আমেরিকা

জর্জিয়া স্টেট: নতুন স্বপ্নের ঠিকানা হয়ে উঠছে বাংলাদেশিদের জন্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
জর্জিয়া স্টেট: নতুন স্বপ্নের ঠিকানা হয়ে উঠছে বাংলাদেশিদের জন্য
জর্জিয়া স্টেট: নতুন স্বপ্নের ঠিকানা হয়ে উঠছে বাংলাদেশিদের জন্য

যুক্তরাষ্ট্রে নতুনভাবে জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যারা বাংলাদেশ থেকে আসছেন, কিংবা যারা অন্য কোনো অঙ্গরাজ্য থেকে স্থানান্তরের কথা ভাবছেন, তাদের অনেকের কাছেই জর্জিয়া দিনে দিনে একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। একসময় যেখানে বাংলাদেশিদের প্রধান পছন্দ ছিল নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান বা টেক্সাস, সেখানে বর্তমানে তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়, অনুকূল আবহাওয়া, কর্মসংস্থানের সুযোগ, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটির কারণে জর্জিয়া জনপ্রিয় হচ্ছে।

 

কমিউনিটি সূত্রে ধারণা করা হয়, বর্তমানে জর্জিয়া রাজ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের বড় অংশই মেট্রো আটলান্টা এলাকায় বাস করেন। প্রতিবছর নতুন নতুন পরিবার এখানে স্থানান্তরিত হচ্ছেন, বাড়ি কিনছেন, ব্যবসা শুরু করছেন এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে স্থায়ী হচ্ছেন।

 

জর্জিয়ার বড় শহর ও রাজধানী আটলান্টা এখন দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ট্রাকিং, পরিবহন, কর্পোরেট চাকরি, ছোট ব্যবসা এবং সার্ভিস সেক্টরে কাজের সুযোগ থাকায় বাংলাদেশিদের অনেকেই এই রাজ্যে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন। বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর একটি Hartsfield-Jackson Atlanta International Airport এখানেই অবস্থিত, ফলে দেশ-বিদেশে যাতায়াতও সহজ।

 

বিশেষ করে ডোরাভিল, চাম্বলি, লরেন্সভিল, লিলবার্ন, টাকার, নরক্রস এবং গুয়িনেট কাউন্টি -এর বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশিদের বসতি দ্রুত বেড়েছে। এসব এলাকায় এখন বাংলাদেশি পরিবার, ছাত্রছাত্রী ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তুলনামূলক কম ভাড়া, ভালো স্কুল, নিরাপদ পরিবেশ এবং বড় বাসার সুযোগ থাকায় পরিবারগুলো এসব এলাকাকে পছন্দ করছেন।

 

জর্জিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য এখন অসংখ্য গ্রোসারি স্টোর, হালাল মার্কেট, পোশাকের দোকান, ট্রাভেল এজেন্সি এবং সেবামূলক ব্যবসা গড়ে উঠেছে। চাল, ডাল, ইলিশ, রুই, দেশি সবজি, মসলা, মিষ্টি—সবকিছু সহজেই পাওয়া যায়। ফলে নতুন অভিবাসীদের জন্য প্রবাস জীবন অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।

 

বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিরিয়ানি, কাচ্চি, নেহারি, ভর্তা, ফুচকা, চা-নাশতা থেকে শুরু করে নানা দেশি খাবার এখন সহজেই মিলছে। সপ্তাহান্তে অনেক পরিবার এসব রেস্টুরেন্টে একত্রিত হন, যা কমিউনিটির বন্ধন আরও দৃঢ় করছে। কোন কোন রেস্টুরেন্ট আবার ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে।

 

জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ জর্জিয়া। সংগঠনটি নিয়মিতভাবে পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ পুনর্মিলনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পারিবারিক পিকনিক এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। নতুন যারা জর্জিয়ায় আসেন, তাদের জন্যও এই সংগঠন পরিচিতি ও কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়ার বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

 

মুসলিম পরিবারগুলোর জন্যও জর্জিয়া এখন দিনে দিনে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। রাজ্যজুড়ে বহু মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, পূর্ণকালীন ইসলামিক স্কুল, উইকেন্ড স্কুল এবং কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, যা পরিবারগুলোকে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে একটি শক্তিশালী পরিবেশ দিচ্ছে।

 

বিশেষ করে আটলান্টার আশেপাশে শতাধিকের কাছাকাছি মসজিদ, মুসল্লা ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে বলে বিভিন্ন কমিউনিটি সূত্রে জানা যায়। নিয়মিত জুমা নামাজ, রমজানে তারাবিহ, বড় পরিসরে ইফতার, ঈদ জামাত, শিশু-কিশোরদের ইসলামিক ক্লাস, হিফজ প্রোগ্রাম এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি মুসলিম শিশুদের জন্য একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি ইসলামিক স্কুলও পরিচালিত হচ্ছে। ফলে যারা ধর্মীয় পরিবেশ, সন্তানদের ইসলামিক শিক্ষা এবং মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে থেকে পরিবার গড়তে চান, তাদের কাছে জর্জিয়া এখন একটি আদর্শ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

শিক্ষার ক্ষেত্রেও জর্জিয়া এগিয়ে। রাজ্যটিতে রয়েছে বিশ্বখ্যাত Georgia Institute of Technology, Emory University, Georgia State University, University of Georgia সহ বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠছে।

 

জর্জিয়ার আবহাওয়াও অনেকের কাছে আরামদায়ক। শীত তুলনামূলক সহনীয়, বরফ কম পড়ে, আবার দীর্ঘ গরম মৌসুম থাকায় দক্ষিণ এশীয়দের জন্য মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক বা ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় জীবনযাত্রার খরচও অনেক কম।

 

পর্যটনের দিক থেকেও জর্জিয়া সমৃদ্ধ। Georgia Aquarium, Stone Mountain Park, Savannah এবং Blue Ridge Mountains সহ অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

 

অনেকেই বলেন, আটলান্টা হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের নিউইয়র্ক। কারণ নিউইয়র্ক যেমন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা, বৈচিত্র্য ও সুযোগের কেন্দ্র, তেমনি আটলান্টা দক্ষিণাঞ্চলে সেই একই ভূমিকা পালন করছে। এখানে নানা জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের বসবাস রয়েছে। বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, আফ্রিকান, আরব, হিস্পানিকসহ বহু কমিউনিটির উপস্থিতি শহরটিকে বহুজাতিক ও প্রাণবন্ত করেছে।

 

তবে নিউইয়র্কের তুলনায় আটলান্টার বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচ। বাড়িভাড়া, বাড়ি কেনা, পার্কিং, দৈনন্দিন খরচ এবং পরিবার নিয়ে থাকার পরিবেশ অনেক বেশি সুবিধাজনক। তাই যারা বড় শহরের সুযোগ-সুবিধা চান কিন্তু নিউইয়র্কের অতিরিক্ত ব্যয় এড়াতে চান, তাদের কাছে আটলান্টা এখন অন্যতম সেরা বিকল্প।

 

কমিউনিটি নেতারা মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে জর্জিয়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অন্যতম বড় কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। কারণ এখানে সুযোগ আছে, কমিউনিটি আছে, শিক্ষা আছে, ধর্মীয় পরিবেশ আছে এবং পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের বাস্তব সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

অনেকের ভাষায়, জর্জিয়া এখন শুধু একটি স্টেট নয়—এটি বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্বপ্নের ঠিকানা।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত।
আলোচনার জন্য পাকিস্তানের পথে রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিরা, জানালেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। তবে আলোচনার এই আবহাওয়ার মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গত কালই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশ দুটির মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শেষ হতে যাচ্ছে। এদিকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আন্তালিয়ায় এক সম্মেলনে জানান, যুদ্ধ অবসানে উভয় দেশই আলোচনার সদিচ্ছা দেখালেও বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ট্রাম্প ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচির অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবেন না। সংঘাতের অন্যান্য খবরে জানা গেছে, গত দুই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর (আইডিএফ) আরও দুই সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পারস্য উপসাগর অভিমুখী দুটি এলপিজি ট্যাংকার মাঝপথেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ লিও।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।

হরমুজ প্রণালীতে মাইন ধ্বংস করতে ‘সি রোবট’ নামালো মার্কিন সেনা

এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান প্রশ্নে সাংবাদিককে ‘বেরিয়ে যেতে’ বললেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

মেরিল্যান্ডে বিসিএ’র বর্ণাঢ্য ‘ইস্টার পুনর্মিলনী ও বৈশাখী উৎসব’

ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মুখোমুখি হচ্ছেন মামদানি–ওবামা, শিশুশিক্ষা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শনিবার একটি শিশুশিক্ষা কর্মসূচিতে তাঁদের এই সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। খবর সিএনএনের।   মেয়রের কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির একটি প্রারম্ভিক শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে শিশু ও অভিভাবকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন মামদানি। এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকবেন ওবামাও।   এর আগে গত নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ফোনে কথা হয়েছিল দুই নেতার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেই আলোচনায় ওবামা মামদানিকে সতর্ক করে বলেন—একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে তিনি কীভাবে দেশের বৃহত্তম শহর পরিচালনা করেন, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে অনেকেই। একই সঙ্গে প্রশাসনে দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।   ওই কথোপকথনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রশাসন পরিচালনার বাস্তবতার পার্থক্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পান মামদানি। এদিকে, মেয়র হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও দুবার সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন মামদানি।   তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প তাঁর প্রস্তাবিত ‘পাইড-আ-তের’ কর নীতির সমালোচনা করে দাবি করেন, এই নীতির মাধ্যমে নিউইয়র্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই কর নীতির আওতায় শহরে ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।   ট্রাম্পের সমালোচনার বিষয়ে মামদানি বলেন, তিনি এ ধরনের অবস্থানে বিস্মিত নন এবং নীতিগত পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

‘ডনরো ডকট্রিন’ প্রয়োগে কড়া বার্তা: ২৬ প্রভাবশালীর ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত।

মানসিক চিকিৎসায় নজিরবিহীন ও সাহসী পদক্ষেপ নিলেন ট্রাম্প

নিউ জার্সির ইলিভেন্থ ডিস্ট্রিক্ট কংগ্রেসনাল আসনে জয়ী অ্যানালিলিয়া মেহিয়া | ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সিতে রিপাবলিকানদের হারিয়ে জয়ী ডেমোক্র্যাট অ্যানালিলিয়া মেহিয়া; ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম | ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাস গড়লেন ডলি বেগম; প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কানাডার ফেডারেল এমপি নির্বাচিত

কানাডার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। প্রথম বাংলাদেশি-কানাডিয়ান হিসেবে কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। গত সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনের উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিপুল জয়লাভ করেন তিনি।   বিজয় পরবর্তী আবেগঘন বক্তৃতায় ডলি বেগম তাঁর পরিবার ও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। মঞ্চে উঠে শুরুতেই সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় নিজের মাকে খোঁজেন তিনি। প্রয়াত স্বামী রিজুয়ানকে এই জয় উৎসর্গ করে তিনি বলেন, "এই রাত আপনাদের; এটি আশা, সহানুভূতি ও অগ্রগতির জয়।" ১৯৮৯ সালে মৌলভীবাজারে জন্ম নেওয়া ডলি শিশু বয়সে সপরিবারে কানাডায় অভিবাসী হন এবং টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।   ডলি বেগমের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে, যখন তিনি অন্টারিও এনডিপি থেকে মাত্র ২৯ বছর বয়সে প্রাদেশিক পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি দলের ডেপুটি লিডারও মনোনীত হন। তবে ২০২৬ সালের শুরুতে দীর্ঘদিনের দল এনডিপি ছেড়ে ফেডারেল লিবারেল পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি রাজনৈতিক মহলে চমক দেন। লিবারেল এমপি বিল ব্লেয়ারের পদত্যাগের ফলে শূন্য হওয়া এই আসনে তিনি কনজারভেটিভ ও এনডিপি প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন।   ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি ডলি বেগমের এই জয় প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই জয়ের মাধ্যমে লিবারেল পার্টি ১৭৪টি আসন নিশ্চিত করে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল। তবে বিরোধী দলীয় নেতা পিয়েরে পোয়িলিয়েভ এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের প্রক্রিয়াকে ‘পেছনের দরজার সমঝোতা’ বলে সমালোচনা করেছেন। মৌলভীবাজার থেকে স্কারবোরোর রাজপথ হয়ে কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্ট পর্যন্ত ডলি বেগমের এই যাত্রা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি ডায়াসপোরার কাছে এক অনন্য প্রেরণার গল্প।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটিতে ভাড়া স্থগিতের দাবিতে বিক্ষোভ; উচ্ছেদের আশঙ্কায় অভিবাসী ও শ্রমজীবীরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

পোপের সঙ্গে দ্বন্দ্ব: নিজেকে 'পুরোপুরি বাইবেল অনুসারী' দাবি করলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত।

দুই দশক ধরে দোভাষী হিসেবে কাজ করেছেন আদালতে; সেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারীই এখন ডিটেনশন সেন্টারে

0 Comments