অর্থনীতি

খলিলুর রহমান পেলেন দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর ঢাকা-নয়াদিল্লির কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হয়েছে। রোববার বিকেলে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন।

 

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে হাইকমিশনার জানিয়েছেন, ভারতের সরকার বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে জনমুখী সহযোগিতা, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং একটি গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারত্ব গড়ে তোলা নতুন সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির প্রধান লক্ষ্য।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অগ্রগামী অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

 

হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা স্মরণ করিয়ে দেন, নির্বাচনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ চিঠি হস্তান্তর করেছেন। ভারতের পক্ষ পুনর্ব্যক্ত করেছে, তারা একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

অর্থনীতি

View more
ছবি: সংগৃহীত
৪৭ দিন পর হরমুজ পাড়ি দিচ্ছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ৪৭ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।   শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। এর পেছনে আরও ৮ থেকে ১০টি জাহাজ একই পথে চলাচল করছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, রাত তিনটার দিকে জাহাজটি পুরো প্রণালি অতিক্রম করার কথা রয়েছে।   এর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করলেও ইরান সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি আরব আমিরাতের মিনাসাকার বন্দরের বহির্নোঙরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।   বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ অতিক্রমের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দরে তেল সংগ্রহ (ব্যাংকারিং) করা হবে। এরপর জাহাজটির গন্তব্য নির্ধারিত রয়েছে আফ্রিকার মোজাম্বিক অথবা দক্ষিণ আফ্রিকা।   জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সাশ্রয়ে রেশনিং করে তা দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাদ্য বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে এবং দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ওয়ার অ্যালাউন্স।   উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে পণ্য নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর-এ পৌঁছায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট সংঘাতের কারণে জাহাজটির যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়।   পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে ফেরত আনা হলেও অবশেষে যুদ্ধবিরতির সুযোগে আবারও গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট প্রস্তাব; কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব

ফাইল ছবি।

সারচার্জ বাতিল করে ‘সম্পদ কর’ চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার

দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। সংগৃহীত ছবি

রেকর্ড আড়াই লাখ টাকা ছাড়াল স্বর্ণের দাম; ভরিতে বাড়ল ২,২১৬ টাকা

ছবি - সংগৃহিত
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে চায় বাংলাদেশ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেশ কিছু চমক রাখতে চায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। মূলত দুর্নীতি কমিয়ে অর্থনীতিতে আস্থা ফেরানো মূল লক্ষ্য আসছে বাজেটে। কর আদায়ে আসবে একাধিক নতুন কৌশল। সব নাগরিককে আনা হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আওতায়।    প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর  জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার চেষ্টা চলছে জোরেশোরে।    চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন বাজেট প্রণয়নে তিন মাস সময় পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। এর আগে থেকেই অর্থনীতিতে বিশাল সব সংকট। লক্ষ্যের ধারে কাছেও নেই রাজস্ব আদায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ব্যয় আর বিদ্যুতে ভর্তুকি নিয়ে বড় মাথাব্যথা। এমনকি কমছে না নিত্যপণ্যের দাম। এ অবস্থায় নতুন বাজেট আকারে ছোট হবে, নানা মহলে এমন আলোচনা ছিল, কিন্তু হচ্ছে তার উল্টো।    আগের চেয়ে ১৪ শতাংশ বাড়িয়ে সংসদে ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট পেশ করতে পারে নতুন সরকার। যার সাড়ে ৬ লাখ কোটি আদায় করতে হবে রাজস্ব বিভাগকে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। অর্থের সংকট থাকলেও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। বাজেটের ৬৭ ভাগ ব্যয় হতে পারে পরিচালন খাতে।    প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, প্রথম কাজ হচ্ছে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা। একইসঙ্গে যাতে দারিদ্র্য না বাড়ে সেজন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা করা। তারপর অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি করা। আমরা অতীতে বিএনপি সরকারের সময় দেখেছি, ২ শতাংশীয় পয়েন্ট আকারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যেটা অন্য সরকারের সময় হয়নি। সেজন্যই আমরা বলছি, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি সম্ভব। নতুন রাজস্ব লক্ষ্যে প্রভাব ফেলছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তে। সেই ধারাবাহিকতায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে কর অব্যাহতি আর প্রণোদনা। সারচার্জের বদলে আরোপ হতে পারে সম্পদ কর। আয়কর রিটার্ন যাচাই হবে বাড়ির মালিকদের। ভ্যাটের আওতায় আসবে এসএমই খাত। অনেক লেনদেনে বাধ্যতামূলক হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যবহার।   প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ ও ‘ওয়ান ডিজিটাল আউটলেট’ চালুর দিকে এগোচ্ছি আমরা। এ লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে নানা পরিকল্পনা। প্রথম ধাপে দেশের প্রতিটি মানুষের ব্যাংক হিসাব নিশ্চিত করা হবে। এরপর সবাই কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন করবে। এতে কর ফাঁকি, কর পরিহার বা জালিয়াতির সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে।      নতুন বাজেটে গুরুত্ব পাবে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি। ইশতেহারে আর্থিক-সামাজিক চুক্তির কথা বলেছিল বিএনপি, তারমানে জনগণ কর দেবে আর সরকার দেবে সেবা। সেই লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা হেলথ কার্ড নিয়ে তোড়জোড় বেশি। এসব বাস্তবায়নে দরকার বাড়তি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। তাহলে কীভাবে সামলাবে সরকার? সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সরকার যেভাবে ঋণ করার উদ্যোগ নিচ্ছে, তাতে করে বেসরকারি খাতের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত ঋণ থাকার সুযোগ কম। এবং সেখানে একটা ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট হবে—ইতোমধ্যে সেটার একটা চাপ রয়েছে। সেই জায়গায় করে বিদেশ থেকে বাড়তি ফান্ড ফ্লো যদি এই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বা পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় যুক্ত না করা যায়, তাহলে নতুন করে বিনিয়োগ বৃদ্ধি বা কর্মসংস্থান—সেই জায়গাটিও কিন্তু কষ্ট হবে।    জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট ঘোষণা হতে পারে আগামী ১১ জুন। অর্থনীতির এত সংকটের মাঝে বাজেট দিয়ে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকানোর সুযোগ নতুন সরকারের সামনে। রাজনৈতিক দল হিসেবে নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ নিঃসন্দেহে থাকবে সরকারের, সেজন্য সবার আগে বাজেটের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে। সংগৃহীত ছবি

টাকার বিনিময়ে আজ কোন দেশের মুদ্রা কত? দেখে নিন ১৭ এপ্রিলের আপডেট

ফাইল ছবি

রিজার্ভে বড় স্বস্তি; ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দারিদ্র্য বাড়ার শঙ্কা: বাংলাদেশের অগ্রগতি ঝুঁকিতে—ইউএনডিপি

আইএমএফের পূর্বাভাস - সুখবরের পাশাপাশি আছে দুঃসংবাদও

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সুখবরের পাশাপাশি দুঃসংবাদের পূর্বাভাসও দিয়েছে।   তারা বলছে, সুসংবাদের মধ্যে চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবে সরকারের রাজস্ব আয় সামান্য বাড়বে। তবে দুঃসংবাদের মধ্যে রয়েছে-একই হিসাবে সামগ্রিকভাবে সরকারের ঘাটতি বেড়ে যাবে। পাশাপাশি একদিকে সরকারের ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনই বৈদেশিক ঋণের প্রবাহ কমবে। মানুষের স্বার্থে সরকারি খাতের ব্যয় বাড়লেও অনেক দেশের তুলনায় এ বৃদ্ধির হার বেশ কম। সোমবার রাতে প্রকাশিত আইএমএফ-এর এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়।   প্রতিবেদনে সরকারের আর্থিক অবস্থার সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের বিভিন্ন খাত নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সরকারের ব্যয় গত অর্থবছরে বেশ কমে গিয়েছিল। তবে চলতি অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় বাড়বে। ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সরকারের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া। এ অবস্থায় বিভিন্ন খাতে সরকার আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সমন্বয় না করলে ভর্তুকি বাড়বে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপির হিসাবে সরকারের সামগ্রিক ভারসাম্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ ঘাটতি আরও কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং আগামী অর্থবছরে তা আরও বেড়ে সাড়ে ৪ শতাংশ হতে পারে। পরে ২০২৭ থেকে ২০৩০-এ দুই অর্থবছরে আরও বেড়ে ৫ শতাংশ হতে পারে।   গত অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় কমে জিডিপির হিসাবে ৭ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছিল। চলতি অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে জিডিপির হিসাবে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। আগামী অর্থবছরে সামান্য বেড়ে ৯ দশমিক ১ শতাংশ উন্নীত হতে পারে। এর পরের কয়েক বছরে এটি বেড়ে সাড়ে ৯ শতাংশে যেতে পারে।   আইএমএফ-এর অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা নেওয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে। দেশে বিনিয়োগের পরিবেশও উন্নত হবে। এর প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া বিগত সরকার রাজস্ব খাতে যে সংস্কার কর্মসূচি শুরু করেছিল, তা বর্তমান সরকার অব্যাহত রাখলে রাজস্ব আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অর্থবছরের সরকারি ব্যয় কমে গিয়ে ১১ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছিল। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে। আগামী অর্থবছরে বেড়ে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়াতে পারছে না। যে কারণে এ দুটি খাতে সার্বিক সেবার মান উন্নত হচ্ছে না।   সূত্র জানায়, রাজস্ব আয় কমায় সরকার নির্ভর করছে বৈদেশিক ঋণের ওপর। এর মধ্যে বৈদেশিক খাতে ভারসাম্য রক্ষায় সরকারকে বৈদেশিক ঋণও নিতে হচ্ছে। এই ঋণের বড় অংশই যাচ্ছে আগের সরকারের নেওয়া ঋণ পরিশোধে। ফলে সরকার ঋণ নিয়েও উন্নয়ন খাতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারছে না।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।

বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল আইএমএফ, ভয়াবহ মন্দার শঙ্কা

প্রবাসী আয়ে সুবাতাস, ১১ দিনে এলো ১৪ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লা নোট বদলে দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের; অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

0 Comments