জ্বালানি

ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্বজুড়ে সংকটের মধ্যেও অজেয় চীনের ‘জ্বালানি দুর্গ’?

বর্তমান উত্তাল বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি তেলের বাজার যখন টালমাটাল, তখন চীন এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার ফলে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী এবং সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে, তখন বেইজিং তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সুফল ভোগ করছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দেশটি গড়ে তুলেছে এক অজেয় ‘জ্বালানি দুর্গ’। সিএনএন-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক এই চরম সংকটের সময়েও চীন অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে তাদের তিনটি প্রধান কৌশল: ১. নবায়নযোগ্য শক্তির বিপ্লব: চীন বর্তমানে সৌর বিদ্যুৎ, বায়ু শক্তি এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের শিল্প খাতের একটি বড় অংশ এখন আমদানিকৃত তেলের বদলে নিজস্ব ক্লিন এনার্জির ওপর নির্ভরশীল। ২. বিশাল মজুত ব্যবস্থা: জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে চীন বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত করে রেখেছে। এই মজুত দিয়ে তারা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় মোকাবিলা করতে সক্ষম। ৩. বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার: চীনের রাস্তায় এখন পেট্রোল-ডিজেলের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) জয়জয়কার। ফলে সাধারণ পরিবহনের ক্ষেত্রে তাদের তেলের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গবেষক এরিকা ডাউনস বলেন, "চীন এই সংকটের সময় পেছন ফিরে তাকিয়ে বলতে পারে যে, তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল।" যখন এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানি আমদানিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন চীনের এই স্বনির্ভরতা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। বেইজিং প্রমাণ করছে যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বাঁচতে জ্বালানি নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
অস্থিরতার মাঝেও যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে কম দামে কিনতে পারবেন জ্বালানি তেল

বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। সম্প্রতি গ্যালন প্রতি গড় দাম ৪.০৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, তেলের দাম হয়তো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তবে ২০২৭ সালের আগে তা ৩ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা কম। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের পকেটের বোঝা কমাতে বিশেষ কিছু টিপস প্রকাশ করেছে সিএনএন (CNN)। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু কৌশল অবলম্বন করলে প্রতি গ্যালনে বেশ কয়েক সেন্ট সাশ্রয় করা সম্ভব।  ১. গ্যাস অ্যাপ ব্যবহার করুন: ‘GasBuddy’, ‘Google Maps’ বা ‘Waze’ এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করে আপনার এলাকার সবচেয়ে সস্তা গ্যাস স্টেশনটি খুঁজে বের করুন। সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করে কয়েক ডলার বাঁচানো সম্ভব। ২. লয়্যালটি প্রোগ্রামে যুক্ত হন: বড় বড় চেইন শপ যেমন ‘Kroger’ বা ‘Walmart’ তাদের মেম্বারদের জন্য বিশেষ ছাড় দেয়। এছাড়া ‘BP’ বা ‘Exxon Mobil’ এর মতো কোম্পানির নিজস্ব লয়্যালটি প্রোগ্রামে যুক্ত থাকলে প্রতি গ্যালনে ৫ থেকে ২০ সেন্ট পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাওয়া যেতে পারে। ৩. ওয়ারহাউস ক্লাব মেম্বারশিপ: ‘Costco’ বা ‘Sam’s Club’ এর মতো পাইকারি বিক্রেতারা সাধারণ বাজারের তুলনায় অনেক কম দামে তেল বিক্রি করে। দীর্ঘ লাইন থাকলেও সময়ের বিনিময়ে এখানে বড় সাশ্রয় সম্ভব। ৪. ক্রেডিট কার্ড ও ক্যাশব্যাক: নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক কার্ডে তেল কেনার ওপর ৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক অফার থাকে।  এছাড়া চেকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পেমেন্ট করলে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছাড় পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিক ডি হান বলেন, "কারও উচিত নয় সরাসরি রিটেইল মূল্যে তেল কেনা। বাজারে সাশ্রয় করার প্রচুর পথ খোলা আছে, শুধু একটু খোঁজ রাখা প্রয়োজন।" আসন্ন গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে ভ্রমণের চাপ বাড়লে তেলের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই এখন থেকেই সচেতনভাবে জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আকাশপথে চরম সংকট: দ্বিগুণ বেড়েছে জ্বালানির দাম

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আকাশপথে চলাচল এখন ইতিহাসের সবচাইতে কঠিন সংকটের মুখে পড়েছে। জ্বালানি তেলের তীব্র অভাব ও আকাশছোঁয়া দাম বিমান সংস্থাগুলোকে চরম বিপর্যয়ে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানে বিমানের জ্বালানি বা কেরোসিনের দাম অস্বাভাবিকভাবে দ্বিগুণ বেড়েছে যা আন্তর্জাতিক এভিয়েশন খাতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ভার্জিন আটলান্টিক জানিয়েছে, তাদের কাছে মাত্র ছয় সপ্তাহের জ্বালানি মজুদ আছে। জার্মান এয়ারলাইন্স লুফথানসা বড় ধরনের লোকসান এড়াতে তাদের বেশ কিছু বিমান চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধের কথা ভাবছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানি খরচ বাড়ায় ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সব রুটে টিকিটের দাম কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। অনেক সংস্থা লোকসানি রুটগুলো থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিচ্ছে এবং অতিরিক্ত জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার টি-অ্যাওয়ে এয়ার ইতিমধ্যে তাদের অনেক কর্মীকে বেতনহীন ছুটিতে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। হরমজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহের এই সংকট সহসা কাটার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ইউরোপের বিমান সংস্থাগুলো এই সংকট মোকাবিলায় ব্রাসেলসের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছে। তারা বিমানের জ্বালানি কেনায় বিশেষ সরকারি ছাড় এবং পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন কর সাময়িকভাবে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে একটি এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ২৭ শতাংশ খরচ হয় জ্বালানি খাতে। যুদ্ধের কারণে এই খরচ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় অনেক দুর্বল সংস্থা দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকটের ফলে অনেক ছোট বিমান সংস্থা টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় কোম্পানিগুলোর সাথে একীভূত হতে পারে। আমেরিকার বড় দুটি এয়ারলাইন্স ইতিমধ্যে এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে। হরমজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় যা এখন যুদ্ধের কারণে প্রায় অবরুদ্ধ। এর ফলে বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের সময় ও ব্যয় দুটিই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতিটি স্তরে। বিমান চলাচল সংকট, জ্বালানি তেলের দাম, ইরান যুদ্ধ ২০২৬, আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া, আকাশপথের বিপর্যয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশমুখী জাহাজ চলাচল নিশ্চিতের আহ্বান ঢাকার

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশমুখী জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে রাষ্ট্রদূতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   এ সময় প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে তার দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এর আগে ১ এপ্রিল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের ছয়টি জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে তেহরান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেন কোনো ধরনের দুর্ভোগে না পড়ে, সে বিষয়ে ইরান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।   আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত, সেখানে এখন তা কমে দিনে মাত্র ৭ থেকে ১১টির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
চালু হলো ‘ফুয়েল পাস’, তেল নিতে হলে জেনে নিন নিবন্ধনের নিয়ম

জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর দুটি ফিলিং স্টেশনে চালু হয়েছে অ্যাপভিত্তিক ডিজিটাল সিস্টেম ‘ফুয়েল পাস’। আপাতত এই সুবিধা শুধু মোটরসাইকেল চালকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও, শীঘ্রই এটি সারাদেশে সব ধরনের যানবাহনের জন্য বাধ্যতামূলক হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে যেখানে মিলবে এই সুবিধা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এই পাইলট প্রকল্পটি বর্তমানে ঢাকার দুটি স্টেশনে কার্যকর করা হয়েছে: তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ও আসাদগেটের সোনার বাংলা ফুয়েল স্টেশন। এই দুই স্টেশনে সফলতার পর পুরো দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে এই ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। এই সিস্টেমটি সরাসরি বিআরটিএ (BRTA)-এর কেন্দ্রীয় সার্ভারের সাথে যুক্ত থাকবে। ডিজিটাল এই ব্যবস্থায় প্রতিটি নিবন্ধিত চালকের জন্য একটি নির্দিষ্ট কিউআর কোড (QR Code) থাকবে। ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার সময় এই কোড স্ক্যান করলেই বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করা যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন তেল চুরির ভয় থাকবে না, অন্যদিকে সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো দেশের জ্বালানি চাহিদা ও সরবরাহ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। নিবন্ধন করার সহজ ধাপসমূহ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘Fuel Pass’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন। এছাড়া যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা সরাসরি fuelpass.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে নিবন্ধন করে কিউআর কোডটি প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। নিবন্ধনের প্রক্রিয়া: ১. ওয়েবসাইটে বা অ্যাপে গিয়ে মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন। ২. মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করুন। ৩. একটি পাসওয়ার্ড সেট করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), গাড়ির ব্লু-বুক বা স্মার্ট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, সচল ফোন নম্বর ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও চাহিদায় গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে
হরমুজ থেকে মালাক্কা: যে ৫ সরু জলপথের ওপর জিম্মি বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি বাজার

বিশ্ব অর্থনীতির রক্তসঞ্চালন সচল রাখে যে সমুদ্রপথগুলো, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় সেগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় টালমাটাল বিশ্ববাজার। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থেকে লাফিয়ে ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। তবে কেবল হরমুজ নয়, বিশ্বের মোট বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র পাঁচটি সরু জলপথ বা 'বটলনেক', যার একটি বন্ধ হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট। ১. হরমুজ প্রণালি: বিশ্বের জ্বালানি নাভি পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরকে সংযুক্তকারী এই পথটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ। সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ৩৯ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৯ শতাংশ এখান দিয়েই যায়। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় বর্তমানে এই পথটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আইইএ-র মতে, এটি তেলের বাজারে ইতিহাসের বড় সরবরাহ বিপর্যয় ঘটাতে পারে। ২. সুয়েজ খাল ও বাবে আল মানদাব: ইউরোপ-এশিয়ার সেতুবন্ধন বিশ্ব বাণিজ্যের ১০ শতাংশ এবং কন্টেইনার পরিবহনের ২২ শতাংশ হয় সুয়েজ খাল দিয়ে। কিন্তু লোহিত সাগরের প্রবেশপথে হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলা এই রুটকে অনিরাপদ করে তুলেছে। ফলে ২০২৪ সালে এই পথে জাহাজ চলাচল অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ৩. মালাক্কা প্রণালি: চীনের 'মালাক্কা ডিলেমা' সিঙ্গাপুরের পাশ দিয়ে যাওয়া এই রুটটি বিশ্বের ব্যস্ততম সমুদ্রপথ। চীনের ৮০ শতাংশ তেল আমদানি হয় এই পথ দিয়ে। পাইরেসি বা জলদস্যুতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রে রয়েছে এই সরু জলপথটি। ৪. পানামা খাল: খরা ও আধিপত্যের লড়াই প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করা এই খালটি জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার। তীব্র খরার কারণে পানির স্তর কমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল সীমিত করতে হয়েছে। পাশাপাশি এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনপন্থী কোম্পানিগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ৫. তার্কিশ প্রণালি: বিশ্বের শস্য ভাণ্ডার বসফোরাস ও দার্দেনেলিস প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ গম রপ্তানি হয়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে এই পথটি এখন সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই পথে সামান্য বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বজুড়ে আটা ও ময়দার দামে আগুন লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব বাণিজ্য এই অল্প কয়েকটি বিন্দুর ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে, যেকোনো একটি পথে দুর্ঘটনা বা যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হামলা ও বিশৃঙ্খলা রোধে পেট্রোল পাম্পে কঠোর নিরাপত্তার দাবি মালিকদের

সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান হামলা, বিশৃঙ্খলা এবং কর্মীদের লাঞ্ছনা রোধে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এই সংকটময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই। তা সত্ত্বেও কিছু স্থানে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের হিড়িক ও পাম্পে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাম্প কর্মীরা দিনরাত সেবা দিলেও বিভিন্ন স্থানে তারা হয়রানি ও হামলার শিকার হচ্ছেন, যা পাম্প পরিচালনার পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ৮ দফা প্রস্তাব: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আটটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে: ১. পাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২. বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তেল সরবরাহ সমন্বয়। ৩. ক্রেতা বা ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা ও ধৈর্য বাড়ানো। ৪. পাম্পে সব ধরনের হুমকি বা বিশৃঙ্খলা কঠোরহস্তে দমন। ৫. পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ (পরীক্ষামূলক)। ৬. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। ৭. ট্যাংকলরিতে পূর্ণ ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা। ৮. সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং অহেতুক দোষারোপ বন্ধ করা। সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে যে, রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ সীমিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে, যাতে পণ্যবাহী ও গণপরিবহন চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে মালিক সমিতি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে? সিদ্ধান্ত জানাল সরকার

বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা আর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।  আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি এপ্রিল মাসে গ্রাহক পর্যায়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম বাড়ছে না। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা’ অনুসরণ করে নতুন মাসের এই দর ঠিক করা হয়েছে। ফলে এপ্রিলে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২৬ টাকা, পেট্রোল ১২২ টাকা এবং কেরোসিন ১০৮ টাকা দরেই বিক্রি হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে না।  রমজান ও আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে দাম অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
২৫ দিনে এসেছে ৩০টি, জ্বালানি তেল নিয়ে আসছে আরও ৬ জাহাজ

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যখন অস্থিরতার কালো মেঘ, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য এলো স্বস্তির খবর। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে শঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত রয়েছে স্থিতিশীল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ৩ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ২৫ দিনেই দেশে পৌঁছেছে ৩০টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ। এরই মধ্যে ২৭টি জাহাজ থেকে তেল খালাস সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে দুটি জাহাজে খালাস প্রক্রিয়া চলছে। স্বস্তির খবর এখানেই শেষ নয়; আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ৬টি জ্বালানি জাহাজ বন্দরে ভিড়তে যাচ্ছে। যার মধ্যে থাকবে এলএনজি, গ্যাস অয়েল এবং এলপিজি। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান বাংলাদেশকে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবে বিশেষ অভয় দিয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের সাথে আরও রয়েছে ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তান। মূলত কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে নিয়মিত আসছে এলএনজি ও জ্বালানি তেল। তবে পরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল নিয়ে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান বন্দরে পৌঁছায়নি। তবে আশার কথা হলো, দেশের মোট চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ক্রুড অয়েল আর বাকি ৮০ শতাংশই পরিশোধিত তেল, যা বর্তমানে নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশে আসছে। ফলে বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বললেই চলে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
সব পেট্রোল পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিচ্ছে সরকার

দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করতে একজন করে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হবে। শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) নির্ধারিত নিয়মে কাজ করবেন। পাম্পের প্রতিদিনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তারা নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দেবেন। বিপিসি সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের বিষয়টি দেখভাল করবে। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলা ও বিভাগীয় শহরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) প্রতিটি পাম্পের জন্য একজন করে সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেবেন। এদিকে পৃথক এক বার্তায় মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো একটি চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কেনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কেউ যদি অবৈধভাবে তেল মজুদ করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিয়মিত জ্বালানি তেল ক্রয় প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
জ্বালানি সংকট রুখতে ১৯ ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন

বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা আর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশের ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ২৫ মার্চ সকাল থেকেই ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুরসহ দেশের মোট ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডিপোগুলোর নিরাপত্তা এবং মজুতদারদের অপতৎপরতা রুখতে বিজিবি সদর দফতরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দায়িত্বরত সদস্যরা নিজস্ব ইউনিট থেকে দূরে হওয়ায় সুবিধাজনক স্থানে অস্থায়ী 'বেইজ ক্যাম্প' স্থাপন করে অভিযান ও তদারকি চালাচ্ছেন। একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে এসব ক্যাম্পে নিয়মিত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিজিবি: রংপুর বিভাগ: রংপুর (৩টি), কুড়িগ্রাম (২টি)। রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী (৩টি)। সিলেট বিভাগ: সিলেট (২টি), মৌলভীবাজার (৩টি), সুনামগঞ্জ (১টি)। চট্টগ্রাম ও ঢাকা: কুমিল্লা (৩টি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (১টি) এবং ঢাকা (১টি)। ডিপোর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, নৌ-টহল এবং চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও লরিতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অবৈধ মজুত ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এখন তুঙ্গে। ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে বিজিবির এই সক্রিয় উপস্থিতি জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপো
ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৫ হাজার টন ডিজেল

ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এসে পৌঁছেছে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। ডিপোর সহকারী ইনচার্জ মো. জীবন শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যেই আমদানিকৃত এই ডিজেল পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোতে বিতরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মূলত উত্তরাঞ্চলের কৃষিপ্রধান ৮টি জেলায় সেচ কাজ এবং যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই এই বিশেষ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে ভারতের সাথে সম্পাদিত ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় এই ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যেই ফেব্রুয়ারি এবং ১১ মার্চ দুটি আলাদা চালানে মোট ১০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে এসেছে। আগামী সপ্তাহে আরও একটি চালানে ৫ হাজার টন ডিজেল আসার কথা রয়েছে। চাহিদা বিবেচনায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আগামী চার মাসে পাইপলাইনের সাহায্যে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাবও দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
তেলজাত পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার গ্রান কুভ
চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে পৌঁছাল জাহাজ

১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক চুক্তি অনুযায়ী এই জ্বালানি সরবরাহ করেছে।   শুক্রবার (২৭ মার্চ) জাহাজ থেকে এসব তেল খালাস করা হবে বলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে।   বিপিসির জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ হোসেন ভুঁইয়া জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল মজুত রয়েছে। নতুন করে আসা ১০ হাজার টন ডিজেল সেই মজুতে যুক্ত হবে। আমদানিকৃত ডিজেল পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত হবে, আর জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে বিভিন্ন বিমানবন্দরে।   বিপিসি ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও জেট ফুয়েলসহ মোট পাঁচ ধরনের জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ করে থাকে। সংস্থাটির মতে, ডিপোগুলোতে থাকা মজুত এবং পাইপলাইনের তেল দিয়ে আগামী এপ্রিল পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।   তবে সংকটের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করা হলেও ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে আমদানি পণ্য পরিবহণকারী লাইটার জাহাজ ও মাছ ধরার ট্রলারে রেশনিং করে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পেট্রল পাম্পগুলোতেও চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।  

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত

বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয়, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতায় দেশে যেন জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য এই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই ডিজেল সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে 'এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড' থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং 'সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড' থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন উন্নত মানের ডিজেল আমদানি করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই আমদানির মূল লক্ষ্য।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, তিন মাসের ‘বাফার স্টক’ গড়ছে সরকার

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি জানান, বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার তিন মাসের বিশেষ মজুত বা ‘বাফার স্টক’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতাকে পুঁজি করে দেশে একটি অসাধু চক্র মজুতদারি ও কালোবাজারির পাঁয়তারা করছে। তবে সরকার বসে নেই; এসব অপতৎপরতা রুখতে ইতোমধ্যে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই দিনে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। এর ওপর সাধারণ মানুষের মাঝে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে একটি গোষ্ঠী সবসময় এ ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালায়। এদিকে, বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। আগে যেখানে ১৫ দিনের মজুত রাখা হতো, সেখানে বর্তমান মজুতকে তিনি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন। তবে তেলের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মতে, মানুষের মনে আস্থা ফিরে এলে ‘প্যানিক বায়িং’ দ্রুতই বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া, এদিনের মন্ত্রিসভায় রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত অর্থ আইন এবং ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা পাঁচটি অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইন হিসেবে উপস্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না, মজুত করে লাভ হবে না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। একইসঙ্গে কোনো অসাধু চক্র বা পেট্রোল পাম্প মালিক তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তারা লাভবান হতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বুধবার সচিবালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসিন খান চৌধুরী এবং সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে বর্তমানে একটি কঠিন সময় পার করছে বিশ্ব অর্থনীতি। এমনকি উন্নত দেশগুলোও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও এক ধরনের ভীতি থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে 'প্যানিক বায়িং' বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। তিনি পাম্প মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। তাই যারা মনে করছেন দাম বাড়বে এবং সেই আশায় তেল মজুত করছেন, তাদের এই প্রবণতা কোনো কাজে আসবে না।" বাজারে তেলের সরবরাহ ও রেশনিং ব্যবস্থা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করেন যে, ঈদে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে রেশনিং শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার কারণে সরবরাহে টান পড়েছে। তিনি বলেন, "সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনলেও দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা চিন্তা করে এখনই দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। কারণ তেলের দাম বাড়লে সরাসরি মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়ে।" গ্যাস সরবরাহ নিয়ে তিনি জানান, সরকার বর্তমানে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস সংগ্রহ করছে। কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পুরো গ্যাস পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বিকল্প উপায়ে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে কোনো বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদান করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
কেন ইরানের সঙ্গে আলোচনার ‘ধাপ্পা’ দিয়েছেন ট্রাম্প?

তেল ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতেই কি ইরানের সাথে আলোচনার নাটক সাজাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? সাবেক মার্কিন ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট জোয়েল রুবিন সিএনএন-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন।  তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতেই ট্রাম্প আলোচনার কথা বলছেন। রুবিন জানান, মার্কিন প্রশাসন হয়তো তেলের সরবরাহ সচল রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমিয়ে গ্যাসোলিনের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এই কৌশল অবলম্বন করেছে। কারণ, হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজের জট এবং জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকির পরই তেহরান আলোচনার টেবিলে ফিরেছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।  ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ওয়াশিংটনের সাথে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। বরং জ্বালানির দাম কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময়ক্ষেপণ করতেই ট্রাম্প এমন ‘মিথ্যা’ দাবি করছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
ঈদের পর ত্রিমুখী সংকটে নতুন সরকার: অর্থনীতি ও রাজনীতিতে কঠিন পরীক্ষার আভাস

দীর্ঘ ছুটির আমেজ কাটিয়ে ঈদ পরবর্তী সময়ে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দেশের নতুন সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র থেকে শুরু করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি—সব মিলিয়ে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ এখন সরকারের সামনে পাহাড়সম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, স্থবির অর্থনীতিতে গতি আনা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই হবে এই মুহূর্তের প্রধান কাজ। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অস্থিরতা ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে হু হু করে। এর ফলে এপ্রিল-মে মাসের তীব্র গরমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সেচ মৌসুমে কৃষি উৎপাদন সচল রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম জানিয়েছেন, অফিস-আদালত ও কলকারখানা পূর্ণোদ্যমে চালু হলে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েকগুণ বাড়বে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। অর্থনীতির টানাপোড়েন ও রিজার্ভ সংকট বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একদিকে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি, অন্যদিকে চড়া দামে জ্বালানি কেনা—এই দুইয়ের চাপে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, এখনই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না হলেও যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিকল্প ভাবা ছাড়া উপায় থাকবে না। রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সংস্কারের চাপ কেবল অর্থনীতি নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনও উত্তপ্ত হওয়ার আভাস দিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, প্রশাসনে অতিরিক্ত দলীয়করণ জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যা নতুন করে আন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরি করবে। সব মিলিয়ে, আসন্ন বাজেটে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকার কীভাবে এই সংকট উত্তরণ করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিষেধাজ্ঞা শিথিলে বাজারে আসছে ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ যোগ হতে যাচ্ছে। সমুদ্রে ভাসমান ট্যাংকারে মজুত থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল এখন খালাস ও বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।   জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রপথে নোঙর করে থাকা জাহাজে বিপুল পরিমাণ এই তেল সংরক্ষিত রয়েছে। যদিও পরামর্শক সংস্থা এনার্জি আসপেক্টস ১৯ মার্চ তাদের প্রাক্কলনে এ পরিমাণ ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেল বলে উল্লেখ করেছিল।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এক মাসের জন্য এই তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় তা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির পথ খুলে গেছে। এর ফলে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এ তেল কেনার পরিকল্পনা করছে।   বিশ্বের জ্বালানি চাহিদায় এশিয়ার দেশগুলো বড় ভূমিকা রাখে, যেখানে তাদের মোট তেলের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। তবে চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় অঞ্চলের অনেক শোধনাগার উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।   এই প্রেক্ষাপটে ইরানি তেলের সরবরাহ বাজারে নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের পথে ইরান: নতুন অস্থিরতার শঙ্কা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল ও কর আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান। দেশটির সংসদ সদস্য সোমায়ে রাফিই সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   তেহরানের ওয়ালিআসর স্কোয়ারে আয়োজিত এক জনসমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি জানান, বর্তমানে ইরানের আইনপ্রণেতারা এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা নিয়ে গুরুত্বের সাথে কাজ করছেন। মূলত 'জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার' লক্ষ্যেই তেহরান তার এই সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চায়।   শত্রুপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাফিই বলেন, "আমরা আমাদের শত্রুদের আগের সেই আয়েশি দিনগুলো কেড়ে নিয়েছি। তারা এখন এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছে না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, চলমান উত্তেজনার অবসান ইরানের চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমেই হবে এবং এরপর থেকে এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত শত্রুপক্ষর জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে।   বিশ্বের জ্বালানি তেলের সিংহভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় ইরানের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা
কুয়েতের দ্বিতীয় তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা: দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন

কুয়েতের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের নাশকতার খবর পাওয়া গেছে। প্রথম হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশটির দ্বিতীয় আরেকটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।  কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (কেপিসি) নিশ্চিত করেছে যে, ড্রোন হামলায় দক্ষিণ কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহ শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েত নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, মিনা আবদুল্লাহ শোধনাগারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ইউনিটে সরাসরি ড্রোনটি আঘাত হানে। হামলার পরপরই কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। তবে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্থাপনাটি সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এর কিছুক্ষণ আগেই কুয়েতের অন্য একটি বড় শোধনাগার মিনা আল-আহমাদি-তে একই ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। পর পর দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এ ধরনের আক্রমণ কুয়েতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে হওয়া অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

দক্ষিণ আফ্রিকার মিরক্যাট রেডিও টেলিস্কোপ ওই সংকেতটি শনাক্ত করেছে।
বিশ্ব

৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে ভেসে এল শক্তিশালী লেজার সংকেত, তাজ্জব বিজ্ঞানীরা!

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0