আন্তর্জাতিক

প্রতিযোগিতার চাপে ইউরোপে বাজার হারানোর সংশয় রয়েছে বাংলাদেশর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
প্রতিযোগিতার চাপে ইউরোপে বাজার হারানোর সংশয় রয়েছে  বাংলাদেশর
প্রতিযোগিতার চাপে ইউরোপে বাজার হারানোর সংশয় রয়েছে বাংলাদেশর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন(ইইউ) ওভারতের মধ্যে একটি বৃহৎ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মানুষ একে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে অভিহিত করছে জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এ চুক্তি দুই অঞ্চলের জনগণের জন্য বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করবে।


ইউরোপীয় ইউনিয়ন(ইইউ) ওভারতের মধ্যে একটি বৃহৎ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মানুষ একে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে অভিহিত করছে জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এচুক্তি দুই অঞ্চলের জনগণের জন্য বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করবে। ভারতের গোয়ায় গতকাল ইন্ডিয়া এনার্জি উইক ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে (এফটিএ)দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে সহযোগিতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।


ইইউওভারতের মধ্যে হতে যাওয়া এফটিএ চুক্তি অবশ্য তৈরি পোশাকভিত্তিক রফতানিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইইউর সঙ্গে এফটিএর মাধ্যমে বাংলাদেশও যদি প্রতিযোগিতার সমান ক্ষেত্র তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে অবধারিতভাবে ইউরোপে বাংলাদেশী তৈরি পোশাকের বাজার হারানোর আশঙ্কা করছেন এখাতের রফতানিকারকরা। তবে ২০২৯ সালে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়া পর্যন্ত ইইউ ওভারতের মধ্যে হতে যাওয়া এফটিএ চুক্তির তেমন কোনো প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়বে না বলেও জানিয়েছেন তারা।


আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন,ভারত ওইইউর চুক্তির প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশকে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। কারণ এর গুরুত্বপূর্ণ বা সুদূরপ্রসারী প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়তে পারে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ভারত পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পারে। সুতা-কাপড়ে ভারতের স্থানীয় শিল্পসক্ষমতা অনেক বড়ও শক্তিশালী।ফলে দেশটি থেকে আমদানিতে পণ্যের উৎপত্তিস্থল বা রুলস অব অরিজিন-সংক্রান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের শর্ত ভারত সহজেই উতরাতে পারবে।
অন্যদিকে, এলডিসি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরে ইইউতে বাংলাদেশ কী পাবে সেটা এখনো ঠিক হয়নি। গ্র্যাজুয়েশনের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশ করতে গেলে পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো সুবিধা নাও পেতে পারে। যদি তা-ই হয়, তাহলে বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর ইইউতে বাংলাদেশকে জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।তবে জিএসপি প্লাস পেলেও বাংলাদেশ পোশাক পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না।


কারণ ওই সুবিধা পেতে ইইউর রুলস অব অরিজিন শর্তের যে সীমা,তার চেয়ে অনেক বেশি পোশাকপণ্য ওই অঞ্চলে রফতানি করে বাংলাদেশ। এসীমার বিষয়টি যদি অনুকূলে আনা সম্ভব না হয়, তাহলে চরমভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের ওপর। আর জিএসপি প্লাস সুবিধার মধ্যে বাংলাদেশের পোশাক পণ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে সমতাসূচক অবস্থান তৈরি হবে।সমান অবস্থান হলেও ভারতের যেহেতু স্থানীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প অনেক শক্তিশালী, কাজেই সেখানে অনেক বেশি প্রতিযোগিতা মোকাবেলা করতে হবে।


রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের আরএপিআইডিচেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইইউ-ভারত এফটিএ আলোচনা সম্পন্নের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে এখন দ্রুত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এনগেজ হতে হবে।নিশ্চিত করতে হবে এলডিসির পর ইইউতে যেন বাংলাদেশও ভালো একটা ডিল পায়। না হলে বাংলাদেশ মারাত্মক প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। আমি মনে করি, ভারত-ইইউ চুক্তি আগামী দিনগুলোয় বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। পোশাকের বাইরে বাংলাদেশের রফতানি পণ্য তেমন কিছু নেই, আর ইউরোপে পোশাক পণ্যই সবচেয়ে বেশি রফতানি করে বাংলাদেশ। কাজেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে আমাদের পোশাক পণ্যের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা অনেক বাড়বে।


ওচুক্তির ফলে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বণিক বার্তাকে আরো বলেন,হ্যাঁ। বিশেষ করে এখন জিএসপি পাওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে শর্ত আছে, সেগুলো যদি একই রকম থাকে, তাহলে অবশ্যই আমাদের ওপর বড় মাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।ফলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বসতে হবে। নিশ্চিত হতে হবে যে ইইউতে বাংলাদেশ জিএসপি প্লাস সুবিধা পাবে এবং একই সঙ্গে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। জিএসপি প্লাসের ক্ষেত্রে রুলস অব অরিজিনে বাংলাদেশকে দুই স্তরের (ডাবল স্টেজ) শর্ত প্রতিপালন করতে হবে,এ বিষয়টিই দরকষাকষির মাধ্যমে এক স্তরের সুবিধায় আনতে হবে।’


গতকাল প্রকাশিত এফটিএ আলোচনা সম্পন্নবিষয়ক ইইউর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়,ইউরোপীয় ইউনিয়নওভারত আজ একটি ঐতিহাসিক, উচ্চাভিলাষী এবং বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির(এফটিএ) আলোচনা সম্পন্ন করেছে। এটি উভয় পক্ষের জন্যই এখন পর্যন্ত করা সবচেয়ে বড় এফটিএ। এ চুক্তি এমন এক সময়ে বিশ্বের দ্বিতীয়ও চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরো গভীর করবে, যখন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাওবৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। একই সঙ্গে এটি অর্থনৈতিক উন্মুক্ততাও নিয়মভিত্তিক বাণিজ্যের প্রতি উভয় পক্ষের যৌথ অঙ্গীকারকে তুলে ধরছে।


ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেন, ‘আজ ইইউও ভারত ইতিহাস সৃষ্টি করল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই গণতন্ত্রের অংশীদারত্ব আরো গভীর হলো। আমরা ২০০কোটি মানুষের একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি করেছি,যেখানে উভয় পক্ষই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। আমরা বিশ্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে নিয়মভিত্তিক সহযোগিতা এখনো বড় সাফল্য এনে দিতে পারে।আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কেবল শুরু,এ সাফল্যের ওপর ভর করে আমরা সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করব।’


বর্তমানে ইইউও ভারতের মধ্যে বছরে১৮০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি পণ্যওসেবার বাণিজ্য হয়, যা ইইউর প্রায় আট লাখ কর্মসংস্থানকে সমর্থন করে।এ চুক্তির ফলে ২০৩২সালের মধ্যে ভারতে ইইউর পণ্য রফতানি দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ভারতে ইইউর ৯৬ দশমিক৬ শতাংশ পণ্য রফতানির ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাতিল বা কমানো হবে। সামগ্রিকভাবেএ শুল্ক হ্রাসের ফলে ইউরোপীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বছরে প্রায়৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়,ইইউও ভারতের মধ্যে এফটিএ আলোচনা প্রথম শুরু হয় ২০০৭ সালে।২০১৩ সালে আলোচনা স্থগিত হয় এবং ২০২২ সালে পুনরায় শুরু হয়। শেষ(১৪তম) আনুষ্ঠানিক আলোচনার রাউন্ড হয়২০২৫ সালের অক্টোবরে।একই সঙ্গে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই)ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে।


এফটিএ আলোচনা সম্পন্নের ঘোষণায় ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারকদের।কারণ বাংলাদেশী পোশাক রফতানির সবচেয়ে বড় অঞ্চল ইইউ। অর্থমূল্য বিবেচনায় বাংলাদেশের মোট পণ্য রফতানির ৮১ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক। পণ্যটির মোট রফতানির৫০ শতাংশই হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয়। ফলে সুতাওকাপড় উৎপাদনে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের টিকে থাকা নিয়ে সংশয় আরো বেড়ে গেছে।


ভারত-ইইউ এফটিএর প্রভাব ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি কেমন জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের কোনো প্রস্তুতি নেই।সরকারের প্রস্তুতি নেয়ার কথা কিন্তু নিচ্ছে না।বরং সরকার মনে করছে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর বাংলাদেশের কিছু হবে না। যেহেতু ভারত এফটিএ করছে, আরএমুহূর্তে আমরা যেহেতু পারছি না,উচিত ছিল ফেব্রুয়ারিতেই আবেদনের মাধ্যমে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রক্রিয়াটি অন্তত তিন বছরের জন্য পিছিয়ে দেয়া।এতে করে আমরা অন্তত ছয় বছর সময় পেতে পারতাম ইইউর সঙ্গে এফটিএ করার জন্য। ভারত কমপক্ষে৯-১০ বছরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় এফটিএ আলোচনা সম্পন্ন করেছে। আমাদেরও অন্তত নয় বছর সময় লাগবে। এফটিএ কার্যকর হলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের২৪ শতাংশের গ্যাপ তৈরি হবে। বাংলাদেশ শূন্য শুল্ক পরিশোধ করত। গ্র্যাজুয়েশনের পর বাংলাদেশকে১২ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। ভারত বর্তমানে ১২ শতাংশ দিলেও এফটিএ কার্যকর হওয়ায় কোনো শুল্ক দেবে না। এভাবে পণ্যের মূল্য নির্ধারণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের২৪ শতাংশের গ্যাপ তৈরি হবে। ফলে প্রভাব কী ধরনের হবে তা সহজেই অনুমেয়।
 এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পরে ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার কোনো সুযোগই বাংলাদেশের থাকবে না।’


বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান গতকাল বণিক বার্তাকে বলেন,ইইউর সঙ্গে এফটিএ করার বিষয়ে যোগাযোগ হয়েছে।তাদের দিক থেকে সম্মতি পেলে আলোচনা শুরু হবে।বেশি দেরি হবে না।ভারতের সঙ্গে আলোচনায় ইইউর যে সময় লেগেছে সেটা স্বাভাবিক না।


ভারত-ইইউ চুক্তি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকে প্রভাব ফেলতে পারে কিনা,এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘আমরাএরকমটা মনে করছি না। আমরা ইইউতে জিএসপি প্লাস এবং এফটিএ—দুই ধরনের চেষ্টাই করছি। আশা করি দ্রুত আলোচনা সম্পন্ন করতে পারব। বাংলাদেশে ইইউর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনায় তাদের আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে।’


ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,২০২৪ সালে বাংলাদেশ ওভারত থেকে ইইউর পোশাক আমদানির অর্থমূল্য ছিল যথাক্রমে ১ হাজার৮২৭ কোটিও৪১৮ কোটি ডলার। ২০২৫সালের১১ মাসে বাংলাদেশ ওভারত থেকে ইইউ পোশাক আমদানি করেছে যথাক্রমে১ হাজার ৮০৫ কোটি ও ৪২৪ কোটি ডলারের। দুই দেশের প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ৬৫ও৮ দশমিক ৩১ শতাংশ।


পোশাক রফতানিকারকরা বলছেন দুই দেশের রফতানিতে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের ওপর ভারত-ইইউর এফটিএর কোনো প্রভাব না পড়লেও অঞ্চলটির সঙ্গে এফটিএ করতে বাংলাদেশ ব্যর্থ হলে দীর্ঘমেয়াদে বাজার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।


বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বণিক বার্তাকে বলেন,আপাতত কোনো ক্ষতি হবে না, কারণ আমরা শূন্য শুল্কে রয়েছি।এটা অব্যাহত থাকবে ২০২৯সাল পর্যন্ত। ওই পর্যন্ত আমাদের কোনো সমস্যা নেই।এ সময়ের মধ্যে দ্রুতগতিতে আমাদের প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট এবং এফটিএ করতে হবে।এ সময়ের মধ্যে ইইউর সঙ্গে পিটিএওএফটিএ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় করে ফেলবে বলে আজই আশ্বাস দেয়া হয়েছে। আমরা বলেছি, ভারতের এফটিএ করতে ১৯বছর সময় লেগেছে, আমাদের অনেক দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কনফিডেন্সের সঙ্গে বলা হয়েছে যে হাতে চার বছর সময় আছে,এসময়ের মধ্যে বাংলাদেশ চুক্তি করে ফেলবে।এ প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু করা উচিত ছিল। আপাতত আমরা ২০২৯ সাল পর্যন্ত টিকে থাকতে পারব।কিন্তু তারপর আমরা বাজার হারাব, যদি নাএসময়ের মধ্যে আমরা পিটিএ, এফটিএর মতো কিছু করতে না পারি।


শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক কালে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বস্ত্র খাতে আগ্রাসী শিল্পনীতি সহায়তা যেমন কম দামে জমি, বিক্রয়ের ওপর আয়করের অব্যাহতি, দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ আর্থিক সুবিধা প্রদান এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে দেশটির মিলগুলো প্রায় ৪০সেন্টের সমপরিমাণ সহায়তা পেয়ে প্রতি কেজি সুতা রফতানিতে উৎপাদন খরচের চেয়ে ৪০-৫০ সেন্ট মূল্য কমিয়ে বাংলাদেশে রফতানি করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের স্থানীয় দেশীয় মিলগুলো প্রতিযোগী দেশগুলোর প্রণোদনা প্রদত্ত মূল্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ফলেএখাতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে এবং তাদের বিনিয়োগ হুমকির মধ্যে পড়েছে।তৈরি পোশাকের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজেরএ ভঙ্গুরতা ভারত-ইইউ এফটিএ কার্যকর-পরবর্তী বাংলাদেশের শঙ্কাকে আরো ঘনীভূত করবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


আরএপিআইডি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে হলে বাংলাদেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প শক্তিশালী করার পাশাপাশিএর ব্যাপ্তি অনেক বাড়াতে হবে। অতি সম্প্রতি যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল স্টেজ সুবিধা বহাল রেখেছে। ফলে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে এফটিএ হওয়ার পরও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রটিতে সমতা থাকবে। প্রচেষ্টা চালিয়ে ইইউ থেকেও একই ধরণের সুবিধা আদায় করে প্রতিযোগীতায় সমতার ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রেও যথাযথ নীতি কার্যকর করতে হবে,যাতে করে মূল্য কমানোর অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা এড়ানো যায়।


বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও বাংলাদেশে ইইউ ডেলিগেশন সূত্রে জানা গেছে,গত সেপ্টেম্বরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছে ইইউ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের কার্যালয়।এ চিঠিতে বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্যও বিনিয়োগ সম্পর্ক-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলোর একটি তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে।চিহ্নিত নন-ট্যারিফ, নিয়ন্ত্রক, অন্যান্যসহ মোট ১৩টি চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ-ইইউর দীর্ঘমেয়াদিও গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী, ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক উন্নয়নে চিহ্নিত ১৩টি চ্যালেঞ্জের মধ্যে প্রথম পাঁচটি অশুল্ক বাধা-বিষয়ক। পরবর্তী আটটি নিয়ন্ত্রক বা নীতিগত ও অন্যান্য সমস্যা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।
ইইউ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চিঠিতে উল্লেখ করা উদ্বেগগুলো বিবেচনায় নিলে ইইউ ধরে নেবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে যে উদ্যোগ বাংলাদেশ নিয়েছে তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং বিষয়টিকে বাংলাদেশ যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। ইইউর উত্থাপন করা বিষয়গুলোয় বাংলাদেশ যথাযথ গুরুত্ব দিলে তা এফটিএ সহায়ক হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানের পথে অগ্রসর হলে এফটিএর জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি সহজ হবে।

 

প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

 

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
মদিনা বিমানবন্দরে প্রথম দফায় আগত হজযাত্রীদের ফুল উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান কর্মকর্তারা | ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করেছেন হজযাত্রীরা; মদিনায় প্রথম কাফেলার উষ্ণ অভ্যর্থনা

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনে সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এ বছরের হজের প্রথম কাফেলা। এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো ২০২৬ সালের পবিত্র হজ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক পথচলা।   মদিনা বিমানবন্দরে প্রথম দফায় আগত হজযাত্রীদের ফুল ও খেজুর দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে হজযাত্রীদের মদিনার মসজিদে নববীতে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে তারা নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কয়েক দিন অবস্থানের পর হজের মূল কার্যাদি পালনের জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।   সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে আরও অসংখ্য ফ্লাইট মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। আল্লাহর মেহমানদের জন্য পরিবহন, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে আলাদা সহায়তা দল।   চাঁদ দেখা সাপেক্ষে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছর মে মাসের শেষ সপ্তাহে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ লাখ মুসলিমের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: রয়টার্টস

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাজ্যে খাদ্য ও গ্যাস সংকটের আশঙ্কা; গোপন পরিকল্পনায় সতর্কতা

যুদ্ধবিধস্ত গাজা | ছবি: সংগৃহীত

গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে কায়রোতে যুক্তরাষ্ট্র ও হামাসের ঐতিহাসিক সরাসরি বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

আর্থিক সংকট ও শিক্ষার্থী হ্রাস: লন্ডনের শীর্ষ ইহুদি কলেজ বন্ধের ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান; ১০ বছর পর সেনা প্রত্যাহার

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনে সিরিয়া থেকে নিজেদের সর্বশেষ সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) হাসাকাহ অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘কাসরাক’ সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনী সরে যাওয়ার মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ এক দশকের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটল। ২০১৫ সাল থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করছিল।   সিরীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেনারা ঘাঁটিটি ত্যাগ করার পরপরই সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ৬০তম ডিভিশন সেখানে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের সম্ভাব্য হামলা এড়াতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মার্কিন সেনা ও সরঞ্জামগুলো জর্ডান সীমান্ত দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘাঁটিটি সিরীয় সরকারি বাহিনী ও সিরীয় ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) অধীনে রয়েছে।   সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে একে এসডিএফ-কে জাতীয় কাঠামোর সাথে একীভূত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে বাশার আল-আসাদকে পরাজিত করে ক্ষমতায় বসা আহমেদ আল-শারা সরকারের সাথে এসডিএফ-এর চুক্তির ফলেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। নতুন এই সরকারকে ওয়াশিংটন শুরু থেকেই সমর্থন দিয়ে আসছে।   বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের সাথে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই সেনা প্রত্যাহার বড় ভূমিকা রাখবে। ইরানের সাথে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এবং লেবাননে ইসরায়েলের সাথে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মধ্যেই মার্কিন সেনারা সিরিয়া ত্যাগ করল।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ বন্ধের’ নীতির অংশ হিসেবে এর আগে আল-তানফ এবং আল-শাদাদি ঘাঁটি থেকেও সেনা সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখন থেকে সিরিয়া রাষ্ট্র নিজেই তার ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদ দমনের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে বলে দামেস্ক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অলৌকিক উদ্ধার: খনি ধসের ১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ | ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল নয়, ইরানই এখন ‘প্রধান শত্রু’: আমিরাত প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা আলোচনা; মধ্যপ্রাচ্যে কি ফিরবে স্থায়ী শান্তি?

প্রায় আট সপ্তাহের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এখন এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার পর, আগামী ১৬ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, উভয় পক্ষের আলোচক দল পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   প্রথম দফার বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নেতৃত্ব দেন। সেখানে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিপূর্বে নিজেকে জয়ী দাবি করেছিলেন, তবুও রণাঙ্গনের চেয়ে কূটনীতিকেই এখন প্রাধান্য দিচ্ছে সব পক্ষ। তবে ইসরায়েলের অতীত ইতিহাস এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েই গেছে।   এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ফোনালাপে বর্তমান পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছেন। সৌদি আরব এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের স্থায়ী অবসানে এই সংলাপ-প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিশ্ববাসী এখন ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এই আলোচনা সফল হলে কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়াসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত হতে পারে। সংঘাতের পুনরায় বিস্তৃতি রোধে ইসরায়েলের সদিচ্ছাই এখন বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চুক্তির পথে ট্রাম্প; স্বাক্ষরিত হতে পারে পাকিস্তানে

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নৌ অবরোধ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হরমুজ প্রণালী পার ৪টি ইরানি জাহাজের

পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা কেবল ইসলামাবাদেই সম্ভব: ইরানি রাষ্ট্রদূত

0 Comments