‘জুলাই ঐক্য’ নামে একটি সংগঠন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনকে সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে সংসদের মাধ্যমে অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) করে পদ থেকে অপসারণ এবং গণহত্যার সহযোগী হিসেবে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক ফাহিম ফারুকী।
লিখিত বক্তব্যে ফাহিম ফারুকী বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য প্রদান করে ‘জনতার সংসদকে অপবিত্র’ করছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপিকে দুটি শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা জুলাই সনদের শপথ গ্রহণ করেনি। পরিবর্তে রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়েছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে এবং জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
সংগঠনটির দাবি, রাষ্ট্রপতি একাধিকবার শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। ফাহিম ফারুকী উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ‘কালের কণ্ঠ’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘জুলাই ঐক্য’ বঙ্গভবন ঘেরাও করতে গিয়েছিল। অথচ সংগঠনটি ২০২৫ সালের মে মাসে আত্মপ্রকাশ করেছে।
সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, যারা এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি, তাদের দ্রুত শপথ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তারা জুলাইয়ের বিভিন্ন সংগঠনকে সক্রিয় ও একীভূত করার লক্ষ্যে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সংগ্রহ কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
‘জুলাই ঐক্য’ নামে একটি সংগঠন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনকে সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে সংসদের মাধ্যমে অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) করে পদ থেকে অপসারণ এবং গণহত্যার সহযোগী হিসেবে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক ফাহিম ফারুকী। লিখিত বক্তব্যে ফাহিম ফারুকী বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য প্রদান করে ‘জনতার সংসদকে অপবিত্র’ করছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপিকে দুটি শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা জুলাই সনদের শপথ গ্রহণ করেনি। পরিবর্তে রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে এবং জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। সংগঠনটির দাবি, রাষ্ট্রপতি একাধিকবার শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। ফাহিম ফারুকী উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ‘কালের কণ্ঠ’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘জুলাই ঐক্য’ বঙ্গভবন ঘেরাও করতে গিয়েছিল। অথচ সংগঠনটি ২০২৫ সালের মে মাসে আত্মপ্রকাশ করেছে। সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, যারা এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি, তাদের দ্রুত শপথ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তারা জুলাইয়ের বিভিন্ন সংগঠনকে সক্রিয় ও একীভূত করার লক্ষ্যে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সংগ্রহ কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।
রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)-এ স্মরণকালে প্রথমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), সিনেট ও হল প্রতিনিধি সম্মেলন–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ সম্মেলন শুরু হয় এবং ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে শেষ হয়। সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাকসু ও সিনেট প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। তারা নিজ নিজ হল ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। আলোচনায় আবাসিক সিট সংকট, হলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ইন্টারনেট সংযোগ, খাবারের মানোন্নয়ন এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করা এবং সমাধান নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব। তারা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সমস্যাগুলোর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ব্যবস্থাপনা, প্রভোস্ট কাউন্সিলের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ইসমত আরা বেগম বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, 'প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়কের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিন মাস পরপর দায়িত্ব পরিবর্তন হওয়ায় কোনো বিষয় পুরোপুরি অনুধাবন করার আগেই দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বা বড় কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।' হল সংসদের প্রতিনিধিদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ভিপি-জিএসরা যখন বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে হল সংসদের সভাপতির কাছে গেলে তাদের প্রভোস্ট কাউন্সিলে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অতীতে বিভিন্ন প্রশাসন ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে হল পরিচালনা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো হলে বিপুল পরিমাণ তহবিল, ধরা যাক ১০০ কোটি টাকা থাকার কথা বলা হলেও, সবসময় তার আশানুরূপ উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়নি।' শিক্ষার্থীদের অবকাঠামোগত দাবি প্রসঙ্গে ইসমত আরা বেগম বলেন, 'অনেক শিক্ষার্থী নামাজ রুম ও লাইব্রেরি রুমের আকার ছোট হওয়া এবং জায়গা সংকুলানের অভিযোগ করেন। কিন্তু যেহেতু এগুলো নির্দিষ্ট স্থাপনার কাঠামোর মধ্যে অবস্থিত, তাই সরাসরি সম্প্রসারণ সবসময় সম্ভব নয়। তবে বিকল্প চিন্তার সুযোগ রয়েছে। বড় কক্ষকে ভাগ করে একাধিক ব্যবহারোপযোগী কক্ষ বা চেম্বার তৈরি করা যেতে পারে।' সম্মেলনের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, 'রাকসু নির্বাচন ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং নির্বাচনের মাধ্যমে তা পূরণ হয়েছে । রাকসুর উদ্দেশ্যে হলো শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতৃত্বে তৈরি করা। রাকসুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তারা তাদের ন্যায্য অধিকারে আদায় করতে পারবে এবং নানা দাবি দাওয়া দিতে পারবে। আজকের অনুষ্ঠানে রাকসু আমাদের যে গিফট দিয়েছে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছবি ও জুলাই আন্দোলনের দৃশ্য দেওয়া আছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্মেলনে রাকসু'র সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘রাকসু, সিনেট হল সংসদ এর এইরকম সম্মেলন আগে হয়েছে কিনা জানিনা। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম এইরকম একটা সম্মেলন দেখতে। তবে এই সম্মেলনটা আমি নির্বাচনের এক মাস পরই করতে চেয়েছিলাম কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি৷ আমাদের কাজগুলো একটু দেরিতে হলেও হচ্ছে এজন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত৷' তিনি আরও বলেন, 'আমরা ভাবি আমরা অনেক কিছু করে ফেলবো, কিন্তু সবার যদি সহযোগিতাপূর্ণ অবস্থান না থাকে তাহলে কোনোকিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। এখানে প্রভোস্ট কাউন্সিল এর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ এসেছে, আমি বলবো প্রভোস্ট কাউন্সিল ও প্রভোস্টদের তাদের সুন্দরভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত। আমি প্রভোস্টদের বলবো আপনাদের কাছে যে বাজেট আছে সেগুলো প্রকাশ করে দেন, এটা সবারই জানা দরকার।' উপাচার্য বলেন, 'আমি এই কথাটা দ্বিতীয়বার শুনতে চাইনা যে রাকসুর সাথে হল সংসদের নেতৃবৃন্দের দূরত্ব তৈরি হয়ে আছে। এটা কোনো এক্সকিউজ ই হয়নে যে রাকসুর সময় হচ্ছে না হল সংসদ এর নেতৃবৃন্দের সাথে বসার। সকল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে আহ্বান থাকবে মিলেমিশে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার জন্য।' উল্লেখ্য, রাকসু গঠনের প্রায় চার মাস পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো রাকসু, সিনেট ও হল প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এমন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। সংশ্লিষ্টরা এটিকে অংশগ্রহণমূলক ছাত্র নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক সংলাপের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫ (অষ্টম শ্রেণি) এর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—দুই ক্যাটাগরিতে মোট ৪৫ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার। শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও ২০২৬ সাল উল্লেখ করে ফলাফল জানতে পারবে। এছাড়া মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর ও সাল লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাংলা (১০১), ইংরেজি (১০৭), গণিত (১০৯), বিজ্ঞান (১২৭) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১৫০) বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষাগুলো গত বছরের ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি গ্রহণ করা হয়।