পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত।
আলোচনার জন্য পাকিস্তানের পথে রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিরা, জানালেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। তবে আলোচনার এই আবহাওয়ার মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গত কালই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশ দুটির মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শেষ হতে যাচ্ছে। এদিকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আন্তালিয়ায় এক সম্মেলনে জানান, যুদ্ধ অবসানে উভয় দেশই আলোচনার সদিচ্ছা দেখালেও বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ট্রাম্প ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচির অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবেন না। সংঘাতের অন্যান্য খবরে জানা গেছে, গত দুই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর (আইডিএফ) আরও দুই সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পারস্য উপসাগর অভিমুখী দুটি এলপিজি ট্যাংকার মাঝপথেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ লিও।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ ত্বরান্বিত করতে কাতারে শাহবাজ শরিফ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ এগিয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরব সফর শেষে কাতারে পৌঁছেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।   বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছালে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। পরে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।   আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সফরকালে কাতারের আমিরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন শাহবাজ শরিফ। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর তিন ধাপের আঞ্চলিক সফরের দ্বিতীয় গন্তব্য। এর আগে তিনি সৌদি আরব সফর করেন এবং সফরের শেষ ধাপে তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সৌদি আরব সফরকালে জেদ্দায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য মধ্যস্থতা নিয়ে আলোচনা করেছেন শাহবাজ শরিফ। ইসলামাবাদ এই সংকট নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় বলে জানানো হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি টেকসই করা এবং পরবর্তী দফার আলোচনার পথ সুগম করতে পাকিস্তান একযোগে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। কাতার সফর সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই অংশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।
পাকিস্তানকে ৩ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব

তীব্র অর্থনৈতিক চাপে থাকা পাকিস্তান-এর জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে সৌদি আরব। দেশটির অর্থনীতিকে সহায়তা করতে রিয়াদ নতুন করে ৩ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।   ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বৈঠকে অংশ নিয়ে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   জানা গেছে, সৌদি আরবের এই অর্থ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন সামাল দিতে সহায়ক হবে। এর আগে দেশটি পাকিস্তানের কাছে রাখা ৫ বিলিয়ন ডলারের আমানতের মেয়াদও বাড়িয়েছে। ফলে নতুন সহায়তা যুক্ত হয়ে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ বিলিয়ন ডলারে।   বর্তমানে পাকিস্তান বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত-কে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সহায়তাকে দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ইউরোবন্ড পরিশোধ করা হয়েছে এবং আইএমএফ-এর ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ১.২ বিলিয়ন ডলার শিগগিরই পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।   অন্যদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও করাচি বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়াকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও সৌদি আরব-এর সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত ও সামরিক ক্ষেত্রেও গভীর। অতীতেও সংকটের সময়ে দুই দেশ একে অপরকে সহায়তা করেছে। সাম্প্রতিক সহায়তাও সেই দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   সূত্র: সামা টিভি।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতা: তিন দেশে সফরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার প্রেক্ষাপটে চার দিনের কূটনৈতিক সফরে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে গেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বুধবার শুরু হওয়া এই সফর শনিবার পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সফরকালে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। অন্যদিকে তুরস্ক সফরে আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ফোরামে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।   পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করাকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।   কূটনৈতিক মহলের ধারণা, সম্ভাব্য আলোচনার স্থান নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ইসলামাবাদ ও জেনেভা—এই দুটি শহরের নাম আলোচনার সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদিও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সম্প্রতি বলেছেন, নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের জটিল এই সংকটের সমাধান এক ধাপে সম্ভব নয়; ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে পাকিস্তান নিজেকে আঞ্চলিক কূটনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগও খুঁজছে ইসলামাবাদ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
পাকিস্তানে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে? ট্রাম্পের মন্তব্যে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি রহস্যময় মন্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে সম্ভাব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে "বড় কিছু ঘটতে পারে"। ইসলামাবাদে অবস্থানরত নিউইয়র্ক পোস্টের একজন সংবাদদাতাকে ট্রাম্প বলেন, "আপনার সেখানে (পাকিস্তানে) থাকা উচিত, কারণ আগামী দুই দিনের মধ্যে সেখানে বিশেষ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। আমরা সেখানেই যেতে বেশি আগ্রহী।" জেনেভাকে আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রতিই তার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প তাকে "ফ্যান্টাস্টিক" হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "ফিল্ড মার্শাল দুর্দান্ত কাজ করছেন। পাকিস্তানই হতে পারে উপযুক্ত স্থান।" অন্যান্য নিরপেক্ষ দেশের তুলনায় ট্রাম্প পাকিস্তানকে কেন বেছে নিচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, "যেসব দেশের এই বিষয়ের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, আমরা সেখানে কেন যাব?" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও জেনারেল আসিম মুনিরের ওপর ট্রাম্পের এই ভরসা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতা ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি: ত্রিভুজ সংকটে পাকিস্তান

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এক অভিনব এবং অত্যন্ত জটিল কূটনৈতিক সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে পাকিস্তান। একদিকে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, অন্যদিকে সৌদি আরবের সাথে তাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা বজায় রাখতে হচ্ছে।  আল-জাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইসলামাবাদের এই ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’ বা ভারসাম্য রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জের চিত্র। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়, যার নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের। যখন এই আলোচনার টেবিলে বিশ্বশান্তির আশা জাগছিল, ঠিক তখনই রিয়াদ ঘোষণা করে যে, কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির (SMDA) আওতায় পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর একটি বিশাল বহর সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতামত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের জন্য এটি এক অগ্নিপরীক্ষা। ইরানের সাথে তাদের দীর্ঘ সীমান্ত এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব পাকিস্তানের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক মিত্র। আল-জাজিরার মতে, পাকিস্তান যদি সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়, তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের আস্থা হারানো এবং নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ শিয়া জনগোষ্ঠীর অসন্তোষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কূটনৈতিক ভারসাম্য কি সম্ভব? পাকিস্তানি কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, ইসলামাবাদ দুটি দায়িত্বই পালনে সক্ষম। তারা একদিকে শান্তি বজায় রাখতে কূটনীতি চালাচ্ছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তজনা এই ভারসাম্য বজায় রাখাকে দিনে দিনে আরও কঠিন করে তুলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যে কারণে সমাধান ছাড়াই শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

কয়েক দশকের বৈরিতা কাটিয়ে অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মুখোমুখি বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সরাসরি আলোচনা কোনো চুক্তি বা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই গোপন অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের সরাসরি (face-to-face) আলোচনা। মূলত চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোই ছিল এই আলোচনার মূল লক্ষ্য। আল-জাজিরার প্রতিনিধি ওসামা বিন জাভেদ জানান, পাকিস্তান উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসাতে সক্ষম হলেও, যুদ্ধের সমাপ্তি টানার শর্তাবলি নিয়ে দেশ দুটি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো পক্ষই তাদের অবস্থানে ছাড় দিতে রাজি হয়নি, যার ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই সমাপ্তি ঘটে এই সম্মেলনের। বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষকে একত্রিত করতে পারলেও তাদের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা বা সক্ষমতা ছিল না। মূলত যুদ্ধের শর্তাবলী এবং আঞ্চলিক স্বার্থ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর অনাস্থাই এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা কূটনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙতে এই উদ্যোগকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, মাঠপর্যায়ে এর কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন বা তেহরান—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এই বৈঠকের বিস্তারিত ফলাফল নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শান্তি ফেরানোর এই বিরল সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং তেহরান প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতায় ভেস্তে গেল আলোচনা: ইরানি স্পিকারের হুঁশিয়ারি

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং তেহরান প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ সরাসরি ঘোষণা করেছেন যে, সাম্প্রতিক আলোচনায় ইরানের আস্থা অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।  তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে এবং তাদেরই প্রমাণ করতে হবে তারা আদৌ ইরানের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে চায় কি না। সাবেক টুইটার (বর্তমানে এক্স) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে গালিবাফ জানান, আলোচনা শুরুর আগে ইরান যথেষ্ট সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করেছিল। তবে অতীতের দুটি যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকায় প্রতিপক্ষের ওপর তাদের কোনো আস্থা ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানি প্রতিনিধিদল বেশ কিছু দূরদর্শী ও কার্যকর প্রস্তাবনা উত্থাপন করলেও মার্কিন পক্ষ সেগুলোর মর্যাদা দিতে পারেনি। গালিবাফ আরও দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমরা এক মুহূর্তের জন্যও থেমে থাকব না। গত ৪০ দিনের যুদ্ধে আমাদের যা কিছু অর্জন, তা ধরে রাখতে এবং আরও শক্তিশালী করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।” এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি ইরানের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ধন্যবাদ জানান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ইসলামাবাদ সফর শেষে দেশে ফিরল ইরানি প্রতিনিধিদল
ইসলামাবাদ সফর শেষে দেশে ফিরল ইরানি প্রতিনিধিদল

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় পাকিস্তান ত্যাগ করেছে ইরানের প্রতিনিধিদল। এই দলে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহের।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং ইরান মার্কিন প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করেনি।   সব মিলিয়ে, ব্যর্থ আলোচনার পর দুই পক্ষই পাকিস্তান ছেড়ে চলে গেছে।   ‘ইসলামাবাদ টকস’ নামে এই বৈঠকটি শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে রবিবার পর্যন্ত চলে। আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে কথা হলেও কোনো চুক্তি হয়নি।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান ও সীমারেখা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছিল—কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া সম্ভব এবং কোথায় নয়। তবে ইরান সেই শর্তগুলো মেনে নেয়নি বলে জানান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক: হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চরম মতভেদ

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার উদ্দেশ্যে পর্দার আড়ালে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে দুই দেশ এখনও বড় ধরণের দ্বিমত পোষণ করছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ‘সাধারণ সমঝোতা কাঠামো’ (common framework) তৈরির লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পরোক্ষভাবে বার্তার আদান-প্রদান করছে।  পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নিযুক্ত তাসনিমের বিশেষ প্রতিনিধির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আলোচনার টেবিলে অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেলেও ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক’ দাবির কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনার অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালী ইস্যু। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে, যা বর্তমানে এক ‘গুরুতর মতভেদে’ রূপ নিয়েছে। বর্তমানে উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে গেলেও চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো এখনও অনিশ্চিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: যুদ্ধ বন্ধে প্রধান বাধাগুলো কী?

দীর্ঘদিনের বৈরিতা পেছনে ফেলে অবশেষে আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কূটনীতিকদের এই বৈঠক ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।  আল জাজিরার কূটনৈতিক সম্পাদক জেমস বেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও শান্তি চুক্তির পথে এখনো রয়ে গেছে পাহাড়সম বাধা। আলোচনার মূল ‘স্টিকিং পয়েন্ট’ বা অমীমাংসিত বিষয়গুলো: নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের লড়াই: ইরান চাইছে তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি: তেহরানের স্পষ্ট কথা—অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি না উঠলে কোনো স্থায়ী চুক্তি নয়। তবে ওয়াশিংটন এই ইস্যুতে এখনো ‘ধীরে চলো’ নীতিতে অটল। আঞ্চলিক প্রভাবের দ্বন্দ্ব: ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে দেশ দুটির বিপরীতমুখী স্বার্থ আলোচনার গতিকে ধীর করে দিচ্ছে। কোনো পক্ষই নিজেদের প্রভাব বলয় ছাড়তে রাজি নয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দশকের পর দশক ধরে চলা পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করা রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে ইসলামাবাদের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক যদি সফল হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে কোনো বড় ধরনের ‘ব্রেক-থ্রু’ বা চূড়ান্ত সংবাদের অপেক্ষায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার খবর নাকচ করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের জব্দকৃত বা ‘ফ্রিজ’ হয়ে থাকা বিশাল অংকের অর্থ যুক্তরাষ্ট্র অবমুক্ত করতে রাজি হয়েছে—এমন গুঞ্জন জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। বুধবার এক মার্কিন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে নিশ্চিত করেছেন যে, তেহরানের সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত নেয়নি জো বাইডেন প্রশাসন। এর আগে আজ দিনের শুরুতে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কাতার ও অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছে। একজন উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছিল, সম্পদ ছাড়ের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ভাষায় তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানান, তেহরানের ওপর আরোপিত আর্থিক বিধি-নিষেধ শিথিল করার কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। এই টানাপোড়েনের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আটকে রয়েছে। সম্পদ অবমুক্ত করার এই খবরটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পর্শকাতর।  ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক এই অস্বীকারের পর পুরো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান-মার্কিন ঐতিহাসিক বৈঠক: দীর্ঘ দশকের বরফ গলে কি শান্তি ফিরবে?

দীর্ঘ প্রায় এক দশকের অচলাবস্থা ভেঙে অবশেষে মুখোমুখি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই হতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রথম কোনো সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা। বিশেষ করে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির পর গত ১০ বছরে আর কখনোই দুই দেশের প্রতিনিধিদের এভাবে সরাসরি আলোচনার টেবিলে দেখা যায়নি। ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন একতরফাভাবে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক চরম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে 'ঐতিহাসিক' বলে আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।  পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামীয় প্রজাতন্ত্র ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা নয়, বরং এটি অশান্ত মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে মূলত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং স্থগিত হয়ে যাওয়া বিভিন্ন চুক্তিগুলো নিয়ে পুনরায় সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। বিশ্ব রাজনীতিতে এই আলোচনার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী, যার দিকে এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠক: কারা বসছেন আলোচনার টেবিলে?

মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ এক কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাকিস্তানে। শনিবার অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠক ঘিরে ইতোমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।'   কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই আলোচনায় তিন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশ নিতে পারেন, যেখানে শান্তিপূর্ণ সমাধান ও পারস্পরিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা:     •    জেডি ভ্যান্স – ভাইস প্রেসিডেন্ট     •    স্টিভ উইটকফ – বিশেষ দূত     •    জ্যারেড কুশনার – সাবেক প্রেসিডেন্ট উপদেষ্টা     •    ব্র্যাড কুপার – সেন্টকম কমান্ডার   ইরানের প্রতিনিধিরা:     •    মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ – পার্লামেন্ট স্পিকার     •    আব্বাস আরাগচি – পররাষ্ট্রমন্ত্রী     •    মাজিদ তাখত রাভানচি – উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী (অপ্রত্যাশিত/অনিশ্চিত)     •    মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর – জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব (অপ্রত্যাশিত/অনিশ্চিত)   পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা:     •    শেহবাজ শরিফ – প্রধানমন্ত্রী     •    আসিম মুনির – সেনাপ্রধান     •    ইসহাক দার – পররাষ্ট্রমন্ত্রী     •    মোহাম্মদ আসিম মালিক – জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা   বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈঠক সফল হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।   তবে এখনো কিছু প্রতিনিধির অংশগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি, যা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, বৈঠকের ফলাফল ও সিদ্ধান্তের দিকে এখন বিশ্ববাসীর নজর রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপ ঘিরে ইসলামাবাদে লকডাউন, কড়া নিরাপত্তা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ঘিরে পাকিস্তানের রাজধানী  ইসলামাবাদ-এ জারি করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ও আংশিক লকডাউন। শহরজুড়ে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই শনিবার ইসলামাবাদে এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সেখানে পৌঁছেছেন।   নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ফাঁকা রাখা হয়েছে।   উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বৈঠকের জন্য তিন থেকে চারটি সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত স্থান হলো Serena Hotel Islamabad। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিনিধিদলগুলো এই হোটেলেই অবস্থান করতে পারেন।   এ কারণে হোটেলটির আশপাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।   তবে কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, আলোচনাটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করাই এখন প্রধান লক্ষ্য এবং পাকিস্তান এখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।   এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। আর ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।   যুদ্ধবিরতির পর এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজনকে পাকিস্তান বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই সংলাপ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল নিয়ে কড়া মন্তব্য, পরে পোস্ট মুছে ফেললেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইসরায়েলকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পোস্ট মুছে ফেলেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তার ওই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।   বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে খাজা আসিফ ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ এবং ‘ক্যান্সারসদৃশ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দেন। তবে সমালোচনার মুখে পড়ে কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।   ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদে যখন শান্তি আলোচনা চলছে, তখন লেবাননে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। গাজা, ইরান এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের জন্য তিনি ইসরায়েলকে দায়ী করেন।   এই মন্তব্যের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর কার্যালয় থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য সংলাপে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে গিয়ে উল্টো চাপে ভারত
পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে গিয়ে উল্টো চাপে ভারত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। তবে এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান-এর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতেও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।   আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেখানে অনেক নেতা এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে পাকিস্তানের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, সেখানে ভারতের অবস্থান ছিল নীরব। এমনকি ইসলামাবাদ-এ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়েও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি নয়াদিল্লি।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানায় এবং আশা করে এটি পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়েছে যে, সংঘাত নিরসনে যুদ্ধবিরতি, সংলাপ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিবৃতিতে সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক প্রভাবের কথাও উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ভারত।   এর আগে, পাকিস্তান যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার আগ্রহ দেখায়, তখন থেকেই ভারতের ভেতরে রাজনৈতিক সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধী দলগুলো এটিকে ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরে।   এদিকে, বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে বলেন, ভারত কোনোভাবেই ‘মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র’ হিসেবে ভূমিকা নিতে আগ্রহী নয়।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েল ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’: আলোচনার আগে কড়া মন্তব্য পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।   খাজা আসিফ বলেন, শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া চললেও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষের প্রাণ নিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, “প্রথমে গাজা, তারপর ইরান এবং এখন লেবানন—ইসরায়েলের এই আগ্রাসনে রক্তপাত থামছে না।”   মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ইসরায়েলকে ‘অশুভ শক্তি’ বলেও উল্লেখ করেন এবং চলমান সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান। এদিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনার আগমুহূর্তে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন কঠোর বক্তব্য কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।   সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের বক্তব্য কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতিতে ‘হিরো’ পাকিস্তান, স্বাগত জানিয়েও বিপাকে মোদি!

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে এক অভাবনীয় পরিবর্তন। বছরের পর বছর ধরে চলা বৈরিতা আর সাম্প্রতিক ভয়াবহ সামরিক উত্তজনা প্রশমনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান।  কূটনৈতিক সূত্রে খবর, ইসলামাবাদ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ইরান এবং মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে, যার ফলে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সক্রিয় তৎপরতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।  পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। যেখানে খোদ পরাশক্তিগুলো যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছিল, সেখানে পাকিস্তানের এই 'পিস মেকার' ইমেজ বিশ্ব রাজনীতিতে দেশটির গুরুত্ব এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ভারত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও দেশের মধ্যে উঠছে প্রশ্ন। শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)–এর নেতা সঞ্জয় রাউত বুধবার বলেন, ‘ইরান এবং আমেরিকার যুদ্ধ থামিয়ে পাকিস্তান বিশ্বকে শান্তিবার্তা দিয়েছে। আমাদের মহাবিশ্বগুরু (পড়ুন মোদি) কেন এই কৃতিত্ব নিতে পারলেন না? কারণ, তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না। বিশ্বে একটা যুদ্ধ হচ্ছে, আর মহাবিশ্বগুরু পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরালা, তামিলনাড়ুতে গিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের কথার বোমায় বিঁধছেন! মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতের এটা সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা!’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের।
পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নেতৃত্বে কারা

শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। এ জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদলকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আগামী শুক্রবার এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকতে পারেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।   ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।   যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির পর এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে অভিনন্দন জানান শেহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, উভয় দেশ তাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিক কার্যকর একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পদক্ষেপকে তিনি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং দুই দেশের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান উত্তেজনা নিরসনে এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।   তিনি আরও জানান, বাকি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির জন্য উভয় দেশের ভূয়সী প্রশংসাও করেন শেহবাজ শরিফ। তার ভাষায়, দুই পক্ষই পরিপক্বতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে এগোতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখছে।   পাকিস্তান আশা করছে, প্রস্তাবিত ‘ইসলামাবাদ সংলাপ’ সফল হলে তা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক অগ্রগতির পথ খুলে দেবে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
যুদ্ধবিরতি বার্তায় বড় ভুল, নেটদুনিয়ায় সমালোচনার ঝড়

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর একটি পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি ছোট্ট শব্দ—‘ড্রাফট’—এই বিতর্কের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ঘটনাটি হলো, তার পোস্টের একটি আগের সংস্করণে ‘Draft - Pakistan's PM Message on X’ লেখা ছিল। পরে চূড়ান্ত পোস্টে এই অংশটি মুছে ফেলা হলেও এক্সের (X) এডিট হিস্ট্রি ফিচারের কারণে আগের সংস্করণটি ব্যবহারকারীদের সামনে দৃশ্যমান হয়ে যায়। জানা গেছে, চূড়ান্ত পোস্ট দেওয়ার মাত্র এক মিনিট আগেই সেই খসড়া সংস্করণটি আপলোড করা হয়েছিল।   এরপরই নেটিজেনরা দ্রুত স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন। অনেকেই মন্তব্য করেন, বার্তাটি যথাযথভাবে যাচাই না করেই সরাসরি কপি-পেস্ট করা হয়েছে।   মূল পোস্টে শরিফ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং এ জন্য তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কাছে দুই সপ্তাহ সময়সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইরানকে হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে উন্মুক্ত রাখার অনুরোধ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানান।   তবে বার্তার বিষয়বস্তুর চেয়ে বেশি আলোচনায় আসে এর সম্পাদনার ইতিহাস। একজন ব্যবহারকারী কটাক্ষ করে লেখেন, “যিনি একটি টুইট ঠিকমতো দিতে পারেন না, তিনি দেশ চালাবেন কীভাবে?” আরেকজন দাবি করেন, এটি অন্য কারও তৈরি বার্তা, যা শুধু পোস্ট করা হয়েছে।   অনেকেই যুক্তি দিচ্ছেন, যদি এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তৈরি হতো, তাহলে ভাষার ধরন ভিন্ন হতে পারত। ‘Pakistan's PM Message’ লেখাটি দেখে কেউ কেউ মনে করছেন, এটি দেশের বাইরের কারও প্রস্তুত করা খসড়া হতে পারে।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন পরিস্থিতি বেশ সংবেদনশীল। শরিফের পোস্টের পরপরই ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যা আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।   এদিকে শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ১০ এপ্রিল পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করতে চায়। ইসলামাবাদ এই সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে আগ্রহী। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্তে এমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিতর্ক পুরো বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

দক্ষিণ আফ্রিকার মিরক্যাট রেডিও টেলিস্কোপ ওই সংকেতটি শনাক্ত করেছে।
বিশ্ব

৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে ভেসে এল শক্তিশালী লেজার সংকেত, তাজ্জব বিজ্ঞানীরা!

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0