রোনান সুলিভান—বাংলাদেশের ফুটবল আকাশে উদিত হওয়া এক নতুন ধুমকেতু, যিনি দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে লাল-সবুজের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরিয়ে আনতে একাই পালন করেছেন মহাবীরত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা।
সুদূর আমেরিকা থেকে এসে বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নামা এই তরুণের রক্তে মিশে আছে বাংলার চিরন্তন নাড়ির টান, যা তাকে বিদেশের আরামদায়ক জীবন ছেড়ে এই মাটির জন্য লড়তে উদ্বুদ্ধ করেছে।
ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন একাডেমির মতো বিশ্বমানের ফুটবল পাঠশালায় নিজেকে গড়ে তোলা রোনান কেবল একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় নন, বরং তিনি বাংলাদেশের আগামীর এক বিশাল ফুটবল প্রকল্পের প্রধান সেনাপতি।
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে রোনানের পায়ের জাদু যেভাবে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করেছে, তা দেশের কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয়ে দীর্ঘকাল পর এক নতুন উন্মাদনা ও অসীম আশার আলো জ্বালিয়েছে।
টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচে তার ক্ষিপ্র গতি, অসামান্য ড্রিবলিং এবং নিখুঁত ফিনিশিং দেখে মনে হয়েছে বাংলাদেশের ফুটবল অবশেষে তার কাঙ্ক্ষিত গোল মেশিন বা এক সত্যিকারের ত্রাতা খুঁজে পেয়েছে।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তার লড়াকু মানসিকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করার দক্ষতাই মূলত বাংলাদেশকে সাফের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে সবচাইতে বড় ও প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
রোনানের দীর্ঘদেহী শারীরিক গঠন এবং বলের ওপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ তাকে আধুনিক ফুটবলের এক পরিপূর্ণ স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ডিফেন্ডারদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদেশের মাটিতে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও রোনান প্রমাণ করেছেন যে নাড়ির টান এবং দেশের প্রতি মমত্ববোধ থাকলে যেকোনো বাধা ডিঙিয়ে বিদেশের মাঠ থেকেও জাতীয় দলের জন্য সাফল্য ছিনিয়ে আনা সম্ভব।
তার এই অভাবনীয় উত্থান বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশনের জন্য এক নতুন বার্তা দিচ্ছে যে, বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী প্রতিভাদের সঠিক মূল্যায়নে দেশের ফুটবলের চেহারা আমূল বদলে যেতে পারে।
রোনান সুলিভান কেবল বর্তমানের সাফ জয়ের নায়ক নন, বরং তিনি হচ্ছেন সেই বাতিঘর যাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আগামীতে এশিয়ার বড় বড় ফুটবল শক্তিগুলোর চোখে চোখ রেখে লড়াই করার সাহস পাবে।
জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডে রোনানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া এখন সময়ের দাবি, কারণ তার মতো একজন জাত স্ট্রাইকারই পারে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের গোল খরা কাটিয়ে বড় বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে জয় ছিনিয়ে আনতে।
রোনানের স্বপ্ন এখন আরও বড়—লাল-সবুজের জার্সি গায়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করা এবং বাংলাদেশের ফুটবলকে দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে এশিয়ার সেরাদের কাতারে নিয়ে যাওয়া যা এখন তার সামর্থ্যের ভেতরেই রয়েছে।
বাংলাদেশের ফুটবলের এই নতুন রাজপুত্রকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে তিনি হবেন এদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা আইকন, যার হাত ধরে বদলে যাবে এদেশের লক্ষ লক্ষ উদীয়মান তরুণ ফুটবলারের ভাগ্য।
সাফ জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন সাধারণ মানুষের মুখে একটিই নাম রোনান সুলিভান, যিনি প্রমাণ করেছেন ফুটবল কেবল একটি খেলা নয় বরং এটি একটি জাতির হাজার বছরের আবেগ ও আত্মপরিচয়।
সব বাধা পেরিয়ে রোনান এখন বাংলাদেশের আগামীর সুপারস্টার হওয়ার পথে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছেন এবং তার এই যাত্রা কেবল শুরু, যার শেষ হবে দেশের ফুটবলে এক নতুন স্বর্ণালী দিগন্তের উন্মোচনে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
২০২৬ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখনই চরমে। তবে ফুটবল প্রেমীদের জন্য এবার এক চমকে দেওয়ার মতো খবর সামনে এসেছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম হাঁকানো হচ্ছে অবিশ্বাস্য ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ কোটি টাকারও বেশি! সম্প্রতি টিকিট পুনঃবিক্রয়কারী একটি প্ল্যাটফর্মে এই চড়া দাম লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত ফিফা কর্তৃক নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে টিকিট রিসেল বা পুনঃবিক্রয় করার ঘটনা নতুন নয়, তবে ২০ লাখ ডলারের এই অঙ্ক সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। যদিও ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ জনগণের জন্য টিকিটের মূল্য তালিকা প্রকাশ করেনি, তবে রিসেলারদের এমন কর্মকাণ্ডে ফুটবল ভক্তদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় টিকিটের সংখ্যা কম হওয়ায় কালোবাজারি এবং বিভিন্ন থার্ড পার্টি ওয়েবসাইটগুলো এই সুযোগ নিচ্ছে। ফিফা বরাবরই দর্শকদের সতর্ক করে আসছে যেন তারা কেবল অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকেই টিকিট সংগ্রহ করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেবে, ফলে ম্যাচ এবং টিকিটের সংখ্যা বাড়লেও ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের টিকিটের জন্য দর্শকদের বড় অঙ্কের অর্থই গুণতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফুটবল প্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানের। আগামী শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ কেনেডি সেন্টারে নির্ধারিত হবে ৪৮টি দলের ভাগ্য। এবারই প্রথম রেকর্ডসংখ্যক দল নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে বিশ্বমঞ্চের লড়াই। ড্র অনুষ্ঠানে মোট চারটি পটে ১২টি করে বল থাকবে, যেখান থেকে পর্যায়ক্রমে দলগুলো ‘এ’ থেকে ‘এল’ পর্যন্ত মোট ১২টি গ্রুপে ভাগ হবে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ৪টি করে দল। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, স্বাগতিক তিন দেশ মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই যথাক্রমে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘ডি’ গ্রুপে স্থান করে নিয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো বাদে একই কনফেডারেশনের দুই দল একই গ্রুপে পড়ার সুযোগ নেই, তবে উয়েফার ১৬টি দেশ থাকায় প্রতিটি গ্রুপে সর্বোচ্চ দুটি ইউরোপীয় দল থাকতে পারে। বিশ্বকাপের এই নতুন ড্র পদ্ধতিতে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দল— স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। টেনিস স্টাইল ব্র্যাকেট অনুসরণ করায় এই চার পরাশক্তি যদি নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে সেমিফাইনালের আগে তাদের একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এর ফলে ফুটবল ভক্তরা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবং লামিন ইয়ামালের স্পেনের মধ্যকার দ্বৈরথ দেখার জন্য অন্তত ফাইনাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পট-১ এ স্বাগতিকদের পাশাপাশি ব্রাজিল, জার্মানি ও পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলগুলো থাকলেও পট-২ ও ৩-এ থাকা ক্রোয়েশিয়া, মরক্কো কিংবা উরুগুয়ের মতো দলগুলো যেকোনো বড় শক্তির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বর্তমানে ৪২টি দল মূল পর্ব নিশ্চিত করলেও বাকি ৬টি দল আগামী বছরের প্লে-অফ শেষে চূড়ান্ত হবে। উৎসবের এই আমেজে কিছুটা তপ্ত হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনৈতিক ময়দান। ড্র অনুষ্ঠানের আগমুহূর্তে ইরান এই আয়োজন বয়কটের ঘোষণা দিয়ে আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার দাবি, মার্কিন প্রশাসন তাদের প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার গ্যাঁড়াকলে পড়ে কর্মকর্তাদের ভিসা জটিলতা তৈরি হওয়ায় ইরানের ফুটবল ফেডারেশন ফিফার দ্বারস্থ হয়েছে। যদিও ক্রীড়া ইভেন্টের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের কথা ছিল, তবুও ড্র অনুষ্ঠানে এই জটিলতা খেলার মাঠে রাজনীতির ছায়া ফেলেছে। এই টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে ফিফার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর দিকে, যেখানে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামী বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর পথচলা।
লিওনেল মেসি মানেই যেন এক জাদুর কাঠি। আবারও তার প্রমাণ মিলল মেজর লিগ সকারে (এমএলএস)। কলোরাডো র্যাপিডসের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও লিওনেল মেসির জোড়া গোলে ৩-২ ব্যবধানের এক রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে ইন্টার মায়ামি। ডেনভারের এম্পাওয়ার ফিল্ডে প্রায় ৭৬ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে রেকর্ড গড়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখে মায়ামি। ম্যাচের ১৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মেসির ক্রস থেকেই দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জার্মান বার্টরাম। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় কলোরাডো। ৫৯ এবং ৬২ মিনিটে পরপর দুই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় তারা। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে যাচ্ছে, তখনই আবারও দৃশ্যপটে হাজির মেসি। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে চারজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের কোণা থেকে এক অবিশ্বাস্য শটে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে ইন্টার মায়ামি তাদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে টানা সাত ম্যাচে নিয়ে গেল। বর্তমানে লিগে ৭ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষেই রয়েছেন মেসি। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গুইলারমো হোয়োসের অধীনে এটি মায়ামির প্রথম জয়।