বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস দিয়ে সরাসরি ইরানকে সামরিক ও খাদ্য সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানকে ড্রোন, উন্নতমানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য সরবরাহ করছে মস্কো। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের তৈরি ড্রোন রাশিয়া ব্যবহার করার পর থেকে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এবার রাশিয়া পাল্টা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাশিয়ার এই সহায়তা কেবল সামরিক খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ইরানের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ক্রেমলিন। গতকাল প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। রাশিয়ার এমন পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তখন মস্কোর এই প্রকাশ্য অবস্থান তেহরানকে নতুন করে শক্তি জোগাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের এই গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্ব মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে। দুই দেশের মধ্যে এই বিনিময় প্রথা বা 'পারস্পরিক সহযোগিতা' আগামী দিনে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে। একদিকে রাশিয়া যেমন ইরানের কাছ থেকে ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে ইউক্রেন ফ্রন্টে সুবিধা পাচ্ছে, অন্যদিকে ইরানও রাশিয়ার উন্নত মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম ও রসদ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। এই জোটবদ্ধতা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন ব্লকের জন্ম দিচ্ছে যা দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
শি জিনপিংয়ের দূরদর্শী সামরিক কৌশলের অধীনে চীন তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাকে এক অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, যা বর্তমান বিশ্ব নিরাপত্তার সমীকরণকে আমূল বদলে দিচ্ছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে চীনের কাছে যেখানে প্রায় ৩০০টি কার্যকর পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে অন্তত ৬০০-তে পৌঁছেছে। এই দ্রুতগতির বিস্তার প্রমাণ করে যে, বেইজিং কেবল তার আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে চায় না, বরং ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমকক্ষ একটি বৈশ্বিক পারমাণবিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের ওয়ারহেড সংখ্যা ১,৫০০-এ পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে এক নতুন এবং বিপজ্জনক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীনের এই পারমাণবিক আধুনিকীকরণের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো তাদের প্রযুক্তির বহুমুখিতা এবং গোপনীয়তা। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিগুলোতে শত শত নতুন ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) সাইলো বা ভূগর্ভস্থ নিক্ষেপণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, যেখান থেকে অত্যাধুনিক ডিএফ-৪১ (DF-41) ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া সম্ভব। একইসাথে চীন তাদের 'নিউক্লিয়ার ট্রায়াড' বা তিন স্তরীয় পারমাণবিক আক্রমণ ব্যবস্থা (স্থল, আকাশ ও সমুদ্র) সম্পূর্ণ করতে অত্যন্ত সক্রিয়। তারা যেমন সমুদ্রের তলদেশ থেকে পারমাণবিক হামলার জন্য অত্যাধুনিক সাবমেরিন তৈরি করছে, তেমনি আকাশে তাদের দূরপাল্লার বোমারু বিমানের বহরকেও ঢেলে সাজাচ্ছে। যদিও চীন দাবি করে আসছে যে তাদের এই পরমাণু নীতি কেবল "ন্যূনতম প্রতিরোধ"গড়ার জন্য এবং তারা কখনোই প্রথমে পারমাণবিক হামলা করবে না, তবুও তাদের ভাণ্ডারের এই বিশাল আকার ও আধুনিকায়ন আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ করে ওয়াশিংটনে চরম অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির এই সন্ধিক্ষণে চীনের এই পারমাণবিক উত্থান আগামী দিনে ক্ষমতার ভারসাম্যকে সম্পূর্ণ নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিবে |
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী বাণিজ্য ও রাজনৈতিক চাপের মুখে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতায় নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করেছেন। উপ-নির্বাচনে বড় জয় এবং বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতার কার্নির লিবারেল পার্টিতে যোগদানের ফলে তারা পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছে। এই জয়ের ফলে লিবারেল পার্টি এখন ১৭৩টি আসন নিয়ে হাউস অফ কমন্সে একক আধিপত্য বিস্তার করল যা কার্নিকে তার স্বাধীন নীতি বাস্তবায়নে এখন বাড়তি সাহস যোগাবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগের পর ক্ষমতায় আসা সাবেক এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকার বর্তমানে ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট নীতির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কার্নি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি আমেরিকার সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান বজায় রাখবেন তবে কোনোভাবেই নতি স্বীকার বা দাসত্ব মেনে নেবেন না যা সাধারণ কানাডীয়দের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর হুমকি ও শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে কানাডার জনগণের মধ্যে এখন এক প্রবল দেশপ্রেম ও অভূতপূর্ব ঐক্যের জোয়ার বইছে। এই ঐক্যের ফলে অনেক কানাডীয় এখন আমেরিকায় ভ্রমণ বর্জন করছেন এবং মার্কিন পণ্য কেনা থেকে বিরত থেকে নিজেদের স্বনির্ভরতা প্রমাণের চেষ্টা করছেন যা রাজনৈতিকভাবে কার্নিকে সহায়তা করছে। যদিও ভিন্ন মতাদর্শের নেতাদের দলে টানায় কার্নি নিজ দলের ভেতর কিছু সমালোচনার মুখে পড়েছেন তবুও ট্রাম্পের হুমকি মোকাবিলায় তাকেই এখন কানাডার সেরা রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য শক্তিগুলোর সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে কার্নি এখন কানাডার অর্থনীতিকে আমেরিকার ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে একটি শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
গাজায় চলমান নির্মম সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয় ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সাজানো নৈতিক ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে এবং জাইনবাদের পতনের ঘণ্টাধ্বনি বাজিয়ে দিয়েছে। দশকজুড়ে ইসরায়েল নিজেকে নির্যাতিতদের আশ্রয়স্থল এবং মরুদ্যানে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে প্রচার করে আসলেও গাজার ধ্বংসস্তূপ সেই মিথকে আজ আক্ষরিক অর্থেই পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। প্রভাবশালী সাংবাদিক ক্রিস হেজেস বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন যে পশ্চিমারা ইসরায়েলকে জাতিগত নিধন ও দখলের অবাধ লাইসেন্স দিয়েছে, যা আজ এক চরম ও অপূরণীয় নৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। ইসরায়েলি সাংবাদিক গিডিয়ন লেভিও তার লেখনীতে স্বীকার করেছেন যে তাদের দেশ আজ পথ হারিয়েছে এবং এই দখলদারিত্ব কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয় বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী মানবিক ট্র্যাজেডি। গাজার প্রতিটি শিশুর প্রাণহানি এবং প্রতিটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল ইসরায়েলি প্রচারযন্ত্রের সাজানো গল্পগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছে যা কোনো তুখোড় কূটনীতিক আর কোনোভাবেই সংস্কার করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড়। জাতিসংঘের ‘লিস্ট অব শেম’ বা কলঙ্কিত তালিকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর তাদের অপরাধকে বিন্দুমাত্র আড়াল করছে না। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার তরুণ প্রজন্ম এখন তাদের স্মার্টফোনে সরাসরি যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখছে এবং তারা পূর্ববর্তী প্রজন্মের মতো কোনো প্রকার বংশগত অপরাধবোধ বা নৈতিক চাপ অনুভব করছে না। লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক এবং প্যারিস থেকে জাকার্তা—বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে আজ ফিলিস্তিনের পক্ষে যে জনজোয়ার তৈরি হয়েছে তা মূলত একটি শোষক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআদালতের এক অমোঘ রায়। জাইনবাদ এতদিন পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর যে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল তা এখন শেষলগ্নে এসে পৌঁছেছে এবং ইহুদিবিদ্বেষের তকমা দিয়ে সত্যকে আড়াল করার পুরোনো দিনগুলো চিরতরে ফুরিয়ে গেছে। মার্কিন কংগ্রেসের মতো শক্তিশালী দুর্গগুলোতেও এখন ফিলিস্তিনের পক্ষে কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে যা কয়েক বছর আগে কল্পনা করাও অসম্ভব ছিল এবং এটি জাইনবাদের চরম পরাজয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যখন আনুষ্ঠানিকভাবে একে একটি সম্ভাব্য গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে তখন ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি এখন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। একটি রাষ্ট্র যখন তার নিজের হাতে গড়া মিথকে নিজেই ধ্বংস করে দেয় তখন ইতিহাসের পাতায় তার বিচার হয় অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে এবং ইসরায়েল এখন সেই চরম মুহূর্তেরই মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। জাইনবাদ আজ এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে যেখানে সে নিজের হাতেই নিজের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায় আজ সেই ধ্বংসযজ্ঞের জীবন্ত ও এক নির্বাক সাক্ষী হয়ে আছে। ইতিহাসের এক ধৈর্যশীল হিসাবরক্ষক আজ তার খাতা খুলে বসেছে এবং সেখানে ইসরায়েলের প্রতিটি পদক্ষেপের চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে যা আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির এক নতুন সমীকরণ নির্ধারণ করবে। জাইনবাদের পতন, গাজা যুদ্ধ ২০২৬, নেতানিয়াহু অপরাধ, ফিলিস্তিন সংহতি, আন্তর্জাতিক আদালত, বিশ্ব রাজনীতি, ইসরায়েল সংকট, জাইনবাদ বিতর্ক, গাজা গণহত্যা, মানবিক বিপর্যয় এই আর্টিকেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী জাইনবাদের নৈতিক পতনের যে দাবি করা হয়েছে, সেটি বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী শান্তিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন?