বিশ্ব রাজনীতি

জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা

কুয়েতি তেলবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা: ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে দুবাই বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত একটি বিশাল জ্বালানি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে সংঘটিত এই হামলায় কুয়েতি মালিকানাধীন ‘আল-সালমি’ নামক জাহাজটির মূল কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর নাগাদ কয়েক ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে জাহাজটি থেকে সাগরে বিপুল পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়ার (Oil Spill) আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কঠোর হুঁশিয়ারির মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। ট্রাম্প সোমবার স্পষ্ট সতর্কবার্তায় বলেছিলেন, ইরান যদি অবিলম্বে বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ‘হরমুজ প্রণালি’ জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেলের খনিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে। ট্রাম্পের এই চরম আল্টিমেটামের জবাবেই ইরান দুবাই উপকূলে এই ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে একযোগে হামলা শুরু করার পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর আক্রমণের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। মাসব্যাপী চলা এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এক চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। দুবাইয়ের এই সর্বশেষ হামলা প্রমাণ করে যে, কূটনৈতিক আলোচনার গুঞ্জন থাকলেও মাঠ পর্যায়ে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই, বরং এটি একটি সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

বিশ্ব রাজনীতি

View more
পারমাণবিক বোম
শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীনের পারমাণবিক ভাণ্ডারের নজিরবিহীন বিস্তার

শি জিনপিংয়ের দূরদর্শী সামরিক কৌশলের অধীনে চীন তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাকে এক অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, যা বর্তমান বিশ্ব নিরাপত্তার সমীকরণকে আমূল বদলে দিচ্ছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে চীনের কাছে যেখানে প্রায় ৩০০টি কার্যকর পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে অন্তত ৬০০-তে পৌঁছেছে। এই দ্রুতগতির বিস্তার প্রমাণ করে যে, বেইজিং কেবল তার আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে চায় না, বরং ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমকক্ষ একটি বৈশ্বিক পারমাণবিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের ওয়ারহেড সংখ্যা ১,৫০০-এ পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে এক নতুন এবং বিপজ্জনক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   চীনের এই পারমাণবিক আধুনিকীকরণের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো তাদের প্রযুক্তির বহুমুখিতা এবং গোপনীয়তা। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিগুলোতে শত শত নতুন ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) সাইলো বা ভূগর্ভস্থ নিক্ষেপণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, যেখান থেকে অত্যাধুনিক ডিএফ-৪১ (DF-41) ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া সম্ভব।   একইসাথে চীন তাদের 'নিউক্লিয়ার ট্রায়াড' বা তিন স্তরীয় পারমাণবিক আক্রমণ ব্যবস্থা (স্থল, আকাশ ও সমুদ্র) সম্পূর্ণ করতে অত্যন্ত সক্রিয়। তারা যেমন সমুদ্রের তলদেশ থেকে পারমাণবিক হামলার জন্য অত্যাধুনিক সাবমেরিন তৈরি করছে, তেমনি আকাশে তাদের দূরপাল্লার বোমারু বিমানের বহরকেও ঢেলে সাজাচ্ছে। যদিও চীন দাবি করে আসছে যে তাদের এই পরমাণু নীতি কেবল "ন্যূনতম প্রতিরোধ"গড়ার জন্য এবং তারা কখনোই প্রথমে পারমাণবিক হামলা করবে না, তবুও তাদের ভাণ্ডারের এই বিশাল আকার ও আধুনিকায়ন আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ করে ওয়াশিংটনে চরম অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির এই সন্ধিক্ষণে চীনের এই পারমাণবিক উত্থান আগামী দিনে ক্ষমতার ভারসাম্যকে সম্পূর্ণ নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিবে |

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

পশ্চিমবঙ্গে ভোটাধিকার হারা লাখো মুসলিম

ছবি - সংগৃহিত

যে স্থানে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী শান্তি আলোচনা

ছবি - সংগৃহিত

মার্কিন অবরোধের ফলে চীনে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি পূরণ করবে রাশিয়া

ছবি - সংগৃহিত
ট্রাম্পকে মোকাবিলায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ঐতিহাসিক জয় ও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী বাণিজ্য ও রাজনৈতিক চাপের মুখে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতায় নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করেছেন।   উপ-নির্বাচনে বড় জয় এবং বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতার কার্নির লিবারেল পার্টিতে যোগদানের ফলে তারা পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছে।   এই জয়ের ফলে লিবারেল পার্টি এখন ১৭৩টি আসন নিয়ে হাউস অফ কমন্সে একক আধিপত্য বিস্তার করল যা কার্নিকে তার স্বাধীন নীতি বাস্তবায়নে এখন বাড়তি সাহস যোগাবে।   সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগের পর ক্ষমতায় আসা সাবেক এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকার বর্তমানে ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট নীতির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।   কার্নি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি আমেরিকার সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান বজায় রাখবেন তবে কোনোভাবেই নতি স্বীকার বা দাসত্ব মেনে নেবেন না যা সাধারণ কানাডীয়দের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে।   ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর হুমকি ও শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে কানাডার জনগণের মধ্যে এখন এক প্রবল দেশপ্রেম ও অভূতপূর্ব ঐক্যের জোয়ার বইছে।   এই ঐক্যের ফলে অনেক কানাডীয় এখন আমেরিকায় ভ্রমণ বর্জন করছেন এবং মার্কিন পণ্য কেনা থেকে বিরত থেকে নিজেদের স্বনির্ভরতা প্রমাণের চেষ্টা করছেন যা রাজনৈতিকভাবে কার্নিকে সহায়তা করছে।   যদিও ভিন্ন মতাদর্শের নেতাদের দলে টানায় কার্নি নিজ দলের ভেতর কিছু সমালোচনার মুখে পড়েছেন তবুও ট্রাম্পের হুমকি মোকাবিলায় তাকেই এখন কানাডার সেরা রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বিশ্বের অন্যান্য শক্তিগুলোর সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে কার্নি এখন কানাডার অর্থনীতিকে আমেরিকার ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে একটি শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

ইউরোপে ট্রাম্প ও পুতিনের ‘পোস্টার বয়’ অরবানের বিদায়: হাঙ্গেরির নতুন পথ

ছবি - সংগৃহিত

জেফরি এপস্টাইন বিতর্ক নিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের আকস্মিক সাফাই: হোয়াইট হাউসে নতুন তোলপাড়

ছবি - সংগৃহিত

সোমালিয়ায় গভীর কূপ খননে তুরস্কের ইতিহাস

ছবি - সংগৃহিত
জাইনবাদের পতন ও নৈতিক বিপর্যয়: গাজা যুদ্ধের পর এক নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার উদয়

  গাজায় চলমান নির্মম সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয় ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সাজানো নৈতিক ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে এবং জাইনবাদের পতনের ঘণ্টাধ্বনি বাজিয়ে দিয়েছে।   দশকজুড়ে ইসরায়েল নিজেকে নির্যাতিতদের আশ্রয়স্থল এবং মরুদ্যানে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে প্রচার করে আসলেও গাজার ধ্বংসস্তূপ সেই মিথকে আজ আক্ষরিক অর্থেই পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে।   প্রভাবশালী সাংবাদিক ক্রিস হেজেস বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন যে পশ্চিমারা ইসরায়েলকে জাতিগত নিধন ও দখলের অবাধ লাইসেন্স দিয়েছে, যা আজ এক চরম ও অপূরণীয় নৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।   ইসরায়েলি সাংবাদিক গিডিয়ন লেভিও তার লেখনীতে স্বীকার করেছেন যে তাদের দেশ আজ পথ হারিয়েছে এবং এই দখলদারিত্ব কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয় বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী মানবিক ট্র্যাজেডি।   গাজার প্রতিটি শিশুর প্রাণহানি এবং প্রতিটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল ইসরায়েলি প্রচারযন্ত্রের সাজানো গল্পগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছে যা কোনো তুখোড় কূটনীতিক আর কোনোভাবেই সংস্কার করতে পারবে না।   আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড়।   জাতিসংঘের ‘লিস্ট অব শেম’ বা কলঙ্কিত তালিকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর তাদের অপরাধকে বিন্দুমাত্র আড়াল করছে না।   ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার তরুণ প্রজন্ম এখন তাদের স্মার্টফোনে সরাসরি যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখছে এবং তারা পূর্ববর্তী প্রজন্মের মতো কোনো প্রকার বংশগত অপরাধবোধ বা নৈতিক চাপ অনুভব করছে না।   লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক এবং প্যারিস থেকে জাকার্তা—বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে আজ ফিলিস্তিনের পক্ষে যে জনজোয়ার তৈরি হয়েছে তা মূলত একটি শোষক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআদালতের এক অমোঘ রায়।   জাইনবাদ এতদিন পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর যে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল তা এখন শেষলগ্নে এসে পৌঁছেছে এবং ইহুদিবিদ্বেষের তকমা দিয়ে সত্যকে আড়াল করার পুরোনো দিনগুলো চিরতরে ফুরিয়ে গেছে।   মার্কিন কংগ্রেসের মতো শক্তিশালী দুর্গগুলোতেও এখন ফিলিস্তিনের পক্ষে কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে যা কয়েক বছর আগে কল্পনা করাও অসম্ভব ছিল এবং এটি জাইনবাদের চরম পরাজয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।   আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যখন আনুষ্ঠানিকভাবে একে একটি সম্ভাব্য গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে তখন ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি এখন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।     একটি রাষ্ট্র যখন তার নিজের হাতে গড়া মিথকে নিজেই ধ্বংস করে দেয় তখন ইতিহাসের পাতায় তার বিচার হয় অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে এবং ইসরায়েল এখন সেই চরম মুহূর্তেরই মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। জাইনবাদ আজ এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে যেখানে সে নিজের হাতেই নিজের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায় আজ সেই ধ্বংসযজ্ঞের জীবন্ত ও এক নির্বাক সাক্ষী হয়ে আছে।   ইতিহাসের এক ধৈর্যশীল হিসাবরক্ষক আজ তার খাতা খুলে বসেছে এবং সেখানে ইসরায়েলের প্রতিটি পদক্ষেপের চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে যা আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির এক নতুন সমীকরণ নির্ধারণ করবে।   জাইনবাদের পতন, গাজা যুদ্ধ ২০২৬, নেতানিয়াহু অপরাধ, ফিলিস্তিন সংহতি, আন্তর্জাতিক আদালত, বিশ্ব রাজনীতি, ইসরায়েল সংকট, জাইনবাদ বিতর্ক, গাজা গণহত্যা, মানবিক বিপর্যয়   এই আর্টিকেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী জাইনবাদের নৈতিক পতনের যে দাবি করা হয়েছে, সেটি বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী শান্তিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

ইসরায়েলি সুপ্রিম কোর্টে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিলের আবেদন: নজিরবিহীন আইনি লড়াই

আলোচনার টেবিলে ইরানই আপাতত এগিয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা । ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ নয়, শান্তির পথ: যেভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি টানা যেতে পারে- ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রূপরেখা

ছবি - সংগৃহিত

'ইরানের শক্তি শেষ' - ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক মিনিট পরেই ইসরায়েলে বড় হামলা

0 Comments