আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
তুষার ঝড়
তুষার ঝড়

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

 

সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact)

টেক্সাস (Texas)
ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ওকলাহোমা (Oklahoma)
বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা।

আর্কানসাস (Arkansas)
হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে।

কেন্টাকি (Kentucky)
মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে।

ওহাইও (Ohio)
ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা।


মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact)

টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব
জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা
নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি
সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা
ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে


তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact)

মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না।


পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব

ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে।


প্রস্তুতি ও সতর্কতা

  • জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন
  • বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন
  • স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ১১ শীর্ষ বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু ও অন্তর্ধান নিয়ে তোলপাড়

যুক্তরাষ্ট্রে এগারোজন শীর্ষ বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু এবং নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো গভীর যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা। বিশেষ করে ৩৪ বছর বয়সী গবেষক অ্যামি এসক্রিজের মৃত্যুর বিষয়টি এই রহস্যের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।   অ্যান্টি-গ্রাভিটি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণারত অ্যামিকে ২০২২ সালের জুনে অ্যালাবামার হান্টসভিলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মাথায় গুলির ক্ষত ছিল এবং সে সময় পুলিশ বিষয়টিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেয়। তবে দীর্ঘ চার বছর পর অ্যামির পাঠানো কিছু চাঞ্চল্যকর টেক্সট মেসেজ সামনে আসায় তৎকালীন পুলিশি তদন্ত ও সিদ্ধান্তের সত্যতা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।   ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ফ্রাঙ্ক মিলবার্নের কাছে মৃত্যুর মাসখানেক আগে পাঠানো বার্তায় অ্যামি লিখেছিলেন, যদি কখনো শোনা যায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বা ড্রাগ ওভারডোসে মারা গেছেন, তবে তা যেন কেউ বিশ্বাস না করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এমন কিছু ঘটলে তা নিশ্চিতভাবেই স্বাভাবিক মৃত্যু হবে না। এই বার্তাগুলো এখন বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক মৃত্যুর পেছনে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করছে।   ফ্রাঙ্ক মিলবার্নের দাবি, অ্যামি এবং তার সহকর্মীরা যারা উন্নত জ্বালানি ও প্রপালশন নিয়ে কাজ করছিলেন, তাদের দীর্ঘ দিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। বিজ্ঞানীদের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে এবং তাদের মুখ বন্ধ রাখতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর অন্তর্ধান ও মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা চলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসন দমনে সিনেটে আইসের জন্য ৭০ বিলিয়ন ডলার ৫০-৪৮ ভোটে পাস

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মানুষ কেবল সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শ্রেণিকক্ষে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক বৈধ—আপিল আদালতের রায়

ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম আবেদনে প্রত্যাখ্যানের হিড়িক: উদ্বেগে প্রবাসী বাংলাদেশীরা

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম প্রত্যাশীদের জন্য সময়টা এখন চরম চ্যালেঞ্জের। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কড়াকড়ির ফলে অ্যাসাইলাম আবেদনের অনুমোদনের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে অনেক আবেদনকারীকে সরাসরি বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দ্রুততম সময়ে অ্যাসাইলাম মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। আগে যেখানে একটি মামলার রায় আসতে বছরের পর বছর সময় লাগত, এখন কয়েক মাসের মধ্যেই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের ফলে অনেক আবেদনকারী পর্যাপ্ত প্রমাণাদি উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছরের মধ্যে আবেদন করার নিয়মটি কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়লেও অনুমোদনের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে ২.২ মিলিয়নের বেশি অ্যাসাইলাম আবেদন ঝুলে আছে এবং ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলার সংখ্যা ৩.৬ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এই পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আবেদনকারীরা আবেগের বশবর্তী হয়ে বা দালালদের খপ্পরে পড়ে অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করছেন। তদন্তে এই জালিয়াতি ধরা পড়লে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ হারানোর পাশাপাশি দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক এবং ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। প্রতিটি আবেদন এখন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশিদের অনেক আবেদনে ভুল ও মিথ্যা তথ্যের প্রমাণ মিলছে, যা ইমিগ্রেশন বিভাগের নজরে আসছে। মিথ্যা তথ্যের দায়ভার সম্পূর্ণ আবেদনকারীর। এর ফলে শুধু আবেদন বাতিলই নয়, বড় ধরনের আইনি ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।” আইনজীবীদের পরামর্শ হলো, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার সময় অবশ্যই সঠিক তথ্য ও পর্যাপ্ত প্রমাণাদি সাথে রাখতে হবে। জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নির্যাতিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া আবেদন করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ: রহস্য ঘনীভূত, উঠছে নতুন প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক প্রাইমারি সামনে: শ্রমজীবী প্রার্থীদের পক্ষে সিএএএভি ভয়েসের সমর্থন

সিনিয়র ইনভেস্টিগেটিভ অ্যানালিস্ট তৌহিদ দেওয়ান

যৌন হেনস্থার অভিযোগ, নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার ম্যানহাটন ডিএ অফিসের বাংলাদেশী কর্মকর্তা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

দুই সপ্তাহ আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তির মতোই আবারও অবস্থান বদল করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই আগে যেমন স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, তেমনি এবারও একই ধারা অনুসরণ করে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে আবারও সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আলোচনা চলমান থাকায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হচ্ছে।   যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হলেও হরমুজ প্রণালিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পাশাপাশি দুটি জাহাজ জব্দ করার কথা জানিয়েছে।   জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নৌ অবরোধ তুলে নেয়, তাহলে তেহরান আবারও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে প্রয়োজন হলে তবেই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   এরই মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্ভাব্য সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দল প্রস্তুত থাকলেও ইরানের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা না আসায় শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল করা হয়। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণেই তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। যদিও এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি। তার মতে, নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়াই এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   ইজাদি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সেনা মোতায়েন রাখতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ইরান প্রসঙ্গে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে থাকায় রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন।   এদিকে হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ছাড়াও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করলে ইরানের ওপর চাপ কিছুটা কমবে এবং আলোচনার পথ খোলা থাকবে—এমন ধারণা থেকেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান আলোচনায় ফেরার আগ্রহ দেখালে নতুন করে বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা দুই দেশের অর্থনীতিতেই প্রভাব ফেলছে, তাই দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা রয়েছে।   তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো নমনীয়তার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী জানিয়েছেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার বাস্তব কোনো গুরুত্ব নেই। তার ভাষায়, ‘পরাজিত পক্ষ কখনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না’, এবং অবরোধ ও সামরিক হামলার মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই।   ইরান আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, হুমকি বা চাপের মধ্যে তারা আলোচনায় বসবে না। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলাপে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন—নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হলে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে না।   অন্যদিকে, পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, নিষেধাজ্ঞা এবং হুমকিই প্রকৃত সংলাপের পথে প্রধান বাধা। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ও কার্যক্রমের মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করছে।   পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ জব্দের ঘটনা। মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি জাহাজ আটক করার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আইআরজিসি দুটি বিদেশি জাহাজ জব্দ করে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।   এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।   রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, আলোচনার নামে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি নেই, এবং অতীতে এমন প্রতিশ্রুতির ফাঁদে ইরান পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্টের ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় করাকড়ি; দিতে হবে অগ্রিম ১৫০০০ হাজার ডলারের বন্ড

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬% শিশুর নিশ্বাসে বিষ! অনুদান দিলেও ঘরের বাতাস সামলাতে ব্যর্থ আমেরিকা

ছবি: সংগৃহীত

ইউনিস্যাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মাহিয়ান আরাফ সিয়াম

0 Comments