বিশেষ প্রতিবেদন

প্রথমবারেই বাজিমাত, সংসদে কুমিল্লার নতুন পাঁচ মুখ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লায় এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হয়েছে। প্রথাগত রাজনীতির হেভিওয়েটদের ভিড়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছেন কুমিল্লার ৫ জন তরুণ ও মেধাবী নেতা। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে যে আটটিতে বিএনপি, একটিতে জামায়াত, একটিতে এনসিপি এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, তার মধ্যে এই ৫ জনের সরাসরি সংসদে অভিষেক দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

সংসদে যাওয়া কুমিল্লার সেই ৫ নতুন মুখ হলেন:
১. কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস): বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।
২. কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার): জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
৩. কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া): দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন।
৪. কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা): স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম।
৫. কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ): বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম।

 

সবচেয়ে আলোচিত বিজয়টি এসেছে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে। ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী হওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমি ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছি। যারা আমাকে ভোট দেননি, তাদেরও মন জয় করে আমি সবার প্রতিনিধি হতে চাই। সমাজকে এমনভাবে সাজাবো যেখানে আমার কট্টর শত্রুর প্রতিও কেউ অবিচার করতে পারবে না।”

 

অন্যদিকে, কুমিল্লা-৫ আসনের নবনির্বাচিত এমপি জসিম উদ্দিন এক অনন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের পর তাঁর এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী বা তাঁদের ঘরবাড়িতে কোনো ধরণের হামলা বা প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “শান্তি ও সহনশীলতাই আমাদের মূল অঙ্গীকার। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড ঘটলে আইন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

 

কুমিল্লা-২ আসনের অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হবে নির্বাচনি এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং সংসদে বলিষ্ঠ কণ্ঠে কুমিল্লার সমস্যার কথা তুলে ধরা।

স্থানীয় ভোটারদের মনে এখন নতুন এক আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে ‘কুমিল্লা বিভাগ’ করার দীর্ঘদিনের দাবি এবার সংসদে নতুন জোরালো ভূমিকা পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রবীণদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এই ৫ নতুনের উদ্যম কুমিল্লার ভাগ্যোন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশেষ প্রতিবেদন

View more
ছবি: সংগৃহীত।
মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে ‘বাথটাব রিং’

লাল গ্রহ মঙ্গলে এক সময় কি সত্যিই নীল জলরাশি বয়ে চলত? এই প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন এক জোরালো প্রমাণ পেয়েছেন, যা এই সম্ভাবনাকে প্রায় নিশ্চিত করে তুলেছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধে এক বিশাল প্রাচীন সমুদ্রের উপকূলীয় স্তর বা 'কোস্টাল শেলফ' (Coastal Shelf) খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (ক্যালটেক) এবং ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট অস্টিন-এর গবেষকদের মতে, কয়েকশ কোটি বছর আগে মঙ্গলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সমুদ্রের নিচে ছিল। এই সমুদ্রটি ছিল অনেকটা পৃথিবীর মহাদেশীয় সোপানের (Continental Shelf) মতো। গবেষক দলের প্রধান আবদুল্লাহ জাকি জানান, তারা নাসার ‘মার্স অরবিটার লেজার অল্টিমিটার’ (MOLA) থেকে প্রাপ্ত ডেটা ব্যবহার করে মঙ্গলের ভূ-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করেছেন। সেখানে তারা এমন এক সমতল ভূমি বা উপকূলীয় ধাপের সন্ধান পেয়েছেন, যা কেবল দীর্ঘস্থায়ী এবং বিশাল কোনো সমুদ্রের ঢেউ ও পলির মাধ্যমেই সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। একে বিজ্ঞানীরা বর্ণনা করছেন অনেকটা 'বাথটাব রিং'-এর মতো—যেমন বাথটাবের জল কমে গেলে দেয়ালে একটি দাগ থেকে যায়, ঠিক তেমনি মঙ্গলের বুকে এই চিহ্নটি প্রাচীন সমুদ্রের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই উপকূলীয় স্তরটি প্রায় ৬৬০ থেকে ১৩০০ ফুট চওড়া। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মঙ্গলের এই সমুদ্রটি কেবল অল্প সময়ের জন্য ছিল না, বরং কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে স্থিতিশীল ছিল। নদীগুলো যখন সমুদ্রে এসে পড়ত, তখন তারা প্রচুর পলি ও কাদা বহন করে নিয়ে আসত, যা কালক্রমে এই শেলফ তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার কেবল মঙ্গলের ইতিহাস নয়, বরং সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনাকেও আরও জোরালো করে তুলল। যদি সেখানে দীর্ঘকাল সমুদ্র থেকে থাকে, তবে সেখানে অণুজীব বা অন্য কোনো প্রাণের বিবর্তন ঘটাও অসম্ভব নয়। ২০৩০ সালে মঙ্গলে অবতরণ করতে যাওয়া ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভারটি এই অঞ্চলে প্রাণের সন্ধান চালাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবিঃ এআই । আমেরিকা বাংলা

প্রযুক্তির দাপট বনাম কৌশলের লড়াই: আমেরিকা-ইরান 'অসম যুদ্ধের' নেপথ্যে

ছবি: সংগৃহীত।

ধানমন্ডি ৩২-এর ধ্বংসস্তূপকে ইসরায়েলের হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ছবি দাবি!

ছবি: সংগৃহীত

পাসপোর্ট নবায়ন এখন হাতের মুঠোয়: জেনে নিন ঘরে বসেই ই-পাসপোর্ট রিনিউ করার সহজ নিয়ম ও খরচ

ছবি: সংগৃহীত।
যিশুর শেষ শয্যায় বাংলাদেশের ছোঁয়া? তুরিনের রহস্যময় চাদরে মিলল চমকপ্রদ তথ্য

যিশুর শেষ শয্যায় বাংলাদেশের ছোঁয়া? তুরিনের রহস্যময় চাদরে মিলল চমকপ্রদ তথ্য হযরত ঈসা (আঃ) বা যিশু খ্রিস্টের পবিত্র দেহ যে চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল, সেই ঐতিহাসিক ‘শবাচ্ছাদন বস্ত্র’ বা ‘শ্রাউড অব তুরিন’ নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যে যুক্ত হলো নতুন এক মাত্রা। সাম্প্রতিক এক ডিএনএ গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই পবিত্র কাপড়ের সঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের গভীর সংযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশও এই উপমহাদেশের অংশ। ইতালির পাডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিয়ান্নি বারকাচ্চিয়ার নেতৃত্বে একদল গবেষক এই চাদর থেকে পাওয়া ধূলিকণা এবং ফাইবারের জেনেটিক বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কাপড়টিতে থাকা ডিএনএ-র প্রায় ৩৮.৭ শতাংশই উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভূত।  বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই কাপড়টি প্রাচীন সিন্ধু উপত্যকা অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত লিনেন বা সুতো দিয়ে তৈরি হয়ে থাকতে পারে, যা প্রাচীন রেশম পথ বা সমুদ্রপথে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছিল। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, গুড ফ্রাইডে-তে যিশুর দেহ ক্রুশ থেকে নামানোর পর একটি মসীনার কাপড়ে জড়িয়ে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।  ইতালির তুরিন শহরের ‘ক্যাথিড্রাল অব সেন্ট জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট’-এ সংরক্ষিত এই ৪.৩৬ মিটার লম্বা কাপড়ে আজও এক দীর্ঘকায় পুরুষের আবয়ব এবং রক্তের ছাপ দৃশ্যমান। নতুন এই গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যিশুর সেই অন্তিম বিদায়ের চাদরটি হয়তো তৎকালীন উপমহাদেশের দক্ষ কারিগরদের বোনা কাপড় ছিল।  যদিও এই চাদরটির সত্যতা নিয়ে বিজ্ঞান মহলে বিতর্ক রয়েছে, তবে উপমহাদেশের সাথে এর বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র স্থাপনের এই দাবি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।

চীনে মিলল কোটি কোটি বছরের পুরনো জীবাশ্ম: বদলে যেতে পারে পৃথিবীর বিবর্তনবিদ্যার ইতিহাস

ধর্ষণের পশুবৃত্তি

ধর্ষণের পশুবৃত্তিকে রুখবে কোন শক্তি: ভয়, আইন নাকি সামাজিক বিবেক?

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পিএস হতে সচিবালয়ে দৌড়ঝাঁপ

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম
সাহসী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বিদায়

জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কেন্দ্রবিন্দু ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ (আইসিটি)-এর নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দেড় বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এই নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।   তাজুল ইসলামের দেড় বছর: এক সাহসিকতার ইতিহাস ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর ৭ সেপ্টেম্বর আইসিটির হাল ধরেছিলেন তাজুল ইসলাম। তাঁর দেড় বছরের কর্মমেয়াদে জুলাই গণহত্যার বিচারে অভাবনীয় গতি আসে। তাঁর টিমের কঠোর পরিশ্রমে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ২৬ জন অপরাধীর মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা নিশ্চিত হয়। এছাড়া আয়নাঘর বা গুমের ঘটনায় জড়িত প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রেও তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। বিদায় বেলায় তাজুল ইসলাম বলেন, "রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সাথে প্রশাসনিক পরিবর্তন স্বাভাবিক। আমি আশা করি, নতুন যিনি আসছেন তিনি বিচারপ্রার্থী ও নির্যাতিত মানুষের কথা মাথায় রেখে সুবিচার নিশ্চিত করবেন।"   কে এই আমিনুল ইসলাম? নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে। তিনি এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি এখন থেকে ‘অ্যাটর্নি জেনারেল’-এর সমান পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিদায়ী প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।   জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার দায়িত্ব নিয়েই আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে তাঁর লক্ষ্য পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, "আমি জুলাই বিপ্লবের প্রতিটি শহীদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় আমি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পূর্ণ সহযোগিতা করব। আমার স্পষ্ট বার্তা হলো— যারা নির্দোষ তারা কোনোভাবেই হয়রানির শিকার হবেন না, কিন্তু যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের সর্বোচ্চ সাজা পেতেই হবে।" নির্বাচিত সরকারের অধীনে বিচারকাজে আরও গতি আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।   বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের চিত্র আইসিটিতে বর্তমানে ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১টি মামলার বিচার সচল রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড এবং রামপুরা গণহত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলো এখন রায়ের অপেক্ষায়। বর্তমানে ৪৫৭ জন আসামির মধ্যে ১৬১ জন গ্রেপ্তার থাকলেও ২৯৩ জন এখনো পলাতক। নতুন নেতৃত্বের অধীনে এই পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনা এবং বিচার কাজ শেষ করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

আমাকে বিদেশ সফরে যেতে বাধা দিয়েছে ইউনূস সরকার

ছবি: সংগৃহীত

বাদ দেওয়া হচ্ছে আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর উনি পরিষ্কার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথেই হাঁটছেন: ফারুকী

0 Comments