এবং এর জন্য ইসরায়েলকে “চড়া মূল্য” দিতে হবে। সাম্প্রতিক দিনে ইরানের কয়েকটি পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এতে রয়েছে একটি ইউরেনিয়াম উৎপাদনকেন্দ্র ও ভারী পানির চুল্লি। এছাড়া ইসফাহানে দুটি ইস্পাত কারখানাও হামলার শিকার হয়েছে। আরাগচি বলেন, ইসরায়েল দাবি করছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সময়সীমা বাড়ানোর সঙ্গে ইসরায়েলের এই হামলার অবস্থান বিরোধপূর্ণ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই অপরাধের জন্য ইরান থেকে ইসরায়েলকে কঠোর জবাব দিতে হবে। এই হামলা এমন সময়ে ঘটেছে যখন ট্রাম্প বলেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা কিছুটা স্থগিত রাখবে। হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় বন্ধ রয়েছে। তথ্যসূত্র: সিএনএন
ইরানের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বর্বরোচিত হামলায় ১৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শজারেহ তাইয়্যেবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘটিত এই ভয়াবহ হামলাকে 'হৃদয়বিদারক ও বিভীষিকাময়' বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া এক বক্তব্যে তুর্ক বলেন, "এই হামলার ঘটনাটি যে কোনো মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক ও ঘৃণার সৃষ্টি করে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যারা এই হামলার পেছনে দায়ী, তাদের বিরুদ্ধেই এর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার দায়ভার বর্তায়। হামলার পর মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ভলকার তুর্ক এই তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার এবং প্রাপ্ত ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নিরপরাধ শিশুদের ওপর চালানো এই নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি।
ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা আবারও পিছিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, এই পদক্ষেপটি আরও ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে, যা এখন আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ইরানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে—যদিও এ ধরনের আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে ইরান। এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি বর্তমানে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালানো হবে। পরে সম্ভাব্য আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রথমে ৫ দিনের সময় বাড়ানো হয়, আর এবার তা দ্বিতীয় দফায় আরও বাড়ানো হলো। এদিকে, এই পরিকল্পনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে সম্ভাব্য ‘যুদ্ধাপরাধের হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা চালানো জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি তা সরাসরি সামরিক প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত না হয়। বর্তমান উত্তেজনার সূত্রপাত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এরপর থেকে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় আগ্রহী। তবে তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সতর্ক করেছে—তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর কোনো হামলা হলে এর জবাবে পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সূত্র: আল জাজিরা
মধ্য ইসরায়েলের কাফর কাসিম শহরে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষত এখন স্পষ্ট। সাম্প্রতিক এই হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং শহরের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরজমিনে দেখা গেছে, মিসাইলের আঘাতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষ চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় রাস্তার পাশের বেশ কিছু গাড়ি উল্টে পড়ে আছে। উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান চালাতে গিয়ে আরও একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, গোলানি ব্রিগেডের ২১ বছর বয়সী সেনা সদস্য ওরি গ্রিনবার্গ লড়াই চলাকালীন প্রাণ হারিয়েছেন। এই মৃত্যু লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘাতের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার বন্দর থেকে ছেড়ে আসা একটি তুর্কি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইস্তাম্বুলের বসফরাস প্রণালীর অদূরে সংঘটিত এই বিস্ফোরণে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন এতে থাকা ২৭ জন নাবিক। তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ‘আলতুরা’ নামক জাহাজটি যখন বসফরাস প্রণালী থেকে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার দূরে ছিল, তখনই এই হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে আসা এই জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করেই মূলত হামলাটি চালানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের পরপরই তুর্কি কোস্টগার্ড দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, জাহাজটি প্রায় পূর্ণ বোঝাই ছিল এবং এর উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার তেল সরবরাহ করা। তুরস্কের জলসীমার ঠিক বাইরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি ওই অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews