সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান গুরুতর দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি তার পদত্যাগপত্র সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণ করেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কেএম মজিবুল হক বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তদন্তের আবেদন করেছিলেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিচারপতি রেজাউল হাসান ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলায় পক্ষপাতিত্ব করেছেন। একটি মামলায় সিনিয়র আইনজীবী অনুপস্থিত থাকলেও রায়ে তার নামে কাল্পনিক যুক্তি উল্লেখ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আপিল বিভাগে বাতিল হয়। আরেকটি মামলায় আবেদনকারীর স্ত্রীকে কোনো পক্ষ না করেই তার মালিকানাধীন ১৩ লাখ শেয়ার বাতিল করা হয়েছিল, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি বলে দাবি করা হয়েছিল। আইনি মহলের মতে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্তের প্রারম্ভে বা চলাকালীন পদত্যাগ এমন গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। উচ্চ আদালতের স্বচ্ছতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনের ভোটের ফলাফল নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই। এই আসনের নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও দাড়িপাল্লা প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ারের করা আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই আসনের ব্যবহৃত ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল সরঞ্জামাদি যথাযথভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য, এই আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগর। গোলাম পরওয়ারের এই আইনি পদক্ষেপের ফলে আসনটির নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টে বিশেষ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই বেঞ্চেই বর্তমানে গোলাম পরওয়ারসহ আরও ২৫ জনের বেশি প্রার্থীর দায়ের করা আবেদনের শুনানি চলছে। আদালত এসব আসনের ভোটগ্রহণ পরবর্তী যেকোনো জালিয়াতি বা পরিবর্তন রোধে সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। ২০০১ সালের সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এই আবেদনগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে। ফলে খুলনা-৫ আসনের চূড়ান্ত বিজয় নিয়ে এখন আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর) আসনের ভোটের ফলাফলে কারচুপির অভিযোগে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে হাইকোর্ট। আসনটিতে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজের আসনের ব্যবহৃত সকল ব্যালট পেপার, রেজাল্ট শিট ও অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জামাদি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মাওলানা মামুনুল হকের দায়ের করা নির্বাচনী মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে এই আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, কেবল ঢাকা-১৩ নয়, বরং গাইবান্ধা-৫, ঢাকা-৫, পাবনা-৩ ও কুষ্টিয়া-৪ আসনের নির্বাচনী নথিপত্রও সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ২৫ জনেরও বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী গঠিত এই বিশেষ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আবেদনগুলো আমলে নিয়ে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি সুরক্ষিত রাখার আদেশ প্রদান করেন। এর ফলে বিতর্কিত আসনগুলোর প্রকৃত ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের পথ আরও প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-১৬ আসনের ব্যালট পেপার, রেজাল্ট শিটসহ যাবতীয় নির্বাচনি সরঞ্জামাদি নির্বাচন কমিশনের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই দুই আসনে ঘোষিত বিজয়ীদের প্রতি আদালতের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। আজ রোববার বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৮ জুন। নির্বাচনে কারচুপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন এবং ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করেন। আবেদনে তারা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে এখন পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ১৫ জন এবং ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন আসনের ব্যালট পেপার ও সরঞ্জামাদি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক অভিযোগের শুনানি চলছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ সংসদীয় আসনের ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিচারপতি জাকির হোসেনের একক নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আদেশটি আসে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণের করা আবেদনের শুনানির পর। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মশিউর রহমান ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কপিল কৃষ্ণ পান ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ ভোট। আসনটিতে তিনটি উপজেলা এবং ১৪৭টি ভোটকেন্দ্র ছিল। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর কপিল কৃষ্ণ কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফলে আপত্তি জানান এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিকার চেয়েও সন্তুষ্ট হননি। এর পর তিনি হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করেন। আদালত এই আবেদনের শুনানি শেষে ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে জামায়াতের শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ এবং বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে জামায়াতের আব্দুল আলিম জয়ী হন। বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে বিএনপির শেখ ফরিদুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের শপথ গ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে ‘নীরব ভূমিকা’ পালনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চাওয়া হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এ রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করে সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের দাবি জানিয়ে সংসদ সচিবালয় ও আইন সচিবের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার ওই নোটিশটি প্রেরণ করেন। আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানকে অসম্মান করে সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি তার শপথ ভঙ্গ করেছেন। এ কারণে তাকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন উদ্বোধনের আহ্বান জানানো হয়। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পৃথক পাঁচটি মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এই আদেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই পাঁচটি মামলার মধ্যে চারটি ছিল হত্যা মামলা। মামলাগুলো ফতুল্লা থানায় দায়ের করা হয়েছিল—যার মধ্যে বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াসিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সদর মডেল থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা অন্য একটি মামলায়ও তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু। উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মে ভোররাতে শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন 'চুনকা কুটির' থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ইতিপূর্বে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও পরবর্তীতে আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। সর্বশেষ ১৮ নভেম্বর তাকে আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ উচ্চ আদালত থেকে এই জামিনাদেশ এলো।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে যেকোনো প্রার্থী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনিয়মের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে আবেদন করতে পারেন। সেই আইনি প্রক্রিয়া সুগম করতেই এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা ও বিচারিক এখতিয়ার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চে এই আবেদনগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) এই বেঞ্চের বিচারিক এখতিয়ার সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে: ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (২০০১ সালের সংশোধনসহ) অনুযায়ী নির্বাচনী আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে। এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল ও আবেদনপত্রের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গেজেট প্রকাশ ও বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বিজয়ী সংসদ সদস্যদের নাম ও পরিচয়সহ গেজেট প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার রাতে এই গেজেট জারি করেন। আইন অনুযায়ী, এই গেজেট প্রকাশের দিন থেকেই ট্রাইব্যুনালে আবেদনের সময়সীমা গণনা শুরু হবে। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় আপাতত দুটি আসনের গেজেট স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তবে সমান্তরালভাবে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে অনেককেই।
পবিত্র রমজান মাসে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ফাহমিদা এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন। আদালতে রিটের পক্ষে সওয়াল-জওয়াব করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল এবং অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি এই বিষয়ে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে কোনো জবাব না পাওয়ায় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করা হয়। আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছিল, বাংলাদেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলিম। স্বাধীনতার পর থেকেই রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রথা ও রীতিতে পরিণত হয়েছে। সংবিধানের ৩১ এবং ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেকোনো প্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতির আইনের সমতুল্য ক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং রমজানে স্কুল খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত মূলত অসাংবিধানিক। আবেদনকারী আইনজীবীরা আরও যুক্তি দেখিয়েছেন যে, তীব্র গরম আর যাতায়াতের ঝক্কি সামলে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের রোজা রাখা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। এতে তাদের নিয়মিত ধর্মীয় আচার পালনে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি রমজান মাসে স্কুল খোলা থাকলে প্রধান শহরগুলোতে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হয়, যা নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে চরম দুর্বিষহ করে তোলে। এই সকল মানবিক ও আইনি দিক বিবেচনা করেই মহামান্য আদালত আজ এই যুগান্তকারী নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
পবিত্র রমজান মাসে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। আজকের এই যুগান্তকারী আদেশের ফলে পুরো রমজান মাসজুড়ে স্কুল বন্ধ থাকবে। বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল ও অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা। এর আগে রমজানে স্কুল খোলা রাখাকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রোজা রাখার কষ্ট ও শহরের তীব্র যানজটের কথা বিবেচনা করে এই রিটটি দায়ের করা হয়েছিল। রিট আবেদনকারীর মতে, স্বাধীনতার পর থেকেই রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা একটি প্রথা ও রীতি, যা আইনের অংশ হিসেবেই বিবেচিত।
আমেরিকা বাংলা । সিলেট: দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামীকাল ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল শাবিপ্রবি’র বহুল প্রতীক্ষিত শাকসু নির্বাচন। কিন্তু আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এই নির্বাচন ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার আদেশ দেন। শিক্ষকদের অবস্থান ও সংবাদ সম্মেলন: আদালতের এই আদেশের আগেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল ক্যাম্পাসে। সকালে শাবিপ্রবি’র জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের সকল কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দীন অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল দখল এবং নীতিমালা নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার দায় বারবার তাঁদের ওপর চাপানো হচ্ছে। তাঁরা মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বর্তমানে নেই এবং শিক্ষকদের একটি অংশকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ছাত্রশিবিরের কঠোর হুঁশিয়ারি: এদিকে, নির্বাচন স্থগিতের খবর আসার পরপরই দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “শাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি। কোনো পেশিশক্তি বা রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে ছাত্রশিবির দেশব্যাপী লাগাতার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। উত্তাল শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস: ভোটের দাবিতে সকাল থেকেই শাবিপ্রবি’র গোলচত্বর ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ‘শাকসু চাই’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নির্বাচন বন্ধ করে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সিলেটের এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে সারা দেশের ছাত্ররাজনীতিতে গভীর আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews