দুই সপ্তাহ আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তির মতোই আবারও অবস্থান বদল করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই আগে যেমন স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, তেমনি এবারও একই ধারা অনুসরণ করে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে আবারও সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আলোচনা চলমান থাকায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হলেও হরমুজ প্রণালিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পাশাপাশি দুটি জাহাজ জব্দ করার কথা জানিয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নৌ অবরোধ তুলে নেয়, তাহলে তেহরান আবারও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে প্রয়োজন হলে তবেই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এরই মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্ভাব্য সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দল প্রস্তুত থাকলেও ইরানের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা না আসায় শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল করা হয়। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণেই তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। যদিও এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি। তার মতে, নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়াই এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইজাদি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সেনা মোতায়েন রাখতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ইরান প্রসঙ্গে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে থাকায় রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন।
এদিকে হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ছাড়াও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করলে ইরানের ওপর চাপ কিছুটা কমবে এবং আলোচনার পথ খোলা থাকবে—এমন ধারণা থেকেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান আলোচনায় ফেরার আগ্রহ দেখালে নতুন করে বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা দুই দেশের অর্থনীতিতেই প্রভাব ফেলছে, তাই দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা রয়েছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো নমনীয়তার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী জানিয়েছেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার বাস্তব কোনো গুরুত্ব নেই। তার ভাষায়, ‘পরাজিত পক্ষ কখনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না’, এবং অবরোধ ও সামরিক হামলার মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই।
ইরান আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, হুমকি বা চাপের মধ্যে তারা আলোচনায় বসবে না। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলাপে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন—নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হলে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে না।
অন্যদিকে, পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, নিষেধাজ্ঞা এবং হুমকিই প্রকৃত সংলাপের পথে প্রধান বাধা। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ও কার্যক্রমের মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ জব্দের ঘটনা। মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি জাহাজ আটক করার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আইআরজিসি দুটি বিদেশি জাহাজ জব্দ করে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, আলোচনার নামে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি নেই, এবং অতীতে এমন প্রতিশ্রুতির ফাঁদে ইরান পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দুই সপ্তাহ আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তির মতোই আবারও অবস্থান বদল করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই আগে যেমন স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, তেমনি এবারও একই ধারা অনুসরণ করে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে আবারও সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আলোচনা চলমান থাকায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হলেও হরমুজ প্রণালিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পাশাপাশি দুটি জাহাজ জব্দ করার কথা জানিয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নৌ অবরোধ তুলে নেয়, তাহলে তেহরান আবারও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে প্রয়োজন হলে তবেই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্ভাব্য সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দল প্রস্তুত থাকলেও ইরানের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা না আসায় শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল করা হয়। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণেই তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। যদিও এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি। তার মতে, নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়াই এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইজাদি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সেনা মোতায়েন রাখতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ইরান প্রসঙ্গে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে থাকায় রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। এদিকে হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ছাড়াও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করলে ইরানের ওপর চাপ কিছুটা কমবে এবং আলোচনার পথ খোলা থাকবে—এমন ধারণা থেকেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান আলোচনায় ফেরার আগ্রহ দেখালে নতুন করে বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা দুই দেশের অর্থনীতিতেই প্রভাব ফেলছে, তাই দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা রয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো নমনীয়তার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী জানিয়েছেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার বাস্তব কোনো গুরুত্ব নেই। তার ভাষায়, ‘পরাজিত পক্ষ কখনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না’, এবং অবরোধ ও সামরিক হামলার মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। ইরান আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, হুমকি বা চাপের মধ্যে তারা আলোচনায় বসবে না। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলাপে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন—নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হলে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে না। অন্যদিকে, পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, নিষেধাজ্ঞা এবং হুমকিই প্রকৃত সংলাপের পথে প্রধান বাধা। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ও কার্যক্রমের মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ জব্দের ঘটনা। মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি জাহাজ আটক করার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আইআরজিসি দুটি বিদেশি জাহাজ জব্দ করে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, আলোচনার নামে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি নেই, এবং অতীতে এমন প্রতিশ্রুতির ফাঁদে ইরান পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র-এর অভিষেক গালা অনুষ্ঠান আগামী ৩০ মে (শনিবার) অনুষ্ঠিত হবে। শহরের হার্ডরক ক্যাসিনোতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, এই গালা কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; বরং এটি কমিউনিটির কল্যাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি জানান, এই আয়োজন থেকে অন্তত ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র জানান, অনুষ্ঠানের ব্যয় মেটানোর পর অবশিষ্ট অর্থ স্থানীয় বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে। এসব সংস্থা যুবসমাজের উন্নয়ন, প্রবীণ নাগরিকদের সহায়তা, বহুজাতিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং শিল্পকলার বিকাশে কাজ করে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, তহবিলের একটি অংশ বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ সময় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সি-এর সভাপতি জহিরুল ইসলাম বাবুল এবং কাউন্সিলর অ্যাট লার্জ সোহেল আহমেদ বক্তব্য দেন। তারা মেয়রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি, স্থানীয় অলাভজনক সংস্থার সদস্য এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে হাইকমান্ডের দীর্ঘদিনের উপেক্ষা ও অবমূল্যায়ন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসের কোনো নেতাকে মনোনয়ন না দেওয়া এবং সম্প্রতি সংরক্ষিত নারী আসনে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন ও রিজিয়া পারভীনকে উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত এই ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, অতীতে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের দেশে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বেলায় সবসময় বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়। আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রভাগে থাকা সত্ত্বেও প্রবাসের ত্যাগী নেতারা যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। তাঁদের মতে, হাইকমান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির মধ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল 'অদৃশ্য দেয়াল' তৈরি করে রেখেছে, যারা ব্যক্তিগত লাভের জন্য ভুল তথ্য সরবরাহ করছে। সংগঠনের ভেতর চরম হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলাও এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। গত ২০ এপ্রিল জ্যাকসন হাইটসে নিউ ইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভায় যুবদল ও বিএনপির নেতাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘাতের ঘটনা ঘটে। সেখানে অভিযোগ তোলা হয় যে, হাইকমান্ডকে খুশি করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কর্মীরা এখন ‘চক্ষুশূলে’ পরিণত হয়েছেন। ত্যাগের চেয়ে অর্থবিত্ত ও প্রভাব এখন দলে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে অনেক সিনিয়র নেতা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। এমনকি অন্য দল থেকে আসা ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং প্রবাসের প্রতিষ্ঠিত নারী নেত্রীদের মূল্যায়ন না করায় সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে। দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং প্রবাসী নেতাদের মর্যাদা ফিরিয়ে না দিলে ভবিষ্যতে প্রবাসে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি এবং আন্দোলন-সংগ্রামের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।