যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরসহ একাধিক অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনিসহ ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়।
রোববার পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। কনস্যুলেটের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে অন্তত ৯ বিক্ষোভকারী নিহত ও ৩৪ জন আহত হন বলে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। কনস্যুলেটের প্রধান ফটকের বাইরে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানের স্কার্দু শহরে জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। লাহোর ও রাজধানী ইসলামাবাদেও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Mohsin Naqvi বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানের জনগণের মতো পাকিস্তানিরাও শোকাহত। উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে অবস্থানরত পশ্চিমা দেশগুলোর মিশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে কড়া নিরাপত্তা সত্ত্বেও শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। ইরাক সরকার খামেনির মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। দেশটির শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা Ali al-Sistani ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও কয়েক হাজার শিয়া মুসলিম বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ফ্রান্সের সঙ্গে নতুন তিন বছরের এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ব্রিটেন। বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ফরাসি সরকারকে সর্বোচ্চ ৬৬০ মিলিয়ন পাউন্ড দেবে লন্ডন। মূলত যৌথ নজরদারি, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করাই এই বিশাল অংকের অর্থায়নের প্রধান লক্ষ্য। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে উত্তর ফ্রান্সের সৈকত এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে। এর অধীনে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গোয়েন্দা এবং সামরিক কর্মকর্তা মোতায়েন করা হবে। বাকি ১৬০ মিলিয়ন পাউন্ড কেবলমাত্র তখনই প্রদান করা হবে, যদি নতুন পদক্ষেপগুলো অবৈধ পারাপার ঠেকাতে কার্যকর প্রমাণিত হয়। ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এর ফলে মানবপাচার চক্র দমনে পুলিশি সক্ষমতা ও তথ্য বিনিময় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানান, এই সমঝোতার ফলে ফরাসি উপকূলে নজরদারি কার্যক্রম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে এবং সীমান্ত পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত জনবল ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৪১ হাজার মানুষ ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ইংল্যান্ডে পৌঁছেছে। তবে বর্তমান কিয়ার স্টারমারের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ৪২ হাজারের বেশি অবৈধ পারাপারের চেষ্টা সফলভাবে ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সরকার। নতুন এই চুক্তিটি ২০২৩ সালে হওয়া আগের চুক্তির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন দ্বীপ বালিতে ঘুরতে গিয়ে চরম অপদস্থ হলেন একদল ভারতীয় পর্যটক। উবুদ এলাকার বিলাসবহুল ‘আসভারা রিসোর্ট’ থেকে চেক-আউটের সময় হোটেলের বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির অভিযোগে তাদের হাতেনাতে আটক করে হোটেল কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল ওই পর্যটকরা রিসোর্টটিতে উঠেছিলেন এবং ১৯ এপ্রিল তাদের চেক-আউট করার কথা ছিল। যাওয়ার আগে হোটেলের কর্মীরা নিয়মিত পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, রুমের বেশ কিছু জিনিস নিখোঁজ। সন্দেহ হওয়ায় পর্যটকদের ব্যাগ তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে একের পর এক হোটেলের সরঞ্জাম। উদ্ধারকৃত জিনিসের তালিকায় ছিল— গোসলের তোয়ালে, বাথরুমের পাপোশ, হেয়ার ড্রায়ার, কিমোনো রোব (পোশাক), এমনকি টিভির রিমোট বক্স এবং ডাইনিংয়ের চামচ-বাসনও। ভিডিওতে দেখা যায়, হোটেলের কর্মীরা যখন ব্যাগ থেকে একের পর এক জিনিস বের করছেন, তখন পর্যটকরা বারবার ক্ষমা চাইছেন এবং টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার অনুরোধ করছেন। তবে হোটেলের এক কর্মীকে বলতে শোনা যায়, “টাকা বড় কথা নয়, এটি সম্মানের বিষয়। আপনারা অন্য দেশ থেকে এসে এমন কাজ করতে পারেন না।” পরবর্তীতে স্থানীয় জিয়ানইয়ার পুলিশ জানায়, পর্যটকরা তাদের ভুল স্বীকার করে সব জিনিস ফেরত দেওয়ায় এবং ক্ষমা চাওয়ায় বিষয়টি আর আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায়নি। হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় বিদেশের মাটিতে পর্যটকদের আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গাজা যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার লক্ষ্যে মিশরের রাজধানী কায়রোতে প্রথমবারের মতো সরাসরি গোপন আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস। মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পদক্ষেপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আরিয়ে লাইটস্টোন এবং হামাসের পক্ষে রয়েছেন প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়া। সিএনএনের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে মূলত গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন, ইসরায়েলি হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং অবরুদ্ধ অঞ্চলে মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। হামাস প্রতিনিধি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান শর্তগুলো পূরণ না হলে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া গাজা থেকে অবরোধ পুরোপুরি শিথিল করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আলোচনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছে। তবে হামাস এই প্রস্তাবকে ‘অসম ভারসাম্যপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা গাজায় পূর্ণাঙ্গ শান্তি ও মানবিক বিপর্যয় রোধে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিকেই মূল শর্ত হিসেবে গণ্য করছে। উল্লেখ্য, গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় সংঘাত ও ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, যুদ্ধবিরতি চলাকালেও বহু ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কায়রোর এই সরাসরি আলোচনা গাজার ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।