ভোট

টেক্সাস থেকে শুরু হয়ে পুরো দেশজুড়ে সুপরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে ঘৃণা— মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন সংকটের ইঙ্গিত।
যুক্তরাষ্ট্রে ভোট পেতে মুসলিম বিদ্বেষ উস্কে দিচ্ছে রিপাবলিকানরা: চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টি বা জিপিও-এর (GOP) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সুপরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ম্যানুফ্যাকচারিং দ্য মুসলিম থ্রেট’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ৮৯ জন রিপাবলিকান নেতা এই প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১,১১১টিরও বেশি বিদ্বেষমূলক পোস্ট করেছেন। সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (CSOH)-এর এই গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রচারণার লক্ষ্য ছিল মার্কিন মুসলিমদের বিরুদ্ধে জনমনে ভয় এবং বিভাজন তৈরি করা। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই বিদ্বেষমূলক ক্যাম্পেইনের শুরু হয়েছিল টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের একটি পোস্টের মাধ্যমে, যেখানে তিনি একটি মুসলিম আবাসন প্রকল্পকে ‘শরিয়া সিটি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। পরবর্তী ১৩ মাসে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশটির ৪৬ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি সরাসরি এই মুসলিম বিরোধী প্রচারণায় শামিল হন। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে এই ঘৃণা ছড়ানোর পাশাপাশি আইনিভাবেও মুসলিমদের কোণঠাসা করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। কংগ্রেসে ‘শরিয়া’ সংক্রান্ত আটটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে এবং ‘শরিয়া মুক্ত আমেরিকা’ ককাসে সদস্য সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, রিপাবলিকানদের এই ধরণের বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ড কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিমদের জন্য সরাসরি নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করছে। ‘ডেঞ্জারাস স্পিচ প্রজেক্ট’-এর মতে, এই ধরনের ভাষা সরাসরি সহিংসতার উস্কানি হিসেবে কাজ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র ১ ভোটে হেরে গেল ট্রাম্পের ইরান সামরিক নীতি সীমিত করার প্রস্তাব

ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর সামরিক তৎপরতা সীমিত করার প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। ফলে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে কংগ্রেসে বিভক্ত মতামত আবারও স্পষ্ট হলো।   বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধ ক্ষমতাবিষয়ক বিলটি ২১৩-২১৪ ভোটে নাকচ হয়। বিলটির লক্ষ্য ছিল, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানো রোধ করা।   এর আগে একদিন আগে ইউনাইটেড স্টেটস সিনেটে একই ধরনের একটি প্রস্তাব খারিজ হয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থিত সেই উদ্যোগ সিনেটে টানা চতুর্থবার ব্যর্থ হয়। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের এই ভোট প্রতীকী গুরুত্ব বহন করলেও এটি দেখিয়েছে, ইরান প্রশ্নে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মতভেদ এখনও গভীর।   গত মাসের শুরুতে প্রতিনিধি পরিষদে একই ধরনের একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন ভোটের ফল ছিল ২১২-২১৯। সর্বশেষ ভোটে কয়েকজন সদস্য অবস্থান পরিবর্তন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, কোনো সামরিক অভিযান ৬০ দিনের বেশি চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।   সূত্র: বিবিসি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে চীন-রাশিয়া-ফ্রান্সের ভেটো; ইরান আক্রমণের ছক ভেস্তে গেল!

হরমুজ প্রণালী শক্তি প্রয়োগে উন্মুক্ত করার বিষয়ে আরব দেশগুলোর আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তিনটি স্থায়ী সদস্যের ভেটোতে আটকে গেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে প্রস্তাবটির বিপক্ষে চীন, রাশিয়া এবং ফ্রান্স তাদের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করলে তা পাস হতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা বড় ধরনের কূটনৈতিক বাধার মুখে পড়ল।   আরব দেশসমূহ এবং বাহরাইনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই প্রস্তাবে জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় 'প্রয়োজনীয় সকল রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা' বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে এই প্রধান নৌপথটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। তবে চীন ও রাশিয়া শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের মতে, বলপ্রয়োগের বৈধতা দিলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।   ভেটো দেওয়া দেশগুলোর দাবি, সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকট সমাধান করা উচিত; অন্যথায় এর পরিণাম হবে অপূরণীয়। নিরাপত্তা পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী পাঁচ সদস্যের যে কোনো একটি দেশ ভেটো দিলে অন্য সব সদস্যের সমর্থন থাকলেও প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় দেশগুলো গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে, কারণ তাদের মতে এই পথটি বন্ধ থাকা মানে বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসা।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও রাশিয়ার এই শক্ত অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনা এখন আরও দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল রূপ ধারণ করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
মির্জা আব্বাসের শপথ স্থগিত করতে আবেদন পাটওয়ারীর
মির্জা আব্বাসের শপথ স্থগিত করতে আবেদন পাটওয়ারীর

ভোট কারচুপি আর অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকা! মির্জা আব্বাসের জয় নিয়ে এবার নির্বাচন কমিশনে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ভোটের ফলাফল কি তবে বদলে যাচ্ছে?    রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন বরাবর পাটওয়ারীর লেখা আবেদনটি তার পক্ষে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা কাজী ফখরুল ইসলাম। আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১ দফায় ১২টি কেন্দ্রের অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেন।   আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, তার নেতাকর্মী, এজেন্ট ও পরিবারের সদস্য কর্তৃক ভোট রিগিং, প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা, বাতিল করা ভোট গণনাভুক্ত করাসহ নানা অনিয়মের আশ্রয় নেয়। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনি অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে।    ভোট কারচুপি ও অনিয়মের মাধ্যমে আমাকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা না করে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন তারা। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি এই দরখাস্তের মাধ্যমে কারচুপি ও অনিয়মের বিষয় নির্বাচন কমিশনের নজরে আনছি এবং আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।   এই আসনে ভোট পুনর্গণনার পর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা এবং এর আগ পর্যন্ত শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন বিরত রাখার আবেদন জানাচ্ছি।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
৮০% ভোটে জয়, এবার বাকি সবার মন জয়ের অঙ্গীকার
৮০% ভোটে জয়, এবার বাকি সবার মন জয়ের অঙ্গীকার

হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪ আসনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর তিনি বলেছেন, নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেও যে ২০ শতাংশ ভোটার তাকে সমর্থন করেননি, তাদের আস্থা অর্জনই এখন তার অগ্রাধিকার।   দেবিদ্বারের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তার ভাষায়, এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে চান যেখানে রাজনৈতিক ভিন্নমত বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণেও কেউ অবিচারের শিকার হবে না।   কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিজয় সনদ সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি জানান, গত বছরের ২৪ আগস্টের পর থেকে তার জীবন আর আগের মতো সাধারণ থাকবে না, কারণ এখন তার কাঁধে বড় দায়িত্ব এসে পড়েছে।   তিনি স্মরণ করেন সাম্প্রতিক সময়ের সহিংসতায় প্রাণ হারানো সহযোদ্ধাদের, যাদের তিনি ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারও করেন তিনি।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি-সমর্থিত গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন পেয়েছেন ৪৯ হাজার ভোট। প্রায় তিনগুণ বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে তিনি জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ অর্জন করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
শেষ মুহূর্তে ভাগ্য বদল, পোস্টাল ভোটে জয় নিশ্চিত রিকশার
শেষ মুহূর্তে ভাগ্য বদল, পোস্টাল ভোটে জয় নিশ্চিত রিকশার

মাদারীপুর-১ আসনে সব কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত পোস্টাল ভোটে হেরে গেছেন বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার। মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ১১ দলীয় জোটের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা।   মাদারীপুর-১ আসনটি মূলত শিবচর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ১০২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আসনটিতে ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২৪ হাজার ২৮৯ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭১০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭১৯টি।   মোট বৈধ ভোট পড়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯১টি। এর মধ্যে সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা পান ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট। অপরদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নাদিরা আক্তার পান ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট।   কেন্দ্রভিত্তিক গণনায় দেখা যায়, ১০২টি কেন্দ্রের ফলাফলে হানজালা পান ৬৩ হাজার ৫১১ ভোট। সেখানে নাদিরা আক্তার পান ৬৪ হাজার ২৯১ ভোট এবং তিনি ৭৮০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। তবে পোস্টাল ভোট গণনার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পোস্টাল ভোটে নাদিরা পান মাত্র ২৩৩টি ভোট, আর হানজালা পান ১ হাজার ৩৯৮টি ভোট। এতে সামগ্রিক ফলাফলে হানজালা ৩৮৫ ভোটে জয়ী হন।   এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর পাশাপাশি দুজন স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে আলোচনায় ছিলেন কামাল জামান মোল্লা। স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ ও দলীয় অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে নির্বাচনী মাঠে শেষ পর্যন্ত তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ওঠে।   জয়ী প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা শিবচরের বাহাদুরপুর পীর পরিবারের সদস্য এবং ঐতিহাসিক ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবর্তক হাজী শরীয়তুল্লাহ-এর বংশধর হিসেবে পরিচিত।   অন্যদিকে, মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ধানের শীষ প্রতীকে ৬১ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৪৭৬ ভোট।   মাদারীপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে ৯৬ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৪ হাজার ৬৪৬ ভোট পান।   সব মিলিয়ে মাদারীপুরের তিনটি আসনেই ভোটের লড়াই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
এবারের নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে ভোটাররাই
নির্বাচনে ধরাশায়ী হলেন যেসব হেভিওয়েট প্রার্থী

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পরিচিত মুখ আর শক্ত ঘাঁটির দাপট—কোনো কিছুই কাজে এলো না এবারের নির্বাচনে। সাধারণ ভোটারদের নীরব বিপ্লবে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর জয়ের স্বপ্ন। বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে এক অভাবনীয় দৃশ্যপট, যেখানে নতুনের জয়জয়কারে বিদায় নিতে হয়েছে রাজনীতির মাঠের অনেক প্রভাবশালী সারথিকে।   বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচেনের বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, খুলনা-৫ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-২ থেকে খুলনা নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-১ আসনের জামায়াতের আলোচিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী হেরে গেছেন। এছাড়া এনসিপির সারজিস আলম, বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু হেরে গেছেন। এই তালিকায় আরও আছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। জামায়াতের প্রার্থীর কাছে হার মেনেছেন ফুটবলার আমিনুল হকও।   মিয়া গোলাম পরওয়ার  খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। ব্যবধান ২ হাজার ৬০৮। পোস্টাল কেন্দ্রসহ আসনটিতে মোট কেন্দ্র ছিল ১৫১টি। পরওয়ার ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ছিলেন। এ আসনের লক্ষাধিক ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাঁদের ভোট পেতে দুই প্রার্থীই চেষ্টা চালিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হিন্দু ভোট ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যবধান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকেরা।   হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতবদিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বেসরকারিভাবে নির্বাচনে হেরে গেছেন। প্রাপ্ত ফলাফলে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট পেয়ে ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট পেয়েছেন।   শিশির মনির সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী পেয়েছেন  ৯৭ হাজার ৭৯০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।   মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) এ দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম।   এরমধ্যে বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের চেয়ে ৪০ হাজার ১০২ ভোট কম পেয়েছেন। মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফয়জুল করিম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৪ ভোট। একইভাবে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খানের চেয়ে ২৬ হাজার ২২৯ ভোট কম পেয়েছেন। আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ৮২ হাজার ২১৭ ভোট ও ফয়জুল করিম ৫৫ হাজার ৯৮৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।   মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত তিনি প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি। কেটলি প্রতীকে ভোট পাওয়ার সংখ্যা মাত্র ৩,৪২৬। ফলে তিনি জামানত হারিয়েছেন।   আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট পেয়েছেন।    সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর ও অটোয়ারী) আসনে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমির বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট। আসটিতে ১৫৫ কেন্দ্রের এ আসনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৮৩০৪।   নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।   তাসনিম জারা ঢাকা-৯ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৮৬০ ভোট। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।   মো. মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৯৪ টি। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৮৫১ ভোট।    রাশেদ খান ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান তৃতীয় হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৭০ ভোট।   এ আসনে ১ লাখ ৪ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী আবু তালিব। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র কাপ-পিরিচ প্রতিকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৫০ ভোট।   আমিনুল হক ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হককে হারিয়ে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন। আসনে ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লার আব্দুল বাতেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।   জিএম কাদের রংপুর-৩ আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল)। তিনি পেয়ছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। আর লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের পেয়েছেন  ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট।   সাইফুল হক ঢাকা-১২ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম। বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল হককে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয় পেয়েছেন তিনি।   দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাইফুল আলম পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ‘কোদাল’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। অর্থাৎ সাইফুল হক থেকে ২২ হাজার ১৮০ ভোট বেশি পেয়েছেন সাইফুল আলম।    হারুনুর রশীদ হারুন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ হারুনকে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল।   দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নুরুল ইসলাম বুলবুল পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬১৩। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকে হারুনুর রশীদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ ভোট।   মো. গোলাম সারোয়ার তুষার নরসিংদী-২ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির আবদুল মঈন খান। তিনি ভোট পেয়েছেন ৯২ হাজার ৩৫২টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আমজাদ হোসাইন পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১৬৮ ভোট। আর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মো. গোলাম সারোয়ার তুষার পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৩৬ ভোট।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
ভোট দিয়ে হিজড়া ভোটাররা বললেন, ‘আমরা পিছিয়ে পড়া নই’
ভোট দিয়ে হিজড়া ভোটাররা বললেন, ‘আমরা পিছিয়ে পড়া নই’

রাজশাহী নগরের শিরোইল কলোনি সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটারদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই ভিড়ের মধ্যেই আলাদা করে দৃষ্টি কাড়েন হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য।   কেউ শাড়ি, কেউ সালোয়ার-কামিজ পরে হালকা সাজে ভোট দিতে এসেছিলেন। তাঁদের চোখেমুখে ছিল উৎসাহ, তবে সেই আনন্দের দিনেও ছিল নানা প্রতিবন্ধকতা। কেউ সহজেই ভোট দিতে পেরেছেন, আবার কাউকে পোহাতে হয়েছে বিড়ম্বনা। তবু নাগরিক অধিকার প্রয়োগে তাঁরা পিছিয়ে থাকেননি।   রাজশাহীর ‘দিনের আলো হিজড়া সংঘের’ কোষাধ্যক্ষ মিস জুলি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোট দেন। কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে। তাঁর ভাষায়, জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি যেন সবার জন্য কাজ করেন—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।   তবে আনন্দের মাঝেও ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা। জুলি বলেন, তাঁদের পিছিয়ে পড়া বলা হলেও বাস্তবে সমাজই তাঁদের পিছিয়ে রেখেছে। উচ্চবিত্ত ও মূলধারার মানুষ সুযোগ না দেওয়ায় তাঁরা নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের সুযোগ পাননি। তিনি মনে করেন, দেশ গঠনে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদেরও সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কাউকে বাদ রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়।   ভোট দিতে এসে জুলিকে পুরুষদের লাইনে দাঁড়াতে হয়, কারণ জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর লিঙ্গ পরিচয় ‘পুরুষ’ হিসেবে উল্লেখ আছে। নারীসুলভ পোশাক ও পরিচয়ের কারণে পুরুষদের সারিতে দাঁড়ানো তাঁর জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তাই তিনি অপেক্ষা করেন, কখন লাইন ফাঁকা হবে। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকায় তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা জরুরি।   একই অভিজ্ঞতার কথা জানান মিঠু নামের আরেক সদস্য। তিনিও পুরুষদের কেন্দ্রে ভোট দেন। আলাদা কোনো সারি না থাকায় তাঁকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে ভোট দিতে পারা আনন্দের হলেও পরিচয়ের স্বীকৃতি না পাওয়া কষ্টের। সরকারিভাবে তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি থাকলেও ভোটার তালিকায় সেই পরিচয় প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।   মিস রীতা জানান, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাঁকে এক ভবন থেকে আরেক ভবনে পাঠানো হয়। কখনো তিনতলা, কখনো চারতলায় যেতে বলা হয়। স্পষ্ট তথ্যের অভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরতে হয়েছে। তাঁর কথায়, তাঁরা অস্বাভাবিক নন; অন্য সবার মতো স্বাভাবিকভাবেই ভোট দিতে চান। বৈষম্যমুক্ত পরিবেশই তাঁদের চাওয়া।   হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা এলাকায় ভোট চাইতে এলেও তাঁদের বাড়িতে সচরাচর যান না। অনেকেই এখনো অবাক হয়ে জানতে চান, তাঁদের ভোটাধিকার আছে কি না। অথচ তাঁরাও দেশের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক।   ‘দিনের আলো হিজড়া সংঘ’-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী মহানগর ও জেলার নয়টি উপজেলায় প্রায় ১,২০০ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক হাজার ভোটার হলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ভোট প্রদানকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবুও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে তাঁরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
ভোট কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করার অভিযোগ তুললেন তাসনিম জারা
ভোট কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করার অভিযোগ তুললেন তাসনিম জারা

ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা জানান।   তাসনিম জারা বলেন, "আমাদের পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রে ঢুকতে পারছেন না বা প্রবেশ করার পর বের করে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন অযৌক্তিক নিয়ম বা অজুহাত সৃষ্টি করা হচ্ছে। কাউকে বলা হচ্ছে, ‘ওরা এখানকার ভোটার নয়’, যা কোনো নিয়মের অংশ নয়। কখনও পুরুষ কেন্দ্রগুলোতে নারী এজেন্টদের বের করা হচ্ছে, আবার কখনও ফোন নিয়ে কেন্দ্রে ঢোকা যাবে না বা ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।"   তিনি আরও বলেন, "আমার এজেন্টরা কেন্দ্রে থাকতে পারছেন না, অথচ মানুষ ভোট দিচ্ছে। এটা স্বীকৃত হওয়ার মতো নয়।" জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, একাধিক কেন্দ্র থেকে এ ধরনের অভিযোগ তাঁদের কাছে এসেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
যেভাবে তৈরি হয় ভোটের ফলাফল
যেভাবে তৈরি হয় ভোটের ফলাফল

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশে একসাথে নির্বাচন চলছে। ভোটাররা স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে, এরপর গণনা শুরু করা হবে।   নির্বাচনে একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় ফলাফল প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এছাড়া প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার এবং সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন, যা আলাদাভাবে গণনা করতে হবে।   নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তিনশো সংসদীয় আসনের ভোট, পোস্টাল ব্যালট এবং গণভোটের ফলাফল আলাদা করে গণনা ও প্রকাশ করা হবে।   ভোটের ফলাফল পরিবর্তন বা কারচুপির প্রশ্নে সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেছেন, ভোট গণনা ধাপে ধাপে করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকেন, ফলে কেন্দ্র থেকে ফলাফল প্রকাশের আগে কারচুপির সুযোগ থাকে না। তবে অতীতে কিছু কেন্দ্রে বিরোধী এজেন্টদের বাইরে রেখে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।   ভোট গ্রহণের সময় যদি বিকেল চারটার পরও কেউ ভোট দিতে থাকে, সেই কেন্দ্রের ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শেষ হলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনে ব্যালট বাক্স লক করে নির্ধারিত গণনা কক্ষে নেন।   একটি কেন্দ্রে বিভিন্ন কক্ষে ভোট হলেও গণনার জন্য একটি নির্দিষ্ট কক্ষ প্রস্তুত করা হয়। সেখানে প্রতিটি প্রার্থীর একজন পোলিং এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন। ব্যালট বাক্সের লক নম্বর মিলিয়ে খোলা হবে এবং ভোট গণনা শুরু হবে।   সংসদ নির্বাচনের সাদা ব্যালট ও গণভোটের গোলাপি ব্যালট আলাদা করা হবে। যদি ব্যালটে সিল না থাকে বা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর না থাকে, তা বাতিল গণ্য হবে। এরপর প্রতীকভিত্তিক গণনা করা হবে এবং গণনাকালে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে চলা হবে।   দুই ধরনের ব্যালট আলাদা দল দিয়ে গণনা করা হলে দেরি কম হবে। গণনার পরে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ১৬ নম্বর ফরমে লিখে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্ট স্বাক্ষর করবেন।   চূড়ান্ত ফলাফলের সাতটি সেট প্রস্তুত করা হবে। এর মধ্যে একটি কেন্দ্রে নোটিশ বোর্ডে টানানো হবে, দুটি ব্যালট ও নির্বাচনি সরঞ্জাম সহ সিলগালা করে রাখা হবে, দুটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে, একটি প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে রাখা হবে এবং একটি কমিশনে পাঠানো হবে। প্রার্থীদের এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক চাইলে তাদেরও কপি দেওয়া হবে।   কেন্দ্র থেকে ফলাফল আসার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা পোস্টাল ব্যালটও গণনায় যুক্ত করবেন। পোস্টাল ব্যালট খোলার সময়ও প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকবেন। সবকিছু গণনা শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। প্রার্থীরা চাইলে পুনঃগণনার আবেদন বা নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারবেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
নিরাপদ ভোটেই রুখা যাবে ষড়যন্ত্র তারেক রহমান
নিরাপদ ভোটেই রুখা যাবে ষড়যন্ত্র: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ যদি নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তাহলে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা সম্ভব।   বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে তিনি গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।   ভোট দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, সারা দেশের পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি। তবে আগের রাত থেকে কয়েকটি স্থানে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যা প্রত্যাশিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।   তারেক রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে তারা বিশ্বাস করেন। ভোর পর্যন্ত গণমাধ্যমে যে চিত্র দেখা গেছে, তাতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসাও করেন তিনি।   দলের সম্ভাব্য জয় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিজয়ী হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই হবে তাঁদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
প্রথমবার ভোট দিতে এসেছি, খুব ভালো লাগছে
প্রথমবার ভোট দিতে এসেছি, খুব ভালো লাগছে

প্রথমবার ভোট দিতে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ফাতেমা ও তানিয়া। সকাল আটটার দিকে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে তারা বলেন, এবার ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। তাদের ভাষায়, এবার দুটি বিষয়ে ভোট হচ্ছে—একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এবং অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন।   ফাতেমা ও তানিয়া জানান, তারা শ্যামপুরের লালমসজিদ এলাকা থেকে কেন্দ্রে এসেছেন। ঢাকা-৪ আসনের অন্তর্গত শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের ভিড় দেখা যায়। কেন্দ্রের সামনে পুরুষ ও নারী ভোটারদের আলাদা দীর্ঘ সারি ছিল।   ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৬৮ বছর বয়সী মো. ইস্রাফিল। কদমতলীর এই বাসিন্দা বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ চলছে।   একই কেন্দ্রের ভোটার নতুন কদমতলীর মো. রুবেল বলেন, আগে ভোট দিতে গিয়ে সুযোগ পাননি। তবে এবার এসে দেখছেন পরিবেশ ভালো এবং স্বাভাবিকভাবে ভোট হচ্ছে।   সকাল সোয়া আটটার দিকে কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা জানান, চারটি বুথের মধ্যে তিনটিতে সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। একটি বুথে ভুল ভোটার তালিকা আনার কারণে কিছুটা দেরি হয়। ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৭২৯ জন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
ভোরের পর থেকেই কেন্দ্রমুখী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন
ভোরের পর থেকেই কেন্দ্রমুখী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। নারী-পুরুষ উভয়েই জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রমুখী হন। অনেকে আবার ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রে পৌঁছে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন।   বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই অধিকাংশ কেন্দ্রে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোট দেওয়াকে ঘিরে অনেক এলাকায় দেখা যায় আনন্দঘন আবহ।   রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটাররা শৃঙ্খলা বজায় রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। কেন্দ্রের ভেতরে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ব্যালট বাক্স সিলগালা করার পর ভোটগ্রহণ শুরু করেন। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই শেষে ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।   বনানীর একটি কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা এক ব্যক্তি জানান, শান্ত পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট। সকালে এসে ভোট প্রদান করে নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে পেরে ভালো লাগছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ চলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।   এছাড়া নির্বাচনি অনিয়ম প্রতিরোধে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে রয়েছেন। কমিশন আশা করছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
ভোট কেনাবেচার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে ইসি
ভোট কেনাবেচায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইসির

দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোট কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে—এমন প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন স্পষ্টভাবে বলেছে, ভোট কেনাবেচা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এ ধরনের কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   বুধবার ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, একটি রাজনৈতিক দল দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ তুলেছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।   ইসি আরও জানায়, অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
নির্বাচন কমিশন (ইসি)
ভোট কেনাবেচা করলেই কঠোর শাস্তি: নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি

নির্বাচনী মাঠে ভোট কেনাবেচার যেকোনো অভিযোগ বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।   বুধবার রাতে ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ইসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ভোট কেনাবেচা কেবল অনৈতিক নয়, বরং আইনত একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।   সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে কমিশন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে ইসি বদ্ধপরিকর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
নির্বাচনের মাঠে নীরবতা, শেষ হলো প্রার্থীদের প্রচার কার্যক্রম
নির্বাচনের মাঠে নীরবতা, শেষ হলো প্রার্থীদের প্রচার কার্যক্রম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার সঙ্গে সঙ্গে প্রচার কার্যক্রম বন্ধ হয়। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছিল।   নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী ভোট গ্রহণের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার শেষ করতে হয়। সে নিয়ম অনুসারেই আজ নির্ধারিত সময়ে প্রচার কার্যক্রমের ইতি টানা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, ভোটের তিন সপ্তাহের আগে প্রচার শুরু করা যাবে না এবং ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে সব প্রচার বন্ধ করতে হবে।   এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়ে দিয়েছিল যে, ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে রাজনৈতিক প্রচার নিষিদ্ধ থাকবে।   আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণ চলবে।   জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ফলে ওই আসন বাদ দিয়ে বাকি ২৯৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।   নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা আয়োজন করা যাবে না।   বাসসের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।   রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি—ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দলটির ২৯১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ২৫৮ জন প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। জাতীয় পার্টির ১৯৮ জন প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ জন প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীক ব্যবহার করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
নির্বাচন ও গণভোটে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ইসির কড়া নির্দেশ
নির্বাচন ও গণভোটে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ইসির কড়া নির্দেশ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সময়ে কোনো ধরনের উন্নয়ন বা সংস্কার কাজের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট কিংবা টেলিযোগাযোগ সংযোগ যেন ব্যাহত না হয়—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।   ইসি সূত্র জানায়, এ বিষয়ে কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবদের কাছে লিখিত নির্দেশনা পাঠিয়েছেন।   চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সময়ে নির্বাচন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ফলাফল আদান-প্রদানের জন্য নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সড়ক বা মহাসড়কের পাশে চলমান উন্নয়ন কাজের কারণে যেন কোনো ট্রান্সমিশন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে রাস্তা বা হাইওয়েতে কোনো ধরনের খনন বা উন্নয়নমূলক কাজের আগে অবশ্যই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। বিটিআরসির পূর্বানুমতি ও আলোচনা ছাড়া এমন কোনো কার্যক্রম চালানো যাবে না, যা যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।   নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোটের দিনসহ তার আগে ও পরে সার্বিক নিরাপত্তা, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদানের জন্য শক্তিশালী ডিজিটাল নেটওয়ার্ক অপরিহার্য। সেই কারণেই টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
প্রধান উপদেষ্টার অঙ্গীকারের সঙ্গে বাস্তব মিল নেই
প্রধান উপদেষ্টার অঙ্গীকারের সঙ্গে বাস্তব মিল নেই

অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণার সঙ্গে তাদের বাস্তব কার্যক্রমের সুস্পষ্ট ফারাক রয়েছে। তাঁর মতে, সবাইকে ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে এক ছাতার নিচে রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই “ছাতা” এখনো খোলা হয়নি—বৃষ্টি হচ্ছে, অথচ মানুষ ভিজছে।   রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ‘অঙ্গীকার থেকে অনুশীলন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি—বাংলাদেশ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান।   দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের সংস্কার ও বিচার কার্যক্রম পরিচালনার যে সামর্থ্য ছিল, তা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তাঁর ভাষায়, এই সরকারের সক্ষমতা এখন ক্লান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি মনে করেন, বর্তমান অবস্থায় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো একটি গ্রহণযোগ্য ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন আয়োজন করা।   তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের মুখপাত্রের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয়টি খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রকৃত সহিংসতার চিত্র আড়াল করছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারের ভেতর থেকেই তথ্য বিকৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক অপপ্রচার চালানো হয়েছে।   উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক সরকারি বক্তব্যে বলা হয়—২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬৪৫টি হামলার ঘটনা ঘটলেও এর মধ্যে মাত্র ৭১টি ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেবপ্রিয় প্রশ্ন তোলেন, কেবল মন্দিরে হামলা বা প্রতিমা ভাঙার ঘটনাকেই সাম্প্রদায়িক বলা হলে বাকি ঘটনাগুলোকে কীভাবে আলাদা করা যায়?   তিনি বলেন, জমি, ব্যবসা বা প্রতিবেশী বিরোধের নামে যে হামলাগুলো ঘটে, সেগুলোর লক্ষ্য যেহেতু সংখ্যালঘুরা, তাই সেগুলোও দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত সহিংসতারই অংশ। একটি নারীর ওপর আক্রমণের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তখন যেমন বলা যায় না যে এটি নারী নির্যাতন নয়, তেমনি সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অস্বীকার করাও বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল।   দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, যখন তথ্য বিকৃতি একটি নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়, তখন সেই সরকারের বিদায়ের সময় ঘনিয়ে আসে। এই পরিস্থিতি থেকেই দেশকে নতুন রাজনৈতিক উত্তরণের পথে যেতে হবে।   নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে আরও স্পষ্ট ও প্রগতিশীল অঙ্গীকার থাকা প্রয়োজন ছিল। তবে যেসব অঙ্গীকার এসেছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখতে হবে।   অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নারী, সংখ্যালঘু এবং ভিন্নমতের রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখনো সম্ভব এবং সেটিই হওয়া উচিত। ভোট বর্জনের চিন্তাকে তিনি দেশের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করে বলেন, ভোট দেওয়ার মাধ্যমেই জনগণের শক্তি প্রকাশ পায়।   ভোটের সময় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যদি সরকার একটি সহিংসতাহীন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারে, তবে সেটিই হতে পারে তাদের শেষ ইতিবাচক অবদান, যা ইতিহাসে কিছুটা হলেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
মাঠে নামলেন জাইমা রহমান
মাঠে নামলেন জাইমা রহমান: ঢাকা-১৭ আসনে বাবার জন্য চাইলেন ভোট

ভোটের মাঠে নতুন চমক! সাধারণ মানুষের হাতে লিফলেট আর মুখে হাসি নিয়ে গুলশানের রাজপথে এখন আলোচনার কেন্দ্রে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। শুধু ভোট প্রার্থনা নয়, পরিবেশ রক্ষায় তার বিশেষ উদ্যোগ নজর কেড়েছে সবার।   আজকের গণসংযোগের বিশেষ কিছু মুহূর্ত:   সরাসরি জনসংযোগ: গুলশানের পুলিশ প্লাজা থেকে শুরু করে শপিং মল, ফুটপাত কিংবা রিকশাচালক—সবার কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে ধানের শীষের জন্য ভোট চেয়েছেন তিনি।   ব্যতিক্রমী প্রচার: নির্বাচনি বর্জ্য কমাতে লিফলেটের পাশাপাশি বিলি করেছেন পরিবেশবান্ধব গাছের বীজ। রাজনীতি আর পরিবেশ সচেতনতার এই মেলবন্ধন ভোটারদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে।   সাধারণের মাঝে জাইমা: কোনো প্রটোকলের দেয়াল না রেখে সাধারণ মানুষের সাথে সেলফি তোলা এবং সরাসরি কথা বলে দিনভর ব্যস্ত সময় পার করেছেন তারেক রহমানের এই কন্যা।   পাশে ছিলেন ফাতেমা: এই বিশেষ গণসংযোগে জাইমা রহমানের সাথে দেখা গেছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ফাতেমাকেও।   ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে এই গণসংযোগ নির্বাচনি আমেজে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটারদের প্রত্যাশা আর জাইমা রহমানের এই সক্রিয় উপস্থিতি ভোটের লড়াইকে আরও জমজমাট করে তুলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
ভোটের আগের শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা পৌঁছালেন প্রতিটি ঘরে
ভোটের আগের শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা পৌঁছালেন প্রতিটি ঘরে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একযোগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গত ২২ জানুয়ারি থেকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন।   এটি চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। প্রচারণার শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা ভোটারদের ঘর-বাড়িতে পৌঁছাচ্ছেন এবং গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ, ইশতেহার ঘোষণা করে ভোটারদের কাছে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।   ঢাকার বিভিন্ন আসনে প্রার্থীরা সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। বিএনপি ৭ ফেব্রুয়ারি তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে এবং যুবক ও নারীদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এছাড়াও সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ সংযোজন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, এক ব্যক্তির দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়া রোধসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে।   এদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা বলছেন, তারা দেশের অভিজ্ঞ মানুষদের নিয়ে সরকার পরিচালনা করবেন এবং বিভিন্ন ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণের সেবা নিশ্চিত করবেন। ঢাকা-৮ আসনের এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনী ইশতেহারে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নাগরিক সেবা ও পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।   ঢাকা-১২ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে ‘সিটিজেন কাউন্সিল’ গঠনের কথা বলেছেন। ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ভোটারদের কল্যাণে স্বাস্থ্যখাত উন্নয়ন, স্কুল শিক্ষার মান উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন।   ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ভোটার স্লিপ বিতরণ ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন।   তথ্যমতে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ৩৪১৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই ও আপিলের পর ১৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনি প্রচারণার সময়সীমা অনুযায়ী ভোটের ৪৮ ঘন্টা আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণা চলবে। প্রথমবারের মতো নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
প্রবাসীদের ভোট
এখনো ব্যালটই পাননি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রবাসী ভোটার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তবে এই নতুন দিগন্তের শুরুতেই দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রবাসী ভোটার এখনো তাদের ব্যালট পেপার হাতে পাননি। অন্যদিকে, যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের ব্যালটও সময়মতো দেশে পৌঁছানো নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।   পরিসংখ্যান কী বলছে? নির্বাচন কমিশনের 'পোস্টাল ভোট বিডি' অ্যাপে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে প্রবাসী রয়েছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে, ৪ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি প্রবাসী ব্যালট জমা দিলেও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে মাত্র ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৫টি। অর্থাৎ, প্রবাসীদের জমা দেওয়া ভোটের মাত্র ৩৪ শতাংশ এখন পর্যন্ত দেশে এসে পৌঁছেছে।   অনিশ্চয়তার নেপথ্যে কারণ: প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের টিম লিডার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালীম আহমাদ খান জানান, উত্তর আমেরিকায় তীব্র তুষারপাত এবং কোনো কোনো দেশে পোস্টাল ধর্মঘটের কারণে ব্যালট পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ভোটারের বর্তমান ঠিকানা ও ফোন নম্বর সক্রিয় না থাকায় ব্যালটগুলো ডাকবিভাগ থেকে ফেরত গেছে।   ভোট গণনার সময়সীমা: ১২ই ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটায় সারা দেশে ভোট গণনা শুরু হবে। নিয়ম অনুযায়ী, সেই সময়ের মধ্যে ব্যালটগুলো সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাতে হবে। ইসি আশাবাদী যে, যেসব দেশ থেকে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে, সেখান থেকে শেষ মুহূর্তে পাঠানো ভোটও গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।   অভিযোগ ও বাস্তবতা: যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়া থেকে প্রবাসীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত হলেও, স্বচ্ছতা ও প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। মালয়েশিয়ার অনেক প্রবাসী অভিযোগ করেছেন যে, ট্র্যাকিং সিস্টেমে 'ডেলিভারড' দেখালেও বাস্তবে তারা ব্যালট হাতে পাননি।   বাংলাদেশের বিশাল প্রবাসী জনসংখ্যার তুলনায় নিবন্ধিত ভোটারের হার মাত্র ৫ শতাংশের কিছু বেশি হলেও, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একে 'সাফল্য' হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তের এই দৌড়ে কতটুকু সফল হয় এই নতুন ভোটিং পদ্ধতি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
জাতীয়

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0